02/08/2026
🫲🫱চাই>আরও চাই> আরও চাই>… তারপর?
আপনি হয়তো এখনো কোনো বড়লোক নন। হয়তো আপনার ব্যাংক ব্যালান্সও খুব বেশি নয়। তবু একটু খেয়াল করে দেখুন, আপনার মনটি কি সারাক্ষণ “আরও চাই” শব্দটির পেছনে ছুটছে না?
আরও ভালো ফোন।
আরও বড় বাসা।
আরও বেশি আয়।
আরও সুন্দর জীবন।
আরও সম্মান।
আরও পরিচিতি।
আরও লাইক, আরও ফলোয়ার, আরও প্রশংসা।
কিছু অর্জন করার পর কয়েক দিন ভালো লাগে। তারপর সেটিও স্বাভাবিক হয়ে যায়। যে জিনিসটি একসময় আপনার স্বপ্ন ছিল, সেটি হাতে আসার পর নতুন আরেকটি অপূর্ণতা চোখে পড়ে। মনে হয়, “এটুকু দিয়ে কী হবে? আরেকটু হলে হয়তো শান্তি পাব।”
কিন্তু সেই “আরেকটু” আর শেষ হয় না।
এভাবেই মানুষ সারাজীবন একটি অদৃশ্য দৌড়ে ছুটতে থাকে। সে জানে না কার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে, কোথায় পৌঁছাতে চায় কিংবা জিতলে আসলে কী পাবে। শুধু এটুকু জানে, থামা যাবে না। কারণ অন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে।
এই অবস্থার কথাই আল্লাহ তাআলা মাত্র দুটি ছোট আয়াতে এমনভাবে বলেছেন, যা মানুষের পুরো জীবনকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়:
“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের গাফেল করে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা কবরসমূহে পৌঁছেছ।”
সূরা আত-তাকাসুর, আয়াত ১–২।
একটু থামুন।
আল্লাহ বলেননি, শুধু সম্পদ তোমাদের গাফেল করেছে। বলা হয়েছে তাকাসুর, অর্থাৎ কে বেশি পেল, কে বেশি জমাল, কে বেশি এগিয়ে গেল, সেই প্রতিযোগিতা তোমাদের ভুলিয়ে দিয়েছে।
কী ভুলিয়ে দিয়েছে?
কেন আপনাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল, তা ভুলিয়ে দিয়েছে।
কাকে সন্তুষ্ট করার কথা ছিল, তা ভুলিয়ে দিয়েছে।
সালাতের সময় ভুলিয়ে দিয়েছে।
পরিবারের সঙ্গে বসার সময় ভুলিয়ে দিয়েছে।
শরীরের হক, আত্মীয়ের হক, প্রতিবেশীর হক ভুলিয়ে দিয়েছে।
এমনকি নিজের অন্তর কতটা শূন্য হয়ে যাচ্ছে, সেটিও অনুভব করতে দেয়নি।
আপনি কি নিজের জীবন বাঁচছেন, নাকি অন্যের জীবনকে ধরার চেষ্টা করছেন?
হয়তো আপনার পুরোনো ফোনটি ভালোই চলছিল। কিন্তু অন্য কারও হাতে নতুন ফোন দেখে হঠাৎ নিজের ফোনটি খারাপ লাগতে শুরু করল।
হয়তো আপনার ছোট বাসাটিতে শান্তি ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সাজানো বাড়ি দেখে নিজের ঘরটিকে সংকীর্ণ মনে হলো।
হয়তো আপনার জীবনসঙ্গী সাধ্যের মধ্যে আপনাকে ভালো রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অন্যের উপহার, ভ্রমণ আর উদ্যাপন দেখে মনে হলো, “আমার জীবনে তো কিছুই নেই।”
হয়তো আপনার সন্তান ভালো মানুষ হয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু অন্যের সন্তানের ফলাফল, দক্ষতা বা সাফল্যের সঙ্গে তুলনা করে আপনি নিজের সন্তানকেই চাপ দিতে শুরু করলেন।
অর্থাৎ জিনিসগুলো বদলায়নি। বদলে গেছে আপনার চোখ।
তুলনা আপনার কাছে থাকা নিয়ামতকে ছোট করে দিয়েছে। অন্যের হাতে যা আছে, সেটি এত বড় হয়ে দেখা দিয়েছে যে নিজের হাতে যা আছে, তা আর চোখেই পড়ছে না।
আপনি কি কখনো ভেবেছেন, যে জীবনের জন্য আজ আপনার মন খারাপ, সেই জীবনটির জন্যই হয়তো কয়েক বছর আগে আপনি কান্না করে দু‘আ করেছিলেন?
যে চাকরিটিকে এখন বিরক্তিকর মনে হচ্ছে, একসময় সেটি পাওয়ার জন্য কত চেষ্টা করেছিলেন। যে ঘরটিকে এখন ছোট মনে হচ্ছে, একসময় নিজের একটি নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন দেখতেন। যে মানুষটির ভুলগুলো এখন শুধু চোখে পড়ে, একসময় তাকেই পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে চেয়েছিলেন।
তাকাসুর শুধু আমাদের আরও চাইতে শেখায় না। এটি আমাদের পাওয়া নিয়ামত ভুলিয়ে দেয়।
সমস্যাটি সম্পদে নয়, সমস্যাটি হৃদয়ের দাসত্বে
ইসলাম আপনাকে দরিদ্র থাকতে বলে না। ভালো উপার্জন, সুন্দর বাড়ি, আরামদায়ক জীবন কিংবা ব্যবসায় উন্নতি চাওয়া অপরাধ নয়। হালাল পথে অর্জন করা সম্পদ নিয়ামত হতে পারে।
সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন সম্পদ আপনার হাতে না থেকে হৃদয়ে বসে যায়।
তখন সালাতের মাঝেও ব্যবসার হিসাব চলে। পরিবারের সঙ্গে বসেও চোখ থাকে ফোনে। হালাল পথে একটু দেরি হলে হারামের রাস্তা সহজ মনে হয়। কাউকে সাহায্য করতে গেলে মনে হয়, সম্পদ কমে যাবে। আর অন্য কেউ এগিয়ে গেলে নিজের নিয়ামতও বিষাদে পরিণত হয়।
আপনি বাইরে থেকে অনেক কিছু অর্জন করছেন, কিন্তু ভেতরে কী হারাচ্ছেন?
অতিরিক্ত কাজ করতে করতে সন্তানের শৈশব কি হারিয়ে যাচ্ছে?
অর্থ উপার্জন করতে করতে শরীর ও মানসিক শান্তি কি শেষ হয়ে যাচ্ছে?
মানুষের কাছে সফল হতে গিয়ে আল্লাহর কাছে আপনার অবস্থান কি দুর্বল হচ্ছে?
সবার সামনে সুন্দর জীবন দেখাতে গিয়ে ঘরের ভেতরের মানুষগুলো কি আপনার সময় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে?
ব্যস্ত থাকা আর সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া এক কথা নয়।
অনেক মানুষ দ্রুত দৌড়াচ্ছে, কিন্তু ভুল দিকে।
“আমার সম্পদ” বলতে আসলে কোনটি আপনার?
আমরা বলি, আমার টাকা, আমার বাড়ি, আমার গাড়ি, আমার ব্যবসা। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ সূরা আত-তাকাসুর পাঠ করার সময় মানুষের এই দাবিকে প্রশ্ন করেছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, মানুষের সম্পদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে তার জন্য থাকে সেটুকুই, যা সে খেয়ে শেষ করেছে, ব্যবহার করে পুরোনো করেছে কিংবা আল্লাহর পথে দান করে আখিরাতের জন্য সামনে পাঠিয়েছে। বাকি সম্পদ সে রেখে চলে যায়।
একদিন আপনার আলমারির পোশাক অন্য কেউ ভাগ করবে। আপনার ফোনের পাসওয়ার্ড অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে। যে বাড়ির প্রতিটি অংশ নিয়ে এত চিন্তা করেছিলেন, সেখানে অন্য মানুষ বসবাস করবে। যে ব্যাংক ব্যালান্স দেখে নিরাপদ অনুভব করতেন, সেটি উত্তরাধিকারীদের হিসাবে চলে যাবে।
আপনার নামটি কিছুদিন মানুষের মুখে থাকবে। তারপর ধীরে ধীরে সেটিও কমে যাবে।
কিন্তু যা আল্লাহর জন্য দিয়েছিলেন, সেটিই আপনার আগে পৌঁছে থাকবে।
যে ক্ষুধার্ত মানুষটিকে খাইয়েছিলেন।
যে দ্বীনি ইলম ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
যে সন্তানের ঈমান গড়তে সময় দিয়েছিলেন।
যে অসহায়কে গোপনে সাহায্য করেছিলেন।
যে হালাল উপার্জনের জন্য হারামের সুযোগ ছেড়ে দিয়েছিলেন।
এগুলো হারায়নি। এগুলোই আসলে আপনার।
মানুষের চাওয়া কেন শেষ হয় না?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আদমসন্তানের যদি সম্পদে পূর্ণ একটি উপত্যকা থাকে, সে তার মতো আরেকটি চাইবে। মানুষের এই অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত মাটি ছাড়া পূর্ণ হয় না। তবে যে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।
কথাটি ভয় ধরানোর জন্য নয়, জাগিয়ে দেওয়ার জন্য।
আজ আপনি যে জিনিসটিকে “শেষ চাওয়া” মনে করছেন, সেটি পাওয়ার পরও মন নতুন কিছু চাইবে। কারণ হৃদয়ের শূন্যতা জিনিস দিয়ে পুরোপুরি ভরে না।
আপনি নতুন ফোন কিনবেন, কিছুদিন পর সেটিও পুরোনো হবে। বড় বাড়ি কিনবেন, তারপর আরও ভালো এলাকার বাড়ি চোখে পড়বে। আয় বাড়বে, সঙ্গে খরচ ও প্রত্যাশাও বাড়বে। মানুষ আপনাকে প্রশংসা করবে, তারপর সেই প্রশংসা ধরে রাখার ভয় শুরু হবে।
দুনিয়া আপনাকে কিছুক্ষণের আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু স্থায়ী তৃপ্তি দিতে পারে না। কারণ আল্লাহর জন্য তৈরি হৃদয়কে শুধু দুনিয়ার জিনিস দিয়ে পূর্ণ করা সম্ভব নয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আমরা বুঝতেই পারি না যে গাফেল হয়ে গেছি
গাফেল মানুষ সবসময় গুনাহের আসরে বসে থাকে না। সে হয়তো খুব দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী এবং সমাজের চোখে সফল।
তার সমস্যা হলো, সে এত ব্যস্ত যে নিজের আত্মার অবস্থা দেখার সময় নেই।
সে ফজরের অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমায়, কারণ রাতে কাজ ছিল। কুরআন পড়ার সময় পায় না, কারণ দিনের তালিকা অনেক বড়। সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় নেই, কিন্তু অন্যের সফলতার ভিডিও দেখার সময় হয়ে যায়। সপ্তাহ চলে যায়, মাস চলে যায়, বছর চলে যায়। তবু সে নিজেকে বলে, “আরেকটু গুছিয়ে নিই, তারপর দ্বীনের দিকে মন দেব।”
কিন্তু জীবন গুছিয়ে শেষ হয় না।
একটি সমস্যা শেষ হলে আরেকটি আসে। একটি লক্ষ্য পূরণ হলে নতুন লক্ষ্য তৈরি হয়। আপনি ভাবছেন সামনে গিয়ে একটু থামবেন, অথচ সামনের জায়গাটিও আবার নতুন দৌড়ের শুরু হয়ে যায়।
এভাবেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কটি “পরে”র তালিকায় পড়ে থাকে।
তাওবা করব পরে।
কুরআন বুঝে পড়ব পরে।
নিয়মিত সালাত শুরু করব পরে।
পরিবারকে সময় দেব পরে।
হারাম উপার্জন ছেড়ে দেব পরে।
তারপর একদিন “পরে” বলার সময়টিই শেষ হয়ে যায়।
সূরা আত-তাকাসুরের দ্বিতীয় আয়াতটি তাই এত ভয়ংকর:
“যতক্ষণ না তোমরা কবরসমূহে পৌঁছেছ।”
অর্থাৎ মানুষ দৌড়াতে দৌড়াতে নিজে থেকে থামেনি। তাকে থামিয়েছে মৃত্যু।
কবরের সামনে হিসাব বদলে যাবে
কবরের মাটির পাশে দাঁড়ালে কেউ জিজ্ঞেস করবে না, মৃত ব্যক্তির ফোনের মডেল কী ছিল। তার বাড়ি কত বড় ছিল। তার পোশাক কোন ব্র্যান্ডের ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কত মানুষ তাকে চিনত।
তখন প্রশ্ন হবে, সে কী নিয়ে এসেছে?
তার সালাত কোথায়?
তার তাওবা কোথায়?
তার হালাল উপার্জন কোথায়?
তার মানুষের হক কোথায়?
তার দেওয়া সদকা কোথায়?
আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া কোথায়?
সূরাটির শেষে আল্লাহ সতর্ক করেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে অবশ্যই তার ভোগ করা নিয়ামতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।
আপনার সময় একটি নিয়ামত।
স্বাস্থ্য একটি নিয়ামত।
নিরাপদ ঘর একটি নিয়ামত।
পরিবার একটি নিয়ামত।
উপার্জনের সুযোগ একটি নিয়ামত।
মোবাইল, ইন্টারনেট, শিক্ষা, অবসর সবই নিয়ামত।
প্রশ্ন শুধু কতটুকু পেয়েছিলেন, সেটি নয়। প্রশ্ন হবে, এগুলো দিয়ে কী করেছিলেন।
তাহলে কি সব ছেড়ে দিতে হবে?
না। কাজ ছেড়ে দিতে হবে না। ব্যবসা, পড়াশোনা, উন্নতি কিংবা ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও বন্ধ করতে হবে না।
শুধু জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে।
দুনিয়া থাকবে হাতে, হৃদয়ের কেন্দ্রে নয়। সম্পদ থাকবে প্রয়োজন পূরণ ও কল্যাণ করার উপকরণ হিসেবে, পরিচয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে নয়। আপনি চেষ্টা করবেন, কিন্তু ফলাফলকে নিজের রব বানাবেন না। সুন্দর জিনিস ব্যবহার করবেন, কিন্তু অন্যের চেয়ে বড় হওয়ার জন্য নয়। উপার্জন করবেন, কিন্তু উপার্জনের জন্য সালাত ও নৈতিকতা বিক্রি করবেন না।
নিজেকে আজ কয়েকটি প্রশ্ন করুন:
আমি যে জিনিসটির পেছনে এত ছুটছি, সেটি কি সত্যিই আমার প্রয়োজন, নাকি অন্যকে দেখে তৈরি হওয়া চাহিদা?
আমি যে সাফল্য চাই, সেটির মূল্য হিসেবে কী হারাচ্ছি?
আমার আয় বাড়ছে, কিন্তু সদকা ও শুকরিয়া কি বাড়ছে?
আমার জীবন বাইরে থেকে সুন্দর হচ্ছে, কিন্তু আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক কি সুন্দর হচ্ছে?
আজ মৃত্যু এলে আমার অসমাপ্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি কী থেকে যাবে?
প্রশ্নগুলো অস্বস্তিকর। কিন্তু কখনো কখনো এই অস্বস্তিই মানুষকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়।
আজই দুনিয়া ছেড়ে দিতে হবে না। শুধু দৌড়ের মাঝখানে একটু থামুন। দেখুন, আপনি কোথায় যাচ্ছেন। কেন যাচ্ছেন। এবং এই পথের শেষে কী আছে।
কারণ আপনার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে হতে জীবনটিই যেন শেষ না হয়ে যায়।
আরও পাওয়ার দৌড়ে এমন কিছু হারাবেন না, যা আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না: ঈমান, সময়, পরিবার, অন্তরের প্রশান্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের দুনিয়ার নিয়ামতকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যম বানিয়ে দিন। প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা, তুলনা, লোভ ও গাফেলতা থেকে আমাদের হৃদয়কে রক্ষা করুন। আমাদের হালাল রিজিকে তুষ্টি, নিয়ামতে শুকরিয়া এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।
সৎভাবে বলুন, যে জিনিসটির জন্য আজ এত ব্যস্ত, সেটি কি কবরের পরও আপনার কোনো কাজে আসবে?
📌 পোস্টটি সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে শেয়ার করুন। হয়তো আরও পাওয়ার দৌড়ে ক্লান্ত কোনো মানুষ এই কথাগুলো পড়ে একটু থামবে।
-সংগৃহীত