10/05/2024
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনাবিষ্কৃত ভোক্তা বাজার হতে যাচ্ছে কফি ইন্ডাস্ট্রি।
চায়না কফি বোঝে না বলেই এতদিন পরিচিত ছিল। কয়েক বছর আগেও চায়নার মানুষ কফি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতো না। কিন্তু, এখন তাদের কফি সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে। মাত্র ৯৯ টাকায় কফি কিনছে মানুষ, আর Starbucks চেষ্টা করছে সেই একই কফি ৪৯৯ টাকায় বিক্রি করার। তাদের কফি বিপণন মডেল একদম ধনী শ্রেণির ওপর ফোকাস করেছে। তবুও, সাধারণ মানুষও কফির দিকে ঝুঁকছে, কারণ কফি শুধু একটি পানীয় নয়, এটি স্ট্যাটাস সিম্বল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই স্ট্যাটাস তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশের বাজারেও বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
এবার নেপাল এর দিকে তাকান। নেপালের মানুষ আগে প্রধানত চা খেত। তাদের সংস্কৃতিতে কফির তেমন কোনো প্রভাব ছিল না। কিন্তু Himalayan Java কফির দোকান বাজারে প্রবেশ করে মাত্র ১৪০ টাকায় কফি বিক্রি শুরু করেছিল, যা এখন পুরো নেপালি কফি বাজারকে দখল করে ফেলেছে। নেপালের উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, কফির জন্য মানুষ এখন প্রস্তুত, শুধু সঠিক মূল্য এবং অভিজ্ঞতা দিতে হবে।
এবার আসি নিউ ইয়র্ক এর কথায়। সেখানেও কফির দাম নিয়ন্ত্রণ করছে বড় ব্র্যান্ডগুলো। Starbucks এবং Dunkin’ এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপরীতে দাঁড়িয়েছে Blank Street Cafe। Blank Street Cafe বাজারে প্রবেশ করেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম মূল্যে কফি বিক্রি করে, যা তাদের গ্রাহকদের কাছে বিশাল আকর্ষণ তৈরি করেছে। এটি খুবই স্পষ্ট যে কম দামে উচ্চ মানের কফি সরবরাহ করা হলে বাজারের সিংহভাগ দখল করা সম্ভব।
আমার পর্যবেক্ষণে, এই সব বাজারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো—সবার গড় কফি বিক্রয়মূল্য ১৫০ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। কিন্তু বাংলাদেশে? আমাদের দেশে কফি বিক্রি শুরুই হয় ২৫০ টাকায়! কারণ আমাদের কফি বাজার এখনও মূলত রিয়েল স্টেট এবং বিলাসী শ্রেণি কেন্দ্রিক। সঠিকভাবে গণমানুষের পকেটের সাথে মিল রেখে কফি সরবরাহ করা হয় না, বরং আমরা উচ্চমূল্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
বাংলাদেশের ভোক্তা মনোবিজ্ঞান বেশ স্পষ্ট: মানুষ কফি খেতে চায়, কিন্তু তাদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। যারা কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করেন, তাদের মধ্যে একটি বিশেষ প্রবণতা দেখা যায়। তারা যখন নর্থ এন্ড বা অন্য কোনো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের কফি দেখেন, তা তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির মতো অনুভব হয়। কিন্তু, সেই কফি কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। তারা চায় একটি পকেট-বান্ধব বিকল্প যা তাদের স্ট্যাটাসেও কমতি রাখবে না।
সুতরাং, যিনি এই বাজারে ৩-৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করবেন, তাকে বিশাল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে না। বরং, সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে তার ব্র্যান্ড একাই পুরো বাজারকে তছনছ করে ফেলবে। বড় বিনিয়োগ এনে সঠিক দামে উচ্চ মানের কফি সরবরাহ করলে, কয়েক বছরের মধ্যেই সেই ব্যবসা কয়েক শো কোটি টাকার ক্যাশ-ফ্লোতে রূপান্তরিত হবে।
কেন কফি বাজারে বিনিয়োগ করতে হবে?
১. ব্যবসার দ্রুত প্রসার: কফির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী কফি সংস্কৃতি কেবল বড় শহরেই নয়, ছোট শহরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
২. মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা: বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে এবং তারা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আগ্রহী। স্ট্যাটাস সিম্বল হিসেবে কফি একটি আকর্ষণীয় সুযোগ হতে পারে।
৩. প্রতিযোগিতার অভাব: আমাদের দেশে এখনো সঠিকভাবে কোনো বড় কফি ব্র্যান্ড বাজারে প্রবেশ করেনি, ফলে প্রতিযোগিতার চাপও কম। সঠিক সময়ে বাজারে প্রবেশ করা গেলে, এটি হতে পারে একটি বিশাল বিজনেস অ্যাডভান্টেজ।
৪. গ্রাহকদের প্রতি ব্র্যান্ডের প্রভাব: কফি ব্র্যান্ডিং খুবই আবেগপ্রবণ। একবার একটি ব্র্যান্ড মানুষের মনের মধ্যে প্রবেশ করতে পারলে, সেই ব্র্যান্ডের প্রতি আনুগত্য তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী লাভজনকতার নিশ্চয়তা দেয়।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই ঘণ্টা কে বাজাবে?