14/10/2021
কোন ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া উক্ত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে বা নেটওয়ার্কে বা কম্পিউটারে প্রবেশ করে সেখান থেকে তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা, মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করাকে হ্যাকিং বলা হয়। হ্যাকিং এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে অনলাইন জগতে প্রায় সবকিছুই করা সম্ভব। যেমন: অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি করা, কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ভাইরাস বা কোন ক্ষতিকর প্রোগ্রামের মাধ্যমে আক্রমণ করা ইত্যাদি।
ইন্টারনেট কানেক্টেড সকল ডিভাইস হ্যাক করা সম্ভব। মোবাইল ফোন, ল্যান্ড ফোন, গাড়ি ট্র্যাকিং, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও ডিজিটাল যন্ত্র সবকিছুকেই হ্যাকিং এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। হ্যাকাররা সাধারণত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস, নেটওয়ার্ক, ওয়েবসাইটের ত্রুটি সনাক্ত করে সেই ত্রুটির ওপর ভিত্তি করে হ্যাক করে থাকে।
যারা হ্যাকিং সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, তারাই হ্যাকার। হ্যাকিং কর্মকান্ডের কর্মকান্ডের উপর ভিত্তি করে হ্যাকারদের কে তিনটি ভাগে ভিবক্ত করা হয়। যেমনঃ
১। হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার (White Hat Hacker)
২। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার (Black Hat Hacker)
৩। গ্রে হ্যাট হ্যাকার (Grey Hat Hacker)
হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার (White Hat Hacker): হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা মূলত সাইবার ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তা প্রদানের কাজ করে থাকে। এই ধরনের হ্যাকারদেরকে ইথিক্যাল হ্যাকার বলা হয়। এরা একটি সিস্টেমের দুর্বলতা বা ত্রুটি খুঁজে বের করে ঐ সিস্টেমের মালিককে বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সেই ত্রুটিগুলো সম্পর্কে অবগত করেন যেন তারা ভবিষ্যতে যেকোন সাইবার হামলা থেকে মুক্ত থাকতে পারে। সিস্টেমটি হতে পারে একটি কম্পিউটার, ওয়েব সাইট, সফটওয়্যার ইত্যাদি।
ব্লাক হ্যাট হ্যাকার (Grey Hat Hacker): এই ধরনের হ্যাকাররা সাইবার জগতে বিভিন্ন অপরাধ করে থাকে । সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের দুর্বলতা খুঁজে নিজেদের আর্থিক অথবা ব্যক্তিগত স্বার্থ আদায় করে থাকে। এরা বিভিন্ন বাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি করে, উক্ত বাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ব্লাক মেইল করে থাকে এবং অনেক সময় এসব তথ্য ফাঁস করে দেয়ার মাধ্যমে ক্ষতি সাধন করে থাকে।
এরা কোনো সিস্টেমের সিকিউরিটির মধ্যে কোন ত্রুটি খুজে পেলে তারা সেটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। সিস্টেমের ডেটাবেজ নষ্ট করা, ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়া, তথ্য চুরি করা সহ বিভিন্ন ধরণের অবৈধ কাজ করে থাকে। বিভিন্ন ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়র মাধ্যমে ভাবিষ্যতে নিজে আবার যেন ঢুকতে পারে সে বানিয়ে পথ রাখে এবং ঐ সিস্টেমের অধিনে যে সকল সাব-সিস্টেম রয়েছে সে গুলোতেও ঢুকতে চেষ্টা করে।
গ্রে হ্যাট হ্যাকার (Grey Hat Hacker): এই ধরনের হ্যাকারদেররা হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার এবং ব্লাক হ্যাট হ্যাকার এই দুই ক্যাটাগরির মধ্যবর্তীতে অবস্থান করে। বিশ্বের বেশীর ভাগ হ্যাকাররাই এই ক্যাটাগরিতে পরে। এরা কোনো সিস্টেমের ত্রুটি বা দুর্বলতা খুজে পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজের কাছেই রেখে দেয়, আবার কখন কখন সিস্টেমের মালিককে জানিয়ে থাকে। সে কি করবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তখনকার মন মানুসিকতার উপর। এরা নিজের স্বার্থের বাইরে কিছু করে না।
হ্যাকাররা বিভিন্ন পদ্ধতিতে হ্যাকিং করে থাকে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হ্যাকিং হচ্ছে-
পিশিং, DoS Attack, Trojan Horses, Back Doors, Rogue Access Points.