01/07/2023
⛔️যদি এগুলো না করেন, তাহলে অনলাইন ব্যবসায় ছেড়ে দিন
২০২১ সালের দিকেও কিছু পেইজ ছিল খুব হৈ হুল্লর করে অনলাইন বিজনেস শুরু করেছিল, এরকম অনেক পেইজ এখন নাই। বছর খানেক আগে লাস্ট পোস্ট করা হয়েছে, কেউ পেইজ নাম চেঞ্জ করেছে, কেউ বা পেইজ ডিলিট করে দিয়েছে। কিন্তু কেন? কেন অনলাইন ব্যবসায় থেকে অনেকে ঝড়ে পরে। শুরু করে ঠিক কিন্তু ধরে রাখতে পারেনা। আমরা অনলাইন ব্যবসায় এর জন্য সার্ভিস দিয়ে আসছি ২০১৯ সাল থেকে, আমাদের চোখের সামনে ছোট পেইজ অফিস নিয়েছে, অনেক টাকা নিয়ে নামা পেইজ এ হাওয়াআআআ হয়ে গিয়েছে এবং অনেকে ছোট ছোট পায়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে চলেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলোর আলোকে আপনাদের সাথে কিছু বিষয় শেয়ার করতে চাই যা অনলাইন ব্যবসায়ের জন্য অনেক প্রয়োজন। আর যদি এগুলো না করেন, তাহলে অনলাইন ব্যবসায় ছেড়ে দিন।
▪ আগে শিখুন, পরে মাঠে নামুনঃ ব্যবসায় আর সাতার কাটা এক বিষয় না। যে পানিতে নামলাম, পানি খাইলাম এক সময় সাতার শিখে গেলাম। ব্যবসায় এর পেছনে আপনি একা না, অনেকে জড়িত থাকে। সুতরাং ব্যবসায় কে সাতার মনে করে নাকানি চুবানি না খেয়ে কিছু অভিজ্ঞতা এবং প্রায়োগিক জ্ঞান নিয়ে ব্যবসায় করতে নামুন। ফেসবুকে পেইজ কীভাবে ম্যানেজ করতে হয়, অ্যাড কীভাবে দেয়া যায়, পলিসি কি, অ্যাকাউন্ট কীভাবে সেইফ রাখা যায় এসব জেনে ব্যবসায় নামা উচিত। খালাতো ভাই, এলাকার ভাই, বি এফ কে দিয়ে পেইজ ম্যানেজ করালে লালবাতি জ্বলতে বেশী সময় লাগবে না। বি এফ ভাইয়েরা রাগ কইরেন না, সব খানে পারফর্মেন্স ভাল নাই হতে পারে, ইটস ওকে। যারা ব্যবসায় করতে চান, বেসিক কিছু বিষয় হলেও শিখে জেনে তারপর নামুন। তাহলেই অমুক আইটি তমুক ফ্রিল্যান্সার আপনাকে হাইকোর্ট দেখাতে পারবে না, সার্ভিস নিলেও আপনি আপনার মত করে বিষয়টা বুঝতে পারবেন, মতামত দিতে পারবেন। ভবিষ্যতে নিজের কাজ নিজেই করতে পারবেন। সুতরাং, আগে শিখুন পরে মাঠে নামুন।
▪ গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাবেন নাঃ একটা প্রোডাক্ট ভাল চললেই সবাইকে যে ঐ প্রোডাক্ট সেল করতে হবে বিষয়টা এমন না। কিন্তু অনেক বিজনেস এর শুরুই হয় এভাবে। যেটা বেশী চলে সেটায় সবাই মিলে যোগ দেয়। তাই প্রডাক্ট সিলেকশনে সতর্ক হউন। ২০২০ সালে যে পেইজগুলো শুধু কভিড সংক্রান্ত সার্ভিস বা প্রোডাক্টে ফোকাস দিয়েছিল তাদের বেশীরভাগই এখন ফোকাস চেঞ্জ করে ফেলেছে। এরকম একটি প্রোডাক্টে ফোকাস থাকা অনেক পেইজ কম্পিটিশনের কারণে নতুন প্রোডাক্ট আনতে বা ব্যবসায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। তাই প্রোডাক্ট সিলেকশনে সময় নিন। রিসার্চ করে, ভবিষ্যৎ ফিসিবিলিটি বুঝে অনলাইন ব্যবসায় শুরু করা উচিত।
▪ ধৈর্য সবচেয়ে বড় শক্তিঃ একদম বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমরা যেহেতু ফেসবুকে অ্যাড রানের সার্ভিস দেই অনেক ধরণের ব্যবসায় এবং মানুষের সাথে কথা হয়। এর মধ্যে অনেকেই থাকে একটু অস্থির প্রকৃতির। ম্যাসেজ এর রিপ্লাই দিতে কেন দেরি হচ্ছে, অ্যাড আয়ক্টিভ হচ্ছে না কেন, ম্যাসেজ আসছে না কেন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে খুব বেশী অস্থির থাকেন এবং ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। এবং আশ্চর্যজনকভাবে তাদের অ্যাড এর পারফর্মেন্স কোন এক অজানা কারণে কম আসে। এবং যারা ধৈর্য সহকারে কাজ করতে থাকে তারা এক সময় ঠিক এই ভাল ফলাফল পায়। তাই কোন অবস্থাতেই ধৈর্য হারালে চলবে না। লোকসান হবে, শ্বশুরবাড়ি এর লোকজন টিটকারি দিবে, বাবা মা বিয়ে দিতে চাইবে, জুকারবারগ পেইজ রেস্ট্রিক্ট করে দিবে, এজেন্সি টাকা মেরে দিবে এরকম অনেক কিছুই হবে কিন্তু ধৈর্য হারিয়ে ফেলা যাবে না। ছক কেটে আবার এগিয়ে যেতে হবে, এক ভুল বার বার না করে।
▪ অর্থই মূলঃ স্বল্প পুঁজি নিয়ে অনলাইন ব্যবসায় করা অসম্ভব না, তবে অনেক কঠিন। যদি আপনার পুঁজি বেশী থাকে, আপনার জন্য বাবসায় করা সহজ হবে। তাই যদি পুঁজি কম হয় অনেক ভেবে চিনতে ব্যবসায় শুরু করবেন এবং খরচগুলো বুঝে শুনে করবেন। যদি পুঁজি বেশী থাকে তাহলে ব্যবসায় করে শান্তি পাবেন, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ থাকবে, ব্যবসায় কে বড় করার সুযোগ বেশী থাকবে এবং ঝুঁকি নেয়ার সুযোগ থাকবে। তাই অর্থ এর যাতে ভাল পরিমাণ ফ্লো বজায় থাকে সেটা নিশ্চিত করেই অনলাইন ব্যবসায় শুরু করা উচিত।
▪ পরিকল্পনাঃ “আগে শুরু করি, পরে দেখা যাবে” এসব আবেগি কথায় ব্যবসা চলবে না। ব্যবসায় শুরু করার আগে সবকিছুর পরিকল্পনা করে নিতে হবে। প্রোডাক্ট কি হবে, প্রাইস কি রকম রাখবেন, কোথায় কোথায় আপনার প্রোডাক্ট পাওয়া যাবে, কীভাবে মার্কেটিং করবেন সবকিছু পরিকল্পনা করে ব্যবসায় শুরু করবেন। পরকিল্পনার মধ্যে পরিবর্তন আসবে কিন্তু অন্তত একটা রোডম্যাপ থাকবে যা আপনি মেনে চলতে পারবেন।
ব্যবসায় সবাই শুরু করে, পেইজ সবাই খোলে, টিকে থাকে গুটি কয়েকজন। একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন যারা টিকে আছে তারা এই বিষয়গুলো ঠিক মেনে চলেছে। হয় সেচ্ছায় না হয় ঠেকায়, তাই ঠেকায় পরে না শিখে আগে থেকেই শিখুন, কাজে দিবে।