23/04/2020
আশা করা যায়, আল্লাহর রাহমাতে মে মাসের ১২ তারিখের পর করোনা হতে বিশ্ববাসি মুক্তি পেতে পারে!!
বিষয়টি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (স.) এর হাদীস নিয়ে আল্লামাহ্ ত্বারেক্ব উসমানীর গবেষণার আলোকে বলছি, আল্লাহর রাসূলের একটি হাদীসে বলা হয়েছে যেই হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রাহ.) তাঁর মুসনাদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম বুখারীর শর্ত অনুযায়ী হাদীসটি স্বাহীহ্। হাদীসটি হলো :
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللّٰہِ بْنِ سُرَاقَۃَ قَالَ: سَاَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ بَیْعِ الثِّمَارِ فَقَالَ: نَہٰی رَسُوْلُ اللّٰہِ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم عَنْ بَیْعِ الثِّمَارِ حَتّٰی تَذْھَبَ الْعَاھَۃُ، فَقُلْتُ: وَ مَتٰی ذَاکَ؟ قَالَ: حَتّٰی تَطْلُعَ الثُّرَیَّا۔*
‘উসমান ইবনে আবদুল্লাহ্ ইবনে সুরাক্বাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমারকে ফসল বিক্রি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, রাসূল (স.) ‘আ-হা’ যাওয়ার আগে ফসল (গাছের ফল) বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম এটি কখন? তিনি বললেন, সুরাইয়্যা উদিত না হওয়া পর্যন্ত।’ (মুসনাদে আহমাদ-৫১০৫)
উপরোক্ত হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, সুরাইয়্যা নামক তারাটি
যখন উদিত হয়, তখন যামীনে বালা-মুসীবাত ও মহামারী দূর হয়ে যায়। আর এই যুগের Specialist of Astronomy বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের মতে সেই সুরাইয়্যা তারাটি আগামী ১২ ই মে সকালে উদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদি তাই হয়? তাহলে আশা করা যায় আল্লাহর রাহমাতে আমরা এই করোনা ভাইরাস হতে মুক্তি পাবো ইন্ শা আল্লাহ্।
ইমাম মুসলিম (রাহ.) ও এমন একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি হলো:
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى أَوْ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلی اللہ علیہ وسلم عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ حَتَّى يَطِيبَ.
জাবের (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূল (স.) ফল পাকার আগে (অর্থাৎ খারাপ আব হাওয়া হতে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত) বিক্রি করতে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন।’
আরো একটি হাদীসে আমরা দেখতে পাই, রাসূল (স.) বলেছেন:
*عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلی اللہ علیہ وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ وَ عَنِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضَّ وَ يَأْمَنَ الْعَاهَةَ نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ*
‘ইবনে উমার (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূল (স.) খেজুর লাল বা হলুদ রং ধারণের পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (কারণ ফল যখন লাল বা হলুদ রং ধারণ করে তখন সে ফলের খারাপ আবহাওয়া হতে নিরাপদ থাকা নিশ্চিত হয়ে যায়)। অনুরূপভাবে শীষটি যতক্ষণ না সাদা হয়ে যাবে এবং খারাপ আবহাওয়া হতে নিরাপদ না হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত ধান-গম সহ যাবতীয় ফসল ক্রেতা বিক্রেতাকে বিক্রি করতে এবং ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।’
মোটকথা, উল্লেখিত হাদীসগুলো হতে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, ‘আ-হা’ অর্থাৎ বালা-মুসীবাত সুরাইয়্যা নামক তারাটি উদিত না হওয়া পর্যন্ত যমীনে বিদ্ধমান থাকে। ওয়াল্লাহ আ‘লামু।
এখন প্রশ্ন হলো ‘সুরাইয়্যা’ কাকে বলে? এটি একটি নক্ষত্রের নাম। সাতটি তারার সমন্নয়ে গঠিত একটি সমষ্টির নাম হলো ‘সুরাইয়্যা। ছয়টি প্রকশিত এবং একটি অপ্রকাশিত। কোনো কোনো Specialist of Astronomy বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের মতে সাতের অধিকের সমষ্টিকে সুরাইয়্যা বলে। আগেকার যুগের মানুষরা সুরাইয়্যা দেখে নিজেদের দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা করতেন।
ক্বাযী ‘আয়ায লিখেছেন রাসূল (স.) এর দৃষ্টি শক্তি এত বেশী প্রখর ছিলো যে, তিনি সুরাইয়্যার ১১ টি নক্ষত্র দেখতে পারতেন।
এখন প্রশ্ন হলো:
(ক) সুরাইয়্যা উদিত হওয়ার সময় কখন?
(খ) ‘আ-হা’ বলতে বিশেষ কোনো মহামারী যা শুধু ফসলাদির সাথে সম্পৃক্ত তা বোঝানো হয়েছে ? না অন্য সব মহামারী বোঝানো হয়েছে?
প্রথম প্রশ্নের উত্তর :
রাসূল (স.) হাদীসের মধ্যে আমরা দেখতে পাই :
*عن ابی ھریرة ما طلع النجم صباحا قط وبقوم عاهة إلا رفعت أو خفت*
‘আবু হুরায়রাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল (স.) বলেছেন, যখন সকালে সুরাইয়্যা উদিত হয়, তখন মহামারীতে আক্রান্ত অঞ্চল হতে বালা-মুসীবাত উঠিয়ে নেয়া হয়।’
এই হাদীস হতে উভয় প্রশ্নের উত্তরে জানা গেলো যে, এটি সকালে উদিত হয়। দিন তারিখ সম্পর্কে ইমাম ক্বুরতুবী (রাহ.) বলেছেন, সুরাইয়্যা নক্ষত্রকে বলা হয়। এতে কোনো দ্বিমত নেই। মে মাসের ১১ রাত শেষ হওয়ার পর ১২ তারিখ সকালের সময় হলো এটি উদিত হওয়ার সময়।
যাক, আমার নিজস্ব গবেষণা এবং আল্লামাহ্ ত্বারেক্ব উসমানীর গবেষণার আলোকে করোনা ভাইরাসের বিষয়টিকে এই পর্যন্ত এগিয়ে রাখলাম। তিনি আরো দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। আমি এই দীর্ঘ আলোচনাটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজন মনে করছি না। আলেমরা যারা প্রয়োজন মনে করেন তারা এর উপর ভিত্তি করে আরো গবেষণা চালিয়ে যেতে পারেন। দিতে পারেন দেশ ও জাতিকে আরো নতুন কোনো তথ্য ও উপাত্ত্ব।
তবে আমি মনে করি বাক্বী কাজটি Specialist of Astronomy (জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ) Modern Sciences (আধুনিক বিজ্ঞান) এবং Medical Science বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের কাজ বলে আমি মনে করছি।
আমি এখানে শুধু এইটুকু বলতে চাই, ক্বোরআন-সুন্নাহর মধ্যে Modern Issue & Old Issue বলতে কিচ্ছু নেই। এখানে সকল যুগের মানব সমাজের সকল বাঁকের ও সকল মোড়ের সব সমস্যার সমাধানের স্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে।
////
অতএব পুরো জীবন Beauty & Quality এর পেছনে বহু দৌড়াইছেন। ভোগও কম করেন নি। এখন এসব বাদ দিয়ে Reality র পেছনে দৌড়ান। আর Reality হলো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (স.)। তাই বলছিলাম, রাব্বে কা‘বার ক্বসম এই Reality র পেছেনে দৌড়াতে পারলে সঠিক পথের সন্ধান পেয়ে যাবেন। যে পথ আপনাকে নিয়ে যাবে সোজা জান্নাতে, ইন্ শা আল্লাহ।
লেখক: শায়েখ A.R. Nadwi (দা:বা:)
অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম