06/09/2026
একটি দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্কের গল্প, আমাদের ক্লায়েন্ট ,
Prothom Alo USA
ইব্রাহীম চৌধুরী এর কথায় -
কিছু সম্পর্কের শুরু হয় কাজ দিয়ে, পরে তা গিয়ে দাঁড়ায় আস্থা আর ভালোবাসায়।
আইটি ল্যাব সলিউশন—অনলাইনে নানা ধরনের প্রযুক্তিগত সেবা নিয়ে কাজ করে। প্রায় দশ বছর আগের কথা। নিউইয়র্ক থেকে কিছু কাজ আউটসোর্স করার জন্য সিলেটে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ করছিলাম। খুব বেশি ভাবিনি। কাজের ব্যাপারে ‘কাজ ও অকাজের কাজী’ আমার ভাই আব্দুল করিম কিমকে ফোন দিলাম। কিম দেবরাজ চৌধুরীর নাম্বার দিল।
দেবরাজের সঙ্গে কথা বললাম। কাজটি তাদের দিয়ে দিলাম।
সিলেট থেকে কাজটা ঠিকমতো হবে কি না—সন্দেহ ছিল। তার ওপর আমার সঙ্গে কাজ করাটাও যে খুব সহজ কোনো বিষয় নয়, সেটা আমি নিজেও জানি!
কিন্তু মানুষকে চেনার সবচেয়ে ভালো উপায় বোধহয় তার কাজ দেখা। বছর পেরোতে পেরোতে দেবরাজের প্রতিষ্ঠান, আর তাদের সহকর্মী অভিজিৎ, তাদের কাজ দিয়ে আমার সেই আস্থা অর্জন করেছে। আস্থার সঙ্গে কখন যে ভালোবাসাও যোগ হয়ে গেছে, টের পাইনি।
আজ তাদের অফিসে গেলাম। কোনো কাজের তাগিদে নয়। কোনো নির্দেশনা দিতে নয়। শুধু ধন্যবাদ বলতে।
যারা পর্দার আড়ালে থেকে বছরের পর বছর আমার কাজকে সহজ করেছে, তাদের মুখোমুখি বসে একবার বলা—তোমাদের ধন্যবাদ—এইটুকুই ছিল আজকের উদ্দেশ্য।
অবশ্য বসে বসে শুধু পুরোনো কথা হয়নি। প্রযুক্তি কীভাবে পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছে। পরিবর্তনের এই ভয়াবহ দ্রুততার সঙ্গে রাষ্ট্র কতটা তাল মেলাতে পারছে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কী করণীয়—কথা গড়াতে গড়াতে অনেক দূর গেল।
একসময় মনে হলো, সিলেটের ধোপাদিঘির পাড়ে বসে আমরা আসলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের গল্প করছি না। কথা বলছি ভবিষ্যতের সিলেট নিয়ে।
একসময় যে কাজের জন্য নিউইয়র্ক থেকে সিলেটে একজনকে খুঁজতে হয়েছিল, আজ সেই সিলেট থেকেই তারা দেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে প্রযুক্তিসেবা দিচ্ছে।
এটাই তো আমাদের সম্ভাবনার গল্প।
আমাদের দেশে মেধার অভাব নেই। উদ্যোগেরও অভাব নেই। অভাবটা অনেক সময় হয় সুযোগের, স্বীকৃতির, আর পাশে দাঁড়ানোর।
দেবরাজদের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা যখন ধোপাদিঘির পাড়ে বসে পৃথিবীর বাজারে কাজ করেন, তখন তাদের দিকে তাকিয়ে শুধু অভিনন্দন জানালে দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের জন্য পরিবেশ তৈরি করা, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতি ও অবকাঠামো তৈরি করা—এগুলো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নিজেদের শহরের এমন উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া, তাদের সাফল্যে আনন্দিত হওয়া—এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।
আইটি ল্যাব সলিউশনের অফিসে গিয়ে শুধু কয়েকজন কর্মীকে ধন্যবাদ দিয়ে আসিনি। মনে হলো, সিলেটের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনার কাছেও যেন একটু কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এলাম।
দেশের বাইরে বসে সিলেটের মানুষকে দিয়ে কাজ করিয়েছি—আজ সিলেটে এসে দেখলাম, তারা শুধু আমার কাজই করছে না, নিজেদের জায়গাটাও তৈরি করে নিয়েছে পৃথিবীর মানচিত্রে। এই সাফল্যের গল্পগুলোই আমাদের আশাবাদী করে।
Ibrahim Chowdhury