15/01/2022
ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।
অনেক জায়গায় দেখি #পাঁচ_দশ হাজার টাকায় নাকি #ওয়েবসাইট করে দেয়, তাও আবার কোয়ালিটি ওয়েবসাইট!? বিষয়টা নিয়ে আগে মাথা ঘামালেও এখন আর তেমন ঘামাই না। কারণ, এইদেশের বেশিরভাগ মানুষের নীতি-নৈতিকতা কেমন, তা নিয়ে নতুন করে আর বলার কিছু নাই! আসলে যে যেটা বুঝে না তার সাথে সেসব নিয়ে কথা বলাই বৃথা।
তবে যেটুকু না বললেই নয়, একটা সাধারণ মানের থিম কিনে একটা সাইট বানাতে গেলেও ফকিন্নী সুরতেও ৭/৮ হাজার টাকা খরচ অন্তত আছে। এছাড়াও সাইট দাঁড় করানো, কাস্টমাইজ করা, নিজের মত একটা ডিজাইন দাঁড় করানো, সাইটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইমেজ এডিটিং, টুকটাক গ্রাফিক্সের কাজ, লোগো+ফ্যাব আইকন, ওয়েবসাইটের অরিজিনাল লাইসেন্স, সিকিউরিটি এবং ব্লগ কনটেন্ট ইত্যাদি মিলিয়ে কিভাবে সম্ভব? এটা জাস্ট ইমপসিবল!
একটা ভাল মানের ডোমেইন হোস্টিং এর খরচের কথা না-হয় এখানে নাই বললাম। তবুও আমাদের দেশে এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে চলছে! তবে হ্যাঁ, এত অল্পতেও কাজ করা সম্ভব! কিভাবে?
একটি ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে খরচাবলি মূলত ২-টি প্রধান অংশে বিভক্ত করা যায় যেমনঃ-
প্রাথমিক খরচাবলি।
প্রাথমিক ভাবে প্রয়োজন ডোমেইন নেম এবং হোস্টিং এইক্ষেত্রে নিম্নমানের এবং সস্তার ডোমেইন+হোস্টিং ব্যবহার করা।
দ্বিতীয়ত প্রিমিয়াম থিমের বদলে ফ্রি বা নাল্ড থিম ব্যবহার করা।
প্রিমিয়াম প্লাগিনের বদলে ফ্রি প্লাগিন ব্যবহার করা।
সাইটের ব্লগ, প্রাইভেসি পলিসি, টার্মস এন্ড কন্ডিশন সেকশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোনো কনটেন্ট রাইটার দ্বারা লিখিত কনটেন্ট ব্যবহার না করা।
সাইটের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কন্টেন্টের ক্ষেত্রে ফ্রি, গার্বেজ/কপিরাইটেড বা চুরি করা কনটেন্ট ব্যবহার করা যেমনঃ- ইমেজ, লোগো/ফ্যাব-আইকন ইত্যাদি।
কাস্টম কোডিং এন্ড কাস্টম কাস্টোমাইজেশন না করে জাস্ট রেডি টেমপ্লেট ব্যবহার করা।
সাইট সিকিউরিটি এই বিষয়টা অনেকের মাথায় থেকে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
অন্যান্য খরচাবলি।
এসইও।
ওয়েবসাইটের ধরণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খরচাবলি যেমনঃ- ইভেন্ট, পোর্টফোলিও, মেম্বারশিপ, হোটেল বুকিং ইত্যাদি বিশেষ ধরণের ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম প্লাগিন।
সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল বা অন্যান্য মার্কেটিং সহ অন্যান্য আরো অনেক অনেক খরচ রয়েছে।
বিজ্ঞাপনে বলা হয় একদম কমপ্লিট ওয়েবসাইট মাত্র ২৯৯৯-টাকায়। আসলে সস্তার ৩-নয় হাজারো অবস্থা।
এখন এমন অনেকেই আছেন যারা একই সাথে ওয়েব-ডিজাইন এবং এসইও এর কাজ ২-টাই যথেষ্ট ভালো পারেন তাদের হিসাব ভিন্ন কিন্তু একজনের পক্ষে উপরোক্ত সব কিছু মেইন্টেইন করে ৩০০০-৫০০০ টাকার মধ্যে ওয়েবসাইট বানানো বা এমন সার্ভিস প্রদান করা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।
এখন কেউ যদি ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হীরার বদলে কাঁচের টুকরা নিয়ে খুশি থাকেন তাহলে সেটা ভিন্ন কথা।
যারা এমন বলে তাদেরকে এভোয়েড করেন কারণ কোনো ভাবেই ৩০০০-৫০০০ টাকায় ফুল ফাংশনাল এবং কমপ্লিট ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব নয়।
চিটার-বাটপাররা আপনাকে আমাকে ঠকাতে চাইবেই। আমাদের উচিৎ সচেতন হওয়া এবং এই ধরণের প্রতারকদের খপ্পরে না পড়া বা তাদেরকে প্রশ্রয় না দেয়া।
একজন ওয়েব ডেভেলপার হওয়া ছেলের হাতের মোয়া না। এর জন্য প্রয়োজন সময়, শ্রম এবং মেধা ইনভেস্ট করা। যে এতকিছু ইনভেস্ট করে একটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করবে তার মেধা এবং যোগ্যতাকে যথোপযুক্ত সন্মান এবং মূল্যায়ন করা আমার বা আপনার দায়িত্ত্ব।
আমাদের দেশের লোকাল ক্লায়েন্টরা তো বেশিরভাগই এসব সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই তারা কেউ লো-বাজেটে কেউ কিছু অফার করলেই ঝাঁপিয়ে পড়েন। মনে করেন অল্প টাকাতেই মনে হয় অনেক কিছু পাচ্ছেন। কিন্তু সস্তার যে তিন অবস্থা এটা তারা টের পান কাজ করানোর পর!
যাদের ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট রিলেটেড সার্ভিস প্রয়োজন তারা একটু সচেতন হোন। যেনতেন কাজ করে টাকা নষ্ট করার চাইতে একটু সময় নিয়ে কাজটা করান। অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিন। তাহলে অন্তত দিনশেষে ঠকবেন না।
যারা এই সেক্টরে নতুন আসছেন, তাদেরকেও বলি- এত তাড়াহুড়ো করেই ডলারের স্বপ্ন দেখবেন না। যারা অল্পদিনেই আপনাকে ডলার কামানোর স্বপ্ন দেখায় অথবা লক্ষ টাকা দামের হীরা ৯৯.৯৯% ছাড়ে মাত্র ৩০০০-৫০০০ টাকায় দেয়ার প্রলোভন দেখায় তার হয় মিথ্যাবাদী, না হয় বাটপার।
তাই যারা এই সেক্টরে আসতে চান, প্রথমে ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন। লেগে থাকার মানসিকতা রাখুন। আজ এটা তো কাল এটা, এসব মানসিকতা থাকলে এদিকে এসে সময় নষ্ট করবেন না। আর কাজ শেখার আগেই ডলার কামানোর স্বপ্ন বাদ দেন।
হুটহাট ট্রেইনিং সেন্টার বা মেন্টর নয় প্রথমে গুগল বা ইউটিউব থেকে প্রাথমিক ধারণা নেন এবং পরে যাচাই বাছাই করে না হয় কোনো ভালো ট্রেইনার বামেন্টরের অধীনে কাজ শিখবেন। যেকোনো কাজ শুরুর আগেই ওই কাজ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা আপনাকে শেখার ক্ষেত্রে একটা এডভ্যান্টেজ প্রদান করবে।
একদম হুট্ করে আটলান্টিকে ঝাঁপ দেয়ার আগে যদি একটা লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করে লাফ দেন তাহলে বাঁচার বা সফল হওয়ার জন্য আপনার হাতে একটা নির্ভরযোগ্য অপশন থাকবে।
আরেকটা কথা ৩০০-৫০০-টাকার কোর্স আপনাকে কখনোই এক্সপার্ট বানাতে পারবেনা। এই কথার স্বপক্ষে আমি নিজে গ্যরান্টি দিচ্ছি।
একজন যোগ্যতা সম্পন্ন এবং অভিজ্ঞ লোকের কখনোই কাজের অভাব হয়না। সে কোনো অবস্থায় অরণ্যে রোদন করবে না বা সস্তার দোকান খুলে তার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা সময়ের অবমূল্যায়ন করবে না।
চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে আগুন ঝাঁপ দেয়ার কোনো মানে হয়না। সময় নেন প্রস্তুতি নেন এবং সস্তার ৫০-টি নয় ন্যায্য মূল্যে ১-টি ভালো কোর্স, ট্রেইনার বা মেন্টরের আন্ডারে কাজ শিখুন।
এই ক্ষেত্রেও সমস্যা অনেক। ভালো কোর্স, ট্রেনিং ইন্সটিউট বা ট্রেইনার-ই বা কোথায় পাবেন?
আমাদের শেষেই অসংখ্য ভালো ভালো কোর্স, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা ট্রেইনার রয়েছে তবে যারা এই ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তাদের প্রচার প্রচারণা শুন্যের কোঠায়।
এই দেশি যারা সুযোগ্য এবং সুদক্ষ তাদের মধ্যে অনেকের মনোভাব এমন যে আমি একবার তাল-গাছে উঠেছি তো আর কাউকে উঠতে দিবোনা অথবা আমার যোগ্যতা বা দক্ষতা আমি কবরে নিয়ে যাবো।
আবার অনেকেই সঠিক মূল্যায়ন পায়না তাই থেকে যায় লোক-চক্ষুর অগোচরে।
অন্যদিকে শুন্য কলসি বাজে বেশি এই কথাকে সত্য প্রমান করতেই যেন চিটার-বাটপারদের কোর্স এবং ইনস্টিটিউটের প্রচার প্রচারনা পৃথিবী ছেড়ে মঙ্গোল গ্রহেও যেন পৌঁছে গেছে অনেক আগেই। এদের যেমন ফ্যান ফলোয়ার বেশি তেমনি কোর্স বা ট্রেনিং ফী-ও একদম আসমান সমান।
সুদক্ষ /সুযোগ্য অথবা চিটার/বাটপার যাই বলেন না কেন উভয় পক্ষের অনেকের সম্পর্কে আমার ভালো জানা শোনা আছে।
যারা সুদক্ষ বা সুযোগ্য তাদের কাছে যাওয়াই মুশকিল। অনেকের পার্সোনাল নাম্বারে কল দিয়ও পাত্তা পাওয়া যায়না অনেকের ইনবক্সের স্প্যাম ফোল্ডারে আনসিন অবস্থায় পরে আছে সেই ২০১৮/১৯ সালে পাঠানো আমার ম্যাসেজ।
সফল যারা কেমন তাঁরা? আমার কাছে এর উত্তর হচ্ছে তারা নতুনদেরকে তেমন একটা পাত্তা বা গুরুত্ত্ব দেয়না। অযথা উটকো ঝামেলা/বোঝা মনে করে খুব সম্ভবত তাদের এই সবের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের খুব অভাব।
তবে আমার মতে সুবিধা মতো সময়ে কমিউনিটি বা নতুনদের জন্য টুকটাক টিপস বা গাইডলাইন/সাজেশন বা ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করা উচিৎ যাতে নতুনরা বিপদগামী না হয় এবং উপকৃত হতে পারে।
ওয়ার্নিং:-
যারা সফল, সুদক্ষ বা সুযোগ্য তাদের নিয়ে তো পজিটিভ বা নেগিটিভ কিছু বলা যায় কারণ তারা সর্বদাই এইধরণের গঠনমূলক আলোচনা বা সমালোচনা স্পোর্টিংলি গ্রহণ করে। যারা চিটার-বাটপার তাদের বিরুদ্ধে টু-শব্দ করার কোনো উপায় নেই। চিটারি-বাটপারি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া যায়। এইসব অসাধু লোকের ফ্যানবেজ এবং হাইলিঙ্ক বিশাল লেভেলের। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা মাত্র হয় শেষ নয়তো ব্যক্তিগত আক্রমণের বন্যায় দেশান্তরী হওয়ার উপক্রম হয়।
মিলিয়ন ফ্যান বেজের একজন জেক আমি পার্সোনালি চিনি এমনকি আমার ফ্রেন্ড লিস্টে আছেন তার প্রধান কাজ হচ্ছে উডেমাই থেকে ৯.৯৯-ডলারে কোর্স কিনে সেটাকে বাংলায় অনুবাদ করে নিজের নাম চালিয়ে দেয়া।
মিলিয়ন বাংলাদেশী তার বিক্রিত তাবিজ হরহামেশাই কিনছেন। মাঝেমাঝে মনে হয় যে, দেশে যেহেতু এত এত মানুষ আছে যারা স্বেচ্ছায় যদু সাজতে চাচ্ছেন তো তাদেরকে ঠকানোই উচিৎ।
এই ফ্রীল্যাসিংয়ের এর শুরুতেই কি শিখবো? কোথায় শিখবো বা কার কাছে শিখবো?
এই ৩-প্রশ্নের উত্তর খুঁজে খুঁজে দফারফা হয়ে যায়। বেশিরভাগ সঠিক পথ খুঁজে পাওয়ার আগেই চিটার-বাটপারদের খপ্পরে পরে হয়ে যায় বলির পাঠা। অনেক সাধারণ পরিবারের ছেলে মেয়ে এই ফ্রীল্যান্সিং করে সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখে।
শুরুতেই হোঁচট খেয়ে অনেকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। বেশ কয়েক বার প্রতারিত হয়ে অনেকেরই এই ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে বিরূপ ধারণার জন্ম নেয় এবং পরবর্তীতে সঠিক সৌর্স খুঁজে পেলেও নতুন করে ইনভেস্ট বা শুরু করার মতো মনমানুষিকতা বা সামর্থ্য থাকেনা।
আমি নিজেই অসংখ্য বার ঠকেই শিখেছি। যাইহোক আমার গল্পটা ভিন্ন। সেটা অন্য কোনো একদিন বলবো।
যোগ্য মানুষের যোগ্যতাকে যদি সন্মান না করি তাহলে সমাজে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যোগ্যতা সম্পন্ন লোক তৈরী হবেনা আর এর ফলশ্রুতিতে চিতার-বাটপাররা তাদের পসরা সাজিয়ে বসবে এবং এর পরিনাম ভোগ করবো আমি বা আপনি এবং আমরা সবাই।
আমাদের সবার মধ্যেই SOS (শাইনি অবজেক্ট সিনড্রোম) রয়েছে।
কোনো একটা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে প্রমাণিত কোনো একটি ফর্মুলা হয়তো বিরাজ করছে কিন্তু হটাৎ মার্কেটে আগমন ঘটলো নতুন কোনো গুরুর এবং নতুন কোনো কোর্স বা ফর্মুলার।
আমরা পিপিলিকার মতো আগুনে ঝাঁপ দেয়ার মতো করে সেই গুরু বা কোর্সের পিছনে দৌড় ঝাঁপ শুরু করে দেই। ভুলেও ভাবিনা না ভুল করছি বা চকচক করলেই স্বর্ণ হয়না। হয়তো সকালে আছে কিন্তু বিকালেই মার্কেট থেকে উধাও হয়ে যাবে এই গুরু বা তার কোর্স অথবা তার কোর্সটি জাস্ট উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট।
চিটার-বাটপাররা আমাদেরকে ঠকাতে চাইবে। আমাদের কাজ হচ্ছে নিজস্ব বিচার বিবেচনার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যাতে খুব সহজেই আমরা থেকে না বা প্রতারিত না হই।
সস্তায় বস্তা ভরার মনমানুষিকতা ত্যাগ করে আমাদের উচিৎ যোগ্য ব্যক্তির যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতাকে সঠিক মূল্যায়ন করা।
বিঃদ্রঃ- পোস্ট সংগৃহিত, সংশোধিত এবং নিজের মতো করে পরিবর্ধিত।
ধন্যবাদ।