15/02/2026
~ নির্বাচন পরবর্তী কিছু উপলব্ধি! ~
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন তরুণ মুসলিম প্রজন্মের সামনে একটি তিক্ত সত্য উন্মোচন করেছে তা হচ্ছে- গণতন্ত্র ও সেকুলারিজমের মতো ভঙ্গুর ব্যবস্থা কখনোই প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না। নতুন মুখ, পুরাতন নিপীড়ন। নতুন প্রতিশ্রুতি, পুরনো প্রতারণা। লক্ষ লক্ষ ভোটার যারা পরিবর্তনের আশায় ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিল, তারা ফিরে এসেছে গভীর হতাশা নিয়ে। নির্বাচনের পরেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলেছে, রক্ত ঝরেছে!
কিন্তু এই অবস্থা কী আসলে পরাজয়? নাকি এটি পূর্বাভাস যা যদি আমরা সতর্কতার সাথে রীড করতে পারি, হয়ত তা আমাদের জন্য আশার আলো হতে পারে!
তাক্বদিরি পরিকল্পনা - উদ্দেশ্য ও উপায়:
আল্লাহ রব্বুল আলামিন যখন কোনো কিছুর সমাপ্তি চান, তখন তিনি সেই সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়ার উপায়গুলো সৃষ্টি করেন। ক্ষেত্র তৈরি করেন। বর্তমান সেকুলার সিস্টেমের ব্যর্থতা, গণতন্ত্রের প্রতারণা, এবং তরুণ প্রজন্মের চোখ খুলে যাওয়া— এসবই হতে পারে সেই তাক্বদিরি প্রস্তুতি, যার মাধ্যমে আল্লাহ একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন।
যখন একটি প্রজন্ম উপলব্ধি করে যে, মানবনির্মিত ব্যবস্থাগুলো ভঙ্গুর, প্রতারণাপূর্ণ, তখনই তারা ওহী ভিত্তিক নির্দেশনার দিকে ফিরে আসে। আমরা আজ যে অস্থিরতা অনুভব করছি সেটি আসলে একটি জাগরণের সূচনা—একটি প্রস্তুতি পর্ব, যেখানে আল্লাহ আমাদের বিজয়ের জন্য তৈরি করছেন। ৫ই আগস্ট এর পর থেকে এদেশে ইসলামকে ভালোবাসা কওম আস্তে আস্তে একটু একটু করে নির্মম বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে উপলব্ধি করতে পারছে যে, মানুষের বিধান কস্মিনকালেও তাদ্দের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়, ইনসাফ কায়েম করতে সক্ষম নয়।
আল্লাহর অটুট প্রতিশ্রুতি:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সূরা আল-আ'রাফে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন:
﴿إِنَّ ٱلأَرْضَ للَّهِ يُورِثُهَا مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِ وَٱلْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ﴾
"নিশ্চয়ই পৃথিবী আল্লাহর, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তা (শাসনের অনুমতি) দান করেন, তবে শুভ পরিণতি (কেবল) মুত্তাকীদের জন্য।" (সূরা আল-আ'রাফ: ১২৮)
এই আয়াত একটি চূড়ান্ত নিশ্চয়তা প্রদান করে আর তা হচ্ছে, দুনিয়ার মালিকানা আল্লাহর কাছে। কালের পরিক্রমায় আল্লাহ এই দুনিয়ার শাসন যে কারো কাছে দিতে পারেন, তবে শেষ পরিণতি কেবল মুত্তাকীদের জন্যই। গণতন্ত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভেঙেছে, কিন্তু আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কখনো ভাঙে না। জাতীয়তাবাদ বিভাজন এনেছে, পুঁজিবাদ দাসত্ব এনেছে, উদারবাদ নৈতিক অধঃপতন এনেছে কিন্তু যখন আল্লাহ বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দেন, তখন কেবল সময়ের অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ মাত্র!
ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে প্রস্তুতি:
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বিজয়ের জন্য প্রস্তুত করেন ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে। বদরের যুদ্ধের পূর্বে মুসলিমরা দুর্বল ছিলেন, কিন্তু বদরের ময়দান তাঁদের আগামী দিনের জন্য বিজয়ী মানসিকতা তৈরি করে দিয়েছিল। খন্দকের অবরোধ অসহনীয় ছিল, কিন্তু তা ঈমানকে মজবুত করেছিল। হুদায়বিয়ার সন্ধি পরাজয় মনে হয়েছিল, কিন্তু সেটাই ছিল মক্কা বিজয়ের প্রস্তুতি।
আজকের নির্বাচনী ব্যর্থতা, গণতান্ত্রিক প্রতারণা, সেকুলার ব্যবস্থার স্ববিরোধিতা— এসবই আল্লাহর কুদরতি পরিকল্পনার অংশ হতেই পারে। তিনি আমাদের দেখাচ্ছেন যে মানবনির্মিত ব্যবস্থা কতটা অকার্যকর! তিনি আমাদের হৃদয় থেকে মিথ্যা আশা মুছে দিচ্ছেন, যেন আমরা প্রকৃত সত্যের দিকে ফিরে আসি। তিনি আমাদের পরীক্ষা করছেন, পরিশুদ্ধ করছেন, প্রস্তুত করছেন ঠিক যেমন স্বর্ণকে আগুনে পুড়িয়ে খাঁটি করা হয়।
সাহাবাদের যুগের সাদৃশ্য:
গত চৌদ্দশ বছরে আমাদের বর্তমান সময় সাহাবাদের যুগের সাথে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। সে সময়ে কোনো ইসলামী কর্তৃত্ব ছিল না, আজও নেই। তখন বৈশ্বিক পরাশক্তি ইসলামের বিরুদ্ধে একজোট ছিল, আজও তাই। তখন তাওহিদই ছিল আক্রমনের নিশানা এখনো তাই! এই সাদৃশ্যের অর্থ হলো যারা এই কঠিন সময়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে, বাতিলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, দ্বীনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে ভীত হবেনা, তাদের পুরষ্কার আল্লাহর সামনে সাহাবাদের মতোই বিশাল হতে পারে।
অন্ধকার যত গভীর, ভোর তত নিকটে:
ইতিহাসের নিয়ম হলো যখন অন্ধকার সবচেয়ে গাঢ় হয়, ঠিক তখনই ভোরের আলো নিকটবর্তী। ফেরাউন মনে করেছিল সে জিতে গেছে, কিন্তু লোহিত সাগরই তার কবর হয়েছিল। আবু জাহেল ভেবেছিল ইসলাম শেষ, কিন্তু বদরের ময়দানই তার পরিণতি নির্ধারণ করেছিল।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আজ এই উম্মাহকে, আমাদেরকে প্রস্তুত করছেন। প্রতিটি হতাশা একটি অভিজ্ঞতা, প্রতিটি ব্যর্থতা একটি পরীক্ষা, প্রতিটি সংকট একটি প্রশিক্ষণ। যখন একটি প্রজন্ম প্রকৃতভাবে তাওহীদের ভিত্তিতে প্রস্তুত হবে, তখন আল্লাহর সাহায্য অবশ্যই আসবে।
আল্লাহ বলেছেন- وَٱلْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ শুভ পরিণতি কেবল মুত্তাকীদের জন্যই। এটি কেবল আশাবাদ নয়, এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি আর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কখনো ব্যর্থ হয় না!
—