29/05/2025
গল্পের নাম: "হাসির আড়ালে"
---
রাত ৩টা। শহর ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু একটা জানালার আলো এখনো জ্বলছে।
সেই ঘরের ভিতর বসে আছে নীলয়।
চোখে ভারি চশমা, ক্লান্তিতে মুখে ছায়া। চারপাশে ফাইলের স্তূপ, কম্পিউটারের নীল আলোতে তার মুখটা আরও অনুজ্জ্বল লাগে। চুপচাপ সে তাকিয়ে থাকে পর্দার দিকে—যেন দৃষ্টি চলে গেছে অনেক দূরে, এমন এক জায়গায়, যেখানে কেউ তার অপেক্ষায় নেই।
দিনে সে অফিসের সবচেয়ে হাসিখুশি কর্মচারী—সবাই তাকে দেখে ভাবে, "এই ছেলেটা কি দারুণ পজিটিভ!"
কিন্তু কেউ জানে না, সেই হাসির নিচে কতটা গভীর বিষণ্নতা লুকিয়ে থাকে।
নীলয় একা।
বাবা-মা অনেক আগেই চলে গেছেন। একমাত্র ছোট ভাইটা এখন বিদেশে, আর বছরে একবারও খোঁজ নেয় না।
এই শহরের ছোট্ট ফ্ল্যাটটায় একা একা জীবন কাটে তার।
প্রতিদিন অফিস করে, পেট চালায়, চিকিৎসা বাবদ বাঁচিয়ে রাখে কিছু টাকা—সবই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য।
কিন্তু ভবিষ্যৎ আসে না।
শুধু বর্তমানটা বয়ে যায়... একা, নীরব, অভিমানে ভরা।
কিছুদিন আগেও তার পাশে ছিল রূপা—যাকে নীলয় প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসত।
কিন্তু রূপার কাছে “ভালোবাসা” মানে ছিল গাড়ি, দামি গিফট আর বিদেশ ভ্রমণ।
নীলয়ের ভালবাসা তাকে বাঁচাতে পারেনি।
রূপা চলে গেছে এক ধনী ব্যবসায়ীর সঙ্গে—যে কষ্ট বোঝে না, কিন্তু দামি রেস্তোরাঁর মেন্যু মুখস্থ।
নীলয় জানে, এই জীবন কোনো রূপকথা নয়।
তার কষ্টে বানানো সংসার, জমানো টাকা, ছোট ছোট স্বপ্ন—সব যেন অন্য কারও ভাগ্যে চলে যায় বারবার।
কিন্তু তারপরও সে সকালে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়ায়, নিজের মুখে একটুখানি হাসি এঁকে নেয়।
অফিসে যায়, সহকর্মীদের জোকস শোনায়, দুপুরে কফির কাপে জীবন নিয়ে ঠাট্টা করে।
সেই হাসির পেছনে, কেউ টের পায় না—সে মানুষটা রাতে ঘুমোতে পারে না।
হাসির আড়ালে নীলয়ের মুখ ঢাকা থাকে না, বরং আরও স্পষ্ট হয়—
একটা মুখ, যে জীবনকে ভালোবেসেছিল, কিন্তু জীবন তাকে ভালোবাসেনি।