23/07/2026
বহুকাল পর কিছু নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে এলাম।ফেসবুক এবং অন্যান্য সমাজ মাধ্যম একপ্রকার বর্জন করার চেষ্টা করছি কিন্ত পারাটা খুব দুরূহ। কিছু লিখতে গেলেই মনে হচ্ছে এই ন্যারেটিভের ধরা চোর চোর খেলায় আমার মতো তৃতীয় পক্ষে যারা থাকবেন বলে স্থির করেছেন তাদের জায়গা ডাগ আউটে, সাইড লাইনের বাইরে। বেশি ট্যাঁ ফ্যোঁ করলে সোজা রেড কার্ড শুধু নয় অনুসঙ্গ হিসাবে জুটে যেতে পারে চোখা চোখা বাছা বাছা শুদ্ধ দেশী গালিগালাজ ও সাইড ডিশে পচা ডিম। তা এহেন সামাজিক অস্থিরতার মাঝখানে নাভিশ্বাস ওঠা গরমে কোনো এক মধ্যরাতে দেখে ফেললাম 2023 সালে রিলিজ হওয়া অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী পরিচালিত ,ইয়ামি গৌতম,পঙ্কজ কপুর,সুমন মুখোপাধ্যায়,কৌশিক সেন,রাহুল খান্না অভিনীত ছবি ।
ইয়ামি গৌতম পেশায় একজন ক্রাইম রিপোর্টার, একটি বিখ্যাত কাগজের যার এডিটর ইন চিফ সুমন মুখোপাধ্যায়।
ইয়ামির বড় হওয়া,পড়াশোনা,কর্মজগত কলকাতা।দাদু পঙ্কজ কপুরের সাথে কলকাতার একটি বিশিষ্ট অঞ্চলে সে থাকে।দাদু পঙ্কজ কপুর প্রাক্তন অ্যালুমনাই প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং অবসর প্রাপ্ত IPS।নাতনির সঙ্গে তিনি সম্পর্ক থেকে কর্মক্ষেত্র যাবতীয় বিষয় নিয়ে অনায়াস এবং সাবলীল। ইয়ামি long distance relationship এ আছে কিন্তু কোনও ভাবেই কলকাতা ছাড়ার পরিকল্পনা তার নেই। She loves that city so much that she may sacrifice her relationship.
অন্যদিকে রাহুল খান্না,প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, একাধিক NGO চালান এবং এই সুত্রে অন্ধকার জগতের সাথেও ওঠাবসা।এমনি একটি পলিটিক্যাল এজেন্ডা নিয়ে তাকে ইন্টারভিউ করতে আসে একটি অল্প বয়সী,স্মার্ট, ঝকঝকে ,উচ্চাকাঙ্খী তরুণী অঙ্কিতা চৌহান(পিয়া বাজপেয়ী)।রাহুল খান্নার অঙ্কে ভুল হয়না।তারপর সেই চিরাচরিত চেনা ছবি মেয়েটির উচ্চাকাঙ্খা পূরণে যাবতীয় সাহায্য করতে তিনি এগিয়ে আসেন।উপরের পৌঁছবার শর্টকাট রাস্তা।পরিবর্তে মেয়েটিকে sacrifice করতে হয় তার চার বছরের পুরোনো প্রেমিক ঈশান ভারতী(Tushar Pandey) কে।Commitment,Loyalty,Trust ,Love সব নিমেষে উড়িয়ে দিয়ে সে বেছে নেয় রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কে।গল্প শুরু এখান থেকেই। যে রাতে অঙ্কিতা রাহুল খান্নার দেওয়া লাক্সারী ফ্ল্যাটে ঈশান কে ডেকে পাঠায় সেখানেই শেষ বারের মতো দেখা গিয়েছিল ঈশান কে এবং তার ফোন লোকেশন ও সেকথার পুষ্টিকরণ করে।
আদ্যান্ত থিয়েটার পাগল,আপাত নিরীহ, দলিত একটি ছেলে রাত দুপুরে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায়।কেউ কোনো ট্রেস করতে পারেনা যদিও সবার সন্দেহ গিয়ে পড়ে রাহুল খান্নার উপরেই কিন্ত ঠোস প্রমান - স্বাভাবিক ভাবেই নেই। এই ঘটনার যখন FIR করে ঈশানের অসুস্থ মা এবং দিদি - জামাইবাবু উল্টে তাদের কেই তল্লাশির নামে Harrassed হতে হয় বিখ্যাত Maoist leader ভীস্ম রানার ( কৌশিক সেন)সাথে কানেকশন দেখিয়ে। ইয়ামির কাছে নিউজ টা কভার করার অ্যাসাইনমেন্ট আসে এবং ইয়ামি খুব deeply involved হয়ে যায়।এই সার্চ অপারেশনে সত্যিটা খুঁজতে গিয়ে ইয়ামির নিজের তো বটেই পরিবার,সম্পর্ক সবেতেই life threatening আসে।কিন্ত ঈশান কোথায়,আদৌ বেঁচে আছে কিনা থাকলেও কোথায় কিভাবে আছে তার কোনো সদুত্তর পায় না,উল্টে ক্রমশই জটিল হতে থাকে বিষয়টি।যে কজন ঈশান সম্পর্কে বিন্দুমাত্র খবর রাখতে পারে বলে মনে হয়েছিল তারা নয় মারা যায় নয় মিসিং।
গল্পটির বুনোট অতি চমৎকার এবং শেষপর্যন্ত চমক বা সাসপেন্স অব্যাহত রাখতে পেরেছেন পরিচালক। প্রত্যেকের অভিনয় চমৎকার তো বটেই যেভাবে পরিচালক কলকাতার Administrative failure অথবা compromised দিকটা তুলে ধরেছেন অনেকটা Kahani movie র সাথে মিল পেলাম। আমাকে যেটা ভাবিয়েছে তা হল একটা survey report .আমি নিজে Google করে দেখলাম missing persons এর ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের পরেই পশ্চিমবঙ্গ। NCRB (National Crime Research Bureau ) বলছে মাসে 80 থেকে 100 জন এই কলকাতার বুকে গড়ে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে।তাদের খবর আমরা কেউ রাখি না।কোনোরকম প্রশাসনিক বিধি নিয়মের পড়োয়া না করেই কাউকে আতঙ্কবাদী,কাউকে মাওবাদীর তকমা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।নিরীহ নিরপরাধী মানুষ গুলো কে অজান্তেই goons বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে নিজেদের political vendetta satisfy করার জন্য। কোথাও কোনো selflessness নেই এমনকি সম্পর্কেও। শুধু বোঝাপড়া।Give and Take।
জি 5 এ রয়েছে মুভিটা।ঈশানের কি হলো শেষ পর্যন্ত!ইয়ামি কি পারবে এই রহস্যের সমাধান করতে ? জানতে হলে দেখে নিতে পারেন