05/10/2025
প্রথম অংশ :
মওদুদ আহমেদ যখন অসুস্থ, ঠিক সেসময় থেকে ফখরুল সাহেব নোয়াখালী -৫ আসনের হাল ধরে।মওদুদ সাহেব মারা যাওয়ার পর ফখরুল সাহেব একপ্রকার আনঅফিশিয়ালি দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ফখরুল সাহেব উপস্থিত থাকতেন।হায়দার বিএসসিকে ধরা হতো কবিরহাটের নেতা,ফখরুল সাহেবকে ধরা হতো কোম্পানীগঞ্জের নেতা।দলের নেতাকর্মীদের বিপদে আপদে এগিয়ে আসতেন।মামলায় কেউ আটক হলে ফখরুল সাব মুক্ত করার ব্যবস্থা করতেন।একজন নেতা যে যে দায়িত্ব পালন করে সবকিছুই ফখরুল সাহেব পালন করছেন।দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার সুনাম আছে দলীয় মহলে।
২০২৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে ফখরুল সাহেবকে পত্রপত্রিকায় নোয়াখালীর -৫ আসনের বিএনপির হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করলেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের পাতানো নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি।অর্থাৎ যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতো,তাইলে ফখরুল সাহেব মনোনয়ন পেত, এটা শতভাগ নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
আওয়ামী সরকারের পতনের পরও নোয়াখালী -৫ আসন ফখরুল সাহেবের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিল।জনগণের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।কিছুদিন যেতে না যেতেই লোকাল পলিটিক্স মোড় নেয় ভিন্ন দিকে,পত্রপত্রিকায় হেডলাইন হতে থাকে নোয়াখালী -৫ আসন।
বিএনপির স্থানীয় নেতারা বিভিন্ন ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলে।শুরু হয় আধিপত্যের রাজনীতি, রক্তাক্ত হয় নোয়াখালী -৫ আসন।চারদিকে শুরু হয় চাঁদাবাজি, মাস্তানি, রাহাজানি। কেউ দখল করে মসজিদ, কেউ দখল করে হাটবাজার, কেউ দখল করে নদীনালা খালবিল,চর অঞ্চল।বিএনপির এক পক্ষের হাতে খুন হয় আরেক পক্ষের লোকজন।শত শত মানুষ হসপিটালের বেডে মানবেতর জীবনযাপন করে।
( সূত্র : জাতীয় পত্রিকাগুলো)
দ্বিতীয় অংশ :
অশান্ত জনপদকে শান্ত করার জন্য নোয়াখালী -৫ আসনে তরুণ রাজনীতিবিদ আমেরিকান প্রবাসী আবেদ সাহেব এলাকায় ফিরে আসেন। এ অঞ্চলের মানুষের কাছে শুধু মানুষটি নতুন নয় বরং তার নামটিও বেশিরভাগ মানুষ কোনদিন শুনেছে বলে মনে হয়নি।তবে যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল তাঁরাই কেবল আবেদ সাহেবকে চিনতো।আবেদ সাহেবকে সবাই সাদরে গ্রহণ করেন।যেহেতু সাংগঠনিক অভিভাবক রুপে আবেদ সাহেব ফিরে এসেছেন অর্থাৎ পদপদবি সবকিছুই আবেদ সাহেবের হাতে।বেশি তাফাল্লিং করলে বহিষ্কার করারও ক্ষমতা ছিল।অশান্ত জনপদকে শান্ত করা এবং নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেন।আবেদ মানুষ হিসেবে যথেষ্ট ভদ্র বিনয়ী একজন মানুষ।তার ব্যবহার যথেষ্ট সুমিষ্ট।শুধু তেলবাজ নেতারা নয়,সত্যিকারের বিএনপির নেতারাও আবেদ সাহেবের ভক্ত হয়ে যায়।আস্তে আস্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আবেদ নামটি ছড়িয়ে পড়ে বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মীদের মাঝে।সময়ের ব্যবধানে আবেদ নামটি এখন মানুষের মুখে মুখে।তবে এখানে বেশকিছু বিষয় আছে।আবেদ সাহেবের দলীয় জনপ্রিয়তা একশ্রেণির নেতাকর্মী অপব্যবহার করে।তার হাতে বায়াত গ্রহণ করা ব্যক্তিরা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক বিক্রি,চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন অর্থাৎ দুনিয়ার এমন কোন পাপ তারা বাকি রাখেনি।ফুলের মতো পবিত্র আবেদ নামটির সাথে পাপপুণ্যের কালি লেপ্টে দেয় কিছু নেতাকর্মী।
নোয়াখালী -৫ আসন মোটাদাগে দুটো বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে যায়।আবেদ বাহিনী, আরেকটা ফখরুল বাহিনী। তবে ফখরুল বাহিনী কিছুটা নমনীয় হলেও আবেদ বাহিনীর কাছে ফখরুল বাহিনী রীতিমতো ধরাশায়ী অবস্থা।হরহামেশাই ফখরুল বাহিনীর লোকজন গণমাধ্যমে কান্নাকাটি করার ফলে জনগণের সমর্থনের জায়গা তৈরি হয়েছে কিন্তু আবেদ বাহিনীকে প্রতিরোধ করার মতো অবস্থা এখন পর্যন্ত নেই।
তৃতীয় পর্ব :
কোম্পানীগঞ্জের মানুষ কখনোই চাইবে না ফখরুল সাহেবকে বাদ দিয়ে অন্য কেউ এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি হোক।ফখরুল সাব নির্বাচন করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
একদিকে ফখরুল সাহেবের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা অন্যদিকে বিএনপির দুঃসময়ের অভিভাবক তিনি। মধ্যবয়সী মানুষের কাছে ফখরুল সাব নামটি পরম শ্রদ্ধার,ভালোবাসার। তারা চায় ফখরুল সাবই সংসদের দাঁড়িয়ে বলুক মাননীয় স্পিকার আপনাকে ধন্যবাদ।
আবেদ সাহেবও বানের জলে ভেসে আসেনি, তার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস।নিজ জন্মভূমিতেও এখন অসম্ভব জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তরুণদের বিশাল একটা অংশ মনে করে আবেদ সাহেব এ অঞ্চলের এমপি হবে।কোম্পানীগঞ্জে তার জনপ্রিয়তা কিছুটা কম হলেও কবিরহাট উপজেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
শেষ কিছু কথা : ফখরুল সাহেব যদি এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না পায় বুঝতে হবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি এখানেই।উনার যে বয়স পরবর্তীতে আর কোন আশা নেই।এখন তার যে জনপ্রিয়তা ৫ বছর পর সে জনপ্রিয়তা নাও থাকতে পারে।শারিরীক সুস্থতাও তখন একইরকম নাও থাকতে পারে। আঞ্চলিক আসনগুলোতে প্রবল জনপ্রিয়তা কিংবা বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপের কারনে একজন প্রার্থী জয়লাভ করে। ফখরুল সাহেব এ নির্বাচন থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।
একইসাথে আবেদ সাহেবের জনপ্রিয়তাও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। দলীয় নমিনেশন না পেলে তারপরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত।অনেক নেতাকর্মীর সমর্থন দিবে।রাজনীতিতে সুযোগ সবসময় আসে না,সুযোগ কাজে লাগাতে হয় নাইলে হারিয়ে যেতে হয় অতল গহব্বরে।
ফখরুল সাহেব এবং আবেদ সাহেব কিংবা অন্য কেউ সবার জন্যই শুভকামনা থাকবে সবসময়।
ধন্যবাদ সবাইকে।