02/10/2025
কতজন ধনী মানুষকে চিনেন যাদের প্রচুর সম্পদ রয়েছে? তাদের মাঝে এমন অনেককেই পাবেন যারা তাদের সন্তানদের কারণে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক জীবনযাপন করছেন। তার ছেলে হয়তো একেবারে উচ্ছৃঙ্খল।
চারিদিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন, মানুষ কঠোর যন্ত্রণাদায়ক জীবনযাপন করছে। অনেকের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখেন তার রয়েছে বিশাল বাড়ি, সুন্দর মার্সিডিজ গাড়ি। যদি তার জায়গায় থাকতেন, হয়তো বলতেন,
❝আমার বর্তমান অবস্থাই ভালো, যদিও তাতে ছিদ্র রয়েছে; কারণ অন্তত আমি রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারি। তার তার জায়গায় থাকলে আমাকে যতসব ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমাতে হতো।❞
সবার জীবনেই তাদের নিজস্ব দুঃখ-কষ্ট রয়েছে। চমৎকার সুখী জীবনযাপন করছেন এমন মানুষের সংখ্যা খুবই বিরল। ইবনে আব্বাস (রাদ্বি.) বলেন,
দুনিয়ার জীবনের ভিত্তি হলো দুঃখ-কষ্ট। সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো যখন দুঃখ-কষ্টে নিমজ্জিত থাকেন তখন আল্লাহর কাছ থেকে সহজ সময়ের অপেক্ষা করা (ধৈর্য ধরা)।
মুসলমানরা যদি এই চিত্রটি নিজের মনে গেঁথে রাখতে পারতো যে, দুনিয়ার এই সকল দুঃখ-কষ্টে আমি যদি ধৈর্যধারণ করি, এর মানে আমি ইবাদত করছি। আপনি হয়তো আপনার ঘরে বসে আছেন, এমতাবস্থায় যদি এই মনোভাব বজায় রাখতে পারেন আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তাহলে আপনি আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন আছেন। আর যদি শুধু অভিযোগের পর অভিযোগ করতে থাকেন—
❝আমার উপরেই কেন সব বিপদ এসে পড়ে? চারিদিকে শুধু অন্ধকার, হতাশা আর ব্যর্থতা। সবকিছুই তমসাচ্ছন্ন ও বিষণ্ণ।❞
তখন আল্লাহ আপনাকে অভিযোগ করার জন্য আরও বেশি সুযোগ করে দিবেন। আপনাকে সত্যিকারের অভিযোগ করার মতো জিনিস দিবেন। কারণ, হাদিসে আছে—যদি ছোটখাটো কষ্টের ব্যাপারে অভিযোগ করেন তাহলে আল্লাহ আপনাকে বড় বড় কষ্টে নিপতিত করবেন।
আর যদি আমি-আপনি কেবল কৃতজ্ঞ হতে পারি তাহলে কী হবে? আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, لَأَزِيدَنَّكُمْ—'আমি তোমাদের আরো বেশি, আরো বেশি, আরো বেশি দান করবো [সূরা ইব্রাহীম: ৭]। আল্লাহ আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনাকেই সমৃদ্ধি দান করবেন—হেদায়াত, স্বাস্থ্য, রিজিকসহ সকল ক্ষেত্রে। সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে যদি আমি-আপনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে পারি।
তিনি বলেন,
وَمَن يَشْكُرْ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ
❝যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তা নিজের কল্যাণেই করে।❞ [সূরা লুকমান : ১২]
হয় আমি সবসময় লোভী ও অসুখী; আমি আমার সম্পর্কগুলো নিয়ে অসুখী, সন্তানদের নিয়ে অসুখী, পিতামাতাকে নিয়ে অসুখী, বন্ধুদের নিয়ে অসুখী, চাকরি নিয়ে অসন্তুষ্ট, জামাকাপড় নিয়েও অসন্তুষ্ট, আমার চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট, পড়ালেখা নিয়ে অসন্তুষ্ট, সম্পর্কে মানুষের মতামত নিয়ে অসন্তুষ্ট। এভাবে সবসময় কিছু না কিছু নিয়ে অসন্তুষ্ট। আমি এমনই।
আপনার অবস্থা যদি এমন হয়; সারাক্ষণ যদি বিভিন্ন জিনিস কামনা করতে থাকেন, এই আয়াতটি আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে আপনি এর মাধ্যমে আসলে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন। নেতিবাচক চিন্তার মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে রাখছেন। এটা আপনাকে অসাড়-নিস্তেজ বানিয়ে ফেলছে।
প্রকৃতপক্ষে, কৃতজ্ঞতার জিন্দেগী পরিত্রাণ নিয়ে আসে। এটা আপনাকে নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্তি দান করে। ফলে অনেক বেশি কর্মক্ষম থাকেন, সক্রিয় থাকেন। কৃতজ্ঞতা আপনাকে মানসিক শক্তি দান করে, আশাবাদী করে তোলে, উজ্জীবিত করে তোলে। আপনি এমনসব কাজ করতে পারেন যা অন্যথায় সম্ভব হতো না।
যখন একজন পিতা সবসময় নেতিবাচক চিন্তা করে, মা সবসময় নেতিবাচক চিন্তায় ডুবে থাকে, কিভাবে সেই পরিবারে কৃতজ্ঞ ছেলে-মেয়ে বেড়ে উঠবে? তারা যদি আপনাকে সবসময় অভিযোগ করতে দেখে, দুঃখ-ভারাক্রান্ত দেখে, যদি আপনাকে কখনো কোনো কিছুর জন্য কৃতজ্ঞ হতে না দেখে, আপনার চেহারায় পরিতৃপ্তি না দেখে, কার কাছ থেকে তারা কৃতজ্ঞতা শিখবে?
[শাইখ হামজা ইউসুফ ও উস্তাদ নোমান আলী খান]
বইয়ের নাম : ডিপ্রেশন : বিষাদের উপত্যকা পেরিয়ে
লেখক : নোমান আলী খান
সংগ্রহ করতে পারেন আমাদের কিছু সেরা বই যা অন্তরের স্থিরতা, প্রশান্তি ও জীবনকে বাস্তবভাবে দ্বীনের উপলব্ধিসহ বুঝতে সহায়ক হবে।
১। ডিপ্রেশন : বিষাদের উপত্যকা পেরিয়ে
২ । প্রশান্তির খোজ : ১ উস্তাদ নোমান আলী খান
৩। প্রশান্তির কতজন ধনী মানুষকে চিনেন যাদের প্রচুর সম্পদ রয়েছে? তাদের মাঝে এমন অনেককেই পাবেন যারা তাদের সন্তানদের কারণে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক জীবনযাপন করছেন। তার ছেলে হয়তো একেবারে উচ্ছৃঙ্খল।
চারিদিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন, মানুষ কঠোর যন্ত্রণাদায়ক জীবনযাপন করছে। অনেকের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখেন তার রয়েছে বিশাল বাড়ি, সুন্দর মার্সিডিজ গাড়ি। যদি তার জায়গায় থাকতেন, হয়তো বলতেন,
❝আমার বর্তমান অবস্থাই ভালো, যদিও তাতে ছিদ্র রয়েছে; কারণ অন্তত আমি রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারি। তার তার জায়গায় থাকলে আমাকে যতসব ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমাতে হতো।❞
সবার জীবনেই তাদের নিজস্ব দুঃখ-কষ্ট রয়েছে। চমৎকার সুখী জীবনযাপন করছেন এমন মানুষের সংখ্যা খুবই বিরল। ইবনে আব্বাস (রাদ্বি.) বলেন,
দুনিয়ার জীবনের ভিত্তি হলো দুঃখ-কষ্ট। সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো যখন দুঃখ-কষ্টে নিমজ্জিত থাকেন তখন আল্লাহর কাছ থেকে সহজ সময়ের অপেক্ষা করা (ধৈর্য ধরা)।
মুসলমানরা যদি এই চিত্রটি নিজের মনে গেঁথে রাখতে পারতো যে, দুনিয়ার এই সকল দুঃখ-কষ্টে আমি যদি ধৈর্যধারণ করি, এর মানে আমি ইবাদত করছি। আপনি হয়তো আপনার ঘরে বসে আছেন, এমতাবস্থায় যদি এই মনোভাব বজায় রাখতে পারেন আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তাহলে আপনি আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন আছেন। আর যদি শুধু অভিযোগের পর অভিযোগ করতে থাকেন—
❝আমার উপরেই কেন সব বিপদ এসে পড়ে? চারিদিকে শুধু অন্ধকার, হতাশা আর ব্যর্থতা। সবকিছুই তমসাচ্ছন্ন ও বিষণ্ণ।❞
তখন আল্লাহ আপনাকে অভিযোগ করার জন্য আরও বেশি সুযোগ করে দিবেন। আপনাকে সত্যিকারের অভিযোগ করার মতো জিনিস দিবেন। কারণ, হাদিসে আছে—যদি ছোটখাটো কষ্টের ব্যাপারে অভিযোগ করেন তাহলে আল্লাহ আপনাকে বড় বড় কষ্টে নিপতিত করবেন।
আর যদি আমি-আপনি কেবল কৃতজ্ঞ হতে পারি তাহলে কী হবে? আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, لَأَزِيدَنَّكُمْ—'আমি তোমাদের আরো বেশি, আরো বেশি, আরো বেশি দান করবো [সূরা ইব্রাহীম: ৭]। আল্লাহ আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনাকেই সমৃদ্ধি দান করবেন—হেদায়াত, স্বাস্থ্য, রিজিকসহ সকল ক্ষেত্রে। সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে যদি আমি-আপনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে পারি।
তিনি বলেন,
وَمَن يَشْكُرْ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ
❝যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তা নিজের কল্যাণেই করে।❞ [সূরা লুকমান : ১২]
হয় আমি সবসময় লোভী ও অসুখী; আমি আমার সম্পর্কগুলো নিয়ে অসুখী, সন্তানদের নিয়ে অসুখী, পিতামাতাকে নিয়ে অসুখী, বন্ধুদের নিয়ে অসুখী, চাকরি নিয়ে অসন্তুষ্ট, জামাকাপড় নিয়েও অসন্তুষ্ট, আমার চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট, পড়ালেখা নিয়ে অসন্তুষ্ট, সম্পর্কে মানুষের মতামত নিয়ে অসন্তুষ্ট। এভাবে সবসময় কিছু না কিছু নিয়ে অসন্তুষ্ট। আমি এমনই।
আপনার অবস্থা যদি এমন হয়; সারাক্ষণ যদি বিভিন্ন জিনিস কামনা করতে থাকেন, এই আয়াতটি আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে আপনি এর মাধ্যমে আসলে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন। নেতিবাচক চিন্তার মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে রাখছেন। এটা আপনাকে অসাড়-নিস্তেজ বানিয়ে ফেলছে।
প্রকৃতপক্ষে, কৃতজ্ঞতার জিন্দেগী পরিত্রাণ নিয়ে আসে। এটা আপনাকে নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্তি দান করে। ফলে অনেক বেশি কর্মক্ষম থাকেন, সক্রিয় থাকেন। কৃতজ্ঞতা আপনাকে মানসিক শক্তি দান করে, আশাবাদী করে তোলে, উজ্জীবিত করে তোলে। আপনি এমনসব কাজ করতে পারেন যা অন্যথায় সম্ভব হতো না।
যখন একজন পিতা সবসময় নেতিবাচক চিন্তা করে, মা সবসময় নেতিবাচক চিন্তায় ডুবে থাকে, কিভাবে সেই পরিবারে কৃতজ্ঞ ছেলে-মেয়ে বেড়ে উঠবে? তারা যদি আপনাকে সবসময় অভিযোগ করতে দেখে, দুঃখ-ভারাক্রান্ত দেখে, যদি আপনাকে কখনো কোনো কিছুর জন্য কৃতজ্ঞ হতে না দেখে, আপনার চেহারায় পরিতৃপ্তি না দেখে, কার কাছ থেকে তারা কৃতজ্ঞতা শিখবে?
[শাইখ হামজা ইউসুফ ও উস্তাদ নোমান আলী খান]
বইয়ের নাম : ডিপ্রেশন : বিষাদের উপত্যকা পেরিয়ে
লেখক : নোমান আলী খান
সংগ্রহ করতে পারেন আমাদের কিছু সেরা বই যা অন্তরের স্থিরতা, প্রশান্তি ও জীবনকে বাস্তবভাবে দ্বীনের উপলব্ধিসহ বুঝতে সহায়ক হবে।
১। ডিপ্রেশন : বিষাদের উপত্যকা পেরিয়ে
২ । প্রশান্তির খোজ : ১ উস্তাদ নোমান আলী খান
৩। প্রশান্তির খোজ : ২ উস্তাদ নোমান আলী খান
৪। আমি ও আমার রব : উস্তাদ নোমান আলী খান
৫। শয়তানের থাবা : আক্রমণ ও কৌশল : উস্তাদ নোমান আলী খান
৬. কীভাবে নামাজের মধুরতা লাভ করা যায়? : মিশারী আল-খারাজ
অনলাইনে: ওয়াফিলাইফ, রকমারি। অফলাইনে: বাংলাবাজারের সমকালীন, দারুল আবরার লাইব্রেরি, আশরাফিয়া বুক হাউজ, আস-সুফফাহ প্রকাশনী
ইসলামী বইমেলা ২০২৫
পেয়ে যাবেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্বগেটের উপরে, আশরাফিয়া বুক হাউজ (স্টল নং ১১৪-১১৫), ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে। ১০% ছাড়।