আলোর ফেরী একটি প্রযুক্তি ভিত্তিক পাঠাগার ব্যবস্থাপনা মডেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপ। এই অ্যাপটিতে যেকোনো পাঠাগারের বই ব্যবস্থাপনা, বই ইস্যু ও সংগ্রহ, পাঠক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা সহ পাঠাগারের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা করা যায়। পাঠক যেকোনো স্থান থেকে আলোর ফেরী অ্যাপের মাধ্যমে তার নিকটবর্তী পাঠাগারের বই সহ পাঠাগারের যাবতীয় তথ্য জানতে পারে। পাঠক তার পছন্দের পাঠাগারে যুক্ত হতে পারে এবং পছন্দের বইটি খুঁজে পড়তে চেয়ে অনুরোধ পাঠাতে পারে। অতঃপর পাঠাগার নিজ ব্যবস্থাপনায় পাঠকের কাছে বইটি পৌঁছে দিবে এবং পড়া শেষে ফেরত নিবে। পাঠাগার কর্তৃপক্ষ জানতে পারবে কোন পাঠকের কাছে কি বই রয়েছে এবং কখন ফেরত দিবে ইত্যাদি। এতে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সুবিধা থাকায় পাঠক তাদের মতামত পোস্ট, কমেন্ট, লাইক ও রিভিউ এর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে। ফলে খুব সহজেই পাঠক ও পাঠাগারের মধ্যে বন্ধন তৈরিতে সাহায্য করে।
আলোর ফেরীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
জ্ঞান সমৃদ্ধ জাতিই উন্নত জাতি। তাই উন্নত জাতি ও আলোকিত সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে পাঠাগার ভিত্তিক জ্ঞান চর্চার বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে প্রচুর পাঠাগার রয়েছে তবে বড় সমস্যা হলো কোন পাঠাগারের অবস্থান কোথায়, কোন পাঠাগারে কি পরিমান এবং কি কি বই আছে সে সম্পর্কে পাঠকরা অবহিত নয়। অর্থাৎ পাঠাগার গুলোর সাথে পাঠকদের প্রযুক্তি ভিত্তিক কোনো সংযোগ নেই যার মাধ্যমে পাঠক ঘরে থেকেই জানতে পারবে লাইব্রেরী এবং বই এর অবস্থান। এই সমস্যা সমাধানের ভাবনা থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠাগার এবং পাঠকদের মধ্যে সংযোগ সাধনের লক্ষ্যে আলোর ফেরীর যাত্রা। বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। আধুনিক বিশ্বে জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে পাঠাগার ও পাঠকের মধ্যে প্রযুক্তির সমন্বয় না হলে সঠিকভাবে জ্ঞানচর্চা সম্ভব নয়। তাই প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে পাঠাগারের সহিত পাঠকদেরকে সংযুক্ত করে সর্বত্র বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানো এবং জ্ঞান চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করাই আলোর ফেরীর উদ্দেশ্য।
আলোর ফেরীর যাত্রাঃ
২০১৫ সালের ১০ মার্চ পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানাধীন কালিশুরী ইউনিয়নের সিংহেরাকাঠী গ্রামে মোঃ বাবুল মৃধার উদ্যোগে প্রথম প্রযুক্তি ভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ মডেল পাঠাগার আলোর ফেরীর যাত্রা শুরু হয়। পাশাপাশি অ্যাপটির গবেষণা ও ডেভলপমেন্ট কার্যক্রম চলতে থাকে এবং আলোর ফেরীর দুটি পাঠাগারে অ্যাপটির পাইলটিং কার্যক্রমও চলতে থাকে। বর্তমানে অ্যাপটি প্লে ষ্টোরে রয়েছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৭০ টিরও অধিক পাঠাগার আলোর ফেরীর অ্যাপে যুক্ত হয়েছে।