14/07/2025
বারি হাইস্পীড রোটারী টিলার
(BARI High-speed Rotary Tiller)
কৃষি প্রধান বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা হয়। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৮% জমি প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ পাওয়ার টিলার (৮২%) ও ১৬০০০০ ট্রাক্টর (১৬%) দিয়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে। পাওয়ার টিলার কৃষকের নিকট একটি জনপ্রিয় কৃষিযন্ত্র। বারি হাইস্পীড রোটারী টিলার প্রচলিত পাওয়ার টিলার অপেক্ষাও উন্নতমানের শুকনা জমি চাষের যন্ত্র। প্রচলিত পাওয়ার টিলার দিয়ে জো সম্পন্ন জমি চাষ করতে যেখানে ৪-৫ টি চাষের প্রয়োজন হয়, হাইস্পীড রোটারী টিলার দিয়ে সেখানে ১-২টি চাষই যথেষ্ট। এ যন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, নরম জমি অর্থাৎ যে জমির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পায়ে কাদা লাগে না, এমন জমি চাষ দিয়ে আগাম ফসল করা সম্ভব। এছাড়া, এই হাইস্পীড রোটারী টিলার দিয়ে জমি চাষ করলে মাটি ভালোভাবে গুঁড়া হয়, ফসলের পরবর্তী পরিচর্যা করা সহজ হয় এবং ফলনও ভাল হয়। দেশে প্রচলিত যে কোন পাওয়ার টিলারের (ডংফেং ও সাইফেং) পিছনে রোটারী টিলারটি সংযোজন করে ব্যবহার করা যায়। যন্ত্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষত পেঁয়াজ, রসুন চাষের এলাকায় জমি চাষের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বর্তমানে কৃষকের মাঠে প্রায় ১৮০০০ (আঠারো হাজার) বারি হাইস্পীড রোটারী টিলার ব্যবহৃত হচ্ছে।
বৈশিষ্ট্যঃ
* এই টিলার দিয়ে জো সম্পন্ন জমিতে এক বা দুটি চাষ দিয়ে স্বল্প সময়ে জমি তৈরি করে জমিতে ফসল আবাদ করা যায়
* যন্ত্রের রোটারী বেড শ্যাফট উচ্চ গতিতে ঘুরে বিধায় জমির ঢিলা খুব ছোট হয় ও মাটি ভাল গুঁড়া বা মিহি হয়
* হাইস্পীড রোটারী টিলারে প্রচলিত টিলারের তুলনায় প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়
* যন্ত্রটি ১২-১৬ অশ্বশক্তি সম্পন্ন পাওয়ার টিলারের পেছনে সংযোগ করে চালানো যায়
* ডংফেং ও সাইফেং উভয় প্রকার পাওয়ার টিলারের পেছনে যন্ত্রটি সংযোগ করে চালানো যায়
* পেঁয়াজ, রসুন, আলু, বাদাম, গাজর ইত্যাদি ফসল উৎপাদনের জন্য মিহি জমি তৈরিতে অধিক উপযোগী
যন্ত্র তৈরির উপকরণঃ
রোটারি টাইন, শ্যাফট, এমএস এ্যাঙ্গেলবার, এমএস বার, এমএস শিট, পাইপ, চেইন, স্প্রোকেট, নাট-বোল্ট, ইত্যাদি।
যন্ত্রের বিবরণঃ
সার্বিক মাপ (দৈর্ঘ্য প্রন্থ উচ্চতা): ১৩১০ মিমিx৯৩০ মিমি×৫২০ মিমি
রোটারী বেডের সংখ্যা: ৪৮ টি
চাষের প্রন্থতা: ১২০০ মিমি
* আজ চাষের গভীরতা: ৭০-৮০ মিমি
* টিলারের রোটারী ব্লেড শ্যাফটের ঘূর্ণন গতি প্রতি মিনিটে ৪৫০-৫৫০ বার
* শক্তির উৎস : ১২-১৬ অশ্বশক্তির পাওয়ার টিলার
* ওজন: ১২০ কেজি।
কার্যপ্রণালীঃ
পাওয়ার টিলারের পেছনের রোটাভেটর খুলে সেখানে হাইস্পীড রোটারী টিলারটি নাট বোল্টের সাহায্যে লাগান হয়। চাষের গভীরতা নির্ধারক বারের সাহায্যে চাষের গভীরতা নির্ধারিত হয়। অতঃপর টিলারের ইঞ্জিন চালু করে জমির এক পাশ থেকে চাষ শুরু করতে হয়। সাধারণত দ্বিতীয় গিয়ারে রেখে কিছুটা নিম্ন গতিতে (১.২০ কিমি/ঘন্টা) চালালে চাষ ভাল হয়। যন্ত্রটি স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে চালাতে হয়, বসে চালানোর ব্যবস্থা নেই। জমির শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই ঘোরাতে হয়। ঘোরানোর জন্য স্টিয়ারিং ধরতে হবে এবং হাতলের সাহায্যে যন্ত্রের পিছনের অংশ অর্থাৎ টিলারটি উঁচু করে ঘুরাতে হবে, এগিয়ে যাবার জন্যে ধীরে চলতে হয় এবং ঘোরা শেষে পুনরায় চাষের জন্য টিলার নামিয়ে ক্লাচ চালু করতে হয়। এভাবে জমির এক প্রান্ত থেকে চাষ শুরু করে অন্য প্রান্তে শেষ করতে হয়।
কার্যকারিতাঃ
* কার্যক্ষমতা : ০.১০ হেক্টর/ঘণ্টা (২৫ শতক/ঘণ্টা)
* কার্যদক্ষতা : ৯৮%
* জ্বালানী খরচ: ১.২৫ লিটার/ঘন্টা
* চালনা খরচ: হাইস্পীড রোটারী টিলার দিয়ে ৩৪০০ টাকা/হেক্টর (এক চাষ) পাওয়ার টিলার দিয়ে ৬৫০০ টাকা/হেক্টর (৩ চাষ)
@বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর কৃষি যন্ত্রপাতি বই থেকে