28/05/2016
আমরা পূর্ববর্তী পোস্ট এ জেনেছিলাম যে, স্মার্টফোন কি? মূলত কি কি থাকে সেটা। আমরা সবাই জানি যে, সকল স্মার্টফোন এ একটি অপারেটিং সিস্টেম থাকে। যেমন - গুগল এর এন্ড্রয়েড(বর্তমান এন্ড্রয়েড 6), এপল এর আইওএস(বর্তমানে 9.3.3), মাইক্রোসফট এর উইন্ডোজ ফোন(বর্তমানে উইন্ডোজ 10), ক্যানোনিক্যাল এর উবুন্টু( বর্তমানে উবুন্টু টাচ 2016) আরো অনেক ওএস আছে, তবে সেগুলো তেমন জনপ্রিয় না। এখানে উপরে উল্লেখিত চারটি অপারেটিং সিস্টেম এর উপর আলোচনা করা হবে।
এটি দুই পর্বের পোস্ট এর প্রথম পর্ব শুরু করতেছি।
এন্ড্রয়েড(Android) :
এন্ড্রয়েড হচ্ছে গুগল এর তৈরী একটি মোবাইল এর জন্য ওপেন সোর্স(যে সফটওয়্যার এর কোড যেকেউ তার মতো করে পরিবর্তন করতে পারে) বহুল জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম। এন্ড্রয়েড ইনক এটি ডেভেলপ করে । পরবর্তীতে গুগল 2007 সালের দিকে এটি কিনে নেয়। তবে ডেভেলপারদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন হয়নি। 2008 এ এসে এন্ড্রয়েড পাবলিক ভাবে রিলিজ হয়, যেটা ছিল সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স। বর্তমানে এন্ড্রয়েড মোবাইল(স্মার্টফোনের জন্য তৈরি), এন্ড্রয়েড টিভি(স্মার্ট টিভি এর জন্য তৈরি করা ওএস), এন্ড্রয়েড কারস(গাড়ির জন্য তৈরি করা ওএস), এন্ড্রয়েড ওয়ারস(স্মার্ট ওয়াচ এর জন্য তৈরি করা ওএস) আছে। এটির কার্নেল এর ধরণ হচ্ছে মনোলিথিক, ইউনিক্স বেসড, C, C++, Java কোডিং এর মাধ্যমে তৈরী করা হয়েছে। এন্ড্রয়েড মূলত বাজারে আসে 2008 সালের সেপ্টেম্বর মাসের 23 তারিখ। 2013 সাল থেকে এন্ড্রয়েড এর ব্যবহারকারী অতুলনীয় হরে বাড়তে থাকে। তারা 2010 সালে এন্ড্রয়েড স্টোর নিয়ে আসে, এবং তার পরবর্তী থেকে 2013 পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী গুগল টার্গেট অনুযায়ী apps ডেভেলপ হয়েছিল শুধুমাত্র 71%। যা তাদের মার্কেটে অনেক শক্ত অবস্থান তৈরী করে দিয়েছিল। বেশিরভাগ ডেভেলপার এন্ড্রয়েড apps ডেভেলপ করতে আগ্রহী হয়। কারণ সহজলভ্য, হার্ডওয়্যার ফ্রি, আর টুলস এর সহজলভ্যতা। 2013 সালের শেষের দিকে এসে পৃথিবীর মোট apps ডেভেলপার এর মধ্যে প্রায় 43% ডেভেলপার প্রফেশনালি এন্ড্রয়েড apps ডেভেলপমেন্ট কে বেছে নেয়।
এটির বর্তমানে 6.0.1 marsmallow(2015) পাবলিক রিলিজ হয়।
বিশ্বের মধ্যে অনেক বড় বড় ব্র্যান্ড এখন এন্ড্রয়েড ফোন তৈরী করে যেমন- Samsung, Sony, Motorola, Asus, HTC আরো অনেক। 2013 এর পর থেকে এখনো পর্যন্ত 1.5 বিলিয়ন বাবজার কারী পেয়েছে এন্ড্রয়েড। যেটা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় 53%।
উইন্ডোজ মোবাইল:
উইন্ডোজ মোবাইল ওএস হলো মাইক্রোসফট এর ডেভেলপ করা স্মার্টফোনের জন্য ক্লোস্ড সোর্স এ তৈরি একটি অপারেটিং সিস্টেম। যা 2010 সালে প্রথম বাজারে আসে উইন্ডোজ ফোন 7 নিয়ে। যা বাজারে তেমন একটা সারা ফেলতে পারে নি। তখন শুধুমাত্র 5% ব্যবহার কারী ছিল উইন্ডোজ ফোনের। এটার সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে ব্যাবহারকারীরা বলেন apps এর সল্পতা। এটি সম্পূর্ণভাবে ক্লোস্ড সোর্স এ চলে। এটি একটি মাইক্রোসফট উইন্ডোজ বেসড, হাইব্রিড কার্নেল এবং C, C++ কোডিং এর মাধ্যমে তৈরী করা হয় অপারেটিং সিস্টেম। মাইক্রোসফট মোবাইল এখনো পর্যন্ত টেবলেট এবং ফোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে বেশিরভাগ ব্যাবহারকারী apps এর সল্পতা নিয়ে কথা বললেও তাদের মধ্যে বেশীরভাগই বলেছে যে, সবচেয়ে দ্রুত গতির অপারেটিং সিস্টেম এটি। আরেকটি সমস্যা হলো বাগ বেশি। থার্ড পার্টি apps এ তো আছে, মূল প্রোগ্রাম এ কিছু কিছু সফটওয়্যার এ আছে। মাইক্রোসফট 2014 সালে নোকিয়া কে কিনে নেয়। তারপর থেকে লুমিয়া নাম থাকলেও ব্র্যান্ড এর নাম নোকিয়ার জায়গায় মাইক্রোসফট দেখা যেতে থাকে। 2016 তে রিলিজ লুমিয়া সিরিজ এর ফোন 950, 950 XL, 550 তে মাইক্রোসফট লিখা দেখা যাই নি, শুধুমাত্র লোগো দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি মাইক্রোসফট থেকে বলা হয়েছে(Rumor বলা হচ্ছে) তারা লুমিয়া ফোন আর উৎপাদন করবে না, এখন নতুন ফোন আসবে সারফেস নামে। যেটা তাদের বহুল প্রচলিত সারফেস ট্যাবলেট(বর্তমান মাইক্রোসফট সারফেস 4 এবং 4 প্রো) হিসেবে বাজারে আছে। তাদের শেষ পাবলিক রিলিজ ছিল 2014 সালে উইন্ডোজ ফোন 8.1 । তখন তাদের ব্যাবহারকারী ছিল মোট 7%। 2015 এর শেষের দিকে এসে মাইক্রোসফট ইনসাইট (ডেভেলপার প্রিভিও) প্রোগ্রামের মাধ্যমে উইন্ডোজ 10 মোবাইল রিলিজ করে, যার ফলে উইন্ডোজ ব্যাবহারকারী 7% থেকে 10% এ চলে আসে। যদিও উইন্ডোজ মোবাইল এখনো ডেভেলপমেন্ট এ আছে। এটা ফুল রিলিজ হবে এই বছর(2016) এর শেষের দিকে। তবে 950, 950 XL, 550 এবং এর পরবর্তী মোবাইলের জন্য উইন্ডোজ 10 মোবাইল আপডেট করা যায়, কোনো ধরণের ইনসাইট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হতে হয় না। উইন্ডোজ মোবাইল স্টোর এ এখন অনেক এপ্লিকেশন যোগ করা হয়েছে। দিন দিন এর সংখ্যা বাড়তেছে। বিশ্বে বেশ কিছু বড় কোম্পানি উইন্ডোজ মোবাইল বের করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো - Samsung, Htc, MeiZu, Asus আরো অনেক।
উৎস: উইকিপিডিয়া, এবাউট, মাইক্রোসফট, এন্ড্রয়েড, ভার্জ, টেশত্রুচ।
ফটো: the firstpost, More Than Android