25/02/2026
মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি হেডকোয়ার্টারে কল করে বলেছিলেন-
“হ্যালো হেডকোয়ার্টার, আমি কর্নেল গুলজার বলছি… কিছু ফোর্স পাঠান প্লিজ। ওরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।”
চল্লিশ মিনিট পর তার শেষ আর্তনাদ-
“অনেক অফিসারের লাশ মেঝেতে পড়ে আছে… আপনারা কি আসবেন না আমাদের বাঁচাতে?”
এই কণ্ঠস্বর ছিল এক সাহসী সৈনিকের, এক দেশপ্রেমিক অফিসারের।
২০০৪–০৫ সালে যখন জেএমবি সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল, তখন তার চৌকস পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বে পুরো জেএমবি নেটওয়ার্ককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
দেশ ফিরে পায় স্বস্তির নিঃশ্বাস।
শীর্ষ জঙ্গি শায়েখ আব্দুর রহমানকে সিলেটের সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে তিনি বিনা রক্তপাতে আটক করেন তার অসাধারণ গোয়েন্দা কৌশলের মাধ্যমে।
যদিও নির্দেশ ছিল পুরো বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়ার। আন্তর্জাতিক মিডিয়াও জঙ্গি দমনে তার অসাধারণ দক্ষতার প্রশংসা করেছিল।
বাংলা ভাইকে আটক করার অভিযানের সময়, তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ফোন করে বলেছিলেনঃ
“এত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার দরকার কী?”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দিয়েছিলেনঃ
“তোমার সাহস তো কম না! তুমি আমাকে নিষেধ করছ আমার দেশের মানুষকে বাঁচাতে! তোমাদের জন্য আল্লাহ আছেন, আমার জন্যও আছেন। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। ফোন রাখো।”
তিনি মাত্র দশ দিন আগে বিডিআরে যোগদান করেছিলেন। সৈনিকদের সাথে তার ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন বা বিরোধ ছিল না।
তবুও হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পর তার লাশটিই সবচেয়ে বিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তার ছোট সন্তানই তার প্রিয় বাবার নিথর দেহ শনাক্ত করে।
৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলার মাটিতে বহু সেনা অফিসার জন্ম নেবে, আরও অনেকে আসবেন।
কিন্তু একটি “গুলজার” বারবার জন্মায় না।
গুলজার গুলজারই।
আপনার আত্মত্যাগের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা, প্রিয় দেশপ্রেমিক অফিসার।
আল্লাহ আপনাকে জান্নাত দান করুক আমিন। ❤️