27/12/2025
ভবানীপুর, কলকাতা (মল্লিক বাড়ির সামনে)
১. পরিবেশ ও আবহ:
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। আপনি দাঁড়িয়ে আছেন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের সেই ঐতিহাসিক মল্লিক বাড়ির গেটের সামনে। চারপাশের আধুনিক ফ্ল্যাটবাড়ির ভিড়ে এই বাড়িটি যেন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। লাল ইটের আভা, বড় বড় থাম আর বিশাল কাঠের দরজা মনে করিয়ে দেয় পুরনো কলকাতার 'বনেদিয়ানা' বা আভিজাত্য। পুজোর সময় এই প্রাঙ্গণ জাঁকজমকপূর্ণ থাকলেও, সাধারণ দিনে এখানে এক অদ্ভুত প্রশান্তি বিরাজ করে।
২. রঞ্জিত মল্লিকের উপস্থিতি:
হঠাৎ বাড়ির দোতলার বারান্দায় বা নীচের চাতালে দেখা মিলল সেই পরিচিত মানুষটির। পর্দায় যাঁকে দেখে বড় হয়েছেন, তিনি এখন আপনার চোখের সামনে।
পোশাক: তিনি হয়তো ঘরোয়া অথচ মার্জিত পোশাকে আছেন। পরনে ধবধবে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি বা হালকা রঙের ফতুয়া। চোখে সেই পরিচিত চশমা।
শারীরিক ভঙ্গি: বয়সের ছাপ পড়লেও তাঁর দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে সেই দাপট এখনো স্পষ্ট। শিরদাঁড়া সোজা, দীর্ঘকায় চেহারা—যেন সিনেমার সেই পুলিশ অফিসার বা জাঁদরেল বাবার চরিত্রটিই বাস্তবে দাঁড়িয়ে আছে।
৩. দর্শকের অনুভূতি:
তাঁকে দেখা মাত্রই আপনার কানে হয়তো বেজে উঠবে তাঁর সেই বিখ্যাত ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর। মনে পড়ে যাবে, "চাবকে পিঠের ছাল তুলে নেব" বা "উত্তরা, আমি আসছি"—এর মতো আইকনিক সংলাপ। কিন্তু বাস্তবে তাঁকে দেখে মনে হবে তিনি অত্যন্ত শান্ত ও সৌম্য। তিনি হয়তো খবরের কাগজ পড়ছেন, কিংবা পরিবারের কারো সাথে মৃদু হেসে কথা বলছেন।
৪. মিথস্ক্রিয়া (Interaction):
রঞ্জিত মল্লিক মাটির মানুষ হিসেবে পরিচিত। গেটের বাইরে দু-একজন ভক্তকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে তিনি বিরক্ত হন না। হয়তো আপনার দিকে তাকিয়ে সেই ভুবনভোলানো হাসিটি দিলেন কিংবা হাত নেড়ে সম্ভাষণ জানালেন। তাঁর এই ব্যবহারে কোনো ‘তারকা-সুলভ’ অহংকার নেই, বরং আছে বাড়ির বড়োদের মতো এক স্নিগ্ধ অভিভাবকসুলভ আচরণ।