18/07/2018
নিচের ছবিটা দেখছেন, একটা ছেলে শুয়ে আছে? ওটা Aniket I ঘাড় তেঁরা অনিকেত। রাগী জেদি বাউন্ডুলে অনিকেত। অথচ এক বুক অনুভূতি মানুষের জন্য। ডাক্তারি পড়ে ছেলেটা মেডিক্যাল কলেজে। অল্প বয়স, এখনো আদর্শে বিশ্বাসী; এমনকি আজকের যুগেও। আমাদের মত পচে যাওয়া মাল নয় ও। তাই মুখে হেলাছেদ্ধা করলেও বুকের এক কোনায় ওর জন্য অনেকটা ভালবাসা অনেকটা শ্রদ্ধা রয়ে গেছে নিজের অজান্তেই। ওরা একটা লড়াই লড়ছে জানেন, একটা মরণপণ লড়াই। সব লড়াইয়ের শেষ অস্ত্র ব্যবহার করছে ওরা এই লড়াইয়ে। নিজের জীবনকে বাজি রেখে ওরা অনশনে বসেছে। না, স্টেজের পিছনে কোন খাবারদাবার নেই, গিয়ে চেক করতে পারেন। নজর রাখতে পারেন ২৪ ঘণ্টা। ওরা বাধা দেবে না গ্যারান্টি রইল।
ওদের দাবী সামান্য, সকল ছাত্র ছাত্রীদের হোস্টেল চাই। ক্লাব গুলো অনুদান পায়, মন্দিরে স্কাইওয়াক হয়, গঙ্গার ধারে গুচ্ছের টাকা খরচ করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয়, রাস্তার ধারে ত্রিফলাও বসে। কিন্তু ছাত্রদের হোস্টেল হয় না। আসলে পড়াশুনা জানা ছেলেরা মাথা খাটিয়ে ইভিএম-এর বোতাম টেপে তো, তাই ছাত্রদের হোস্টেল বানিয়ে ভোটের সুবিধা নেই। ওরা কাউকে পাশে পায়নি জানেন, মিডিয়া নয়, কোন বিরোধী রাজনৈতিক দলও নয়। কেউ না। এমনকি আমরাও নয়।
খবর পেলাম প্রচণ্ড অসুস্থ ছেলেটা, কালো পায়খানা করছে। ওকে চিনি। আর চিনি বলেই ভয় পাচ্ছি। বেজায় ভয়। বড্ড ঘাড় তেঁরা ছেলে। দাবী না মিটলে সজ্ঞানে ওকে কেউ দাঁতে একটা কুটোও কাটাতে পারবে না জানেন। আমি ভয় পাচ্ছি আবেগি ছেলেটাকে নিয়ে। লুকিয়ে চুরিয়ে খেয়ে অনশন করার টেকনিকটা এখনো শিখতে পারেনি যে বোকাটা। বড্ড কষ্ট পাচ্ছি, ওদের পাশে দাঁড়ানোর মত কোন শিরদাঁড়া খুঁজে পাচ্ছি না; কোন বুদ্ধিজীবী কোন মানুষ নেই ওদের কাঁধে কাঁধ মেলানোর জন্য। তবু বাচ্চা ছেলেগুলো লড়ে যাচ্ছে প্রাণপণ।
দোহাই আপনাদের, আর কিছু না পারুন দুকলম লিখুন ওদের নিয়ে। মিডিয়াকে বাধ্য করুন ওদের নিয়ে হইচই করতে। ছাত্ররা ওদের সমর্থনে এগিয়ে আসুন দল মত নির্বিশেষে। সরকারকে বাধ্য করুন ওদের দাবী মেনে নিতে। অনেক ক্ষমতা এই সোশ্যাল মিডিয়ার। সেটা ব্যবহার করুন প্লিজ। ওরা যে সাত দিনের ওপর না খেয়ে আছে। এটা দেখেও হাত গুটিয়ে পেট পুরে খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে শান্তির নিদ্রা আসবে তো আপনার?
(Copied)