17/09/2026
নুনু কাটার আইন নয়-আগে কাটতে হবে ক্ষমতার অপব্যবহার!
ভূমিকা- শরীরের আগে বিবেককে নিরাপদ করি
মানুষ শরীর ঢাকার জন্য কাপড় আবিষ্কার করেছে,
কিন্তু বিবেক ঢাকার জন্য এখনো কোনো কাপড় আবিষ্কার করতে পারেনি! 😀
তাই সমস্যা কারও পোশাক কতটুকু ঢাকা-সেখানে নয়;
সমস্যা হলো, কেউ অন্যের সীমারেখা দেখেও নিজের হাত থামাতে পারে কি না।
অদ্ভুত পৃথিবী আমাদের-
কেউ নারীর পোশাক মাপতে ব্যস্ত,
কেউ শিশুকে পরকালের ভয় দেখাতে ব্যস্ত,
কেউ ধর্মের কথা বলতে বলতে নিজের কামনাকে ভুলে যায়; অথচ সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে।
“মানুষটি কি নিরাপদ?”
ভালোবাসার পৃথিবীতে
কাউকে ভয় দেখিয়ে কাছে টানা যায় না,
অসহায়তার সুযোগ নিয়ে স্পর্শ করা যায় না,
আর ধর্মের নামে কারও শরীরের দরজা খুলে ফেলা যায় না।
কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা শরীরের দিকে হাত বাড়ানোর আগে
বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে।
আর সেখানেই সভ্যতার সবচেয়ে সুন্দর প্রশ্ন-
আমরা মানুষের কাপড় পাহারা দেব,
নাকি মানুষের মর্যাদা?
নুনু কাটার আইন নয়-আগে কাটতে হবে ক্ষমতার অপব্যবহার!
আমাদের সমাজে একটি অদ্ভুত দৃশ্য আছে-
মানুষের হাতে ক্ষমতা থাকলে কখনো কখনো তার বিবেকটি যেন ছুটিতে চলে যায়! 😀
ধর্মের পোশাক,শিক্ষকের মর্যাদা,রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অর্থনৈতিক সাহায্য-কোনোটিই কাউকে অন্য মানুষের শরীর, সম্মান বা স্বাধীনতার ওপর অধিকার দেয় না।
মসজিদ-মাদ্রাসা হোক, স্কুল-কলেজ হোক, অফিস হোক কিংবা রাজনৈতিক সংগঠন-যেখানেই কোনো শিক্ষক, নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মানুষ নিজের অবস্থান ব্যবহার করে নারী বা শিশুকে যৌন হয়রানি, শোষণ বা নির্যাতন করে, সেখানে প্রশ্নটি ধর্মের নয়; প্রশ্নটি মানুষের চরিত্রের এবং আইনের শাসনের।
বিশেষ করে দরিদ্র নারী, স্বামীহীন নারী কিংবা অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল মানুষ যখন কারও সাহায্যের ওপর নির্ভর করেন, তখন সেই সাহায্য যদি পরবর্তীতে শরীরের বিনিময়ে আদায় করার চেষ্টা করা হয়-তাহলে সেটি সাহায্য নয়, সেটি ক্ষমতার নোংরা ব্যবসা।
আর ধর্মের ভয় দেখিয়ে যদি কাউকে বলা হয়-
“আমার কথা না শুনলে জাহান্নাম!”
তাহলে একটু থেমে প্রশ্ন করা দরকার-
জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে নিজের কামনার দরজা খুলে দেওয়া কি সত্যিই ধর্মের শিক্ষা, নাকি ধর্মের নাম ব্যবহার করে নিজের অন্ধকারকে পবিত্র পোশাক পরানো?
এখানেই আমাদের হাসতে হাসতে একটি কঠিন সত্য বুঝতে হবে-
মানুষের পাপের সবচেয়ে হাস্যকর কৌশল হলো, নিজের অপরাধকে ঢাকার জন্য অন্যের ধর্মবোধকে ব্যবহার করা। 😀
কেউ যদি অন্যের শরীরের সীমারেখা সম্মান করতে না জানে, তাহলে তার মুখে যত বড় ধর্মীয় বক্তৃতাই থাকুক, তার চরিত্রের পরীক্ষায় সে ফেল করেছে।
তাই “ননু কাটার আইন” কথাটি হয়তো রসিকতার ভাষা হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত সমাধান শরীরের কোনো অঙ্গ কেটে দেওয়া নয়। কাটতে হবে অপরাধের শিকড়-ভয় দেখানোর ক্ষমতা, অর্থনৈতিক নির্ভরতার সুযোগ নেওয়া, পদমর্যাদার অপব্যবহার, নীরবতার সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক আশ্রয়।
আইন এমন হতে হবে, যেখানে অপরাধীর পরিচয় আগে নয়- অপরাধ আগে।
সে মোল্লা হোক, শিক্ষক হোক, ব্যবসায়ী হোক, চেয়ারম্যান হোক, এমপি হোক, বিএনপি হোক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা অন্য কোনো দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি-
আইনের দরজায় ঢোকার পর তার পরিচয় একটাই:
সে একজন নাগরিক, এবং তার কাজের জন্য তাকে জবাব দিতে হবে।
কারণ একজন নারীর শরীর কোনো দান নয়,
কোনো রাজনৈতিক পুরস্কার নয়,
কোনো ধর্মীয় পরীক্ষার খাতা নয়,
কোনো দরিদ্রতার সুযোগ নেওয়ার জায়গাও নয়।
নারীর সম্মতি তার নিজের।
শরীর তার নিজের।
সম্মান তার নিজের।
আর সবচেয়ে সুন্দর সমাজ সেই সমাজ নয় যেখানে মানুষ নারীদের ভয় দেখিয়ে “ভালো” রাখে;
সবচেয়ে সুন্দর সমাজ হলো সেই সমাজ-
যেখানে একজন নারী ভয় ছাড়াই “না” বলতে পারেন,
একজন শিশু শিক্ষককে প্রশ্ন করতে পারেন,
একজন দরিদ্র মানুষ সাহায্য নিতে পারেন কোনো বিনিময়ের ভয় ছাড়া,
আর একজন অপরাধী যত বড়ই হোন-আইনের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হন।
শেষ কথা খুব ছোট-
ধর্মকে পাহারা দেওয়ার আগে মানুষকে নিরাপদ করুন।
মর্যাদার বক্তৃতা দেওয়ার আগে মানুষের মর্যাদা রক্ষা করুন।
আর নারীর নাভির নিচের কাপড় নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার আগে নিজের চরিত্রের কাপড়টি ঠিক আছে কি না-একবার আয়নায় দেখে নিন। 😀
কারণ শরীর ঢাকার কাপড় মানুষকে ভদ্র বানায় না;
মানুষকে ভদ্র বানায় তার বিবেক।
আর যে বিবেক জেগে থাকে, তার জন্য জাহান্নামের ভয় দেখানোরও প্রয়োজন হয় না-
সে অন্যের চোখের জল দেখেই নিজের সীমা চিনে নেয়।
উপসংহার
ভয় নয়, মানুষের পাশে দাঁড়াক বিবেক
যে শিশুটি আজও জানে না পৃথিবীর সব রাস্তা কোথায় যায়,
তাকে যদি কেউ মৃত্যুর পরের আগুন দেখিয়ে ভয় দেখায়-
তার ছোট্ট হাতটি যেন কখনো
কোনো বড় মানুষের অন্ধ ইচ্ছার খেলনা না হয়।
যে নারী জীবনের ঝড়ে একা হয়ে যান,
স্বামীহীন, দরিদ্র, অসহায়-
তার দরজায় যদি কেউ সাহায্যের হাত বাড়ান,
সেই হাত যেন আশ্রয়ের হয়,
অধিকারের নয়;
ভালোবাসার হয়,
দাবির নয়।
কারও বিশ্বাসকে ভয় বানিয়ে,
কারও দারিদ্র্যকে দুর্বলতা বানিয়ে,
কারও একাকিত্বকে সুযোগ বানিয়ে-
কোনো মানুষের শরীরের সীমারেখা পার হওয়া
ধর্ম নয়, প্রেম নয়, মানবতা নয়;
এ শুধু ক্ষমতার অন্ধকার।
আর একটু হাসি দিয়ে বলি-
মানুষ স্বর্গের টিকিট হাতে নিয়ে জন্মায় না,
জাহান্নামের সিলও কপালে নিয়ে ঘোরে না! 😀
তাই অন্যকে জাহান্নামের ভয় দেখানোর আগে
নিজের বিবেকের দরজায় একবার কড়া নাড়ুন-
ভেতর থেকে যদি উত্তর আসে,
“এই মানুষটিও আমার মতোই অনুভব করে,”
তাহলেই হয়তো মানবতার প্রথম পাঠটি শেখা হলো।
শিশুর শরীর হবে নিরাপদ,
নারীর “না” হবে পূর্ণ বাক্য,
দরিদ্রের প্রয়োজন হবে না কোনো গোপন বিনিময়ের ঋণ,আর ধর্মের ভাষা হবে ভালোবাসার-
ভয়ের নয়।
কারণ সত্যিকারের পবিত্রতা
কাপড়ের কতটুকু ঢাকা আছে সেখানে নয়;
পবিত্রতা থাকে
অন্যের সীমারেখার সামনে নিজের হাত থামিয়ে দিতে পারার মধ্যে।
যে চোখ শিশুর ভয়ে ভেজা চোখ দেখতে পায়,
যে হৃদয় অসহায় নারীর নীরবতা শুনতে পায়,
যে হাত ক্ষমতা পেয়েও অন্যের শরীর থেকে দূরে থাকে
সেই মানুষই সত্যিকার অর্থে মানুষ।
তাই আসুন-
ননু কাটার আইন নিয়ে শুধু হাসাহাসি না করে,
কামনার অপব্যবহার, ক্ষমতার দম্ভ আর নীরবতার সংস্কৃতিটাকেই কাটি।
কেটে দিই সেই ভয়,
যে ভয় মুখ বন্ধ করে রাখে;
কেটে দিই সেই লজ্জা,
যে লজ্জা অপরাধীর নয়, ভুক্তভোগীর ঘাড়ে বসে;
কেটে দিই সেই প্রভাব,
যে প্রভাব আইনকে মানুষের পরিচয় দিয়ে মাপে।
তারপর এমন একটি সমাজ গড়ি-
যেখানে কোনো শিশুকে বাঁচতে হলে
কাউকে ভয় পেতে হবে না,
কোনো নারীকে সাহায্য পেতে হলে
নিজের মর্যাদা বন্ধক রাখতে হবে না,
আর কোনো অপরাধীকে বাঁচতে হলে
ধর্ম, দল, পদ কিংবা টাকার ছাতা খুঁজতে হবে না।
মানুষের শরীরের সীমা যেখানে সম্মানিত,
সেখানেই সভ্যতার শুরু।
আর মানুষের কান্না যেখানে
অপরাধীর হাসির চেয়ে শক্তিশালী-
সেখানেই সত্যিকারের মানবতার জন্ম।
শেষে শুধু এতটুকু-
জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে মানুষ বানানো যায় না;
একটি নিরাপদ পৃথিবী বানাতে লাগে
জেগে থাকা বিবেক,
ন্যায়সঙ্গত আইন,
আর একটু মানবিক ভালোবাসা।
ভালোবাসা যদি সত্যিই পবিত্র হয়-
তবে সে কখনো কাপড় টানে না,
সে মানুষের হাত ধরে বলে-
“ভয় পাবেন না,
আপনার শরীর, আপনার মর্যাদা, আপনার ‘না’-
সবই আপনার।”
_ মোস্তফা বিন মালেক _16 September 2026 থেকে সংগৃহীত