18/09/2016
ধীরস্থিরতার সঙ্গে নামাজ আদায় করুন ----------------
একজন মুমিন নামাজ আদায় করবেন বিনয়াবনতভাবে। মুমিন ব্যক্তি নামাজ পড়া অবস্থায় আল্লাহপাকের ভীতি, শ্রেষ্ঠত্ব, প্রতাপ ও পরাক্রমের কারণে সন্ত্রস্ত ও আড়ষ্ট থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর ভয়ে তার মাথা নত হয়ে যাবে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঢিলে হয়ে যাবে, দৃষ্টি নত হবে, কণ্ঠস্বর নিম্নগামী হবে এবং কোনো জবরদস্ত প্রতাপশালী ব্যক্তির সামনে উপস্থিত হলে মানুষের মধ্যে যে স্বাভাবিক ভীতির সঞ্চার হয় তার যাবতীয় চিহ্ন তার মধ্যে ফুটে উঠবে। এমনভাবে নামাজ আদায়কারী মুমিনকে আল্লাহপাক সফল হিসেবে উল্লেখ করে কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চিতভাবে সফলকাম হয়েছে মুমিনরা। যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবনত হয়’ (মুমিনুন : ১-২)।
নামাজের চুরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় চুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর সেই ব্যক্তি, যে সালাতে চুরি করে। সাহাবিরা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সে কীভাবে সালাতে চুরি করে? তিনি বললেন, সে রুকু-সিজদাহ পরিপূর্ণভাবে করে না’ (মুসনাদে আহমদ ৫/৩১০; মিশকাত, হাদিস নম্বর-৮৮৫)।
অনেকে নামাজে ধীরস্থির ভাব বজায় রাখে না। ধীরে-সুস্থে রুকু-সিজদাহ করে না। রুকু থেকে যখন মাথা তোলে তখন পিঠ সোজা করে দাঁড়ায় না এবং দুই সিজদাহর মাঝে পিঠ টান করে বসে না। খুব কম মসজিদই এমন পাওয়া যাবে, যেখানে এ জাতীয় দু-চারজন পাওয়া যাবে না। অথচ ধীরস্থিরতা বজায় রাখা সালাতের অন্যতম রুকন। স্বেচ্ছায় তা পরিহার করলে কোনো মতেই সালাত শুদ্ধ হবে না। সুতরাং বিষয়টি বেশ গুরুতর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যে পর্যন্ত না রুকু-সিজদায় তার পৃষ্ঠদেশ সোজা করবে, সে পর্যন্ত তার সালাত যথার্থ হবে না’ (সুনান আবু দাউদ; তিরমিজি; মিশকাত, হাদিস নম্বর-৯৭৮)।
কাজটি যে অবৈধ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যে এভাবে নামাজ আদায় কবে সে ভর্ৎসনার যোগ্য। আবু আবদুল্লাহ আশ’আরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার সাহাবিদের সঙ্গে নামাজ আদায়ের পর তাদের একটি দলের সঙ্গে বসা অবস্থায় ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামাজে দাঁড়াল। সে ঠোকর মেরে রুকু-সিজদা করছিল। তা দেখে নবী (সা.) বললেন, ‘তোমরা কি এ লোকটিকে ল করেছ? এভাবে নামাজ আদায় করে কেউ যদি মারা যায়, তবে সে মুহাম্মাদের মিল্লাত ছাড়া অন্য মিল্লাতে মারা যাবে। কাক যেমন রক্তে ঠোকর মারে, সে তেমনি করে তার সালাতে ঠোকর মারছে। যে ব্যক্তি রুকু করে আর সিজদায় গিয়ে ঠোকর মারে তার দৃষ্টান্ত সেই ক্ষুধার্ত লোকের মতো, যে একটি দুটির বেশি খেজুর খেতে পায় না। দুটি খেজুরে তার কতটুকু ক্ষুধা মেটাতে পারে?’
জায়েদ ইবন ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, একবার হুজায়ফা (রা.) জনৈক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যে, সে রুকু-সিজদাহ পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করছে না। তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি নামাজ আদায় করনি। আর এ আবস্থায় যদি তুমি মারা যাও, তাহলে যে দীনসহ আল্লাহতাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছিলেন তুমি তার বাইরে মারা যাবে।’
যে ব্যক্তি সালাতে ধীরস্থিরতা বজায় রাখে না, সে যখন তার বিধান জানতে পারবে তখনকার ওয়াক্তের ফরজ সালাত তাকে আবার পড়তে হবে। আর অতীতে যা ভুল হয়ে গেছে সে জন্য তওবা করবে, সেগুলো আর আবার পড়তে হবে না। যেমন হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন জনৈক দ্রুত সালাত আদায়কারীকে ল্য করে বললেন, ‘যাও, সালাত আদায় করো। কেননা তুমি তো সালাত আদায় করনি।’ এখানে অতীত সালাত কাজা করার কথা বলা হয়নি (সহিহ বোখাারি; সহিহ মুসলিম; মিশকাত, হাদিস নম্বর-৭৯০)।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম গুণাবলি অর্জন করার তাওফিক দান করুন। সঙ্গে সঙ্গে বিনয়াবনতভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।