15/10/2020
সঠিক উপায়ে একটি ফেসবুক ফ্যান পেজ খুলবেন কীভাবে
ফেসবুক বিজনেস পেজ-এর মাধ্যমে পৌঁছে যাওয়া যায় হাজার হাজার ক্রেতার কাছে- স্রেফ তাঁদের এক ক্লিকেই। কিন্তু কীভাবে একটি ফেসবুক ফ্যান পেজ খুলতে হয়? ফেসবুক ফ্যান পেজ খোলার নিয়ম 2020 তে কতটা ভিন্ন গত বছরের থেকে?
ফেসবুক পেজ তৈরি করার নিয়মঃ
প্রথম ধাপঃ পেজ তৈরি-
ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে যান। উপরের প্যানেলে ডান দিকে যোগ চিহ্নটি ক্রিয়েট অপশন। তাতে ক্লিক করে মেনু থেকে পেজ অপশনটি বেছে নিন।
এ বার বাঁ দিকে দেখুন পেজের নাম, শ্রেণি (ক্যাটিগরি) এবং তার বিবরণ লেখার জায়গা রয়েছে। তাতে আপনার ব্যবসার নাম এবং কী ধরনের ব্যবসা, তা পূরণ করুন। আপনার ব্যবসার ধরণ সম্পর্কে একটি শব্দ লিখলেই ফেসবুক দেখিয়ে দেবে সেই সংক্রান্ত শ্রেণির তালিকা।
ধরা যাক, আপনার ব্যবসাটি পোশাকের ব্যুটিক। সে ক্ষেত্রে ব্যুটিক বা ক্লোদিং লিখলেই পেয়ে যাবেন পছন্দ মতো শ্রেণির নাম। বিবরণ লেখার নির্দিষ্ট মাপ রয়েছে। দু’তিনটি বাক্যে সংক্ষিপ্ত অথচ মনোগ্রাহী একটি বিবরণ লিখুন, যা আপনার ক্রেতাদের চোখ টানবে।
ইতিমধ্যে ডান দিকে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আপনার পেজের চেহারা দেখতে পাবেন।
এ বার নীচে ডান দিকে নীলরঙা ক্রিয়েট পেজ বাটনে ক্লিক করলেই জন্ম নেবে আপনার পেজ।
দ্বিতীয় ধাপঃ ছবিতে চেনান ব্যবসা-
আগের মতোই বাঁ দিকের প্যানেলে দেখুন প্রোফাইল ও কভারের ছবি আপলোড করার জায়গা রয়েছে। প্রোফাইল ছবি হিসেবে আপনার সংস্থার লোগো দেওয়া ভাল। তাতে ব্র্যান্ডের পরিচিতি তৈরি করা সহজ হবে। দিতে পারেন আপনার পণ্যের ভাল কোনও ছবিও।
কভার হিসেবে দিন আপনার ব্যবসাকে চেনাতে সক্ষম আকর্ষণীয় কোনও ছবি। তা আপনার ব্যুটিকের বাইরের ছবি হতে পারে। অনলাইন ব্যুটিক হলে হতে পারে বিভিন্ন পোশাকের বাহারি কোলাজ। কভার ফটোয় উজ্জ্বল রং চোখ টানে বেশি। ছবি আপলোড হয়ে গেলে ক্লিক করুন সেভ অপশনে। এর পরেই প্রাথমিক চেহারায় আপনার পেজটি খুলে যাবে স্ক্রিনে।
আশাকরি খানিকটা বুঝতে পেরেছেন যে কীভাবে একটি ফেসবুক ফ্যান পেজ খুলতে হয়, চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক পরের ধাপ ।
তৃতীয় ধাপঃ সাজগোজ-
এখন আপনি আপনার ফেসবুক ফ্যান পেজের যে চেহারাটা দেখতে পাচ্ছেন, তা হল একেবারেই ঘরোয়া চেহারা। এ বার তাকে সকলের সামনে আনতে হলে কিছুটা সাজিয়ে গুছিয়ে তো নিতেই হবে। ক্রেতাকে ব্যবসা সম্পর্কে জানাতে দিতে হবে জরুরি সব তথ্যও।
পেজের বাঁ দিকে দেখুন রয়েছে ম্যানেজ পেজ এবং তার নীচে বেশ কিছু ট্যাব। বেছে নিন এডিট পেজ ইনফো ট্যাবটি।
ডান দিকে একটি ফর্ম খুলে যাবে এর পর। তাতে পর পর প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি পূরণ করতে থাকুন। আপনার সংস্থার ঠিকানা, সঙ্গের গুগল ম্যাপে তার সঠিক অবস্থান, যোগাযোগের ফোন নম্বর, ইমেল আইডি, ওয়েবসাইট থাকলে তার অ্যাড্রেস, পরিষেবা দানের সময়, পরিষেবা এলাকা- সব একে একে লিখুন। এ ছাড়া সংস্থার প্রাইভেসি পলিসি ও আইনি তথ্য জানানোর জায়গা রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে করোনা সংক্রান্ত আপডেট ও জরুরি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেওয়ারও জায়গা রয়েছে।
এ বার ফেসবুক বিজনেস পেজের নামের নীচে দেখুন ভিডিও, এবং মোর অপশনের মেনুতে ফটোস রয়েছে। আপনার ব্যবসাকে নজরকাড়া করে তুলতে ছবি বা ভিডিও খুবই কার্যকরী। তাই ভেবেচিন্তে আপলোড করুন বেশ কিছু ভাল ছবি ও ভিডিও। আপনার ব্যুটিকের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের তথ্য দিতে পারেন ইভেন্ট অপশনে।
চতূর্থ ধাপঃ পেজের ব্যবস্থাপনা-
ম্যানেজ পেজে- এর একেবারে নীচে পেজ সেটিংস ট্যাবটিতে আসুন এ বার। পেজটি কী ভাবে চলবে, তা এখান থেকেই নির্দিষ্ট করা যাবে।
পেজ সেটিংসের মধ্যে রয়েছে জেনারেল, মেসেজিং, পেজ ইনফো, টেমপ্লেটস অ্যান্ড ট্যাবস, নোটিফিকেশনস, পিপল অ্যান্ড আদার পেজেস, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি একগুচ্ছ ট্যাব। এর প্রতিটিতে ক্লিক করলে ডান দিকে একটি করে ফর্ম খুলে যাবে। সেগুলিতে সঠিক অপশনগুলিতে ক্লিক করে আপনার পেজের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ সাজিয়ে নিন।
মেসেজিং-এর মাধ্যমে ক্রেতারা সরাসরি চ্যাটে আপনাকে যোগাযোগ করতে পারবেন। তাতে কী জবাব দেবেন, তা আগে থেকে ঠিক করে রাখারও সুযোগ রয়েছে নির্দিষ্ট প্রশ্ন তালিকার ক্ষেত্রে।
ইন্সটাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ট্যাব দুটির মাধ্যমে এই পেজের সঙ্গে জুড়ে নিন আপনার ব্যবসার ইন্সটাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট। এতে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছনো সহজ হবে আরও।
পিপল অ্যান্ড আদার পেজেস এ জুড়ে নিন একই ধরনের আরও ব্যবসা বা ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট। এতে তাদের সদস্যদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া যাবে আপনার ব্যবসার তথ্য।
পেজ কেমন চলছে, তাতে আপনার ব্যবসার কতটা উপকার হচ্ছে, খেয়াল রাখতে হবে তা-ও। ইনসাইট বা পেজ কোয়ালিটি ট্যাব আপনাকে পেজের কর্মক্ষমতা, মান বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
পঞ্চম ধাপঃ পরিষেবার তথ্য-
এ বার আসুন প্রোফাইল ছবির ডান দিকে। পাশে রয়েছে অ্যাড এ বাটন নামে নীল রঙা একটি ট্যাব। ক্রেতাদের আরও তথ্য দিতে বা বাড়তি সহায়তা দিতে কাজে লাগবে এই বাটনটি।
বাটনে ক্লিক করে মেনু থেকে দেখে নিন ক্রেতাদের আর কী কী সহায়তা বা সংযোগের দিতে চান আপনি। সেই অনুযায়ী তালিকা থেকে বুক নাও, গেট কোট, কল নাও, কন্ট্যাক্ট আস, সেন্ড ইমেল-এর মতো বাটনগুলি যোগ করে নিন নিজের পেজে। তার পর প্রতিটি বাটনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে দিন লাগোয়া ফর্মে।
এই বাটনগুলিতে ক্লিক করলে ক্রেতারা সরাসরি পেয়ে যাবেন জরুরি তথ্য বাঁ যোগাযোগের সুযোগ।
ষষ্ঠ ধাপঃ প্রথম পোস্ট-
ফেসবুক পেজ তৈরী তো হয়ে গেলো, প্রাথমিক সাজগোজও শেষ। কিন্তু আপনার ব্যবসার প্রতি আকর্ষণ তৈরি, কেন মানুষ এই পেজের সদস্য হবেন, কেনই বা এই পেজে টিকে থাকবেন- এই সবটাই নিশ্চিত করতে চাই পোস্ট। মানুষের আগ্রহ প্রথমে তৈরি হবে আপনার পেজের পোস্ট দেখেই। এবং পেজে অবশ্যই চাই নিয়মিত পোস্ট।
অতএব চাই প্রথম পোস্ট। পেজের ডান দিকটায় দেখুন ক্রিয়েট ট্যাব পোস্ট রয়েছে। তার মাধ্যমে আকর্ষণীয় লেখার পোস্ট, ছবি বা ভিডিও আপলোড, বিজ্ঞাপন বা ইভেন্ট তৈরি- সব কিছুরই সুযোগ রয়েছে। পছন্দমতো বেছে নিন। কী ভাবে ওই ট্যাব থেকে পোস্ট তৈরি করা যাবে, তা দেখে নিন এখানে।
নতুন ব্যবসায় ক্রেতা টানতে দামে ছাড় বা উপহার দেওয়া যেতেই পারে। ক্রিয়েট পোস্টের অফার অপশনটিতে গিয়ে ছাড় বা উপহারের অফারের খবর দিতে পারেন ক্রেতাদের।
সপ্তম ধাপঃ ক্রেতার খোঁজ-
ক্রেতা পেতে বা আপনার ব্যবসা সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করতে পেজে ডেকে আনতে হবে মানুষকে। সে কাজটা করার জন্য পেজেই দেখুন রয়েছে ইনভাইট ট্যাব।
ইনভাইট ট্যাবে ক্লিক করলে খুলে যাবে আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের বন্ধু তালিকা। সেখান থেকে সকলকেই কিংবা পছন্দমতো নাম বেছে নিয়ে ইনভাইটে ক্লিক করুন। পেজের আমন্ত্রণ চলে যাবে তাঁর কাছে। তিনি সেটি অ্যাক্সেপ্ট করলেই আপনার পেজের সদস্য হয়ে যাবেন।
ডান দিকে ভিউ অ্যাজ ভিউয়ার অপশনে গিয়ে দেখে নিতে পারেন তাঁরা ঠিক কী চেহারায় দেখবেন আপনার পেজটিকে।
অষ্টম ধাপঃ জানান দেওয়া-
এ বার পেজের কথা ফেসবুকে জানান দেওয়ার পালা। প্রোমোট পেজ-এ ক্লিক করে আপনার পেজের প্রচার করতে পারেন।
অথবা ওই সারিতেই একেবারে ডান দিকে তিনিটি বিন্দুতে ক্লিক করে আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে লাইক, ফলো, শেয়ার, ইনভাইট সবই করে ফেলতে পারবেন। এখানে দেখে নিতে পারেন, কী ভাবে তা করতে হবে।
তা হলে? ফেসবুক ফ্যান পেজ তো রেডি। হয়ে যাক প্রথম পোস্ট এবং আপনার ব্যবসার আত্মপ্রকাশ! কী বলেন?
আপনি যদি এখনো ভাবেন ফেসবুক পেজ কিভাবে খুলবো বা কিভাবে একটি ফেসবুক ফ্যান পেজ খুলতে হয়? ফেসবুক পেজ তৈরির নিয়ম-এর ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না ।