20/01/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আজ ২০ তারিখ, মঙ্গলবার, মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ দেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় প্রেসক্লাবের এর সামনে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল নিরীহ মোবাইল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দি ব্যবসায়ীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো, পাশাপাশি NEIR ব্যবস্থা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি পুনর্ব্যক্ত করা।
আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, NEIR বাস্তবায়নের নামে গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ২০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি মোবাইল ব্যবসায়ী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই সংকট নিরসনের জন্য আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা ও সমাধানের পথ অনুসরণ করে আসছি।
এই ধারাবাহিকতায় আমরা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই নয়, বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও আমাদের সংকট ও দাবিসমূহ তুলে ধরেছি। এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ তারিখ, রোববার, মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দের সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন জনাব তারেক রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগেও আমরা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের চলমান সংকট, NEIR বাস্তবায়ন ও মোবাইল খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেছি।
উক্ত সাক্ষাতে চলমান NEIR সংকটসহ মোবাইল খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জনাব তারেক রহমান সাহেব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে আমাদের যুক্তিসংগত বক্তব্যসমূহ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। সবকিছু শোনার পর তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন যে, ভবিষ্যতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে অবশ্যই দেশের জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান এই বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়াও বৈঠকে আরও কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যেগুলোতেও তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে আমরা জাতির সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরতে চাই। গত প্রায় ৩০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোবাইল ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিক আন্দোলন ও দোকান বন্ধ কর্মসূচি পালন করে আসছে, যার মধ্যে টানা প্রায় ২১ দিন আমাদের শোরুম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। একটি এত বড় শিল্প খাত যদি মাত্র একদিন বন্ধ থাকে, সেখানেই যে বিপুল ক্ষতি হয়, সেখানে ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে কার্যত অচল থাকায় যে ক্ষতির পরিমাণ হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
এই সময়ে হাজার হাজার কর্মচারী পূর্ণাঙ্গ বেতন পাননি, অসংখ্য ব্যবসায়ী বাসাভাড়া দিতে পারেননি, ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি, অনেকেই সন্তানের স্কুলের বেতন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। দোকান মালিকরা দোকানভাড়া পাননি, টেকনিশিয়ানরা কাজ হারিয়েছেন, মোবাইল নির্ভর গ্যাজেট বিক্রেতারা পণ্য বিক্রি করতে পারেননি এবং সাধারণ ভোক্তারাও তাদের প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন কিনতে পারেননি। অর্থাৎ, মোবাইল ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যে বিশাল ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে- ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত, সব খাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এত বড় আত্মত্যাগ ও ক্ষতির পরও আমাদের ন্যায্য দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্ণপাত এখনো করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণ হয়েছে বলে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তার বিপরীতে আমরা বারবার আলোচনায় বসতে চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হয়েছি। আমাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে কোনটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, সে বিষয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তবুও সামগ্রিক জাতীয় পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আসন্ন নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে আমরা আজ এক গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এটিও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, আমাদের আন্দোলন এখানেই শেষ নয়, এটি চলমান থাকবে।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ এই মর্মে ঘোষণা করছে যে, দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেশের সর্বোচ্চ নেতা জনাব তারেক রহমান সাহেব ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও আশ্বাস পাওয়ার পর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে আমাদের চলমান ‘দোকান বন্ধ কর্মসূচি’ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হলো।
আগামী ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে সারা বাংলাদেশে আমাদের সকল মোবাইল শোরুম পুনরায় খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু থাকবে।
তবে এর পাশাপাশি আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে চাই। যে সিন্ডিকেট আজ আমাদের এই অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যে সিন্ডিকেট আমাদের অবৈধ তকমা দিয়ে সমাজে হেয় করেছে, যে সিন্ডিকেট এতদিন আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে নিজেদের মোট বিক্রির ৫০ শতাংশেরও বেশি জেনারেট করেছে, যে সিন্ডিকেট আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্যবসা করেছে, অথচ আজ নিজেদের নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য NEIR এর নামে একচেটিয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আমাদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে দিয়েছে, এবং যে সিন্ডিকেট প্রশাসনের প্রভাব ব্যবহার করে আমাদের ব্যবসায়ী ভাইদের বুকে গুলি চালানোর ইঙ্গিত পর্যন্ত দিয়েছে, সেই সিন্ডিকেট গ্রুপের সকল পণ্য আমরা আজ থেকে বিক্রয় স্থগিত ঘোষণা করছি।
আমাদের দোকানপাট খোলা থাকলেও এই প্রতিবাদ চলমান থাকবে। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সম্মানিত সকল সদস্যদের প্রতি আমাদের আহ্বান, এই মুখোশধারী সিন্ডিকেটদের বাজারজাত করা পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকবেন।
আমাদের এই প্রতিবাদের গভীরতা যতক্ষণ না তারা উপলব্ধি করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে।
আমরা আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ কোনো সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে না। আমরা আইন মেনে ব্যবসা করতে চাই, কর দিতে চাই এবং দেশের অর্থনীতিতে আমাদের ন্যায্য ভূমিকা রাখতে চাই। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তিসংগত সমাধান, ন্যায্য নীতি এবং নিরীহ ব্যবসায়ীদের ওপর চলমান নিপীড়নের অবসান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই প্রতিবাদ চলমান থাকবে।
ইনশাআল্লাহ, আগামীর নির্বাচিত সরকার জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এমন একটি আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করবে যা হবে ব্যবসাবান্ধব ও জনবান্ধব।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ।