বিজ্ঞানের জন্য ভালবাসা, কুলাউড়া

  • Home
  • Bangladesh
  • Kulaura
  • বিজ্ঞানের জন্য ভালবাসা, কুলাউড়া

বিজ্ঞানের জন্য ভালবাসা, কুলাউড়া আসুন বিজ্ঞান চর্চা করি...

আপনারা ইতিমধ্যে অবগত যে কুলাউড়া উপজেলা মৌলভীবাজার জেলার নেতৃস্থানীয় সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। ইতি মধ্যে এই উপজেলার অনেক কৃতি শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সুপরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের শীর্ষস্থান বজায় রেখে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ প্রযুক্তির সর্বক্ষেত্রে তাদের অবদান অসামান্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে নিজেদের মেধাকে বিকশিত করা শিক্ষার্থীর পরিমাণ মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় অত্যন্ত নগন্য।

এর পিছনে কাজ করে আমাদের স্কুল-কলেজের গতানুগতিক গন্থ্য সর্বস্ব শিক্ষা পদ্ধতির প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত অনীহা। যার ফলশ্রুতিতে একটা সময় শিক্ষার্থীদের কাছে পঠিত শিক্ষা নিজেদের মানষিক প্রশান্তির পরিপন্তি বলে মনে হয়। ফলে ক্রমাগত তারা নিজেদেরকে এ থেকে সরিয়ে নেয় এবং উচ্চ শিক্ষাসহ প্রযুক্তির অর্থপূর্ন ছোয়া থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত করে। এই বিষয়টি আর স্পষ্ট হবে আপনারা যদি বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দিকে তাকান। আমাদের উপজেলায় বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিতান্তই কম। এছাড়াও যারা স্কুল পর্যায়ে নিজেদেরকে বিজ্ঞানের প্রতি উৎসাহী বলে আবিস্কার করে তারাই পরে কলেজ পর্যায়ে অন্য বিভাগে চলে যায়। এর পিছনে অবশ্যই বিজ্ঞানের মুখস্ত পাঠদানকে আমরা দায়ী করবো। এ ছাড়াও আরো একটা বিষয় তুলে আনা উচিত, আমরা যারা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় নিজেদেরকে অধিষ্ঠিত করি তারা আবিস্কার করি যে আমরা একি অঞ্চলের শিক্ষার্থী হওয়ার পরেও নিজেদের মধ্যে কোন পরিচিতি নাই তাছাড়া তথ্যেরও কোন বিনিময় নাই।
উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী এমন একটা শিক্ষামুখী, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ছাত্র উন্নয়নমূলক সংগঠন গঠন করতে আগ্রহী হই যেটা আমাদের এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের একই সাথে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী এবং আন্তঃস্কুল-আন্তঃকলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ালেখা সংক্রান্ত মুক্ত আলোচনার সুযোগ করে দিবে।


বিজ্ঞান বলতে শুধু মাত্র ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রি, ম্যাথ এইগুলা না... জ্ঞানের যে শাখাগুলো মানুষের উপকারে আসে সে গুলোই বিজ্ঞান... তা হতে পারে মনোবিজ্ঞান কিংবা সমাজ বিজ্ঞান... সুতরাং আপনি মানবিকে পড়েন নাকি ব্যাবসায়ে পড়েন তা কোন ফ্যাক্টর না আমাদের সাথে থাকুন জ্ঞানকে সবার সাথে শেয়ার করুন বিজ্ঞান মনষ্ক হোন.........

13/06/2016

বিজ্ঞান শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার জন্য স্কুল সমূহে বিজ্ঞান পাঠদান পদ্ধতি এবং ল্যাবের জীর্ণ দশা অন্যতম কারণ। বিভাগীয় শহরের কিছু নামকরা সরকারি স্কুল এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা কিছু ব্যয়বহুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য স্কুলসমূহে বিজ্ঞান শিক্ষার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। শিক্ষকরা যেখানে বিজ্ঞানের ব্যাপারে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ তৈরি করতে উৎসাহ প্রদান করবেন, সেখানে অনেক স্কুলে তাঁরাই ছাত্রছাত্রীদের মনে বিজ্ঞানের ব্যাপারে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। আমার এক বন্ধুর বোন গত বছর নবম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর কোন বিভাগ নিবে সে ব্যাপারে পরামর্শ নেয়ার জন্য তার স্কুলের এক শিক্ষকের কাছে যায়। শিক্ষক তাকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে মানা করে, কারণ হিসেবে বলে বিজ্ঞান অনেক কঠিন তাই সে ভালো করবে না। যদিও, আমি জানি সে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত। আমার বন্ধু পরে আমার কাছে এই কথা বলার পর আমি বললাম তার বোনকে কিছুদিন বিজ্ঞানের ক্লাস করতে হয়ত ভাল লাগলে সে নিজেই বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার আগ্রহ পাবে। কিন্তু বিধিবাম, দুয়েকটি ক্লাস করার পরই তার কান্নাকাটি করার মত অবস্থা এবং সে মনে করল তার দ্বারা আর কোন কিছু করা সম্ভব হলেও বিজ্ঞান পড়া সম্ভব না। অতঃপর সে এখন বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী।

বর্তমানে অধিকাংশ স্কুলে, বিজ্ঞানের শিক্ষকরা বিজ্ঞান শুধু গতানুগতিকভাবে পড়াচ্ছেন কিন্তু বিজ্ঞানের ধারণাসমূহ ছাত্রছাত্রীদের কাছে সহজ, প্রাণবন্ত ও মজার করে তুলতে পারছেন না। একদিন পড়া দাগিয়ে দেয়া এবং পরের দিন পড়া আদায় করার মধ্যেই অনেকের শিক্ষকতা জীবন সীমাবদ্ধ। আবার অনেকেই আছেন ক্লাসে রিডিং পড়ান এবং পড়েন। এরমধ্যে যেসকল শিক্ষক ভালো বিজ্ঞান জানেন, তাদের কিছু অংশ ক্লাসে ভালো পড়ান না বরং আরও জানতে হলে তার কাছে প্রাইভেট পড়তে আসতে বলেন। আর্থিকভাবে সচ্ছলরাই তখন শুধু এই সুযোগ নিতে পারেন। যেসকল বিজ্ঞানের শিক্ষকদের কাছে তেমন কেউ প্রাইভেট পড়ে না, তাদের অস্ত্র হল পরীক্ষার নাম্বার। ব্যাবহারিক পরীক্ষায় নাম্বার কমিয়ে দেয়ার এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তাঁর পড়ানো বিষয়ে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন।

বিজ্ঞান হল হাতে কলমে শিক্ষা এবং যার জন্য একটি ভাল ল্যাব আবশ্যক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বিএফএফ এর গবেষণা এলাকায় দেখা যায়, প্রায় ৭৯% স্কুলে ল্যাব নেই। যেসব স্কুলে ল্যাব আছে, তাদের অধিকাংশেই ভালো পরিবেশ ও যন্ত্রপাতি নেই। ভাল ল্যাব সমৃদ্ধ স্কুলের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকটি। আমার মনে পড়ে আমি যখন প্রথম স্কুলের ল্যাবে সরল দোলকের ব্যাবহারিক করতে যাই, আমি বুঝতে পারিনি এটি যে একটি ল্যাব। চারিদিকে মাকড়শার জাল, ধুলোবালি, বদ্ধ এবং গুমট একটি পরিবেশের কারনে আমি মনে করেছিলাম এটি স্টোর রুম।

মাধ্যমিক পর্যায় অনেক কষ্টে অতিক্রম করলেও উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভাগ পরিবর্তন করে। উচ্চ মাধ্যমিকের দীর্ঘ সিলেবাস কিন্তু তাঁর তুলনায় সময় কম থাকায় প্রায় সব কলেজেই ক্লাসে সিলেবাস শেষ করা হয় না। ছাত্রছাত্রীদের তাই বাধ্য হয়ে প্রাইভেটে বা কোচিংয়ে পড়তে হয়। কোন একটি বিষয়ে যদি মাসে ২০০০ টাকা করে খরচ হয় এবং একজন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীকে যদি ন্যূনতম ৩ টি বিষয় পড়তে হয়, তাঁর মাসে শুধু প্রাইভেট বা কোচিং বাবদ খরচ হয় ৬০০০ টাকা। যা, একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিশাল অঙ্ক। এছাড়া, প্রাকটিকাল ও অন্যান্য খরচ তো আছেই।

উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ হতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিজ্ঞানের মূলধারা বা ফলিতধারার কোন বিষয় ব্যতীত অন্য কোন বিষয় বিশেষ করে বি. বি. এ. বিভিন্ন বিষয়ে পড়তে আগ্রহ বোধ করে। এখনকার শিক্ষার্থীরা গবেষণা বা বিজ্ঞানভিত্তিক সৃজনশীল কাজ করার চেয়ে কোর্ট টাই পরে এ. সি. রুমের অফিসে রুটিন কাজ করতে বেশী পছন্দ করে বলে মনে হয়। যারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তারা দেখে সাধ আর সাধ্যর বিশাল ফারাক। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাখাতে অপ্রতুল বরাদ্দ, ল্যাবরেটরির গ্লাসঅয়ার ও কেমিক্যাল কেনার টাকার স্বল্পতা এবং শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না নেয়া অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণাবিমুখ করে তোলে। বিজ্ঞান শিক্ষা উপকরণের মূল্যও প্রতিবন্ধকতার আরেকটি কারণ। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্য বিভাগ হতে শিক্ষা উপকরণের জন্য প্রায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যায় করতে হয়। আর, ছাত্ররাজনীতির অস্থির অবস্থা ও সেশনজট তো আছেই। কয়েকমাস আগে একটি দৈনিক পত্রিকার রিপোর্টে দেখেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে নাকি ২০% এরও কম শিক্ষক আছেন যারা সমানতালে শিক্ষকতা ও গবেষণাকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এটি আসলেই উচ্চশিক্ষায় গবেষণাভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চার জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি। বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পরেও অনেক শিক্ষার্থী আমাদের দেশে বিজ্ঞানভিত্তিক চাকুরীর সুযোগ কম থাকায় চলে যায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক পদসমূহে।

হ্যান্ডবুক অব রিসার্চ ইন সায়েন্স এডুকেশন, রিসার্চ ইন এশিয়া, ভলিউম ৪- এ বাংলাদেশে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কমে যাওয়াকে আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে জানানো হয়, মাধ্যমিক পর্যায়ে শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ২৬ শতাংশ। আর গ্রামে এ হার ১৫ শতাংশ। উচ্চমাধ্যমিকে শহরে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ২০ শতাংশের মতো। গ্রামে এ হার ১০ শতাংশেরও কম। এভাবে, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরবর্তী প্রতিটি পর্যায়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কমায় শেষ পর্যন্ত ঠিক কত শতাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞানের কর্মকাণ্ড সমূহে অবদান রাখছে তাই এখন গবেষণার বিষয় হতে পারে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে, আমরা আবেদ চৌধুরী, মাকসুদুল হক, জামাল নজরুল ইসলাম এবং দেশ ও বিদেশে কর্মরত আমাদের দেশের কৃতি বিজ্ঞানীদের ছাড়িয়ে যাওয়া তো দূরে থাক, তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারব কিনা শঙ্কা হয়।

তাই এখনই সচেতন হবার সময়। বিজ্ঞান শিক্ষাকে কিভাবে জনপ্রিয় করা তোলা যায় তা নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত আলোচনা করা উচিত কারণ বিশ্ব দরবারে শীর্ষ অবস্থানে পৌছাতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নতি সাধন হল প্রথম এবং প্রধান শর্ত। দরকার হলে, এই ব্যাপারে সকল পর্যায়ের শিক্ষক প্রতিনিধি, শিক্ষা বিষয়ক গবেষক ও সুশীল সমাজের সাথেও আলোচনা হতে পারে। শুধু আলোচনা করলেই চলবে না, তা দ্রুত বাস্তবায়নও করতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে যেখানে একজন শিক্ষার্থীর বিজ্ঞানে হাতেখড়ি হয়, সেখানেই অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। দক্ষ বিজ্ঞান শিক্ষক এবং মানসম্মত ল্যাব বিজ্ঞান শিক্ষাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারের উচিত শিক্ষকতা পেশায় সুযোগ -সুবিধা বৃদ্ধি করা যাতে মেধাবীরা এই পেশায় আকৃষ্ট হয়। যারা শিক্ষার্থীদের মনে বিজ্ঞানের ভয় তৈরি করার বদলে বিজ্ঞান বিষয়ে উৎসাহ তৈরি করতে পারবে। মানসম্মত ল্যাব তৈরি করতে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করতে উদ্বুদ্ধ করা যায়। প্রত্যেক জেলা শহরে নিয়মিত বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান-বিষয়ক সম্মেলন আয়োজন এবং পুরস্কার প্রদান, দেশের সেরা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের স্কুল পরিদর্শনে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধকরণ করা গেলে এই সমস্যা অনেকটুকু কমে আসবে বলে আমার মনে হয়। এছাড়া, বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমসমূহও এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে আমাদের দেশি চ্যানেলসমূহে বিজ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠান অনেক কম। এই অনুষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় বিজ্ঞান সংক্রান্ত একটি চ্যানেল থাকলে, যাতে অন্তত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর বিজ্ঞানের পাঠদান সংক্রান্ত অনুষ্ঠান থাকবে। আমার মনে হয় সরকার এই ধরনের চ্যানেল খুললে বাড়তি সুযোগ সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিলে অনেকেই এগিয়ে আসবে।

কোন একটি দেশের আশা ভরসা হল তার তরুণ প্রজন্ম। আমাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্জনে তরুণ প্রজন্মের অবদান আজও স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। তাদের আন্দোলন ও আত্মত্যাগে আমরা মাতৃভাষা পেয়েছি, স্বাধীনতা যুদ্ধেও তরুণরা অসীম সাহসিকতা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে, এরপর স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের মাটিতে গণতন্ত্রের সূর্যোদয়ের জন্যও শহীদ নূর হোসেনের কাছে আমরা চিরঋণী। ঠিক তেমনি আজ বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা ও সুযোগ সুবিধার অভাব থাকলেও আমাদের অর্জনও কিন্তু কম নয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা নাসার রবোটিকস প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে, এ বছর আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে ১ টি রৌপ্য ও ২ টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে, ইউটিউব এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যেও ছিলেন একজন বাংলাদেশি তরুণ। এছাড়াও দেশে ও দেশের বাহিরে অনেক গবেষণাগারে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুনাম ও দাপটের সাথে কাজ করছে।

আমাদের তরুণ প্রজন্ম যে প্রতিভায় ভরপুর তাতে কোন সন্দেহ নেই। এত সীমাবদ্ধতার মাঝেও তারা আজ বিশ্ব জয় করছে। আমাদের কিছু ভালো ও যুগোপযুগি পদক্ষেপ তরুণদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে এই অর্জনকে আরও বহুগুণে বৃদ্ধি করতে পারে এবং বাংলাদেশ হতে পারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষিণ এশিয়া বা এশিয়ার সেরা একটি দেশ। আমরা তো আশাবাদী হতেই পারি। নাকি ?

02/04/2016

'বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা, কুলাউড়া ' এর সভাপতি রঞ্জিত বিশ্বাস এর জন্মদিনে আমাদের পক্ষ থেকে রইল অসংখ্য অগনিত শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

তোমার জীবনটা যেন অনেক সাফল্যমন্ডিত হয় এই কামনা রইল।
#উজ্জল

06/02/2016

সংখা তত্ত্ব নিয়ে দুটি ধাঁধাঁ:
“পৃথিবীতে কেবল 10 ধরণের লোক আছে, যারা binaryবোঝে, এবং যারা বোঝে না!”
উত্তরে শুধু মাত্র দুটি অপশন আছে। তাহলে বাকী আট ক্যাটাগরির কোথায় যাবে??
আসলে binary numeral system এ 10 হচ্ছে decimal number system এ দুই। তাই যে উক্তিটি করেছে সে একটু চালাকি করেই উক্তিটি করেছে। আপনি এখন কোন ধরনের লোক বুঝে নিন। :P.........................
আরেকটি সমস্যাঃ
গণিতবিদেরা কেন সবসময় Halloween day এবং Christmas day এ দুই তারিখের মধ্যে গন্ডগোল করে ফেলেন?
উত্তরটা অনেক মজারঃ
এখানে মজাটা হল Halloween day এর তারিখ হল ৩১ অক্টোবর এবং Christmas day এর তারিখ ২৫ ডিসেম্বর। “oct” হচ্ছে অক্টোবর ও অক্টালের (Octal Number System ) এর প্রতীক এবং “dec” হল ডিসেম্বর ও সেই সাথে ডেসিমাল (Decimal Number System) এর প্রতীক।
গণিতবিদদের কাছে 31 Oct = 25 Dec একই। কারন Octal Number System এ 31 হচ্ছে Decimal Number System এ 25 এর সমান।

04/02/2016

একবার রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী ক্যাথেরিন দ্য গ্রেট বিখ্যাত ফরাসী দার্শনিক ডেনিস ডিডেরটকে তার রাজ্যে আমন্ত্রন জানালেন। দার্শনিক ডিডেরটতো মহাখুশি। রানীর আমন্ত্রন বলে কথা। তিনি প্রায় তল্পি-তল্পা নিয়ে রানীর রাজ্যে হাজির!
সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিলো । কিন্তু হঠাত বিপত্তি ঘটালেন ক্ষোদ দার্শনিক সাহেব নিজেই। তিনি ছিলেন #নাস্তিক। সাথে আবার দার্শনিকও। তাই আর বসে থাকতে পারলেন না। নিজের দর্শন ফলাতে লাগনেল পুরো রাজ্যে জুড়ে।
এদিকে রানীরতো মাথায় হাত। চোখের ঘুম হারাম। জাতি বুঝি ধর্ম-কর্ম ভুলে উচ্ছনে যায়। সবাই যে নাস্তিক হতে বসলো। এদিকে নাস্তিক দার্শনিক সাহেবকেও কিছু বলা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে নিজে ডেকে খাল কেটে কুমির আনলেন। ডেনিস ডিডেরটকে কিভাবে বিদায় করা যায় সেটা ভেবেই রানী কপুকাত।
শেষ পর্যন্ত উপায় একটা হলো। নাস্তিক দার্শনিক সাহেব ছিলে গনিতে খুব কাচা। গনিতের "গ" লিখতে কলম ভাংগেন টাইপ গাধা। সে সময় বিখ্যাত গনিতবিদ অয়লার ছিলেন সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। রানী শেষ পর্যন্ত তার দ্বারস্ত হলেন।
সব শুনে গনিতবিদ অয়লার নাস্তিক দার্শনিক সাহেবকে ডেকে বললেন যে তিনি ইশ্বরের অস্তিত্ব খুজে পেয়েছেন। দার্শনিক ডিডেরট ভিষন আগ্রহী হয়ে বললেন "কিভাবে? প্রমান দাও"
অয়লার মৃদু হেসে বললেন “(a + b^n)/n = x…সুতরাং ঈশ্বর আছেন" অয়লারে কথা শুনে ভিমড়ী খাওয়া অবস্থা দার্শনিক ডেনিস সাহেবের। এই ঘটনার পরদিনই রাশিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি! যার যে জায়গায় দূর্বলতা!

23/12/2015
23/12/2015

শুভ জন্মদিন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার!

বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা, কুলাউড়া এর এবারের ঈদ পরবর্তী মিটিং #উজ্জল
28/09/2015

বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা, কুলাউড়া এর এবারের ঈদ পরবর্তী মিটিং
#উজ্জল

17/09/2015

বিজ্ঞান মেলা
অনিক চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে একটা বেসরকারি
বিদ্যালয়ে। এখানে শুধু নিয়ম আর নিয়ম। এটা করা
যাবে না, এইটা করতে হবে এরকম হাজারো
সীমাবদ্ধতা। বিদ্যালয়ের ছোট্ট একটি মাঠ আছে
বটে। তবে সেখানে অনিকরা ইচ্ছে করলেও খেলতে
পারে না। মাঠে উঁচু শ্রেণীর ছেলেরা ক্রিকেট
খেলে। সেখানে ছোট শ্রেণীর ছেলেদের নেওআ হয়
না।
বিজ্ঞান ক্লাস চলছে। সবাই নিরব। এতটুকু শব্দ করার
সুযোগ নেই। কেননা জসিম স্যার খুব কড়া। কেউ কথা
বললে ভীষণ শাস্তি দেন। কোনো বিষয় না বুঝলে
প্রশ্ন পর্যন্ত করার পর্যন্ত সাহস পায় না কেউ।
স্যার মাঝে মাঝে ভয়াবহ কান্ড করে বসেন। গত
বছরে যেমনটি করেছিলেন। আফসার পিছনের সিটে
বসেছিল। পাশের জনের সাথে কথা বলছে। স্যার তা
লক্ষ্য করে হাতরে ডাস্টারটি তার দিকে ছুঁড়ে
মারেন। কপালের একপাশে লেগে তা নিচে পড়ে যায়।
মাথার একপাশ ফেটে রক্ত বের হয়। আফসার নিজের
কপাল চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা
চালায়।......... ..............
রক্ত দেখেও স্যারের কাঠিন্য কমে না। হুঙ্কার
ছাড়েন, কিরে আফসার ডাস্টার এখনো এনে দিলি না
যে, এক্ষুনি আন।
আফসার এক হাতে কপাল চেপে ধরে অন্য হাতে
ডাস্টারটি এনে স্যারের টেবিলে রাখে।
পরে স্যার পাশের ফার্মেসী থেকে ব্যান্ডেজ করিয়ে
আনেন।
এরপর থেকে জসিম স্যারের ক্লসে কেউ টু শব্দ পর্যন্ত
করে না। জসিম স্যার অক্সিজেন বিষয়ে
পড়াচ্ছিলেন। এ সময় ফরিদ স্যার আসেন। ফরিদ
স্যারকে আসতে দেখে সবাই দাঁড়িয়ে যায়। ফরিদ
স্যার বলেন- বসো, বসো, সবাই বসো।
তারপর জসিম স্যারকে বলেন, আপনাকে একটু
ডিস্টার্ব করতে এলাম।
জসিম স্যার হাসতে হাসতে বলেন- না, না, ঠিক আছে।
অসুবিধা নেই।
ছাত্রদের মনে আফসোস বয়ে যায়। স্যার পড়ানোর
সময় একটুও হাসেন না। মুখ সব সময় কড়া করে রাখেন।
অথচ এখন অন্য স্যারের সাথে কথ বলছেন কি সুন্দর
হেসে হেসে। ইশ! স্যার যদি সব সময় হাসিমাখা
মুখে থাকতেন।
ফরিদ স্যার বলেন- সামনের মাসে প্রথম সপ্তাহে
বিজ্ঞান মেলা হবে।
বিজ্ঞান মেলার কথা শুনে অনিক খুশী হয়ে যায়। গত
বছর বিজ্ঞান মেলায় বিভিন্ন প্রজেক্ট দেখে ওরও
ইচ্ছে জাগে বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিবে। এজন্য তখন
থেকেই বিভিন্ন জিনিষ তৈরি করতে থাকে।
ওর মা যেখানে রান্না করে তার পাশে খালি জায়গা
আছে। সেখানে চালের বস্তা, আলু, পিয়াজ সহ বিভিন্ন
জিনিষ রাখা ছিল। মার সাহায্যে অনিক ওইসব
জিনিষ সরিয়ে নিজে সেখানে বসে বসে নানান
জিনিষি বানায়। ওর মা রান্না করে আর ও বিভিন্ন
জিনিষ বানায়। কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করেছে
কয়েল। যদিও একটু সমস্যা হয়ে গিয়েছিল।
কচুরিপানাগুলো ভেঙে যাচ্ছিলো। ঠিকমত আকৃতি
দেওয়া যাচ্ছিল না। তখন কচুরিপানা মিশ্রণের
সাথে ময়দা যোগ করে দেয়। এতে সমস্যা মিটে যায়।
গরম পানির ফ্লাস্ক তৈরি করে ও। বাঁশের ভেতর বড়
বোতল ঢুকিয়ে তার চারফাশ ভুসি দিয়ে ফাঁকা জায়গা
পূর্ণ করে দেয়। বানাপনোর পর দেখে গরম পানি বেশ
কিছুক্ষণ গরম থাকে। ও একটা ফ্যান পর্যন্ত বানিয়ে
ফেলছে। কারেন্ট চলে গেলে সেটা ছেড়ে দেয়।
ভালোই বাতাস পায়।
ফরিদ স্যার একটা কাগজ বের করলেন। “ তোমরা কে
কে বিজ্ঞান মেলায় অংশ গ্রহণ করতে চাও বলো। আমি
নাম লিখে নিচ্ছি।” অনিক দেখে ওদের ক্লাসের
ফাস্ট বয় মনজুর নাম দিল। ওর দেখাদেখি আরো
কয়েকজন নাম দেয়। ওরা নাম বলছে আর স্যার নাম
লিখে নিচ্ছেন।
এ সময় অনিক দাঁড়ায়। “ স্যার আমিও নাম দিতে
চাই”।
স্যার অনিকের দিকে তাকালেন। স্যারের ভ্রু একটু
সংকুচিত হলো। বিরক্ত হলে যেমনটা হয়।
গম্ভীর স্বরে স্যার বললেন- তোমার নাম তো নেয়া
যাবে না। তোমার কথা অস্পষ্ট। তুমি বসে পড়ো।
অনিক বসলো। অনেক আশা করে দাঁড়িয়েছিল। এর
মধ্যেও কল্পনা করে ফেলেছে বিজ্ঞান মেলায় অংশ
নিয়ে ফেলছে। ওর প্রজেক্ট সবাই দেখছে। ওর বাবা
যিনি কিনা পড়ালেখায় ফাঁকি দিচ্ছে ভেবে এসব
কাজ দেখে মাঝে মাঝে বকা দিতেন তিনি বিজ্ঞান
মেলায় উপস্থিত হয়ে অপরিচিতের মতো ওর
প্রজেক্টগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন। ওর কয়েল
সম্পর্কে প্রশ্ন করছেন- আচ্ছঅ তোমা আবিষ্কৃত এই
কয়েলে মশা যাবে তো?
: হ্যাঁ, অবশ্যই যাবে।
: তাহলে তো অনেক টাকা বেঁচে যাবে। আমারেদ
বাসায় আর মশার কয়েল কিনতে হবে না। আর তোমার
বানানো এই ফ্লাক্সে কতক্ষণ পানি গরম থাকবে?
: তিন-চার ঘন্টা।
: ভালো, ভালো খুব ভালো।
নিজের অফিসের কলিগদের ছেলের আবিষ্কৃত
জিনিষগুলো গর্বের সাথে দেখাচ্ছেন। কত স্বপ্নই না
দেখেছিল। অনিক বহু কষ্টে চোখের পানি সামলানোর
চেষ্টা করছে। কিন্তু পারা যাচ্ছে না ।ভাগ্য ভালো
আজ দেরিতে আসায় একটু কোণার দিকে বসতে হয়েছে।
না হলে সবাই দেখে ফেলত।
অনিকের মাথায় ঢুকে না কথার সাথে আবিষ্কারের
কি সম্পর্ক। স্যারকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়েছিল।
কিন্তু পাশে জসিম স্যার থাকায় ভয়ে জিজ্ঞেস করতে
পারে নি। অনিকের কথা অষ্পষ্ট। হালকা তোতলা
ধরণের। এটাতো ওর দোষ না। ও তো ইচ্ছে করে এমন
হয় নি। আল্লাইতো এভাবে বানিয়েছে। আর ওর
কথাগুলো তো সবাই বুঝতে পারে। এখানে সমস্যাটি
কি?
পরের দিন যারা নাম দিয়েছে তারা সবাই
আলোচনায় ব্যস্ত কে কি প্রজেক্ট বানাবে। অনিক আজ
স্কুলে দেরিতে আসেনি। তারপরও সামনের সিট খালি
পাওয়া সত্ত্বেও সেখানে বসে না।
শেষের একটা সিটে গিয়ে বসে। যখন অন্যরা
প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত তখন ওর বুকফাটা
কান্না আসে। নাম সম্ভবত চলে গেছে। বিজ্ঞান
মেলায় অংশ নিতে পারবে না এটা ভেবে ওর অনেক
কষ্ট হয়। বার বার মনে হয় একটু যদি সুযোগ পাওয়া
যেত। যারা অংশ নিচ্চে তারা কত মজা করবে। কতজন
ওদের প্রজেক্ট দেখতে আসবে। আর ওর কিনা বাসায়
বসে থাকতে হবে ওই দিনগুলোতে। ওদের ক্লাসের
ফাস্ট বয় মনজুর ওর পাশে এসে বসে।
: কিরে তুই চুপচাপ কেন? মন খারাপ?
অনিক কথা বলতে পারে না। মুখ বুজে আসে।
মনজুর বলে, তুই মন খারাপ করিস না। তোর নাম নেই
তো কি হয়েছে? তুই আমার সাথে থাকবি। মানুষকে
প্রজেক্ট দেখাবি। দর্শনার্থীরা প্রশ্ন করলে উত্তর
দিবি। সবাই ভাববে তুই ঠিকই বিজ্ঞান মেলায় অংশ
নিয়েছিস।
ওদের কথাগুলো পাশের বেঞ্চে বসা শারমিন শুনছিল।
ওরও খারাপ লাগছিল। অনিক চুপচাপ ধরণের। তাই
অন্য ছেলেদের সাথে কথা বললেও অনিকের সাথে
কখনো কথা হয়নি। তবে শারমিনের মনে হয় আজই
একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। দুইটা ক্লাস শেষ। এখন
ইংরেজী ক্লাস শুরু হবে। একরাম স্যার আসেন। সবাই
দাঁড়িয়ে যায়। একরাম স্যার বাংলা নেন, কখনো
ইংরেজী নেন না। তাই একরাম স্যার আসায় সবাই
একটু অবাক হয়। স্যার চেয়ারে বসেন। বলেন, অনিক
তোমার নাম আর রোল নম্বর বলো। বিজ্ঞান মেলায়
তোমারও অংশ নিতে হবে।
অনিক দাঁড়িয়ে আমতা আমতা করে ও নাম বলে। বুঝতে
পারে না কিভাবে এটা সম্ভব হলো।
খুশি হয়। তবে তার চেয়ে বেশি খুশি হয় শারমিন।
একরাম স্যার ওকে বাসায় প্রাইভেট পড়ান। গতকাল
রাতে স্যারকে ও অনিকের ব্যাপারটা বলে। স্যার
দেখবেন বলছিলেন।
বিজ্ঞান মেলায় অনিকদের স্কুলের জন্য পুরা একটা
রুম বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওর সিট হয় একেবারে কোণায়
যেহেতু সবার শেষে ওর নাম এসেছে। অনিকের
প্রজেক্টের নাম “ ফেলনা জিনিষ থেকে উৎপাদন।
জসিম স্যার অনিককে দেখে অবাক হন।
: কি তোমার নাম না দেয়া হয়েছিল না! তুমি আসলা
কেমনে?
অনিক চুপ করে শোনে। কোণার দিকে সিট পড়ায় ওর
কাছে দর্শনার্থী কম আসে। তবে প্রতিদিন ওর
ওখানে শারমিন এসে দেখে যায়। যদিও কথা হয় না।
কি কথা হবে! মেয়েদের দিকে অনিক তাকাতেই
লজ্জা পায়।
শেষের দিন পুরষ্কার বিতরণী। মঞ্চে বক্তৃতা রাখা
হচ্ছে। কেউ বক্তৃতা মনযোগ দিয়ে শুনছে বলে মনে হয়
না। কে পুরষ্কার জিতে এটা জানতেই সবাই আগ্রহী।
ফরিদ স্যারের ভ্রু সংকুচিত হয়। তবে এবার
বিরক্তির জন্য না। অবাকের কারণে। অনিকের
স্কুলের অন্য কেউ পুরষ্কার না জিতলেও অনিক তৃতীয়
স্থান লাভ করে স্কুলের মর্যাদা রক্ষা করে। ওর
নামের সাথে স্কুলের নাম ঘোষণার সাথে সাথে
কোণা থেকে ফরিদ স্যার একরকম কোলে করে তাকে
নিয়ে আসেন। তারপর মঞ্চের উপর উঠিয়ে দেন।
ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলে। পুরষ্কারের ভারী বক্সটা
ধরে রাখতে কষ্ট হয়।
পরের দিন অ্যাসেম্বলীর সময় অধ্যক্ষ স্যার অনিককে
সামনে নিয়ে আসেন। সবার সাতে পরিচয় করিয়ে
দেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন। সবাইকে
অনিকের পুরষ্কারটা দেখান।
অনিকের ক্লাসের মেয়েদের লাইনের একেবারে
সামনে দাঁড়িয়েছিল বেণী ঝুলানো ফুটফুটে মেয়ে
শারমিন। ওর ভীষণ খুশী লাগছে। সাথে সাথে
অনিকের উপর বিরক্তও লাগছে। ছেলেটা একবারও
তাকাচ্ছে না কেন? ও কি কখনোই জানবে না ওকে
নেওয়ার জন্য একরাম স্যারকে ওই বলেছিল।

31/07/2015

#বিজ্ঞান_কনফারেন্স
বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা, কুলাউড়ার উদ্যোগে এবং সার্বিক সহযোগীতায় এবং বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা, সাস্টের আয়োজনে কুলাউড়ায় প্রথম বারের মত আয়োজন করতে যচ্ছি #বিজ্ঞান_কনফারে
ন্স।
আগামীকাল কুলাউড়া শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হবে এই #সায়েন্স_কনফারেন্স। কুলাউড়ায় বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে বিগত কয়েকদিন ধরে কাজ করে আসছে বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা, কুলাউড়া। এর ধারাবাহিক কার্যক্রম এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদ্যোগনিশ্চয় এই #সায়েন্স_কনফারে ন্স। আশা করি সকলের সহযোগীতায় আমরা আমাদের সায়েন্স কনফারেন্স কে ফলপ্রসূ করতে পারব।আর এও আশা করি এধরনের বিজ্ঞান শিক্ষার আসর থেকে আমাদের খুদে বিজ্ঞানীরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে। আর এতেই আমাদের সার্থকতা। আর আমাদের এই শিক্ষামূলক উদ্যোগ কে স্বাগত জানিয়ে আমাদের সহযোগীতা করার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই #কুলাউড়া_উপজেলা_প্রশাসন ও #নবীন_চন্দ্র_উচ্চ_বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী সহ সবাই কে।

দেখা হবে ১ লা আগস্ট, নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে, সাথে থাকবে বিজ্ঞানের ভীতি দূর করার সম্ভব সবকিছু।

21/07/2015

সায়েন্স কনফারেন্স
আয়োজনেঃ বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা, শাবিপ্রবি
সহযোগীতায়ঃ বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা, কুলাউড়া ও কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন

ভ্যানু(সম্ভাব্য): নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়(প্রথম), দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়(দ্বিতীয়)

অংশগ্রহনেঃ
নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
রাবেয়া স্কুল
জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়
দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়
মাহতাব সাহেরা উচ্চ বিদ্যালয়

সম্ভাব্য ছাত্র/ছাত্রীর অংশ গ্রহন (সংখ্যায়): 3০০০ (পাচ হাজার)

অনুষ্টানের সম্ভাব্য তারিখঃ ০২/০৮/২০১৫ ইং

কনফারেন্সে যা যা থাকবেঃ
আমরা দুই ভ্যানুতে দুই শিফটে কাজ করবো। প্রথম ভ্যানুতে সকাল দশটা থেকে আর দ্বিতীয় ভ্যানুতে দুপুর দুইটা থেকে। অনুষ্টানে যা যা থাকবে।

১) ICT অর্থাৎ তথ্য ও প্রযুক্তি অলিম্পিয়াড, প্রোগ্রামিং সমন্ধে ধারনা। বিভিন্ন মজার প্রোগ্রামিং। কিভাবে অলম্পিয়াডে অংশগ্রহন করা যায়। এবং শেষে প্রোগ্রামিং এর উপর একটা প্রতিযোগিতা সহ পুরুষ্কার বিতরন।

২) “আমাদের জার্নাল” সমন্ধে সবাইকে জানানো।

৪)গনিত, পদার্থ, ক্যামিস্ট্রি অলিম্পিয়াডে অংশ গ্রহন করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। এবং একটা প্রতিযোগীতা।

৫) বিভিন্ন মজার মজার এক্সপেরিমেন্ট দেখানো সহ এই গুলো ব্যাখা করা।

৬) রোবোটিক্স এর উপরে একটা সংক্ষিপ্ত ধারনা এবং তৈরী করা।

৭) পরবর্তীতে বিভিন্ন অলম্পিয়াডে অংশগ্রহনের ধারনা। এবং “বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা, কুলাউড়ার” সদস্য হওয়া।

এতে সবাইকে থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে ...

17/07/2015

'বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা,কুলাউড়া'র পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ও ভালোবাসায় কাটুক আপনার ঈদ।
ঈদ মোবারক।

15/07/2015

বর্গের জন্য ভালোবাসা.

তোমাকে যদি দুম করে জিজ্ঞেস করি, আচ্ছা ১১৩ এর বর্গ জানি কত? তোমাদের অধিকাংশই মুখে মুখে বলতে পারবে না , আমি জানি। এই লেখাটা ভালো করে পড়লে হয়তো মুখে মুখেই এটা বলে দিতে পারবে। আগে কিছু কথা বলে নিই-



সংখ্যা নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপারগুলোর একটা। আমার ক্লাস নাইন টেনের একটা বড় সময় চলে গেছে সংখ্যা নিয়ে ভাবতে ভাবতে। আর সেই সময়টা যে কী অসম্ভব সুন্দর কেটেছে, সেটা ভাষা দিয়ে বোঝাতে পারব না।



আমার খুব প্রিয় একটা কাজ ছিল মনে মনে সংখ্যার বর্গ করা। খুব দ্রুত পারতাম না (আমি সাধারণ মানুষ, কোন প্রডিজি না), তবে দুই ঘর হলে পারতাম।



তোমাদেরকে চল শিখিয়ে দিই, মনে মনে কিভাবে বর্গ করতে হয়।



আগে ভালো করে এই প্যাটার্নগুলো দেখ। গণিত শিখতে হলে আগে দেখতে শিখতে হবে, গভীরভাবে দেখতে হবে। হৃদয়ের সবগুলো জানালা খুলে দাও, আলো আসুক, বাতাস আসুক- যদি কোন দুঃসংবাদ আসতে চায়, তাকেও আসতে দাও... সবকিছু আসুক... ভুলটাকে পরে ফেলে দেয়া যাবে... ঠিক আছে, তাহলে প্যাটার্নগুলো দেখ...



১১ এর বর্গ = ১২১



১০১ এর বর্গ = ১০২০১



১০০১ এর বর্গ =১০০২০০১



১০০০১ এর বর্গ =১০০০২০০০১



এখন আমি যদি জিজ্ঞেস করি, বলো তো,



১ (এরপর ১ কোটিটা শূন্য) ১



এটার উত্তর হবে-



১ (এরপর ১ কোটিটা শূন্য) ২ (এরপর ১ কোটিটা শূন্য) ১



আবার লক্ষ কর,



১০১ এর বর্গ = ১ ০২ ০১



১০২ এর বর্গ = ১ ০৪ ০৪



১০৩ এর বর্গ = ১ ০৬ ০৯



১০৪ এর বর্গ = ১ ০৮ ১৬



এইটুকু দেখা হলে একটু থামো। ভালো করে আবার দেখ।



মূল সংখ্যাটার দিকে একবার তাকাও, আর এর বর্গের দিকে একবার তাকাও, দেখ কোন মিল খুঁজে পাও কিনা।



একটু তাকালেই দেখবে আমার মূল সংখ্যাগুলো সব শুরু হয়েছে ১ দিয়ে আর তারপর দুইটা ঘর আছে।



বর্গটাতে শুরুতেই আছে ১ । এরপর দুইটা দুইটা করে ঘর রেখেছি। তাকিয়ে দেখ প্রথম দুই ঘরে আছে দ্বিগুণ আর শেষ দুই ঘরে আছে বর্গ।



যেমনঃ ১০৪ এর ক্ষেত্রে প্রথমে ১ এর পর দুইটা দুইটা করে ঘর রেখেছি---



১ -- --



এরপর প্রথম দুই ঘরে বসিয়েছি ০৪ এর দ্বিগুণ ০৮



১ ০৮ --



আর শেষ দুই ঘরে বসিয়েছি ০৪ এর বর্গ ১৬



১ ০৮ ১৬



তাহলে এবার তোমরা বলতে পারবে যে,



১০৫ এর বর্গ = ১ ১০ ২৫



ঠিক একইভাবে ১০৬ এর বর্গ = ১ ১২ ৩৬



এখন যদি প্রশ্ন করি, আচ্ছা বলো তো,



১১২ এর বর্গ কত?



তাহলে সামান্য ঝামেলায় পড়তে পারো...



প্রথমে তো ১ লিখে জায়গা রাখলে দুটো দুটো করে -----> ১ -- --



প্রথম দুই ঘরে বসল ১২ দুগুণে ২৪ -----> ১ ২৪ --



এরপরেই ঝামেলাঃ ১২ এর বর্গ হলো ১৪৪ , এখানে আছে ৩ ঘর। কিন্তু আমাদের বর্গের শেষে তো মাত্র দুটি ঘর ফাঁকা আছে, তাহলে?



চিন্তা কী? শেষ দুই ঘরে ১৪৪ এর ৪৪ বসবে, হাতে থাকবে এক। সেটা গিয়ে যোগ হবে ২৪ এর সাথে, হবে ২৫ ।



তাহলে সংখ্যাটা হবে ১ ২৫ ৪৪



এখন ১৩ এর বর্গ হলো ১৬৯ । সুতরাং ১১৩ এর বর্গ হবে ১ ২৭ ৬৯ ।



যদি উপরের অংশটা ঠিকঠাক দেখে থাকো, তাহলে বলতে পারবে ১ ০১২ এর বর্গ কত?



এবারে ১ এর পর তিনটা ঘর আছে, তাই বর্গ করার সময় ১ এর পর তিনটা তিনটা করে ঘর রাখো এইভাবে---> ১ --- ---



আগের মতো প্রথম তিন ঘরে বসবে ০১২ এর দ্বিগুণ, আর শেষের তিন ঘরে বর্গ; সংখ্যাটা দাঁড়াবে ১ ০২৪ ১৪৪



আমি এতক্ষন যা করলাম সেটা অনেকটা প্রাইমারি স্কুলের স্যারদের মতো-- "তোরা দ্যাখ, এমনে এমনে অঙ্ক করতে হয়"। কেন এটা হলো সেটা বলিনি। কিন্তু গণিতের আনন্দের একটা বড় অংশ এই 'কেন' প্রশ্নটা জুড়ে। তাই তোমাদেরকে বলে রাখি, শিক্ষক যত ভালোই হন না কেন, তাকে সরাসরি বিশ্বাস করে নেবে না। একবার নিজে ভাববে, তিনি এমন কেন বললেন, এটা কেন হলো, এটা কি আসলেই ঠিক- যদি তোমার মন সায় দেয় তবেই বিশ্বাস করতে পারো। এবারে বলি আমার এই নিয়মটা কেন কাজ করে। আসলে এর পেছনে আছে একটা খুবই ক---ঠি---ন সূত্রঃ



(a+b)^2= a^2+2ab+b^2



এটা বোধহয় আমাদের জীবনে শেখা বীজগণিতের প্রথম সূত্রগুলোর একটা। এবারে বোঝাই ১০৪ এর বর্গটা দিয়ে-



১০৪=(১০০ + ৪) ; এখন (১০০+৪)^২=



১০০^২ ---------> ১ ০০ ০০ --------> এজন্যই বলেছিলাম ১ এর পর দুটো দুটো করে ঘর রাখো



+ ২ x ১০০ x ৪ ---------> ৮ ০০ --------> মাঝের প্রথম দুই ঘরে ০৪ এর দ্বিগুণ



+ ৪^২ ---------> ১৬ --------> শেষের দুই ঘরে ০৪ এর বর্গ



-------------------



১ ০৮ ১৬



খেয়াল করো আমি আমার মূল সংখ্যাটাতে সব সময় সামনে ১ রেখেছি। বোঝানো শুরু করার জন্য এটা অনেক ভালো। কিন্তু দুনিয়ার সব সংখ্যাতো আর ১ দিয়ে শুরু হয় না, তাই না? তাহলে ২ ০১৩ এর বর্গ কিভাবে করা যাবে? চিন্তা কী? আমরা তো এখন মূল সুত্রটা জানিই। আগেরবার বর্গের প্রথমে ১ রেখেছিলাম কারণ ১ এর বর্গ ১। এখন মূল সংখ্যায় যদি ২ থাকে, বর্গে থাকবে ৪ - এ আর এমন কী? এরপর তিনটা তিনটা করে ঘর রাখি-



৪ --- ---



লক্ষ কর, আগের বার প্রথম তিনটা ঘরে বসিয়েছিলাম শুধু ০১৩ এর দ্বিগুণ। এবারে কিন্তু তা বসালে চলবে না। কারণ মূল সূত্রে আছে 2ab । তাই বসাতে হবে ২ x ২ x ০১৩ = ০৫২ । শেষের তিন ঘরে আগেকার মতই ০১৩ এর বর্গ। সংখ্যাটা দাঁড়াবে- ----> ৪ ০৫২ ১৬৯



ভেঙ্গে বললে, ২০১৩=(২০০০+১৩) । এখন (২০০০+১৩)^২=



২০০০^২ ---------> ৪ ০০০ ০০০ --------> এজন্যই বলেছিলাম ৪ এর পর তিনটা তিনটা করে ঘর রাখো



+ ২ x ২০০০ x ১৩ ---------> ৫২ ০০০ --------> মাঝের প্রথম তিন ঘরে ২ x ২ x ০১৩ = ০৫২



+ ১৩^২ ---------> ১৬৯ --------> শেষের দুই ঘরে ১৩ এর বর্গ



-------------------



৪ ০৫২ ১৬৯



এই কাজগুলো মনে মনে করাটা কি খুব কঠিন। মনে হয় না।



এবং তুমি কি বুঝতে পারছ, তুমি কত শক্তিশালী হয়ে উঠেছ?



তুমি যদি তোমার কোন বন্ধুকে গিয়ে বলো যে ২০১৩ এর বর্গ- এ আর এমন কী- এটা হলো ৪ ০৫২ ১৬৯ বা চল্লিশ লক্ষ বায়ান্ন হাজার একশ ঊনসত্তর,



তোমার কি মনে হয়, সে অবাক হবে না? অথচ দেখ সূত্রটা কত চেনা; সেই ছেলেবেলার 'এ প্লাস বি হোল-স্কয়ার' এর সূত্র।



বর্গ এ পর্যন্তই। ও আচ্ছা, তোমরা তো 'এ প্লাস বি হোল-কিউব' এর সূত্রও জানো । তাহলে ১০২^৩ এর মান যে ১ ০৬ ১২ ০৮ হয়, এটা বোঝো নাকি, চেষ্টা করে দেখ তো...



এবার আমার কিছু কথা...



আমি এতক্ষণ তোমাদের যা শোনালাম তা একটা ভ্রমণকাহিনী শোনানোর মতো... আমি তোমাদেরকে বললাম, 'দেখ, আমি এসব জায়গায় গিয়েছি, এসব এসব দেখেছি '। তোমরা শুনে আনন্দ পেলে। কিন্তু তোমরা কি বুঝতে পারছ, এই ভ্রমণটা যে নিজে করেছে, সেই আমার আনন্দটা আরও কত লক্ষ-কোটি গুণ বেশি? যতটুকু তোমাদেরকে আমি বলেছি, নিজে তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু দেখেছি। কত সুন্দর সুন্দর অভিজ্ঞতা আমার... যেগুলো লিখে বা বলে বোঝানো অসম্ভব। এটা বোঝা যাবে শুধু নিজে ভ্রমণ করলে। আমার মুখে মুখে বর্গ করার এই সামান্য জিনিসটা নিজে নিজে শিখতে চার-পাঁচ বছর লেগে গেছে , অথচ তোমরা যারা এই লেখাটা পড়ছ , তারা ১০ - ১৫ মিনিটেই শিখে গেলে। এতে তোমাদের মনে হতেই পারে, নিজে এত সময় ধরে শিখে লাভ কী; তার চেয়ে কেউ শিখুক, আমি তার থেকে শিখে নেব। এই ভুলটা যেন না হয়, তার জন্যেই ভ্রমণের কথাটা বললাম। জেনে রেখ, যেটা দেখার জন্য তুমি ভ্রমণে বের হবে, সেখানে যাওয়ার রাস্তাটা তার চেয়েও বেশি সুন্দর হতে পারে। তাই তোমরা ভ্রমণ করো, নিজের জগতে। খুলে দাও হৃদয়ের সবগুলো জানালা, চিন্ত করো নিজের আনন্দে।



চিন্তা জগতে তোমাদের যাত্রা শুভ হোক।





চমক হাসান,

২৭ এপ্রিল, ২০১১

[হ্যাঁ, এটা প্রায় চার বছর আগে লেখা। গণিত নিয়ে এটা আমার প্রথম লেখাগুলোর একটি। প্রথম আলো গণিত ইশকুল পাতায় লেখাটি ছাপা হয়েছিল!]

Address

Kulaura

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিজ্ঞানের জন্য ভালবাসা, কুলাউড়া posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share