Nurul Islam

Nurul Islam Digital advertising is not just for big brands,but also for small business looking to grow.

We can help you design the right ads to terget your audience and significatly increase sale.

14/08/2026

পাপীদের মধ্যেও একজন "শ্রেষ্ঠ" আছেন—তিনি কে?

আমরা সবাই ক্রমাগত পাপ করি। দিনে ও রাতে, ডানে ও বামে। আমাদের চোখ দিয়ে, জিহ্বা দিয়ে, হাত দিয়ে—আমাদের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে। এই সবকিছুই কোনো না কোনো সময়ে মহান আল্লাহর অবাধ্য হয়।

তাহলে এখন প্রশ্ন হলো—এই সমস্যার মুখোমুখি যদি আমরা সবাই হয়ে থাকি, তাহলে সমাধানটা কী? আমরা কীভাবে এই পাপগুলো থেকে মুক্তি পাবো?

রাসূলুল্লাহ (সা.) এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেছেন একটি মাত্র বাক্যে। তিরমিযি শরীফের একটি নির্ভরযোগ্য হাদিসে তিনি বলেছেন:

كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ
"প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী।"

লক্ষ্য করুন—প্রত্যেক আদম সন্তান। কোনো ব্যতিক্রম নেই। কারণ আমরা ফেরেশতা নই, আমরা মানুষ। আর এটাই আমাদের ও ফেরেশতাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য। ফেরেশতারা নিষ্পাপ; তারা মহান আল্লাহর অবাধ্য হতেই পারে না। কিন্তু আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন আকাঙ্ক্ষা দিয়ে, কামনা দিয়ে— "শাহাওয়াত" দিয়ে।

অতএব, কোনো মানুষই ফেরেশতাদের মতো হতে পারবে না। অন্তত এই জীবনে না।

আখিরাতে? হ্যাঁ, সেখানে আমাদের পাপ করার সামর্থ্যই থাকবে না। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাদেরকে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আমাদের মধ্যে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা সেখানে পাপ করতে পারবে না; সেখানে কেবল আল্লাহর যিকিরই করা যাবে। এ জন্য সেখানে কোনো অপরাধবোধও থাকবে না। আপনি পরিপূর্ণ প্রশান্তিতে থাকবেন।

কিন্তু এই দুনিয়ার জীবনে? এখানে রাসূল (সা.) আমাদের একটি মূলনীতি দিয়ে গেছেন—প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী।

এবার হাদিসের পরের অংশটুকু শুনুন। এখানেই আসল চমক:

وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ
"আর পাপীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ..."

একটু দাঁড়ান। পাপীদের মধ্যেও "শ্রেষ্ঠ" আছে? হ্যাঁ! এর মানে হলো—সব পাপ সমান নয়, এবং সব পাপীও সমান নয়। এমন পাপীও আছে যে অন্য পাপীদের চেয়ে বেশি মন্দ। আবার এমন পাপীও আছে, যে পাপী হয়েও শ্রেষ্ঠদের কাতারে।

আর যেহেতু আমরা কেউই পাপমুক্ত হতে পারবো না, তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এটাই—পাপীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়া।

তাহলে সেই শ্রেষ্ঠ পাপী কে? রাসূল (সা.) বলছেন:

وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ
"আর পাপীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারাই, যারা তওবা করে।"

এটাই মুক্তির পথ। এটাই সমাধান। এটাই সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে থাকা আলো। যে জিনিসটা আমাদের রক্ষা করবে, তা হলো তওবা—যখন আমরা আমাদের পাপগুলোর জন্য মহান আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হবো।
তাই, কোনো পাপ হয়ে গেলে আবার উঠে পড়ুন। তাওবা করুন। নামাজ পড়ুন। আল্লাহর রাস্তায় চলার জন্য আবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন।

ভেবে দেখুন, এই হাদিসটা কতো বড় একটা সান্ত্বনা। আল্লাহ আমাদের কাছে ফেরেশতাসুলভ নিষ্পাপতা চাননি—তিনি জানেন আমরা কী দিয়ে তৈরি। তিনি চান, আমরা যেন পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াই। যেন প্রতিটি ভুলের পর তাঁর দিকেই ফিরে আসি।

মনে রাখুন: আপনার আর শ্রেষ্ঠত্বের মাঝখানে যে জিনিসটা দাঁড়িয়ে আছে, তা আপনার পাপ নয়—তা হলো তওবা না করা। কারণ প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী; কিন্তু পাপীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারাই, যারা বারবার ফিরে আসে।

আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে "তাওয়াবুন"—বারবার তওবাকারীদের—অন্তর্ভুক্ত করেন, আমাদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল পাপ ক্ষমা করে দেন, এবং জান্নাতে তাঁর যিকিরকারী বান্দাদের কাতারে আমাদের স্থান দেন। আমীন।

—ইয়াসির কাদীর আলোচনা অবলম্বনে।

আপনি এখন যে কথাগুলো পড়ছেন, সেগুলো বুঝতে আপনার মস্তিষ্কের কোটি কোটি নিউরন একসঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু এই নিউরনগুলো কীভাবে ত...
11/08/2026

আপনি এখন যে কথাগুলো পড়ছেন, সেগুলো বুঝতে আপনার মস্তিষ্কের কোটি কোটি নিউরন একসঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু এই নিউরনগুলো কীভাবে তৈরি হলো? কীভাবে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শেখে? আর কীভাবে একটি কোষ জানে, তাকে ঠিক কোন প্রোটিন তৈরি করতে হবে?

এর পেছনে লুকিয়ে আছে DNA। তবে DNA-কে মস্তিষ্কের ভেতরে বসে থাকা কোনো কমান্ড সেন্টার ভাবলে ভুল হবে। মানুষের শরীর, বিশেষ করে মস্তিষ্ক, এত সহজ হলে বিজ্ঞানীদের জীবন বেশ আরামদায়ক হতো।

DNA হলো কোষের মধ্যে থাকা দীর্ঘ রাসায়নিক অণু, যার মধ্যে জিনগত নির্দেশনা সংরক্ষিত থাকে। মস্তিষ্কের নিউরনসহ প্রায় প্রতিটি কোষেই DNA রয়েছে। এই DNA-তে থাকা জিনগুলো নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা দেয় এবং কোষের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের বিকাশের সময় এই নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভ্রূণের মস্তিষ্ক তৈরি হওয়ার সময় অসংখ্য কোষকে বিভাজিত হতে হয়, নির্দিষ্ট ধরনের নিউরনে পরিণত হতে হয় এবং সঠিক অবস্থানে পৌঁছাতে হয়। কোন কোষ কী ধরনের ভূমিকা পালন করবে, সেই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জিন সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় হয়।

এরপর আসে নিউরনের যোগাযোগ। আমাদের মস্তিষ্কে নিউরনগুলো সরাসরি একে অপরের সঙ্গে তারের মতো যুক্ত নয়। তাদের মধ্যে থাকে ক্ষুদ্র সংযোগস্থল, যাকে বলা হয় synapse। এখানে রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে যায়।

এই যোগাযোগের জন্য প্রয়োজন অসংখ্য প্রোটিন। যেমন নিউরনের ঝিল্লিতে থাকা বিভিন্ন ion channel, neurotransmitter receptor এবং সংকেত পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত প্রোটিন। এসব প্রোটিন তৈরির নির্দেশনার একটি বড় অংশ আসে DNA-তে থাকা জিন থেকে।

DNA শেখা এবং স্মৃতির সঙ্গেও পরোক্ষভাবে জড়িত। আমরা যখন নতুন কিছু শিখি, তখন মস্তিষ্কের কিছু synapse-এর কার্যকারিতা পরিবর্তিত হয়। দীর্ঘস্থায়ী শেখা ও স্মৃতির ক্ষেত্রে নতুন প্রোটিন তৈরির প্রয়োজন হতে পারে। আর সেই প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা শেষ পর্যন্ত জিনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত।

কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্য আছে। DNA আমাদের স্মৃতির ভেতরের ঘটনাগুলো সরাসরি লিখে রাখে না। আপনি গতকাল কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কোন দৃশ্য দেখে অবাক হয়েছেন বা কোন গান শুনে ভালো লেগেছে, সেগুলো DNA-তে আলাদা করে সংরক্ষিত থাকে না। মূলত DNA এমন একটি জৈবিক ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করে, যার মাধ্যমে মস্তিষ্ক অভিজ্ঞতা থেকে পরিবর্তিত হতে পারে।

আর জিনও সব সময় একইভাবে কাজ করে না। কোন জিন কখন সক্রিয় হবে, কতটা সক্রিয় হবে, সেটি কোষের অবস্থা এবং পরিবেশসহ বিভিন্ন কারণের ওপর নির্ভর করতে পারে। এই নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বলা হয় gene regulation বা জিন নিয়ন্ত্রণ।

তাই মস্তিষ্ককে বোঝার জন্য শুধু DNA দেখলেই হবে না। জিন, পরিবেশ, অভিজ্ঞতা, ঘুম, পুষ্টি, হরমোন এবং মস্তিষ্কের নিজস্ব পরিবর্তনশীলতার মধ্যে একটি জটিল সম্পর্ক রয়েছে।

এই বিষয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, আমাদের মাথার ভেতরের এই বিশাল জটিল জগতের শুরু হয়েছিল একটি ক্ষুদ্র কোষ থেকে। আর সেই কোষের ভেতরেই ছিল একটি রাসায়নিক অণু, যার দৈর্ঘ্য মাত্র কয়েক ন্যানোমিটারের স্তরে, কিন্তু যার নির্দেশনা ছাড়া আমাদের মস্তিষ্কের এই বিস্ময়কর যন্ত্রটি তৈরি হওয়াই সম্ভব হতো না।

আল্লাহ মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহর কোন কোন মিয়ামতকে অস্বীকার করবে - আল্লাহ নিজে সূরা রহমানে প্রশ্ন করেছ...
11/08/2026

আল্লাহ মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহর কোন কোন মিয়ামতকে অস্বীকার করবে - আল্লাহ নিজে সূরা রহমানে প্রশ্ন করেছেন ৩২ বার। চোখ এমনি একটা অংগ,এ চোখ দিয়ে পৃথিবীর সকল কিছু দেখি কিন্তু চোখের মাঝে কিছু পড়লে ঐ চোখ দেখতে পারে না,অন্য মানুষের চোখে দেখাতে হয়।চোখের কতটি অংগ রয়েছে - একটু জানার চেষ্টা করি এবং আল্লাহর প্রশংসা করি।

সূরা ফালাক, নাস:  চমৎকার একটি সামঞ্জস্যতা-সূরা ফালাক ও নাস জীবনে বহুবার পড়া হলেও এই বিষয়টা আগে এইভাবে খেয়াল করিনি। সম্প্...
11/08/2026

সূরা ফালাক, নাস: চমৎকার একটি সামঞ্জস্যতা-

সূরা ফালাক ও নাস জীবনে বহুবার পড়া হলেও এই বিষয়টা আগে এইভাবে খেয়াল করিনি। সম্প্রতি বিষয়টা জানলাম এবং বেশ চমৎকৃত হলাম।

মূল প্রসঙ্গে যাবার আগে এই দুই সূরার উপর সামান্য আলোকপাত করে নেই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার জাদুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এক ইহুদি তাঁর উপর জাদু করেছিল। এর প্রভাবে তিনি ভীষণ অসুস্থ হয় পড়েন। পরে আল্লাহ এই দুই সূরা অবতীর্ণ করেন এবং তাকে জাদুর ব্যাপারে জানিয়ে দেন। তিনি এই দুই সূরার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন এবং সুস্থ হয়ে উঠেন। তো এই দুই সূরার মূল প্রতিপাদ্য হলো অন্যদের অনিষ্ট থেকে নিজেকে সুরক্ষা করা।

এই অনিষ্টগুলো দুই রকমের। একটা হলো বহিরাগত অনিষ্ট। যেমন, চোর-ডাকাতের কবলে পড়া। সাপ-বিচ্ছুর কামড় খাওয়া। অন্য কেউ জাদু-টোনা করা। কারো হিংসা-বিদ্বেষের শিকার হওয়া ইত্যাদি। অন্যটা হলো ভেতরগত। যেমন, নফস ও শয়তানের মনের ভেতর জাগিয়ে দেওয়া নানান রকম কুমন্ত্রণা।

বহিরাগত ও ভেতরগত এই দুই অনিষ্টের মধ্যে ক্ষতির দিক থেকে মারাত্মক হলো দ্বিতীয়টা। কারণ নানান রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার দ্বারা বহিরাগত অনিষ্ট সহজেই ঠেকানো যায়। কিন্তু যে অনিষ্ট সবসময়ই সাথে সাথে থাকে তার থেকে বাঁচা বড় দায়। কারণ মানুষ যেখানেই যায়, তার সাথে সেও যায়। মানুষের রক্ত-মাংসের সাথে শয়তান মিশে থাকে। হাদীসে এসেছে, শয়তান মানুষের রক্তের শিরা-উপশিরায় চলাচল করতে পারে। আর নফস তো মনের ভেতর সর্বদা শক্ত আসন গেড়ে বসে থাকে। ফলে এদের প্রতিহত করাটা বেশি কঠিন।

সূরা ফালাক ও নাস উভয় সূরার মধ্যে আল্লাহর কাছে বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। খেয়াল করলে দেখবেন, সূরা ফালাকে উল্লেখিত অনিষ্টগুলো সব বহিরাগত। এর মধ্যে আছে-
ক. শাররি গাসিকিন বা রাতের অনিষ্ট।
খ. শাররিন নাফফাসাতি ফিল উকাদ বা গ্রন্থিতে ফুঁ-দানকারিণীর অনিষ্ট।
গ. শাররি হাসিদিন বা হিংসুকের অনিষ্ট।

এগুলো সব বহিরাগত হবার কারণে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। তাই আশ্রয়দাতা আল্লাহর কথা একবার করে উল্লেখ হয়েছে-

আউযু বিরব্বিল ফালাক- আমি প্রভাতের রবের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

পক্ষান্তরে সূরা নাসের অনিষ্টগুলো ভেতরগত। এটি হলো 'শাররিল ওয়াসওয়াস' বা মানুষ ও শয়তান জিনদের অন্তরে জাগ্রত করা ওয়াসওয়া বা কুমন্ত্রণা, যা তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী ও অধিক ক্ষতিকর। ফলে এর থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয়দাতা আল্লাহর কথা তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে-
ক. আউযু বি রব্বিন নাস- আমি মানুষের রবের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি
খ. মালিকিন নাস- মানুষের মালিকের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
গ. ইলাহিন নাস- মানুুষের মাবুদের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

এটা তো খুব সহজেই অনুমেয় যে, যেখানে আল্লাহর কথা তিনবার উল্লেখিত হয়েছে সেটা অবশ্যই একবার উল্লেখিত হবার তুলনায় অধিক শক্তিশালী হবে। বিষয়ের সাথে কত সুন্দর সামঞ্জস্যতা!

সুবহানাল্লাহ!!!

কুরআনের_সৌন্দর্য্য

[সংগৃহীত]

"M" Control, U Control
11/08/2026

"M" Control, U Control

11/08/2026

Thousand Island Bridge USA at night

🫲🫱চাই>আরও চাই> আরও চাই>… তারপর?আপনি হয়তো এখনো কোনো বড়লোক নন। হয়তো আপনার ব্যাংক ব্যালান্সও খুব বেশি নয়। তবু একটু খেয়াল কর...
02/08/2026

🫲🫱চাই>আরও চাই> আরও চাই>… তারপর?

আপনি হয়তো এখনো কোনো বড়লোক নন। হয়তো আপনার ব্যাংক ব্যালান্সও খুব বেশি নয়। তবু একটু খেয়াল করে দেখুন, আপনার মনটি কি সারাক্ষণ “আরও চাই” শব্দটির পেছনে ছুটছে না?

আরও ভালো ফোন।
আরও বড় বাসা।
আরও বেশি আয়।
আরও সুন্দর জীবন।
আরও সম্মান।
আরও পরিচিতি।
আরও লাইক, আরও ফলোয়ার, আরও প্রশংসা।

কিছু অর্জন করার পর কয়েক দিন ভালো লাগে। তারপর সেটিও স্বাভাবিক হয়ে যায়। যে জিনিসটি একসময় আপনার স্বপ্ন ছিল, সেটি হাতে আসার পর নতুন আরেকটি অপূর্ণতা চোখে পড়ে। মনে হয়, “এটুকু দিয়ে কী হবে? আরেকটু হলে হয়তো শান্তি পাব।”

কিন্তু সেই “আরেকটু” আর শেষ হয় না।

এভাবেই মানুষ সারাজীবন একটি অদৃশ্য দৌড়ে ছুটতে থাকে। সে জানে না কার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে, কোথায় পৌঁছাতে চায় কিংবা জিতলে আসলে কী পাবে। শুধু এটুকু জানে, থামা যাবে না। কারণ অন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে।

এই অবস্থার কথাই আল্লাহ তাআলা মাত্র দুটি ছোট আয়াতে এমনভাবে বলেছেন, যা মানুষের পুরো জীবনকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়:

“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের গাফেল করে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা কবরসমূহে পৌঁছেছ।”
সূরা আত-তাকাসুর, আয়াত ১–২।

একটু থামুন।

আল্লাহ বলেননি, শুধু সম্পদ তোমাদের গাফেল করেছে। বলা হয়েছে তাকাসুর, অর্থাৎ কে বেশি পেল, কে বেশি জমাল, কে বেশি এগিয়ে গেল, সেই প্রতিযোগিতা তোমাদের ভুলিয়ে দিয়েছে।

কী ভুলিয়ে দিয়েছে?

কেন আপনাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল, তা ভুলিয়ে দিয়েছে।
কাকে সন্তুষ্ট করার কথা ছিল, তা ভুলিয়ে দিয়েছে।
সালাতের সময় ভুলিয়ে দিয়েছে।
পরিবারের সঙ্গে বসার সময় ভুলিয়ে দিয়েছে।
শরীরের হক, আত্মীয়ের হক, প্রতিবেশীর হক ভুলিয়ে দিয়েছে।
এমনকি নিজের অন্তর কতটা শূন্য হয়ে যাচ্ছে, সেটিও অনুভব করতে দেয়নি।

আপনি কি নিজের জীবন বাঁচছেন, নাকি অন্যের জীবনকে ধরার চেষ্টা করছেন?

হয়তো আপনার পুরোনো ফোনটি ভালোই চলছিল। কিন্তু অন্য কারও হাতে নতুন ফোন দেখে হঠাৎ নিজের ফোনটি খারাপ লাগতে শুরু করল।

হয়তো আপনার ছোট বাসাটিতে শান্তি ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সাজানো বাড়ি দেখে নিজের ঘরটিকে সংকীর্ণ মনে হলো।

হয়তো আপনার জীবনসঙ্গী সাধ্যের মধ্যে আপনাকে ভালো রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অন্যের উপহার, ভ্রমণ আর উদ্‌যাপন দেখে মনে হলো, “আমার জীবনে তো কিছুই নেই।”

হয়তো আপনার সন্তান ভালো মানুষ হয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু অন্যের সন্তানের ফলাফল, দক্ষতা বা সাফল্যের সঙ্গে তুলনা করে আপনি নিজের সন্তানকেই চাপ দিতে শুরু করলেন।

অর্থাৎ জিনিসগুলো বদলায়নি। বদলে গেছে আপনার চোখ।

তুলনা আপনার কাছে থাকা নিয়ামতকে ছোট করে দিয়েছে। অন্যের হাতে যা আছে, সেটি এত বড় হয়ে দেখা দিয়েছে যে নিজের হাতে যা আছে, তা আর চোখেই পড়ছে না।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, যে জীবনের জন্য আজ আপনার মন খারাপ, সেই জীবনটির জন্যই হয়তো কয়েক বছর আগে আপনি কান্না করে দু‘আ করেছিলেন?

যে চাকরিটিকে এখন বিরক্তিকর মনে হচ্ছে, একসময় সেটি পাওয়ার জন্য কত চেষ্টা করেছিলেন। যে ঘরটিকে এখন ছোট মনে হচ্ছে, একসময় নিজের একটি নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন দেখতেন। যে মানুষটির ভুলগুলো এখন শুধু চোখে পড়ে, একসময় তাকেই পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে চেয়েছিলেন।

তাকাসুর শুধু আমাদের আরও চাইতে শেখায় না। এটি আমাদের পাওয়া নিয়ামত ভুলিয়ে দেয়।

সমস্যাটি সম্পদে নয়, সমস্যাটি হৃদয়ের দাসত্বে

ইসলাম আপনাকে দরিদ্র থাকতে বলে না। ভালো উপার্জন, সুন্দর বাড়ি, আরামদায়ক জীবন কিংবা ব্যবসায় উন্নতি চাওয়া অপরাধ নয়। হালাল পথে অর্জন করা সম্পদ নিয়ামত হতে পারে।

সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন সম্পদ আপনার হাতে না থেকে হৃদয়ে বসে যায়।

তখন সালাতের মাঝেও ব্যবসার হিসাব চলে। পরিবারের সঙ্গে বসেও চোখ থাকে ফোনে। হালাল পথে একটু দেরি হলে হারামের রাস্তা সহজ মনে হয়। কাউকে সাহায্য করতে গেলে মনে হয়, সম্পদ কমে যাবে। আর অন্য কেউ এগিয়ে গেলে নিজের নিয়ামতও বিষাদে পরিণত হয়।

আপনি বাইরে থেকে অনেক কিছু অর্জন করছেন, কিন্তু ভেতরে কী হারাচ্ছেন?

অতিরিক্ত কাজ করতে করতে সন্তানের শৈশব কি হারিয়ে যাচ্ছে?
অর্থ উপার্জন করতে করতে শরীর ও মানসিক শান্তি কি শেষ হয়ে যাচ্ছে?
মানুষের কাছে সফল হতে গিয়ে আল্লাহর কাছে আপনার অবস্থান কি দুর্বল হচ্ছে?
সবার সামনে সুন্দর জীবন দেখাতে গিয়ে ঘরের ভেতরের মানুষগুলো কি আপনার সময় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে?

ব্যস্ত থাকা আর সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া এক কথা নয়।

অনেক মানুষ দ্রুত দৌড়াচ্ছে, কিন্তু ভুল দিকে।

“আমার সম্পদ” বলতে আসলে কোনটি আপনার?

আমরা বলি, আমার টাকা, আমার বাড়ি, আমার গাড়ি, আমার ব্যবসা। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ সূরা আত-তাকাসুর পাঠ করার সময় মানুষের এই দাবিকে প্রশ্ন করেছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, মানুষের সম্পদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে তার জন্য থাকে সেটুকুই, যা সে খেয়ে শেষ করেছে, ব্যবহার করে পুরোনো করেছে কিংবা আল্লাহর পথে দান করে আখিরাতের জন্য সামনে পাঠিয়েছে। বাকি সম্পদ সে রেখে চলে যায়।

একদিন আপনার আলমারির পোশাক অন্য কেউ ভাগ করবে। আপনার ফোনের পাসওয়ার্ড অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে। যে বাড়ির প্রতিটি অংশ নিয়ে এত চিন্তা করেছিলেন, সেখানে অন্য মানুষ বসবাস করবে। যে ব্যাংক ব্যালান্স দেখে নিরাপদ অনুভব করতেন, সেটি উত্তরাধিকারীদের হিসাবে চলে যাবে।

আপনার নামটি কিছুদিন মানুষের মুখে থাকবে। তারপর ধীরে ধীরে সেটিও কমে যাবে।

কিন্তু যা আল্লাহর জন্য দিয়েছিলেন, সেটিই আপনার আগে পৌঁছে থাকবে।

যে ক্ষুধার্ত মানুষটিকে খাইয়েছিলেন।
যে দ্বীনি ইলম ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
যে সন্তানের ঈমান গড়তে সময় দিয়েছিলেন।
যে অসহায়কে গোপনে সাহায্য করেছিলেন।
যে হালাল উপার্জনের জন্য হারামের সুযোগ ছেড়ে দিয়েছিলেন।

এগুলো হারায়নি। এগুলোই আসলে আপনার।

মানুষের চাওয়া কেন শেষ হয় না?

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আদমসন্তানের যদি সম্পদে পূর্ণ একটি উপত্যকা থাকে, সে তার মতো আরেকটি চাইবে। মানুষের এই অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত মাটি ছাড়া পূর্ণ হয় না। তবে যে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।

কথাটি ভয় ধরানোর জন্য নয়, জাগিয়ে দেওয়ার জন্য।

আজ আপনি যে জিনিসটিকে “শেষ চাওয়া” মনে করছেন, সেটি পাওয়ার পরও মন নতুন কিছু চাইবে। কারণ হৃদয়ের শূন্যতা জিনিস দিয়ে পুরোপুরি ভরে না।

আপনি নতুন ফোন কিনবেন, কিছুদিন পর সেটিও পুরোনো হবে। বড় বাড়ি কিনবেন, তারপর আরও ভালো এলাকার বাড়ি চোখে পড়বে। আয় বাড়বে, সঙ্গে খরচ ও প্রত্যাশাও বাড়বে। মানুষ আপনাকে প্রশংসা করবে, তারপর সেই প্রশংসা ধরে রাখার ভয় শুরু হবে।

দুনিয়া আপনাকে কিছুক্ষণের আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু স্থায়ী তৃপ্তি দিতে পারে না। কারণ আল্লাহর জন্য তৈরি হৃদয়কে শুধু দুনিয়ার জিনিস দিয়ে পূর্ণ করা সম্ভব নয়।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আমরা বুঝতেই পারি না যে গাফেল হয়ে গেছি

গাফেল মানুষ সবসময় গুনাহের আসরে বসে থাকে না। সে হয়তো খুব দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী এবং সমাজের চোখে সফল।

তার সমস্যা হলো, সে এত ব্যস্ত যে নিজের আত্মার অবস্থা দেখার সময় নেই।

সে ফজরের অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমায়, কারণ রাতে কাজ ছিল। কুরআন পড়ার সময় পায় না, কারণ দিনের তালিকা অনেক বড়। সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় নেই, কিন্তু অন্যের সফলতার ভিডিও দেখার সময় হয়ে যায়। সপ্তাহ চলে যায়, মাস চলে যায়, বছর চলে যায়। তবু সে নিজেকে বলে, “আরেকটু গুছিয়ে নিই, তারপর দ্বীনের দিকে মন দেব।”

কিন্তু জীবন গুছিয়ে শেষ হয় না।

একটি সমস্যা শেষ হলে আরেকটি আসে। একটি লক্ষ্য পূরণ হলে নতুন লক্ষ্য তৈরি হয়। আপনি ভাবছেন সামনে গিয়ে একটু থামবেন, অথচ সামনের জায়গাটিও আবার নতুন দৌড়ের শুরু হয়ে যায়।

এভাবেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কটি “পরে”র তালিকায় পড়ে থাকে।

তাওবা করব পরে।
কুরআন বুঝে পড়ব পরে।
নিয়মিত সালাত শুরু করব পরে।
পরিবারকে সময় দেব পরে।
হারাম উপার্জন ছেড়ে দেব পরে।

তারপর একদিন “পরে” বলার সময়টিই শেষ হয়ে যায়।

সূরা আত-তাকাসুরের দ্বিতীয় আয়াতটি তাই এত ভয়ংকর:

“যতক্ষণ না তোমরা কবরসমূহে পৌঁছেছ।”

অর্থাৎ মানুষ দৌড়াতে দৌড়াতে নিজে থেকে থামেনি। তাকে থামিয়েছে মৃত্যু।

কবরের সামনে হিসাব বদলে যাবে

কবরের মাটির পাশে দাঁড়ালে কেউ জিজ্ঞেস করবে না, মৃত ব্যক্তির ফোনের মডেল কী ছিল। তার বাড়ি কত বড় ছিল। তার পোশাক কোন ব্র্যান্ডের ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কত মানুষ তাকে চিনত।

তখন প্রশ্ন হবে, সে কী নিয়ে এসেছে?

তার সালাত কোথায়?
তার তাওবা কোথায়?
তার হালাল উপার্জন কোথায়?
তার মানুষের হক কোথায়?
তার দেওয়া সদকা কোথায়?
আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া কোথায়?

সূরাটির শেষে আল্লাহ সতর্ক করেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে অবশ্যই তার ভোগ করা নিয়ামতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।

আপনার সময় একটি নিয়ামত।
স্বাস্থ্য একটি নিয়ামত।
নিরাপদ ঘর একটি নিয়ামত।
পরিবার একটি নিয়ামত।
উপার্জনের সুযোগ একটি নিয়ামত।
মোবাইল, ইন্টারনেট, শিক্ষা, অবসর সবই নিয়ামত।

প্রশ্ন শুধু কতটুকু পেয়েছিলেন, সেটি নয়। প্রশ্ন হবে, এগুলো দিয়ে কী করেছিলেন।

তাহলে কি সব ছেড়ে দিতে হবে?

না। কাজ ছেড়ে দিতে হবে না। ব্যবসা, পড়াশোনা, উন্নতি কিংবা ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও বন্ধ করতে হবে না।

শুধু জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে।

দুনিয়া থাকবে হাতে, হৃদয়ের কেন্দ্রে নয়। সম্পদ থাকবে প্রয়োজন পূরণ ও কল্যাণ করার উপকরণ হিসেবে, পরিচয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে নয়। আপনি চেষ্টা করবেন, কিন্তু ফলাফলকে নিজের রব বানাবেন না। সুন্দর জিনিস ব্যবহার করবেন, কিন্তু অন্যের চেয়ে বড় হওয়ার জন্য নয়। উপার্জন করবেন, কিন্তু উপার্জনের জন্য সালাত ও নৈতিকতা বিক্রি করবেন না।

নিজেকে আজ কয়েকটি প্রশ্ন করুন:

আমি যে জিনিসটির পেছনে এত ছুটছি, সেটি কি সত্যিই আমার প্রয়োজন, নাকি অন্যকে দেখে তৈরি হওয়া চাহিদা?

আমি যে সাফল্য চাই, সেটির মূল্য হিসেবে কী হারাচ্ছি?

আমার আয় বাড়ছে, কিন্তু সদকা ও শুকরিয়া কি বাড়ছে?

আমার জীবন বাইরে থেকে সুন্দর হচ্ছে, কিন্তু আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক কি সুন্দর হচ্ছে?

আজ মৃত্যু এলে আমার অসমাপ্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি কী থেকে যাবে?

প্রশ্নগুলো অস্বস্তিকর। কিন্তু কখনো কখনো এই অস্বস্তিই মানুষকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়।

আজই দুনিয়া ছেড়ে দিতে হবে না। শুধু দৌড়ের মাঝখানে একটু থামুন। দেখুন, আপনি কোথায় যাচ্ছেন। কেন যাচ্ছেন। এবং এই পথের শেষে কী আছে।

কারণ আপনার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে হতে জীবনটিই যেন শেষ না হয়ে যায়।

আরও পাওয়ার দৌড়ে এমন কিছু হারাবেন না, যা আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না: ঈমান, সময়, পরিবার, অন্তরের প্রশান্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের দুনিয়ার নিয়ামতকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যম বানিয়ে দিন। প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা, তুলনা, লোভ ও গাফেলতা থেকে আমাদের হৃদয়কে রক্ষা করুন। আমাদের হালাল রিজিকে তুষ্টি, নিয়ামতে শুকরিয়া এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

সৎভাবে বলুন, যে জিনিসটির জন্য আজ এত ব্যস্ত, সেটি কি কবরের পরও আপনার কোনো কাজে আসবে?

📌 পোস্টটি সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে শেয়ার করুন। হয়তো আরও পাওয়ার দৌড়ে ক্লান্ত কোনো মানুষ এই কথাগুলো পড়ে একটু থামবে।
-সংগৃহীত

📞📲"হ্যালো" সমগ্র পৃথিবীতে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত শব্দ। এটি টেলিফোনিক ভাষা। এটি প্রতিদিন কয়েক বিলিয়নবার উচ্চারিত হয়।টেলিফোন ...
02/08/2026

📞📲"হ্যালো" সমগ্র পৃথিবীতে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত শব্দ। এটি টেলিফোনিক ভাষা। এটি প্রতিদিন কয়েক বিলিয়নবার উচ্চারিত হয়।টেলিফোন এর জনক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল এর আজ মৃত্যুরদিন। তিনি ঐ সময় ভবিষ্যৎবানী করেছিলেন- একদিন কথার সাথে তারা দু'জন পরষ্পরকে দেখতে পাবে 👯‍♀️🧖‍♀️🧑‍✈️🧑‍🚀যা এখন দৃশ্যমান।
টেলিফোন সর্বপ্রথম আবিষ্কার করা হয় ১৮৭৬ সালে। আর এর ঠিক এক বছর পর ১৮৭৬ সালের ১০ মার্চ আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল সর্বপ্রথম তার সহকারীকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু হ্যালো বলেননি তিনি। সেই সময় তিনি সম্ভাষণের জন্য ‘আহয়ই’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। নাবিকেরা সম্ভাষণ হিসেবে এই শব্দ ব্যবহার করতেন।
আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল বলেছিলেন- 'এমন একদিন আসবে যখন লোকে টেলিফোনে শুধু কথাই বলবে না, তারা দু’জন পরস্পরকে দেখতে পাবে।

কী অসাধারণভাবে সেই সময়েই ভবিষ্যৎ বলে দিয়েছিলেন তিনি।


31/07/2026
আল্লাহ আপনার জন্য প্রতিমাসে ১৮-২৫ হাজার টাকার অক্সিজেন বিনামূল্যে ব্যায় করছেন। এর প্রতিদান কি চান আল্লাহ, আপনাকে জানতে হ...
31/07/2026

আল্লাহ আপনার জন্য প্রতিমাসে ১৮-২৫ হাজার টাকার অক্সিজেন বিনামূল্যে ব্যায় করছেন। এর প্রতিদান কি চান আল্লাহ, আপনাকে জানতে হবে। আল্লাহর কোন কোন নিয়ামতকে আপনি অস্বীকার করবেন?
" শ্বাস আছে, আপনি আছেন,
শ্বাস নেই, আপনি নেই "
অমুক আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন, তার মানে উনি এজগতে নেই। ঐ সময় একটা নিঃশ্বাস এর দাম কত? আর আপনি মনের অজান্তে কত নিঃশ্বাস গ্রহণ করে চলেছেন!!!

❄️একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সাধারণত দিনে প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ বার শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন।
​এর পেছনের হিসাবটি বেশ সহজ:
​প্রতি মিনিটে: মানুষ সাধারণত বিশ্রামে থাকা অবস্থায় মিনিটে ১২ থেকে ২০ বার শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়।
​প্রতি ঘণ্টায়: প্রায় ৭২০ থেকে ১,২০০ বার।
​প্রতি দিনে (২৪ ঘণ্টায়): সর্বমোট ১৭,২৮০ থেকে ২৮,৮০০ বার (গড় হিসেবে যা প্রায় ২০,০০০ বার)।
​শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম, দুশ্চিন্তা বা অসুস্থতার সময় এই সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ঘুমানো বা গভীর বিশ্রামের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কিছুটা কমে যায়।

👉একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ গড়ে দিনে প্রায় ৫৫০ লিটার বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহণ করে।
​তবে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেওয়ার প্রসেসটা বেশ মজার। আমরা যখন শ্বাস নিই, তখন কিন্তু শুধু খাঁটি অক্সিজেন ফুসফুসে যায় না; বরং আশেপাশের বাতাস প্রবেশ করে।

গাণিতিক হিসাব:
​বাতাসের পরিমাণ: প্রতিটি শ্বাসে আমরা প্রায় ০.৫ লিটার বাতাস ভেতরে নিই। দিনে ২০,০০০ বার শ্বাস নিলে মোট নেওয়া বাতাসের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০,০০০ লিটার।
​অক্সিজেনের শতকরা হার: সাধারণ বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ থাকে প্রায় ২১%। অর্থাৎ ১০,০০০ লিটার বাতাসের মধ্যে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২,১০০ লিটার।
​শরীরের শোষণ: ফুসফুস এই ২,১০০ লিটার অক্সিজেনের সবটুকু শোষণ করে না। প্রতিবার শ্বাস ছাড়ার সময় বেশিরভাগ অক্সিজেন আবার বের হয়ে যায়। বাতাস নেওয়ার সময় তাতে ২১% অক্সিজেন থাকলেও ছাড়ার সময় প্রায় ১৬% অক্সিজেন থেকে যায়। ফুসফুস বাতাস থেকে মাত্র ৫% অক্সিজেন শোষণ করে।
​সংক্ষিপ্ত হিসাব:
প্রতিদিন গৃহীত বাতাস = ১০,০০০ লিটার
ফুসফুস কর্তৃক শোষিত অক্সিজেন = ১০,০০০ \text{ লিটার} \times ৫\% = \mathbf{৫৫০ \text{ লিটার}} (বা প্রায় ০.৭৫ কেজি)
​শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের সময় পেশিতে শক্তির চাহিদা বাড়ে, ফলে অক্সিজেন গ্রহণের এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
যদি প্রকৃতি আমাদের ফ্রিতে অক্সিজেন না দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বা হাসপাতালের মূল্যে এটি বিক্রি করত, তবে এর খরচ শুনলে সত্যি চমকে যেতে হতো!
👉​একজন মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৩টি মেডিকেল অক্সিজেন সিলিন্ডারের সমান (প্রায় ৫৫০-৬০০ লিটার) অক্সিজেন ব্যবহার করে।
বাজারমূল্য অনুযায়ী আনুমানিক হিসাব:
​দৈনিক খরচ: মেডিকেল অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ৩টি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা।
​মাসিক খরচ: মাসে এই খরচ হবে প্রায় ১৮,০০০ থেকে ২৭,০০০ টাকা।
​বার্ষিক খরচ: বছরে শুধু অক্সিজেনের পেছনেই খরচ হতো প্রায় ২,১৬,০০০ থেকে ৩,২৪,০০০ টাকা!
​যদি একজন মানুষ গড়ে ৭০ বছর বাঁচেন, তবে তিনি সারা জীবনে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে ২ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অক্সিজেন বিনামূল্যে গ্রহণ করে থাকেন!
👉​প্রকৃতির অবদান: আমরা বিনামূল্যে যে অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ পেয়ে থাকি, কৃত্রিমভাবে তা ধরে রাখা কতটা ব্যয়বহুল—এই হিসাবটি তা মনে করিয়ে দেয়। পরিবেশ ও গাছপালা রক্ষা করা আমাদের নিজেদের জন্যই কতটা জরুরি, এটি তারই এক বড় প্রমাণ।প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর শোকরীয়া আদায় করা তৌফিক দান করুন।


Address

511 Kazihata, GPO, Rajpara
Rajshahi
6000

Telephone

+8801712279017

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nurul Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Nurul Islam:

Shortcuts

Share

Category