21/09/2026
# কারা পাবে ২০ লক্ষ টাকা ঋণ...
বঙ্গবন্ধু কিশোর-কিশোরী ও তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলের পরিপূরক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক “উদ্যোগ” নামের ঋণ–সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে, যেখানে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা (ঋণ ও অনুদান মিলে) পাওয়া যাবে। কৃষি, শিল্প, সেবা এবং প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা যাচাই করে ৪–৭% সুদে এবং জামানতবিহীন এই ঋণ দেওয়া হবে। সফলভাবে ঋণ পরিশোধ করলে অনুদানের অংশ সুদবিহীন লোনে রূপান্তর করা যাবে। গ্রামীণ ব্যাংক ‘তরুণ উদ্যোক্তা ঋণ’ দিয়ে সদ্য শিক্ষাজীবন শেষ বা চাকরি খোঁজা যুবকদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে। এই ঋণে ঋণের সীমা প্রকল্পের প্রয়োজন অনুসারে নির্ধারণ করা হয় এবং সাধারণত ২ বছরের মেয়াদ দেওয়া হয়। এসএফআইএল (SMEF ফাউন্ডেশন) নারী উদ্যোক্তাদের জন্য “টার্ম লোন প্ল্যান” চালু করেছে, যেখানে ৩৫ লাখ টাকার ঋণ পর্যন্ত জামানত ছাড়া পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্স প্লিসি’র ‘নিউ এন্টারপ্রেনিউর লোন’ কর্মসূচিতে (চালু) ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত (১০ লাখ জামানতবিহীন) ঋণ দেওয়া হয়, ৭% সুদে। বিকাশের ডিজিটাল মার্চেন্ট লোনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরাসরি মোবাইলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ পেতে পারেন, কোনো জটিলতা ছাড়াই। নিম্নলিখিত তুলনা টেবিলে বর্ণিত উদ্যোগগুলো ও প্রধান ব্যাংক/মাইক্রোফাইন্যান্স/ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলী, সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ, সুদের হার, মেয়াদ, জামানত, যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, ঢাকা থেকে প্রাপ্তির সুযোগ, যোগাযোগ তথ্য ও উৎস লিঙ্ক দেওয়া হলো।
| প্রদানকারী (Provider) | কর্মসূচির নাম (Scheme) | সর্বোচ্চ ঋণ (Max Loan) | সুদের হার (Interest) | মেয়াদ (Tenure) | জামানত (Collateral) | যোগ্যতা (Eligibility) | আবেদন পদ্ধতি (Application) | ঢাকা থেকে পাওয়া (Dhaka) | যোগাযোগ (Contact) | উৎস (Source) |
|-------------------------|---------------------------------|-----------------------------|--------------------------|--------------------------|-------------------------|------------------------------------------------------------------|---------------------------------------|------------------------|--------------------------------------|---------------------|
| বাংলাদেশ ব্যাংক (BB) | উদ্যোগ (UDYOG) | ২০ লাখ (ঋণ+অনুদান মিলে) | ঋণপেক্ষায় ৪–৭% | প্রকল্প অনুযায়ী (অনির্দিষ্ট) | ছাড় (বিনা জামানত) | ২৮ বৎসর বা কম বয়সী, উপজেলা পর্যায়ে নিবাস, নতুন ব্যবসা-বিশ্লেষণের মানদণ্ড পূরণ | স্থানীয় ব্যাংক শাখায় (প্রেসক্রাইবড ফরম) | আরম্ভকালে নির্দিষ্ট জেলা-বিভাগে | বাংলাদেশ ব্যাংক বা অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের ওয়েবসাইট | |
| বাংলাদেশ ব্যাংক (BB) | তরুণ উদ্যোক্তা ঋণ (প্রস্তাবিত) | ১০ লাখ (ঋণ) | ৪–৬% | অনির্দিষ্ট (চূড়ান্ত হয়নি) | ছাড় (বিনা জামানত) | ২৮ বছরের নিচে, ব্যবসা শুরু করতে চাইলে (১ মাস–১ বছরের প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত) | ব্যাংক শাখায়/অনলাইন (বিস্তারিত চূড়ান্ত হয়নি) | মূলত উপজেলা-ভিত্তিক | ঢাকা-ব্যাংকসমূহের আর্থিক সেবা নেয়ার সুযোগ আছে | |
| গ্রামীণ ব্যাংক | তরুণ উদ্যোক্তা ঋণ | প্রোজেক্ট অনুযায়ী (উল্লেখ নেই) | ~২০% (গ্রামীণ মাইক্রোফাইন্যান্স হার) | সাধারণত ২ বছর | ছাড় (বিনা জামানত) | গ্রামীণ সদস্যদের সন্তান, শিক্ষাজীবন শেষ বা চাকরি প্রার্থীর মত (স্ব-উদ্যোগে বিনিয়োগের ইচ্ছা) | নিকটস্থ গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় | ঢাকা-সহ সব এলাকায় শাখা আছে | গ্রামীণ ব্যাংক হেড অফিস: +8802-58055628 | |
| এসএফআইএল ফাইন্যান্স (জাতীয় SMEF) | টার্ম লোন প্ল্যান (মহিলা উদ্যোক্তা) | ৫ কোটি (৩৫ লাখ জামানতবিহীন) | স্পষ্ট নয় (বিনিয়োগ, সম্ভবত বাজার হার) | ১৩–৬০ মাস | জামানতবিহীন (৩৫ লাখ পর্যন্ত) | নারী উদ্যোক্তা, ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা | SFIL শাখা বা ওয়েবসাইটে আবেদন | ঢাকা-সহ দেশে শাখা আছে | হটলাইন: +8809612223322 | |
| বাংলাদেশ ফাইন্যান্স PLC | নতুন উদ্যোক্তা ঋণ | ২৫ লাখ (১০ লাখ জামানতবিহীন) | ৭% | নির্দিষ্ট নয় (নমনীয়) | জামানতবিহীন (১০ লাখ পর্যন্ত) | স্টার্টআপ বা নতুন ব্যবসা, সহজ যোগ্যতা (প্রস্তাবনা, আইডি, ব্যাংক হিসাবাদি) | শাখা/অনলাইন আবেদন (৪ কার্যদিবসে অনুমোদন) | ঢাকা-মুখ্য কার্যালয়ে আবেদন ও সেবা | হটলাইন: 16727; ওয়েবসাইট যোগাযোগ | |
| বিকাশ (ই-উদ্যোক্তা ঋণ) | ডিজিটাল মার্চেন্ট ঋণ | ৫০,০০০ টাকা | স্পষ্ট নয় (স্বল্প-মেয়াদি ঋণ হার) | স্বল্প-মেয়াদি (পুরণি ঋণগুলো বেশ কয়েক মাস) | বিনা জামানত | বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টধারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী | বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপে আবেদন | সারাদেশে (ঢাকায় বিকাশ সেবা) | বিকাশ কাস্টমার কেয়ার: ১৬২৪৭ | |
# # ঢাকা থেকে আবেদন ও গ্রহণের ধাপ (Flowchart)
```mermaid
flowchart LR
A[উদ্যোক্তা ঋণের স্কিম বেছে নিন] --> B[যোগ্যতা যাচাই]
B --> C[প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ]
C --> D[আবেদন জমা দিন (ব্যাংক/অফিস/অ্যাপ)]
D --> E[আবেদন পর্যালোচনা]
E --> F{পাস/ব্যর্থ}
F -->|পাস| G[ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ]
F -->|ব্যর্থ| H[কারণের পর্যালোচনা ও পুনরায় চেষ্টা]
```
ঢাকায় আবেদনকারী প্রথমে উপরোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করবেন। ব্যাংক বা দাতা সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড বা ফরম সংগ্রহ করে (যেমন উদ্যোক্তা ফর্ম) পূরণ করে সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিতে হবে। **ঢাকায় প্রাপ্তির সুবিধা:** বেশিরভাগ ব্যাংক/এফআই দেশে সর্বত্র শাখা থাকায় ঢাকা থেকেও আবেদন এবং ঋণ গ্রহণ করা যায়। bKash/নগদের ক্ষেত্রে সবকিছু অনলাইনে সম্ভব, আর এসএফআইএল, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের শাখাগুলো ঢাকায় আছে।
# # আবেদন নির্দেশিকা (চেকলিস্ট)
১. **যোগ্যতা যাচাই:** বয়স (২৮ বৎসর কিংবা তার কম), নাগরিকত্ব এবং ব্যবসার পর্যায় নিশ্চিত করুন। উদাহরণস্বরূপ, উদ্যোগে আবেদন করতে হবে ২৮ বা কম বয়েসে এবং নির্বাচিত উপজেলা থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক-নির্দিষ্ট স্কিমে ব্যবসা শুরু করে ছয় মাস বা এক বছর হলেও চলে।
২. **প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত:** জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি (যথাক্রমে গ্রামিন/মাইক্রো-ঋণের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় নির্ধারিত নিয়ম)। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিকল্পনা (প্রপোজাল), আয়কর/টিআইএন ইত্যাদি জমা দিতে হয়। এসএফআইএলের তালিকাভুক্ত দস্তাবেজ [লিঙ্কের টেবিল] দেখে নিন।
৩. **আবেদনপত্র পূরণ ও জমা:** সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের prescribed ফরম অথবা কোম্পানির অনলাইন ফরম পূরণ করে সাবমিট করুন। উদ্যাগের জন্য নির্ধারিত ফরম (উপজেলা পর্যায়ে) ব্যাংকের শাখা থেকে সংগ্রহ করতে হবে। bKash-এ অ্যাপে, বিডি.ফাইন্যান্স বা এসএফআইএলের ক্ষেত্রে অফিসে আবেদন করুন।
৪. **অনলাইন/শাখা নির্ণয়:** ঢাকার যে কোনো শাখায় আবেদন করার সুযোগ আছে; তবে উদ্যাগ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত জেলা-উপজেলায় लागू, ভবিষ্যতে বিস্তৃত হবে। bKash/নগদের ক্ষেত্রে অ্যাপ দিয়ে দেশজুড়ে পেতে পারেন।
৫. **ফলাফল ও তহবিল গ্রহণ:** আবেদন অনুমোদিত হলে ঋণপত্র স্বাক্ষর করে টাকা পান। সময়মতো কিস্তিবাঁধা রূপে ফেরত দিন, না হলে অনুদান অংশকে সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তর করার মতো শাস্তিমূলক শর্ত থাকতে পারে।
# # সাধারণ দিকবাল
- **যথাযথ যোগ্যতা না থাকা:** বয়স ২৮ বা আয় সীমা, জেলা বা উপজেলা না থাকা, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি না মিললে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- **নথিপত্র অনুপস্থিতি:** আয়-ব্যয়ের সম্পূর্ণ হিসাব (ব্যাংক স্টেটমেন্ট, টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্স) ছাড়া ঋণ মঞ্জুর হয় না। নকল বা অসম্পূর্ণ কাগজ দিলে সমস্যা হতে পারে।
- **জামিনত না থাকা:** জামিনত‑বিহীন ঋণেও ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে অন্য ঋণে সমস্যা হয়। আর অনুদানের ক্ষেত্রে শর্তবিশিষ্ট নিয়ম (মেয়াদপূর্তিতে ফেরত দিতে হবে না হলে গ্রান্ট লোনে পরিণত হবে)।
- **কর তথ্য প্রদান না করা:** বেশিরভাগ ব্যাংক আইনী কারণে CIB (ক্রেডিট ইনফরমেশন) রিপোর্ট চায়। CIB রিপোর্ট বা ব্যাঙ্ক হিসাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন।
- **আবেদনপত্র ভুল:** ভুল তথ্য দিলে বা বানান ভুল হলে ফেরত/বাতিল হতে পারে। আবেদনপত্র ভর্তি আগে ভালোভাবে দেখুন।
উপসংহারে, ঢাকা থেকে আবেদন করতে গিয়ে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের অফিস বা অনলাইন সেবা ব্যবহার করে উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করুন। অফিস সময় (সাধারণত সকাল ১০টা-দুপুর বা বিকাল পর্যন্ত) বা মোবাইলে সংস্থার হেল্পলাইন (যেমন বিকাশ ১৬২৪৭) তে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য নিন।
**সূত্র:** সরকারি ও প্রধান ব্যাংক/এফআইপি’র ওয়েবসাইট ও প্রেসক্লিপিং।