19/01/2026
জামায়াতের দিকে কওমী তরুনরা কেন ঝুঁকছে?
কওমী তরুনরা জামায়াতের দিকে কেন ঝুকছে সেটা যতোদিন নির্ণয় না করা যাবে ততোদিন এ স্রোত দমানো কঠিন হবে।
বর্তমানে আদব-আখলাকে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ছাত্ররা আগের মতো আর উস্তাদের কথা শুনছেনা। দুনিয়া ফেলে আখেরাতের আশায় পুরো জীবন পরিচালিত করতে পারছেনা। জীবন যুদ্ধে ঠিকে থাকার লড়াইয়ে সবাই নিরাপদ জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছে।
জামায়াতের লোকদের আমলে ত্রুটি আছে, দৃষ্টিভঙ্গিতে ভুল আছে সেটা মোটামোটি সকলের জানা। কিন্তু পারস্পরিক সহযোগিতায় তারা অনন্য। তারা যেভাবে তাদের কর্মীদের মূল্যায়ন করে, সহযোগিতা করে তার সিকিভাগও কওমী সংগঠনগুলো করতে পারছে?
আন্দোলনে হাজারও ছাত্র-আলেমকে কাজে লাগানো হয় কিন্তু আহত-নিহতদের খোঁজ নেয়না কেউ। আজও ইনামুল হাসান ফারুকীর মতো শত আলেম হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে, আইনুল হক কাসেমীর মতো শত আলেম কয়েদখানায় নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছে। কিন্তু তাদের দিকে ফিরে তাকানোর মতো মুরব্বীদের কি দেখা যাচ্ছে?
নেই আমাদের কোনো জেনারেল শিক্ষাগার, নেই হাসপাতাল। প্রশাসনে কোনো প্রভাব নেই, আদালতে সহযোগিতার মতো কোনো লোক নেই। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার খরচ বহনের মতো কোনো দাতব্য কার্যক্রম চোখে পড়েনা। নেই সাংগঠনিক কোনো কমান্ড। যার যখন মন চায় সংগঠন খুলে একে অন্যের বিরুদ্ধে লেগে পড়ি।
অপরদিকে দুনিয়াবী এসব জিনিসে জামায়াত ব্যতিক্রম। তারা প্রতিটি সেক্টরে নিজেদের মজবুত করে নিয়েছে। যদি মওদুদীর কিছু ভুল মুরব্বীরা সামনে না আনতেন এবং মুরব্বীদের বদদোয়ার ভয় অন্তরে না থাকতো তবে হয়তো কওমী তরুনরা ঝাঁকে ঝাঁকে সেদিকে ছুটে চলতেন।
তাই মওদুদীর ভুল ধরার সাথে সাথে তাদের মতো চতুর্মুখী সক্ষমতা অর্জনও জরুরী। নিজেদের ছেলেদের চাহিদা বুঝে পদক্ষেপ গ্রহন দরকার। আখেরাতের সাথে সাথে দুনিয়ায় শান্তিতে থাকার রাস্তাও তৈরি করতে হবে। জীবন যুদ্ধে সহযোগিতা ও সহমর্মিতাবোধ দেখাতে হবে।
যদি তা করা যায় তাহলে আমাদের তরুনরা তো সেদিকে যাবেই না, উল্টো তারা আমাদের দিকে চলে আসবে।