18/09/2026
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে খাজা নাজিমুদ্দিনের ভূমিকা ইতিবাচক ছিল না, বরং তার একটি বিতর্কিত ঘোষণাই আন্দোলনের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়কে উসকে দিয়েছিল।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে তার প্রধান কর্মকাণ্ড ও প্রভাবসমূহ:
'উর্দু হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' ঘোষণা: ১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে চুক্তি করলেও, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় তিনি পুনর্বার স্পষ্ট ঘোষণা দেন—"উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।"
চুক্তি ভঙ্গের বিতর্ক: ১৯৪৮ সালের আন্দোলনের সময় তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন (বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে গণপরিষদে সুপারিশ করা), এই ঘোষণার মাধ্যমে তা সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়।
আন্দোলনে নতুন বেগ: তার এই উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠিত হয় এবং ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালনসহ ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
দমননীতির সমর্থন: কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি ভাষা আন্দোলন দমনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমীন সরকারের ১৪৪ ধারা জারি এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি মিছিলে গুলি চালানোর কঠোর পদক্ষেপগুলোকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন যোগান।
১৯৫২ সালের প্রেক্ষাপটে খাজা নাজিমুদ্দিনের এই সিদ্ধান্তই মূলত স্থিমিত হয়ে আসা ভাষা আন্দোলনকে চরম চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল।