05/07/2023
দি না পারো তাহলে তুমি পাথর হয়ে যাবে। ভেবে দেখ তুমি প্রশ্নের উত্তর দিবে না এখান থেকে চলে যাবে?
- নিয়ান বললো,' প্রশ্ন করো হে পাখি।
- আচ্ছা শোন এক নাম্বার প্রশ্ন হলো,' পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি কি মানুষের কাছে?
-নিয়ান প্রশ্নটা শুনে অনেকটা ঘাবড়ে গিয়ে বললো,' সবচেয়ে মিষ্টি কী? কিছুক্ষণ ভেবে বলল," মানুষের কাছে সবচেয়ে মিষ্টি হচ্ছে প্রয়োজন। কারণ একপাশে যদি পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি মিষ্টান্ন রাখা হয় আরেকপাশে যদি নীল রাঙা গোলাপের গাছ রাখা হয় আমি আমার প্রয়োজনটাই নিবো।
- হে বৎস তোমার প্রথম উত্তর সঠিক হয়েছে ।
দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, ' পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা কী?
- নিয়ান মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললো," পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো মানুষের এমন ধারণা সে চিরদিন বেঁচে থাকবে।
আর তার এই ধারণাটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা।
- তৃতীয় প্রশ্ন হচ্ছে এমন কি হক যা প্রত্যেক মানুষই ভোগ করবে।
-তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, ' মৃত্য! যা পৃথিবীর সকল প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করতে হবে।
- পাখিটা এবার বলল যাও তোমার তিনটি প্রশ্নের উত্তরই সঠিক হয়েছে।
- পাখি কথাটা বলার সাথে সাথেই আগুনের উপর দিয়ে সুন্দর একটা রাস্তা তৈরি হয়ে যায়। নিয়ান যখন রাস্তায় পা দিবে তখন পাখিটি বলে দেয়! সাবধান সামনে অনেক বিপদ আছে। আর ফুলের বীজ হাতে নেওয়ার সাথে সাথেই তোমার তিনহাতে দূরে মাটি দেখতে পাবে। মাটিতে বীজ বপন করবে।
এখন তুমি যাও।
- নিয়ান খুব সাবধানে পা ফেলছে। ধীরে ধীরে ফুলের বীজ রাখা বাক্সটা দেখতে পেল। মণিমুক্তায় বাঁধায় করা। নিয়ান বক্সটা আল্লাহর নাম নিয়া খুলতেই দেখতে বক্সে দুইটা ভাগ!
একটাতে সাপের মহামূল্যবান মণি। আরেকটাতে গুটিকয়েক বীজ দেখা যায়। সাপের মণি থেকে আলোকরশ্মি বের হচ্ছে।
- নিয়ান বুঝতে পারবে না সে কি করবে। সাথে সাথে অদৃশ্য আওয়াজ আসলো। তুমি কোনটা নিবে। গোলাপের বীজ না সারা পৃথিবীর বাদশাহি? তুমি যদি এই মহামূল্যবান সাপের মাথার মণি নাও তাহলে সারাপৃথিবীর বাদশাহী তোমার হবে। যে কোন একটা নিবে।
- নিয়ান আল্লাহর নাম নিয়ে হাত বাড়ালো। আর সাপের মহামূল্যবান মনি রেখে বীজগুলো হাতে নিতেই তার সামনে মাঠের সৃষ্টি হলো। মাটি গুলোতে নিয়ান তিনটা বীজ রাখতেই অলৌকিক ভাবে ছোট্ট বীজ থেকে মুহূর্তেই বড় গাছ হয়ে গেল। তিনটা গাছ থেকে তিনটা ফুল হলো। ফুল তিনটা হতেই সমস্ত দৃশপট পাল্টে গেল। তিনটা ফুল তিনরকম রঙের হলো। একটা কালো আরেক হলুদ। আরেকটা নীল রঙা।নিয়ান নীল রঙের ফুলটা টান দিয়ে ছেরার সাথে সাথেই রাজপ্রাসাদের সামনে এসে পড়ল। রাজপ্রাসাদে থাকা সমস্ত পাথরের মূর্তি মানুষে পরিণত হলো। ম্যারিনার রুপ নেওয়া রাক্ষসী আর তার সহধর্মী চিরদিনের জন্য নিঃশেষ হয়ে যায়। রাজ্যের সবাই নিয়ানকে কৃতজ্ঞতা জানাল।
- নিয়ান সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, ' নীল রঙা লকেটে ফুলটা ছোঁয়াতেই। মায়াবিনীর প্রাসাদে এসে পড়ল।
- নিয়ান আসতেই দরবেশ নিয়ানকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেই। আর বলতে লাগে নিশ্চয় তোমরা দুজন সত্যবাদী। এখন আর দেরি না করে চলো সূর্য প্রায় ডুবতে চলল।
সূর্য ডোবার আগে ম্যারিনার শরীরে সমুদ্রের তলদেশের পানি ফুলে ভিজিয়ে ছিটাতে হবে। নিয়ান ফুল নিয়ে ম্যারিনার কাছে যেতেই, একটা মেয়ে সমুদ্রের তলদেশের পানি কাঁচের গ্লাসে করে নিয়ানের হাতে দিল। নিয়ান ফুলটা ভিজিয়ে ম্যারিনার উপর ছিটিয়ে দিতেই ম্যারিনা চোখ খুলল। দরবেশ নিয়ানকে বলল,' বাবা নিয়ান তুমি ফুলটা পানিতে রেখে এই বইয়ে থাকা মন্ত্রণা পড়।
নিয়ান ফুলটা পানিতে রেখে বইয়ে লেখা মন্ত্রণটা পড়তেই ফুলটা পানির সাথে মিশে গেল। নিয়ান এসব দেখে খানিকটা অবাক হয়।
- দরবেশ নিয়ানের কাঁধে হাত রেখে বলল,' ঘাবড়ে যেয়ো না তোমাদের কিছু হবে না।
-ম্যারিনা উঠে দাঁড়াতেই ইসলামিক নিয়মে ম্যারিনা আর নিয়ানের বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়। বিয়ে শেষ হতেই দরবেশ ম্যারিনাকে বলে," মা তুমি তোমা স্বামীকে গ্লাসের পানিটুকু নিজ হাতে খাইয়ে দেও।
- দরবেশের কথামতো ম্যারিনা গ্লাসের পানিটুকু নিয়ানকে খাইয়ে দেয়।
- পানি খাওয়ার পরই নিয়ানের শরীরটা কেমন যেন করে উঁঠে! এক অজানা অনুভূতি মনে ঢেউ খেলে যায়!
- এদিকে রাজবাড়ির দাসিরা সুন্দর একটি রুমে ম্যারিনাকে বসিয়ে দিয়ে আসে। রুমটা বেশ গুছানো। সারাটা রুম ফুল দিয়ে সাজানো। খাঁটটা হিরের মনে হচ্ছে। ম্যারিনার কাছে সবকিছু যেন কল্পনার মতো মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে কল্পনাও হয়ত এতটা সুন্দর হতে পারে না। জানালার কাচ ভেদ করে চাঁদের আলো আসছে। ম্যারিনা এতকিছুর মাঝেও অপেক্ষা করছে। আর অপেক্ষাটা হচ্ছে নিয়ানের জন্য। কখন নিয়ান আসবে সে অপেক্ষা।
- একটু পরেই দরজা লাগানোর শব্দে ম্যারিনার অপেক্ষায় প্রহরের সমাপ্তি হলো। যে সে ফুলের মতো বসে আছো ভ্রমর আসার অপেক্ষায়।
- নিয়ান খাঁটে বসেই ঘুমটা সরিয়ে ম্যারিনার কপালে একটা চুমু এঁকে দেয়। ম্যারিনা লজ্জায় চোখ দুটি বন্ধ করে ফেলে। নিয়ান ম্যারিনাকে জড়িয়ে ধরতেই ম্যারিনা আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। দুজনেই হারিয়ে যায় অনুভূতির রাজ্যে! স্বগীয় সুখ খুঁজে পায় নিয়ান ম্যারিনার বুকে।
- দেখতে দেখতে মধুর রাতটা নির্ঘুম ভালোবাসায় কেটে যায়। দিনগুলো ভালোই কাটতেছিল!
- হঠাৎ মাসখানেক পর ম্যারিনা মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যায়।
- দরবেশ ম্যারিনাকে দেখেই রাজকে বলে, ' বাবা খুশির খবর তুমি বাবা হতে যাচ্ছো। তাও কন্যা সন্তানের।
তবে একটা খারাপ সংবাদ আছে। এ সন্তান পৃথিবীতে আসলে '''
চলবে'''