07/11/2024
এক অস্থির জেনারেশন তৈরি করছি আমরা। বিলিভ অর নট এই জেনারেশনের স্পেসিফিক কোনো লক্ষ্য নাই। এদের আদর্শিক কোনো এমবিশান নাই। পবিত্র কোনো মিশন নাই।
এরা বই পড়ে না, নিউজপেপার পড়ে না। আউটডোর খেলাধুলায়ও এদের অনীহা।
ans. প্রথম লাইনেই তো বলেছেন। তৈরী করেছি আমরা। দোষ তো বৃদ্ধগুলোর। ঢাকা শহরে উন্নয়নের নামে হকারস্ট্যান্ড - যেখানে বই পত্রিকা দুটোই পাওয়া যেতো - সেসব নষ্ট করেছিলেন কে? কোন স্থপতি ফুটপাথ ডিজাইন করেছিলেন বাস স্টপেজ এ যাত্রী ছাউনি দোকান ছাড়া বানিয়ে? নাম বের করেন।
এরা রৌদ্রে হাঁটতে পছন্দ করে না। বৃষ্টিতে ভিজতে চায় না। কাঁদামাটি, ঘাস, লতাপাতায় এদের এলার্জি। এরা আধা কিলোমিটার গন্তব্যে যেতে আধা ঘন্টা রিক্সার জন্য অপেক্ষা করে।
ans. কেন হাঁটবে? হাঁটার পরিবেশ রেখেছেন? বৃষ্টিতে ভেজার ছাদ কিংবা বাগান। হয় করেছেন কাপড় শুকানোর জায়গা। নয়তো বড় সাইজের কম্যুনিটি ঘর। ফ্ল্যাটবাড়ির ছাদ তালা মেরে চাবি নিয়ে রেখেছেন জমির আদি মালিক অথবা সমিতির গোদাপাল।
এরা অস্থির। প্রচণ্ডরকম অস্থির এক জেনারেশন।
এরা অপরিচিত সিনিয়রদের সালাম দেবে না। পাশ কাটিয়ে হনহন করে চলে যাবে। অথবা গা ঘেষে পা পাড়া দিয়ে চলে যাবে। সরি বলার টেণ্ডেন্সি এদের মধ্যে নাই। এরা অনর্থক তর্ক জুড়ে দেবে। না পাবেন বিনয়ী ভঙ্গি, না পাবেন কৃতজ্ঞতাবোধ। এদের উদ্ধত আচরণ, সদম্ভ চলাফেরায় আপনি ভয়ে কুকড়ে যাবেন। সংযত হওয়ার উপদেশ দিতে চাইলেই বিপদ, নাজেহাল হওয়ার সম্ভাবনা অধিক।
ans. আপনারা বুইড়া ঝান্ডুগুলো সরি বলেন? পায়ে পারা দিয়ে টকশো তে ঝগড়া করেন জাতির সামনে! একে অন্যকে সরি বলেন?
আপনি পাব্লিক বাসে চড়ছেন, দেখবেন খালি সীটটায় জায়গা পেতে সবচেয়ে জুনিয়র ছেলেটা বেশি প্রতিযোগিতা করবে। আপনাকে ধাক্কাটাক্কা দিয়ে সটান বসে পড়বে। তার বয়সের দ্বিগুন এই আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না।
ans. আপনারা পাবলিক বাসে এই আচরণ পান কারণ নিজেরা চাকরিতে অবসরের পরে ফিরে এসে চেয়ার দখল করেন। এমপি মন্ত্রী হতে লাইন দেন। নিজেরা জায়গা ছাড়েন না। ছাড়া শেখাতেও পারেন নাই। একজন তো ষোলবছর বসে থেকে পলালো! বৃদ্ধ বাবা মাকে নিজের বাসায় একসাথে রাখেন। নিজের দুর্বল ভাই বোনকে ভালোবাসেন?
বলছিলাম এই জেনারেশনের কথা। সবচেয়ে ভয়াবহ ফিতনার কথা যে মজলিসে এই জেনারেশন দাঁড়িয়ে থাকার কথা, সেই মজলিসে তারা নিজের জন্য চেয়ার খোঁজ করে। যেখানে চুপ থাকার কথা, সেখানে জ্ঞান দিতে চেষ্টা করে।
ans.কারণ তাদের সামনে সত্যিকারের জ্ঞানীদের আনেন নাই। জ্ঞানী কি তারা জানে না। ইনফ্লুয়েন্সার - আর সাকিবাল দিয়ে নির্বাচন করেছেন। রিয়াজ ফেরদৌস দেখিয়ে রাজনীতি করেছেন। তাদের সামনে আইকন "মঠেল" আইডল কারা? সাকিবাল আর ইকবাল? সুমনের পেছনে পিয়া হাসলো। আর আপনারা তাকে নিয়ে ব্যস্ত করে দিলেন ইন্টারনেট! রাসেল ভাইপার গেলালেন।
সারা রাত ধরে অনলাইনে থাকে, সারা সকাল ঘুমায়। এরা সূর্যোদয় দেখে না, সূর্যাস্ত দেখে না। সূর্যোদয়ে বিছানায় থাকে, সূর্যাস্তে মোবাইলে থাকে।
ans. কি করবে? ওই একটা জায়গাতে সে খানিকটা স্বাধীনতা পায়। ফেক একাউন্টের পর্দার পেছনে দাঁড়িয়ে আপনাদের গালি দেয়। এই গালাগাল শিখিয়েছেন সিপি গ্যাং আর বাঁশের কেল্লা বানিয়ে। ফিফোটেক ভাড়া করে ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে প্রতিপক্ষকে সাইজ করেছেন। ইভ্যালি থেকে বিকাশ আর নগদ - সবারই ভাড়া করা সাইবার মিথ্যুকরা আছে।
এরা ফার্স্টফুডে আসক্ত।
এরা আউটডোর খেলা অপছন্দ করে। এরা ইনডোরে স্বস্তি পায়। নিদৃষ্ট করে বললে মূলত অনলাইন গেম তাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি।
ans. শব্দটা ফার্স্টফুড না। ফাস্টফুড। নিজেরাই এখনো ইংরেজি পারেন না। ওদের পাঠিয়েছেন ইংলিশ মিডিয়ামে। এরা তো বোঝে আপনি ইংরেজিও পারেন না ঠিকমতো। মাঠ আছে স্কুলে? ফিজিকাল এডুকেশনের স্হায়ী শিক্ষক?
এরা ইতিহাস পড়ে না। সাহিত্য বুঝে না। এরা নজরুল চিনে না, রবীন্দ্রনাথ চিনে না, ফররুখ চিনে না। সাদী, রুমি, হাফিজ ত বহু অচেনা প্রসঙ্গ। এরা বই বুঝে না, বই পড়ে না, বই কিনে না৷
ans. আবার বই? বই কেনে না। মোবাইল কার টাকায় কেনে? বুইড়ারা ডিজ্যুস খুলে তাদের মোবাইল দিয়েছে। তাদের " একস্ট্রা খাতির" কে দিয়েছিলো মোবাইল বেচার জন্য? দিয়েছিলো গ্রামীন ফোন! এটার বৃহৎ বাংলাদেশী অংশীদার যেন কার প্রতিষ্ঠান? সব স্কুলে পাঠাগার আছে? সার্কিট হাউজে টিস্যু আর সাবান দেন। সেখানে বই পড়ার একটি ঘর আছে? পত্রিকা দেন সকালে? মশার ওষুধ ঠিকই দেন।
এরা নন-স্কিলড। এরা হাঁটতে পারে না, দৌড়াতে পারে না, গাছে চড়তে জানে না, সাতার কাটতে পারে না। সাগর পাড়ি দেওয়ার সেই দু:সাহসিকতা নাই, পাহাড় কেটে পথ তৈরি করার সেই অদম্য মনোবল নাই। এদের উচ্ছ্বাস নাই। আবেগ নাই। সৎ সাহস নাই। এদের একটাই স্কিল- স্মার্ট ফোন দ্রুত স্ক্রল করতে পারা৷
ans. এরা নন স্কিলড কে বললো? এখন আউটসোর্সিং - ইন্টারনেটে পয়সা আয় করে কে? কারা ডলার আনে ফ্রিল্যান্সার হয়েছে? সরকার খেদানোর স্কিল তো নিজেরাই শিখেছে। আপনারা তো তেল এর শিশি নিয়ে ছিলেন মালিশরত।
এদের না আছে মূল্যবোধ, না আছে শ্রদ্ধাবোধ, না আছে শৃঙ্খলাবোধ।
কখন চলতে হবে, কখন থামতে হবে, কখন বলতে হবে, কখন শুনতে হবে এরা জানে না। এরা না বুঝে সিনিয়রিটি, না বুঝে জুনিয়িরিটি।
ans. এরা নতুন মূল্যবোধ শিখেছে। পয়সার মূল্য। কারণ এদের আপনারাই চুরি করে সম্পদ বানিয়ে সালমান আর এস আলম আর জাবেদ আর.... চোরের তালিকা শেষ হবে না -- এদের দেখিয়ে দেখিয়ে শিখিয়েছেন মূল্য কেবল টাকা আর ক্ষমতার। বড় বড় গাড়ী বাড়ী আপনারাই চিনিয়েছেন।
হে বৃদ্ধ ঝান্ডুস। এখনো তো ভালো হন নাই। ভালো হয়ে যান। স্নেহ ও সততা দুটোই নিম্নগামী। ভালো হলে আপনি - এরাও ভালো হবে।
Collected from : Habibur Rahman Milon. Answered by Abdun Noor Tushar