12/11/2025
ভাই, আমি একটু নিজের কথা দিয়েই শুরু করি। আমি মোঃ মানিক মিয়া। আমি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সেই সাথে আমি দুইটা ভাটার মালিকও। ভাটা ব্যবসা করি জন্য ভাটার ব্যবসার সবকিছু আমি একেবারে ভেতর থেকে জানি—ভাটার মাটি কাটা থেকে শুরু করে ইট পোড়ানো আর বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের সাথে আমি সরাসরি জড়িত। তাই আমি জানি, ভাটার মালিক বা ম্যানেজাররা সবচেয়ে বেশি ভোগেন কোথায়—তা হলো হিসাব-নিকাশে।
ভাটার ব্যবসা আসলে খুবই শ্রমসাধ্য। সকালে মাঠে কাজ শুরু হয়, রাতে শেষ হয়। এই ভেতরে প্রোডাকশন, শ্রমিকদের মজুরি, কাঁচামালের খরচ, গাড়ি ভাড়া, বিক্রি, ডেলিভারি,স্টক,খতিয়ানে ট্রান্সফার—সবকিছুর হিসাব রাখতে হয়। আর এই হিসাব আগে সব হতো খাতা-কলমে। আপনি তো জানেন, খাতায় হিসাব মানেই সময় লাগে, ভুল হয়, আর খুঁজে পেতে অনেক কষ্ট।
আমি নিজেই দেখেছি, দিনে কত ঘন্টা শুধু হিসাব মিলাতেই চলে যেত। ম্যানেজার খাতা লিখছে, আমি যাচাই করছি, আবার কোথাও গড়মিল হলে দুজন বসে সময় নষ্ট করছি। মাস শেষে বা সিজনের শেষে আবার সেই খাতাগুলো উল্টেপাল্টে বসে লাভ-লস হিসাব বের করা—অবিশ্বাস্য রকমের সময়সাপেক্ষ একটা কাজ। অথচ সেই সময়টা যদি কাজে লাগানো যেত মাঠে, কাস্টমারের সাথে বা ব্যবসার উন্নতিতে, তাহলে লাভ অনেক বেশি হতো।
এর সাথে ছিল বাকি টাকার সমস্যা। প্রতি সিজনে আমার নিজের ভাটায়ই প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকা আনাদায় থেকে যেত। কারণ কার কত টাকা বাকি, সেটা খাতায় থাকলেও সবসময় হাতে পাওয়া যেত না। কাস্টমার ভুলে যেত, আমি মনে করাতে পারতাম না। ফলে টাকা ফেরত পাওয়া যেত দেরিতে, অনেক সময় আদায় হতোই না।
এই দুইটা সমস্যা আমাকে অনেক কষ্ট দিত। আমি ভাবতাম, ভাটার আসল ক্ষতি তো এখানেই হচ্ছে। সময় নষ্ট, টাকার ক্ষতি—দুটোই চলছে শুধু হিসাবের জন্য। তখন আমার মাথায় আসে—আমি যেহেতু সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, তাহলে কেন না একটা সফটওয়্যার বানাই, যেটা ভাটার হিসাব পুরোপুরি ডিজিটাল করে ফেলবে?
তাই আমি কাজে নামলাম। প্রথমে নিজের ভাটার জন্য বানালাম। আমি চেয়েছিলাম সফটওয়্যারটা এমন হোক, যেন মনে হয় খাতার হিসাবই শুধু মোবাইল বা কম্পিউটারে এসেছে—অন্য কিছু বদলাতে হবে না। যাতে মালিক বা ম্যানেজার কারও কাছে কঠিন না লাগে।
ব্যবহার শুরু করার পরই আমি পরিবর্তন টের পেলাম। আগে যেখানে দিনে কয়েক ঘন্টা হিসাব মিলাতে লাগত, এখন মোবাইলে কয়েক সেকেন্ডেই হয়ে যায়। আমি অফিসে না থাকলেও মোবাইল থেকেই দেখি আজকে কত প্রোডাকশন হলো, কত বিক্রি হলো, স্টকে কত ইট আছে, কার কাছে কত টাকা বাকি আছে। এক স্ক্রিনেই সব তথ্য একসাথে পাই।
স্টক ম্যানেজমেন্টও একদম সহজ হয়ে গেছে। কাঁচা ইট কত আছে, পাকা ইট কত আছে, কোন শ্রেণির কত আছে, এগুলো এখন আর মনে রাখতে হয় না—সফটওয়্যার নিজেই হিসাব করে রাখে। ডেলিভারি দিলে সাথে সাথে স্টক আপডেট হয়ে যায়।
বাকি কালেকশনও এখন অনেক স্মার্ট। সফটওয়্যার থেকে কাস্টমারদের SMS রিমাইন্ডার যায়—“ভাই, আপনার এত টাকা বাকি আছে, আজ পরিশোধের তারিখ।” এতে করে কাস্টমার নিজেও ভুলে না, আমিও টাকা ফেরত পাই সময়মতো। আগে যেখানে প্রতি সিজনে আমার আনাদায় থাকত পাঁচ লাখ টাকারও বেশি, গত বছর সেটা নেমে এসেছে মাত্র ৬৩ হাজারে।
লাভ-লসের হিসাবও এখন খুব সহজ। আগে মাস শেষে বা সিজন শেষে অনেক কষ্ট করে হিসাব করতে হতো। এখন আমি চাইলে যেকোনো সময়—আজকেই—দেখে নিতে পারি আমি লাভে আছি না লসে। আর এই সুবিধা আমাকে ব্যবসার সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সাহায্য করেছে।
আরেকটা জিনিস আমি অনেক গুরুত্ব দিয়েছি—নিরাপত্তা। ম্যানেজাররা এখন স্মার্টফোন দিয়ে হিসাব করে, কিন্তু তারা কিছু এডিট বা ডিলিট করতে পারে না। আমি যেভাবে পারমিশন সেট করে দিই, সেভাবেই কাজ হয়। সব এডিট/ডিলিটের লগ থাকে, কে কখন কী করেছে সেটা ট্র্যাক করা যায়। ফলে হিসাব থাকে পুরোপুরি নিরাপদ।
ফলাফলও একেবারে চোখে পড়ার মতো। সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করার পর আমার প্রোডাকশন বেড়েছে প্রায় ১৬%, বিক্রি বেড়েছে ২০%, খরচ কমেছে ১৭%, বাকি কালেকশন বেড়েছে ৭০%, আর ডেলিভারি বিলম্ব কমে গেছে ৪০%। স্টকে গড়মিল এখন আর হয়ই না। সব মিলিয়ে আমার ভাটা অনেক স্মার্ট হয়ে গেছে।
আমি শুধু আমার নিজের ভাটাতেই এটা ব্যবহার করিনি, দেশের আরও ৩০ টারও বেশি ভাটায় সফটওয়্যারটা ব্যবহার হচ্ছে। সবাই বলছে—তাদের হিসাবের ঝামেলা অনেকটাই কমে গেছে, সময় বেঁচেছে, আর ব্যবসার লাভ বেড়েছে।
ভাই, আমি ভাটার মালিক বলেই বলছি—আপনার সমস্যাগুলোও আসলে আমার সমস্যার মতোই। তাই আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, একবার আপনি এই সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করলে আপনি বুঝবেন, এটা আপনার জন্য কতটা উপকারী। খাতা-কলমের ঝামেলা বাদ দিয়ে আপনি যখন সব তথ্য মোবাইলে, এক ক্লিকে পাবেন, তখন আপনিও বলবেন—“এই সফটওয়্যার ছাড়া ভাটা চালানোই সম্ভব না।”
📞 যোগাযোগ করুন:
Phone / WhatsApp: 01918-908070