27/09/2024
স্বাধীনতা, আন্দোলন, দেশসহ যেভাবে সবকিছু দখল হয়ে যাচ্ছে শীঘ্রই হয়তো শোনা যাবে ইলিশ আর জাতীয় মাছ নেই। সেই স্থান পাঙ্গাশ দখল করে ফেলেছে।
কিছুদিন ধরে ইলিশ মাছ নিয়ে সারা দেশে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। হঠাৎ করে বিগত কয়েক বছরে ইলিশ মাছের দাম এমনভাবে বেড়ে গেছে যার ফলে এক সময়ের মধ্যবিত্তের প্রায় প্রতিদিনের খাবারের পাতে থাকা ইলিশ মাছ বছরেও একবার খেতে পারছেন না।
এর কারন খুঁজতে গিয়ে যা পেলাম তা হলো, বাংলাদেশের সমুদ্র বা নদীতে যত বড় এবং ভালো মানসম্মত ইলিশ মাছ পাওয়া যায় তা দেশের লোকাল বাজারে আড়তদাররা আসতেই দেন না। তারা সমস্ত ভালো মাছগুলো স্টক করে প্রসেস করে ইউরোপ আমেরিকা কানাডা অষ্ট্রেলিয়াতে পাঠিয়ে দেন অধিক মুনাফার কারনে।
কারন আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে উন্নত বিশ্বে এতো বাংলাদেশীদের বসবাস ছিলোনা। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেই সমস্ত দেশগুলোতে ইলিশ মাছ সহ বিভিন্ন দেশীয় প্রিয় বিভিন্ন খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়। আর সেই সমস্ত দেশে কেজিতে নয় বরং পাউন্ডে ইলিশ মাছ বিক্রি করার ফলে আড়তদার, মাছ সাপ্লায়ার, বিদেশের দোকানী সকলেই ভালো একটা পয়সা এখান থেকে আয় করেন যেটা দেশের লোকাল বাজার থেকে আয় করা সম্ভব না। আগে বিমানে মাছ বা এই ধরনের আইটেম খুব একটা যেতো না। কিন্তু বর্তমানে কার্গো প্লেইনে দিনে দিনে সবকিছু পৌঁছে যাচ্ছে দূরদূরান্তে।
আর এটির সাক্ষী আমি নিজেই, বিগত কয়েক বছরে কয়েকটি দেশে কোন বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট বা কোন বাসায় যখনি দাওয়াতে গেছি গেছি, তখন আমাকে এমন সাইজের বড় ইলিশ মাছ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছে যা আমি দেশের বাজারে কয়েক বছরে দেখিনি।
এক মাছ ব্যবসায়ী ভক্তের কাছ থেকে জানলাম আসলে এখানে মাছের বাজারে বড় একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে, তাদের ইচ্ছেমতো সবকিছু হচ্ছে।
সরকার যদি এ বিষয়ে এখনি সিরিয়াস না হয়ে এবং দেশের বাহিরে ইলিশ মাছ পাঠানোর বিষয়টা ব্যালেন্স না করে তাহলে সেদিন আর বেশী দুরে নয় যেদিন হয়তো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু জানবে ইলিশ মাছ নামে একটা মাছ এই দেশে পাওয়া যায় কিন্তু টাকার কারনে সেই মাছ এই দেশের মানুষের পাতে না বরং পয়সাওয়ালা বিদেশীদের পাতে চলে যায়। যেমনটি হচ্ছে যুগ যুগ ধরে সিলেটের চা পাতার ক্ষেত্রে। আমাদের এমন দিন যেন দেখতে না হয় ইলিশ মাছকে জাতীয় মাছ না বলে পাঙ্গাশ মাছকে জাতীয় মাছ হিসেবে মানুষ জানবে।