07/03/2026
গত ৫ বছর বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভীষণ চ্যালেঞ্জিং একটা টাইম, যা কিনা এখনো চলমান। লাভ করা তো দূরের কথা বরং স্রেফ ‘টিকে থাকা’ যেনো এক মহা*যুদ্ধ।
একটা ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই যখন অন্য একটা সংকট এসে সামনে দাঁড়ায়, তখন টিকে থাকাটাই হয়ে পড়ে হিমালয় জয়ের মতো কঠিন।
একনজরে আমাদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের গত কয়েক বছরের সেই টিকে থাকার লড়াই এর একটা চিত্র তুলে ধরা যাক:
২০২০-২০২১ (করোনা মহামারি ও লকডাউন):
পুঁজি হারানোর শুরু এখান থেকেই। ব্যবসা বন্ধ, কিন্তু ভাড়া আর স্টাফদের বেতন থেমে ছিল না। জমানো টাকা খরচ করে কোনোমতে টিকে থাকা। অনেকেই ঋণের জালে জড়িয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন। অনেকে এখনো ঘুরে দাড়াতে পারে নাই। কারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার জন্য কেউ লোন/প্রনদনা দেয় না।
২০২২ (রাশিয়া-ইউক্রেন যু*দ্ধ):
লকডাউন শেষ হতে না হতেই শুরু হলো বিশ্ব মন্দা। ডলার সংকট আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় শিপিং কস্ট বেড়ে গেল আকাশচুম্বী। মালামাল আমদানিতে টান পড়ল, আর কাস্টমারের পকেটে টাকা না থাকায় বেচাকেনা তলানিতে গিয়ে ঠেকলো। ফলাফল মুদ্রাস্ফীতি।
২০২৩-২০২৪ (১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন): বাংলাদেশে যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের আগের ৬ মাস ও পরের ৬ মাস ব্যবসা মন্দা যায়। মানুষ বিনিয়োগ করে না। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর হরতাল-অবরোধের ভয়ে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে। নির্বাচনের আগে মানুষের মাঝে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার ফলে অতি প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য কিছু কেনা বন্ধ করে দেয় সাধারণ মানুষ।
২০২৪ (গণ-অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকার):
রাষ্ট্রীয় বড় পরিবর্তনের সময়টা ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। ইন্টারনেট শাটডাউন আর কার*ফিউর কারণে অনলাইন ভিত্তিক ছোট উদ্যোক্তারা প্রায় পথে বসার দশা হয়েছিল। জুলাই-আগস্টের সেই দিনগুলোতে ব্যবসা পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে মানুষ আশাবাদী ছিলো, কিন্তু তাদের আঠারো মাসের সময়কালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তেমন আশার আলো দেখেনি।
২০২৫-২০২৬ (১৩তম জাতীয় নির্বাচন):
আবার ও জাতীয় নির্বাচন, পুরনো ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন উত্তেজনা। বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে নিলেন, আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লাভের অংশটা খেয়ে ফেলল অতিরিক্ত খরচ। তবুও নির্বাচিত সরকার আসবে এই আশায় বুক বেধে ছিলাম সবাই।
২০২৬ (আমে*রিকা, ইস*রাইল, ই*রান যু*দ্ধ):
সবশেষে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। বৈশ্বিক এই যু*দ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। সাপ্লাই চেইন পুরোপুরি বিধ্ব*স্ত। এখন শুধু মুনাফা নয়, মূলধনটুকু বাঁচিয়ে রাখাই হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। সবার কাধে পাহাড় সমান লাইবিলিটি। যারা টিকে আছেন শুধু তারাই জানেন তারা কিভাবে টিকে আছেন। এমন ঈদের একটা সময় অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সারাবছরের ব্যবসা করার সময় অথচ কাস্টমাররা ব্যস্ত ফিলিং স্টেশনে তেলের লাইনে।
কেউ ঝরে গেছে চোখের জলে, কেউ কোনোমতে নিঃশ্বাস নিচ্ছে ঋণের বোঝায়। তবুও আমাদের দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লড়াকু। আমরা ভেঙে পড়ি, কিন্তু আবারও শূন্য থেকে শুরু করার সাহস রাখি। এই সময়ে ভালো আছেন তারা, যারা অন্যকে ব্যবসা শিখাচ্ছেন। কিভাবে কোটি কোটি টাকা কামানো যায়, কোটি টাকার মাইন্ডসেট তৈরি করা যায়। আমি তাদের বিপক্ষে না, তবে টাকা কামানো শিখানোর সাথে সাথে টিকে থাকা, মানি ম্যানেজমেন্ট আর ক্যাশ-ফ্লো ধরের রাখার ট্রেনিং গুলাও আমাদের সমান ভাবে দরকার।
সবাই দোয়া করবেন এই কঠিন সময় যেন আমরা পার করতে পারি। আল্লাহ ভরসা ❤️
(কপি পোস্ট)