09/07/2026
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা: প্রচলিত প্রশ্ন ও উত্তর
আলোচিত বিষয় 'ফটিকছড়ি উত্তর' উপজেলা। "পড়বেন, জানবেন"
✍️ এসএমএইচ শাহজাহান চৌধুরী শিপন
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পরিষদ নিকার (NiCAR) (National Implementation Committee for Administrative Reform), বাংলায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে গুটিকয়েক ব্যক্তির ইন্ধনে অসত্য, অর্ধসত্য, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে উত্তেজনা সৃষ্টি, সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি, দীর্ঘদিনের সকলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নষ্টের পাঁয়তারা, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার, তরুণ ছাত্রনেতৃত্বকে উত্তেজিত করাসহ নানা প্রচেষ্টা চলছে।
সদর দপ্তর কোথায় হবে তা নিয়ে এবং সুয়াবিল ইউনিয়ন সংযুক্ত হওয়া নিয়ে প্রচলিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর।
প্রশ্ন ১: ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর কেন ভূজপুরে হবে?
উত্তর- ফটিকছড়ি উপজেলার দুটি থানা ফটিকছড়ি ও ভূজপুর নিয়ে গঠিত। নতুন একটি উপজেলা গঠিত হলে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান ভূজপুর থানাকে 'ফটিকছড়ি উত্তর' উপজেলা গঠন করা ছিল অবশ্যম্ভাবী। নিকারের সর্বশেষ পরিপত্র অনুসারে উপজেলা, থানা, পুলিশ তদন্তকেন্দ্র গঠনের ক্ষেত্রে সকল প্রয়োজনীয় ক্রাইটেরিয়া ভূজপুর থানা এলাকাটি অর্জন করেছে বিধায় নিকার অনুমোদন দিয়েছে।
প্রশ্ন ২: দাতমারা ইউনিয়নে উপজেলা সদর দপ্তর হওয়া নিয়ে গণশুনানির মতামত নিয়ে প্রশ্ন?
উত্তর - ইতিপূর্বে বছর তিনেক আগে দাতমারা ইউনিয়নে সদর দপ্তর দিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব উপজেলা প্রশাসন পাঠিয়েছে। আমরা কোনো প্রতিবাদ করিনি। কারণ কোনো অবস্থাতেই পরিপত্রের চাহিদা মোতাবেক দাতমারাকে সদর দপ্তর ধরে উপজেলা গঠনের সুযোগ ছিল না। পরিপত্রের চাহিদা পূরণ না করায় তদানীন্তন জেলা প্রশাসক ওই প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনারের নিকট পাঠাননি এবং উক্ত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছিলেন নারায়ণহাটের কয়েকজন নেতা ও একাধিক প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তা। তারা দাতমারায় যেতে আগ্রহী ছিলেন না।
প্রশ্ন ৩: জুজখোলা মৌজায় উপজেলা সদর হওয়ার প্রস্তাব কোন পর্যন্ত গিয়েছিল? এবং কেন বাদ পড়েছে?
উত্তর- ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া জুজখোলা সদর দপ্তর নিয়ে একটি প্রস্তাব দেখা যায়। বাস্তবে ওই প্রস্তাব নারায়ণহাটের কয়েকজন গোপনে পাঠায়, যেখানে ফখরুদ্দিন আবুল বাশার ডিসি স্যারের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু তা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার স্যারের কাছে গেলে নিকারের পরিপত্র এবং উপজেলা গঠনের আইন অনুসারে রিপোর্ট না দেওয়ায় জেলা প্রশাসককে শোকজ করা হয়।
উক্ত প্রস্তাবে সুয়াবিল ইউনিয়নকে যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে সুয়াবিল ইউনিয়ন কোন থানার অন্তর্গত—সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিন।
জুজখোলা থানা থেকে কত কিলোমিটার দূরে?
জুজখোলা উঁচু স্থান কিনা?
জেলা-উপজেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়ক সংযোগব্যবস্থা কেমন?
জুজখোলার আশেপাশে থানা, ব্যাংক, বীমা, হাট-বাজার আছে কিনা?
পরবর্তীতে শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ডিসি ফখরুদ্দিন আবুল বাশার স্যারের ৫ ইউনিয়ন নিয়ে এবং জুজখোলাকে সদর দপ্তর করার প্রস্তাব ফিরে আসে। পরবর্তীতে পুনরায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় হতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠানোর জন্য যে চিঠি ইস্যু করা হয়, তার প্রেক্ষিতে ছয়টি ইউনিয়নকে উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
প্রশ্ন ৪: জুজখোলাকে সদর দপ্তর করার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হয়নি কেন? এটা কোন পর্যন্ত গিয়েছিল? কেন সফল হয়নি?
উত্তর: গত ২৪/০৮/২০২৫ সালে প্রি-নিকার সচিব কমিটির সভায় সদর দপ্তর মাঠ প্রশাসন থেকে প্রস্তাবিত "পশ্চিম ভূজপুর" মৌজায় 'ফটিকছড়ি উত্তর' উপজেলার প্রাথমিক অনুমোদন হয়, স্থানীয় সরকার সচিব মহোদয়ের স্বাক্ষরিত। সেই অনুমোদনের ফাইল অদৃশ্য শক্তি টেম্পারিং করে 'জুজখোলা' নাম উল্লেখ করে একটি প্রস্তাব নিকার সভার জন্য পাঠায়। কিন্তু মাঠ প্রশাসন থেকে কখনোই জুজখোলার স্বপক্ষে কোনো প্রস্তাব আসেনি। চক্রটি টেম্পারিং করতে গিয়ে প্রথম পৃষ্ঠায় সদর দপ্তর "পশ্চিম ভূজপুর" রেখে দেয়। দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় জুজখোলা টাইপ করে ঢুকায়। বিষয়টি পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ধরা পড়ে। এ কারণে সে সময় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে মামলা হয় এবং আদেশও হয়। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন আদালতের নির্দেশনা ও টেম্পারিং বিষয়টি বুঝতে পেরে সম্প্রতি নিকার মিটিংয়ে নতুন করে ভূজপুরকে সদর দপ্তর করে প্রস্তাব পাঠায়। চক্রান্তকারী নেতারা যখন টেম্পারিং করা ওই চিঠি ফেসবুকে ছাড়ে, তখন শুধু দ্বিতীয় পৃষ্ঠার ছবি দেয়। প্রথম পৃষ্ঠা দেয় না। আমার কাছে সব কাগজ আছে। কারো লাগলে আমার কাছে নিয়ে যেতে পারেন।
প্রশ্ন ৫: ভূজপুর কিসের ভিত্তিতে সদর দপ্তর হিসেবে প্রস্তাবিত হয় এবং অনুমোদিত হয়?
উত্তর: একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও ভূজপুরে সদর ঘোষণার কারণ সর্বশেষ পরিপত্র অনুসারে এটাই একমাত্র যুক্তিসংগত সদর দপ্তর। মাঠ প্রশাসন (উপজেলা হতে শুরু করে সর্বশেষ স্থানীয় সরকার সচিব মহোদয় পর্যন্ত পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় সদর দপ্তরের প্রস্তাব গিয়েছিল), অন্য কোনো প্রস্তাবের অস্তিত্ব চট্টগ্রাম থেকে যায়নি এবং তাই এ বিষয়ে আদালত সুস্পষ্ট ডাইরেকশন দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৬: সুয়াবিল ইউনিয়ন নতুন উপজেলায় না থাকার জন্য কী করণীয় ছিল এবং করণীয়সমূহ নিয়ে সুয়াবিলের নেতৃবৃন্দ যথাযথ আইনগত পথে গিয়েছেন কিনা? দীর্ঘ উনিশ বছর থানা থেকে বের হওয়ার কোনো আইনগত/প্রশাসনিক প্রক্রিয়া করেছেন কিনা?
উত্তর: ডিসি বাশার সাহেব যখন সুয়াবিলকে বাদ রেখে ৫ ইউনিয়নের প্রস্তাব পাঠান, বিভাগীয় কমিশনার শোকজ করেছিলেন—নিকারের অনুমোদন ছাড়া কেন সুয়াবিলকে বাদ রাখা হলো। সুয়াবিলকে বাদ রাখার একমাত্র সুযোগ ছিল নিকারের সভার অনুমোদনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া। কিন্তু সুয়াবিলের নেতৃবৃন্দ ও অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া স্যার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিয়ে জনগণকে ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোকেই একমাত্র পথ মনে করেছিলেন। নিকার যদি সুয়াবিলকে ভূজপুর থানা থেকে বাদ দিয়ে ফটিকছড়ি থানায় দিত, আমাদের কোনো আপত্তি থাকত না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মঞ্জুরুল কিবরিয়া স্যারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের একটা যোগাযোগ ছিল এবং সে সময়ে নিকারের বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছিল। তিনি চাইলে নিকারের মিটিংয়ে সুয়াবিলকে বাদ দিতে পারতেন, মূল কাজ ছিল সেটাই।
উপজেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের প্রস্তাব ছাড়া কীভাবে প্রাক-নিকার মিটিংয়ে ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে অনুমোদিত প্রস্তাবকে নিকারের মিটিংয়ে যাওয়ার আগে কারা সুয়াবিল ইউনিয়নকে সহ রেখে জুজখোলায় সদর দপ্তর করতে চেয়েছিলেন? আমি যদি আইনিভাবে এটা মোকাবিলা না করতাম, তাহলে এই জালিয়াতির কারণে সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি ও ভূজপুরের মানুষকে জুজখোলায় যেতে হতো। অথচ সুয়াবিলের মানুষের ১০ কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে দেওয়ার যে সংগ্রাম করেছি, আমাদের যেখানে ফুলের মালা দেওয়া দরকার, সেখানে আপনারা আমাদের বিরোধিতা করছেন। বসে কাগজপত্রগুলো দেখুন, তারপর বুঝতে পারবেন কারা অন্যায় করেছে।
প্রশ্ন ৭: উত্তরের তিনটি ইউনিয়ন উপজেলা হওয়ার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ কিনা? দুর্বলতাগুলো কী, জেনে নিন।
উত্তর: একটা এলাকাকে উপজেলা গঠনের জন্য শুধু আয়তনই শেষ কথা নয়। তাহলে বাঘাইছড়ি উপজেলা ১৬০০ বর্গকিলোমিটারের একটি উপজেলা থাকত না। ভেঙে অনেকগুলো উপজেলা হতো। ইউনিয়ন সংখ্যা, জনসংখ্যা, রাজস্ব আয়, ব্যবসাকেন্দ্রসহ ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে না। এখনো তিনটি ইউনিয়নের ব্যাপক রাজস্ব বকেয়া। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে জিজ্ঞেস করুন, সঠিক তথ্য জানতে পারবেন।
প্রশ্ন ৮: উত্তরের তিন ইউনিয়নকে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিনা? বিভক্তির প্রস্তাব দেওয়ার পর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা?
উত্তর: প্রশাসনের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আবেদনে উপজেলা প্রশাসন এই তিনটি ইউনিয়নকে ৮টি ইউনিয়নে ভাগ করার প্রস্তাব পাঠায়। সব তথ্য-উপাত্ত দেন একজন শিল্পপতি চৌধুরী সাহেব। প্রায় বছর খানেক আগে দেওয়া এই ইউনিয়ন ভাগ করার প্রস্তাব আজও ডিসি অফিসে পড়ে আছে। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেদের পছন্দের কিছু নাম দিয়ে ইউনিয়নের প্রস্তাব করায় তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। কিন্তু আজও ইউনিয়নগুলো ভাগ হয়নি।
প্রশ্ন ৯: উপজেলা করার ক্ষেত্রে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমরা পজিটিভ ছিলাম। আর আপনারা নিজের স্বার্থে কিছুক্ষণ পজিটিভ, কিছুক্ষণ নেগেটিভ কেন ছিলেন?
উত্তর: উন্নয়নের স্বার্থে উপজেলা যে কোনো প্রকারে হোক, সে কারণে ভূজপুর+হারুয়ালছড়ি পজিটিভ ছিলাম। আপনাদের সঙ্গে সুন্দর একটা সমাধানের পথ বের হয়েছিল। কিন্তু নারায়ণহাটের সেই ব্যক্তিদ্বয় সমাধানের আশা ভঙ্গ করে রাতের আঁধারে নিজেদের কেনা জমিকে উপজেলা সদর দেখিয়ে নিকারের পরিপত্র ভায়োলেট করে প্রস্তাব পাঠায়। বৃহত্তর স্বার্থে আমরা কিছুটা ছাড় দিলেও তাদের চুক্তি ভঙ্গের কারণেই রাতারাতি জায়গার ব্যবসা করে কোটিপতি হয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর থেকে বৃহত্তর এলাকার জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছেন।
প্রশ্ন ১০: নিকার সভার সিদ্ধান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভূজপুর পক্ষের কোনো শক্তি প্রয়োগ, চাপ প্রয়োগ বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল কিনা?
উত্তর: নিকার কমিটির সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সদস্য হলেন সরকারের সবচেয়ে সিনিয়র মন্ত্রীরা। অর্থমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীরা এই কমিটির সদস্য। কমিটিকে সচিবিক সহায়তা দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। স্থানীয় সরকার সচিব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকেন।
এরকম একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের কমিটিকে প্রভাবিত করার অভিযোগ শিশুসুলভ। বরং এ ধরনের প্রশ্ন তোলা মানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল।
প্রশ্ন ১১: নতুন উপজেলা হওয়ায় উত্তরসহ সর্বস্তরের জনগণের লাভ হয়েছে, নাকি ক্ষতি হয়েছে?
উত্তর: ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা যে বরাদ্দ পেত, এখন আমরা ছয়টি ইউনিয়ন সমপরিমাণ বরাদ্দ পাব। নতুন একটি উপজেলা গঠনে আগামী ৫ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন হবে। এই উন্নয়নের প্রধান এলাকাই হবে উত্তরের তিন ইউনিয়ন। জনসংখ্যা অনুসারে বাজেট বরাদ্দ হওয়ায় বাগানবাজার ও দাতমারা ইউনিয়নই সর্বাধিক বরাদ্দ পাবে।
দুটি নতুন পৌরসভা হবে হেয়াকো ও কাজীরহাট।
নতুন একটি হাসপাতাল হলে দূরত্ব কমবে ১৭ কি.মি। নতুন সদর দপ্তর হলে বর্তমান সদর থেকে দূরত্ব কমবে ১২ কি.মি।
প্রশ্ন ১২: নতুন করে মামলা করলে উত্তরের জনগণের জন্য ভালো হবে, নাকি মন্দ হবে?
উত্তর: নিকার মিটিংয়ের আগে প্রত্যেকটি কাগজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাইপূর্বক মিটিং আয়োজন করে এবং সে অনুমোদন দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ভূজপুরের মানুষ মামলাকে ভয় পায় না। ১৭ বছর মামলা নিয়ে বেঁচে ছিল এ অঞ্চলের মানুষ। তাই নতুন মামলা করলেও আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাব। তবে যাদের কারণে গেজেট হওয়ার পরও নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হবে, তাদেরকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ আটকে থাকলে তাদেরকে কেউ ক্ষমা করবে না।
'ফটিকছড়ি উত্তর' উপজেলা গঠনের পক্ষে দীর্ঘদিন কাজ করছি। গত ১৫ দিন নাওয়া-খাওয়া ভুলে বিভিন্ন অফিসে অফিসে, বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছি। আমি এবং আমাদের জনগণ কখনো উপজেলা সদর নিয়ে বাড়াবাড়ি করিনি। সবসময়ই ছাড় দিয়েছি। বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চেয়েছি।
আমি যেসব উত্তর দিয়েছি, তার পক্ষে সকল প্রমাণ ও ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। কারো যদি দেখতে ইচ্ছা থাকে, আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেই দেখাব।
সর্বসাধারণ, তরুণ প্রজন্ম—আপনারা অসত্য, অর্ধসত্য জানবেন না। সত্যিটা জানুন। আপনাদেরকে যারা অসত্য তথ্য দিচ্ছে, তাদেরকে প্রশ্ন করুন, জবাব নিন। রাস্তার আন্দোলন আর ডকুমেন্টারি বিষয় ভিন্ন জিনিস।
আর আমার ভূজপুর এলাকার সকল জনগণকে অপপ্রচার/প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে ধৈর্যসহকারে ন্যায্য দাবি আদায় পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
مَاۤ أَصَابَكَ مِنۡ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللّٰهِۖ وَمَاۤ أَصَابَكَ مِنۡ سَيِّئَةٍ فَمِنۡ نَّفۡسِكَ
‘তোমার যে কল্যাণ হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। আর যে অকল্যাণ হয়, তা তোমার নিজের আমলের কারণে হয়।’ (সূরা আন-নিসা: ৭৯)