10/08/2024
== কিছু মানুষের গাঁ চুলকাচ্ছে যে সব কারণে !==
১) ৩৬ জুলাই ২০২৪ এ দেশে ঐতিহাসিক গণবিপ্লবের পর দেশে নানা ধরণের ঘটনা ঘটতে থাকে। একদল দখল, বদলা, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি মশগুল হয়ে পড়ে।
একদল আনন্দের অতিসহ্যে হীতাহীত জ্ঞান ভুলে, শিক্ষা ভুলে সামান্য কিছু বিষয় নিজের মনে করে নিয়ে আসতে থাকে।
এসকল অনাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ আবার রুখে দাড়ায়, সেই দিন থেকেই তারা দ্বীপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিজের মনে করে গেছেন তারা ফেরত দিয়ে যান, ছাত্র সমাজ ঘোষণা দিয়েই বসে থাকে নি, তারা সম্পদ ফিরিয়ে আনার নানা উদ্বেগ নেয়।
এতে অনেক দল ও মানুষের ভীষণ চুলকানি বেড়ে যায়।
তারা ভাবতে পারে নাই এই অনভিজ্ঞ ছাত্র সমাজ যাদের অধিকাংশ আন্ডার গ্রাজুয়েট তারা এমন উদ্বেগ নিতে পারে!
জ্বলুনি বাড়ছে ক্রমশ তাদের।
২) বিপ্লবের পরদিনই ছাত্র সমাজ দেশকে পরিচ্ছন্ন করার কাজে নেমে যায়। আগের লক্ষকোটি মানুষ যেখান সংসদভবন নোংরা করে রেখে যায় ছাত্র সমাজ সেই সংসদ ভবন মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে পরিস্কার করে ফেলে। ছাত্র সমাজ পুরো দেশের নোংরা পরিস্কার করার উদ্যোগ নেয়।
এতে আবার অনেকের জ্বলুনি বাড়ে! তারা বলে একদিন করে উধাও হয়ে যাবে ছাত্র সমাজ। এখনো পরিচ্ছন্নতার কাজ চলমান রেখেছে ছাত্র সমাজ আর জলন বাড়ছে তাদের।
৩) পুলিশরা গণহত্যা ও বিগত সরকারের আমলে মানুষের প্রতি অন্যায়ের পাহাড় জমিয়ে ফেলেছিল। সংগত কারণে পুলিশের উপর আক্রশ ও নানা জটিল হিসেবের কারণে অনেক থানায় আক্রমণ হয়। বলা যায় গত ৪/৫ দিন পুলিশ শুন্য হয়ে পড়ার মত ঘটনা ঘটে, যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
এই সময় ছাত্র সমাজ সাধারণদের সংযম প্রদর্শণের ডাক দেয় ও বিভিন্ন থানার নিরাপত্তায় নিয়োজিত হয় ছাত্র সমাজ, আর এতে জ্বালা বাড়ে, কাউয়া কাদের মত বুকে বড় জ্বালা।
৪) পুলিশের সংকট ও পুলিশদের নিরাপত্তার অভাববোধ ও কর্ম বিরতীর কারণে ট্রাফিক শুন্য হয়ে যায় দেশ, বিশ্বের ইতিহাসে এমন ঘটনা চরম অস্বাভাবিক। এ অবস্থায় ছাত্র সমাজ আবার কান্ডারি হয়ে আসে, তারা মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে যায়। জীবনে যারা বাসায় দুএকটা কাজ করেনি তারাই শহড়ের নিড়াকপড়া রোদের দুপুরের উত্তাপেও দাঁড়িয়ে থাকে।
বিশ্বের সব থেকে বড় বেহায়া বড় বেয়াদপ লোকাল বাসদেরও সাড়ি বদ্ধভাবে নিয়ম তান্ত্রিকভাবে গাড়ি চালাতে শেখায়। ওরা বলে আমাদের সহায়তা করুন, আমরা ইউরোপের ট্রাফিক মডলের সুবিধা নিশ্চিত করে দেব। চাপা বাজদের মত বলবো না দেশ সিংগাপুর হয়ে গেছে, সিংগাপুরের মত ট্রাফিক সিগ্নাল বাস্তবায়ন করে উদাহারণ তৈরি করে যাব।
এতে আর জ্বলন বেড়ে যায়। সেই একই গাল কপচানো বুলি, একদিন পরই ভুলে যাবে, শখ মিটে যাবে।
ছাত্র সমাজের শখ মেটে নাই। তারা অদম্য উচ্ছাসে ট্রাফিকের দায়িত্ব বজায় রেখেছে, আর জ্বলুনি বাড়ছে আরও বেশি।
৪) এ দেশে ক্ষমতার পালা বদল হলে, কেন যানি হিন্দুদের উপর আক্রমণ বেড়ে যায় আর দোষ পড়ে জামাতের উপর।
এবারও আক্রমণ হয় হিন্দুদের উপর তবে ব্যতিক্রম ঘঠনার জন্ম দেয় ছাত্র সমাজ, জামাত ও আলেম সমাজ। এরা একত্রে পাহারা বসায় মন্দির ও হিন্দুদের সব আবাসিক এলাকায়
সব সময়ে যারা এ সব কুকর্ম ঘটিয়ে সুবিধা নিত তাদের চুলকানী বেড়ে যায় বহুগুণে। আশায় ছিল এক দুদিন পাহাড়া দিয়ে ছাত্র সমাজ ঘুমিয়ে যাবে।
ছাত্র সমাজ ঘুমিয়ে যায়নি। তারা তাদের পাহাড়া আরও জোরদার করে জ্বলন বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণে।
৬) বিভিন্ন অনিয়ম. দুর্নীতিবাজদের পদ ত্যাগ ও বিচার চেয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিচ্ছে ছাত্র সমাজ।
এতে জ্বলন বাড়ছে আরও।
দেশের যেখানে সবাই নানা রকম অনিয়ম, ঘুষ, সুদ, পণ্যে ভেজাল, সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, মিথ্যার বেসাতি, প্রতারণা, চাপাবাজি ও নিয়ম ভঙ্গকরায় অভ্যস্থ সেই সব মানুষদের গাঁয়ে জ্বালা বেড়ে যাচ্ছে।
সব ধরণের অনিয়ম ও বৈষম্যের দেয়াল ভেংগে দিক এই ছাত্র সমাজ, সেই শুভকামনা রইল।