17/12/2023
রাত প্রায় তিনটা বা চারটা বাজে, প্রবাস আর প্রবাসের নিঃসঙ্গ একাকিত্বের এই ক্লান্তিকর ঘুমহীন জীবন, এই যে মানুষগুলো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তারা হয়তো জানে না আগামীকাল সকালটা হবে কিনা তাদের জন্য, এই যে আমিও জেগে আছি তবুও তো একাকীত্ব যন্ত্রণা বুকের গহিনে নিয়ে ঘুমহীন রাত্রি যাপন করি,
একটু পরে ভোর হবে সেই আবার আর্ধঘুমে কাজের পিছুনে ছুটবে হবে, সত্যি তখন মনে হয়ে নিজেকে খুব অভাগা, এটাই কি প্রবাস জিবন? যেখানে ঘুম নিয়ে অতৃপ্তি তে থাকতে হয়? নাকি ভাগ্যে ঘেরা এক ঘুমহীন জীবন? ক্লান্ত সরিল নাকি ঘুমের ওষুধ তাহলে মনের ক্লান্তির ওষুধ কি?
প্রবাসে মধ্যরাতে যখন ক্লান্ত দেহে ঘুম না আসে তখনই ভয়ংকর একাকীত্ব গ্রাস করে ফেলে, জীবনকে মনে হয় খুব তুচ্ছ তখন মরে যাওয়া টা মনে হয় স্বাভাবিক, হয়তো কোন এক মধ্যরাতে এই প্রবাসে মরে যাবো, মৃত্যু যদি হয় দুর এই প্রবাসে, তাহলে খুব ভালোবাসার মানুষগুলাই দেখতে আসবে না আমায়, কোন ভিড় থাকবে না আমার লাশের পাঁশে, থাকবে না কোন হইচই , থাকবে না কোন প্রিয়জনের কান্নার আওয়াজ, আমার লাশ কাধে নিয়ে হবে না কারো, কারো খুব কষ্ট হবে না কাধে লাশ নিতে, হয়তো জানাযায় থাকবে কিছু অপরিচিত মানুষ, আবার হয়তো বা কেউ থাকবে না। প্রবাসে থাকা প্রিয় বন্ধু টাও হয়তো কোম্পানির কাজের জন্য শেষ জানাযায় আসতে পারবে না, কয়েক মাস কয়েক বছর কোন এক হিম শীতল ফ্রিজে আমার লাশ পরে থাকবে, হয়ত প্রবাসে কবর হবে কিন্তু কেউ আমার কবর দেখতে আসবে না,
এভাবেই শেষ হবে আমার প্রবাস জীবন, একদিন মুছে যাবে এই পৃথিবিতে থাকা আমার যত পদচিহ্ন।
আমার কবর হয়তো প্রবাসের কোন এক কবর স্থানে হবে তখন রাত্রি ত্রি পহরে জোসনার আলোয় আমার কবরের ঘাসের উপরে ধবধবে সাদা মায়াবী জোসনার আলো পড়ে থাকবে। অন্ধকার ঘুটঘুটে গভীর অন্ধকারের কবরে শুয়ে থাকবো যুগ যুগান্তর ধরে, শত বছর পরও কেউ আসবে না কোন এক মায়বী জোসনা রাতে আমার কবরে দু'হাত তুলে দোয়া করার জন্য।