01/01/2026
খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর জানাজায় বিএনপির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন যে তাঁর মৃত্যুর দায় শেখ হাসিনা এড়াতে পারবেন না।
কেন পারবেন না? কারণ, শেখ হাসিনা তাঁকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতি দেননি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাতের মামলায় বেগম জিয়া কনভিক্টেড আসামি ছিলেন। ওই মামলার সত্যতা নিয়ে বিএনপির কখনোই কোনো বক্তব্য নেই। তাদের বক্তব্য হলো মাত্র দুই কোটি টাকা তিনি অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা থেকে নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়েছিলেন, কিন্তু খরচ করেননি। অর্থাৎ, অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা সরানোর বিষয়টি তারা অস্বীকার করে না। বিষয়টা এমন যে আপনার ঘর থেকে দুই হাজার টাকা চুরি হলো। ২০ বছর পরে জানা গেল, এক চোর সেই টাকা নিয়ে গিয়ে নিজের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে রেখেছে। লাভসহ সেটা ১০ হাজার টাকা হয়েছে। ধরার পর সে বলল, “টাকাটা আমি খরচ করিনি।” তাতে কি তার চুরির দায় মিথ্যা হয়ে যায়?
এর পরেও খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে প্যারোলে জামিন দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তাঁকে এভারকেয়ারে পরিবারের জিম্মায় চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। এই আমলেও তাই হয়েছে। কিন্তু বিএনপি অভিযোগ করেই যাচ্ছে আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করাতে দেয়নি।
পৃথিবীর কোথায় কনভিক্টেড আসামিকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়? ইউনুস সরকার খালেদা জিয়াকে যেতে দিয়েছিল, কারণ তারা রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে খালেদা জিয়ার মামলার শাস্তি মওকুফ করিয়েছিল।
এখন বলা হচ্ছে, তাঁকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে। তিনি গত চার বছর ধরে বাসায় ছিলেন। এর আগে এক বছর কারাগারে ছিলেন। একজন ৭৬ বছরের নারীকে স্লো পয়জন দেওয়ার পর সেটা কাজ করতে চার বছর লাগল! এই চার বছরে তাঁর পরিবার অন্তত জানাতে পারল না যে কী বিষ তাঁকে দেওয়া হয়েছে? কী অদ্ভুত, অমূলক মিথ্যাচার এরা লাশ সামনে রেখেও করতে পারে! এদের কি একটু লজ্জা হয় না? এরা কি আল্লাহকেও ভয় পায় না?
গতকাল থেকে আওয়ামী লীগ কর্মীরা বেগম জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছে। এটা নিয়ে বিএনপি–জামায়াতের মন্তব্যের শেষ নেই। কথা হলো খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তাঁর সরকার আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করেছে। হামলার পর সংসদে দাঁড়িয়ে বলা হয়েছে যে শেখ হাসিনা নাকি বেনেটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করা হয়েছে, আর খালেদা জিয়াকে সুফি-সাধ্বী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে বিষয়টা তা নয়। এমন প্রতিপক্ষকে যেভাবে ফেস করা দরকার, আওয়ামী লীগ সেভাবেই ফেস করেছে।
কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুতে শোক জানানোও রাজনৈতিক শিষ্টাচার। সে কারণেই শোক জানানো হয়েছে। শোক জানালে বিএনপি গদগদ হয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে করা সব জুলুমের জন্য অনুতপ্ত হবে, বা আওয়ামী লীগকে নিয়ে নোংরামি বন্ধ করবে এমন কোনো ভাবনা থেকে এটি করা হয়নি। এমনকি আজ জানাজার মাঠে বিএনপি কী বলবে, তা জেনেই শোক জানানো হয়েছে।
কারণ, প্রতিপক্ষ অধম বলে আমরা উত্তম হব না এই রাজনীতি আওয়ামী লীগ কখনো করেনি। করেনি বলেই সংসদে দাঁড়িয়ে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত গর্বভরে বলতে পেরেছিলেন কারও মৃত্যুতে উল্লাস করার রাজনৈতিক আদর্শ আওয়ামী লীগের নেই। কারও হত্যার বিচার করা যাবে না এমন ঘৃণ্য মানসিকতাও এই দলের নেই। এসব কথা এমনি এমনি আসে না।