09/01/2023
ফ্রিল্যান্সিং কি ভবিষ্যতে বন্ধ হয়ে যাবে ?
আমাদের লাইফ আস্তে আস্তে অনলাইন হয়ে যাচ্ছে । যেমন আমাদের কেনাকাটা-ব্যাবসা, এডুকেশন, অফিস, ট্রান্সপোর্ট, ফুড ইত্যাদি সবকিছুই অনলাইনে হয়ে যাচ্ছে ।
আগে আমরা সরাসরি দোকানে গিয়ে জিনিস কিনতাম কিন্তু এখন বেশীরভাগ জিনিসই অনলাইনে কিনি। কারণ অনলাইনে কেনাকাটা করা সহজ, ঝামেলামুক্ত, সময় সাশ্রয়ী । এছাড়া আরো অনেক সুবিধা আছে ।
তাই ভবিষ্যতে দোকান বা মার্কেট নামে কোন কিছু থাকবে না । আমাদের সকল কেনাকাটা হবে শুধুমাত্র অনলাইনে ।
যতই আমাদের লাইফ অনলাইনে হচ্ছে ততই ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব বাড়ছে । কারণ একটা প্রতিষ্ঠান যখন অনলাইনে হয় তখন তার অনেকজন ডিজিটাল মার্কেটার প্রয়োজন হয়।
উদাহরণ দিচ্ছি: মনে করুন কাসেম ফ্যাশন হাউজ নামে একটি দোকান আছে । সেখানে ৫ জন কর্মচারী আছে যারা সরাসরি দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করে । এখন কাসেম ফ্যাশন এর মালিক দোকানটি বন্ধ করে দিয়ে আরো বেশী বিক্রির জন্য পুরোপুরি অনলাইনে চলে গেল ।
এখন অনলাইনে ব্যাবসা করলে তো সরাসরি সেলসম্যানের কোন দরকার নাই । তাই ঔই ৫ জন কর্মচারীর চাকরী চলে গেল । এখন তার নতুন করে ১০ জন ডিজিটাল মার্কেটার নিয়োগ দিতে হবে । যেমন: ১জন ফেসবুক মার্কেটার, ১ জন ইউটিউব মার্কেটার, ১ জন এস.ই.ও এক্সপার্ট, ১ জন ওয়েব সাইট মেনটেইন, ১ জন অনলাইনে অর্ডার কালেকশন, আরেকজন কাষ্টমারের সাথে চ্যাটিং করা, আরেকজন প্রোডাক্ট এর গ্রাফিক্স ও ভিডিও তৈরী করার জন্য । এইভাবে তার কমপক্ষে ১০ জন লোক প্রয়োজন হবে যারা সবাই কম্পিউটারে বসে কাজ করবে অথবা সহজ করে বললে ডিজিটাল মার্কেটিং করবে ।
মালিকের ইনকাম ও অবশ্য বেশী হবে । আগে সরাসরি দোকানে যদি সে দিনে ১লাখ টাকা সেলস করতে এখন স্বাভাবিকভাবে সে পুরো দেশে ১০ লাখ টাকা সেল করতে পারবে ।
এইভাবে একটা প্রতিষ্ঠান যখন অনলাইনে কনভার্ট হয় তখন অনেক জন ডিজিটাল মার্কেটারের প্রয়োজন হয় । বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরো অনেক বেশী অনলােইনে কাজ করার লোক প্রয়োজন হয় ।
যতই দিন যাচ্ছে ততই মানুষের এই অনলাইন নির্ভরতা বাড়ছে । আর এই অনলাইনে কাজ করাই হল : ”ফ্রিল্যান্সিং”
এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন ভবিষ্যতে কি ফ্রিল্যান্সিং বাড়বে নাকি কমে যাবে ।
বাংলাদেশে চাকরী কম, বেকার বেশী । কিন্তু পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে ঠিক উল্টো অবস্থা, চাকরী বেশী কিন্তু সেই চাকরী করার জন্য প্রার্থী নাই । এটাকে সমাধান করেছে অনলাইন তথা ফ্রিল্যান্সিং। অনলাইনে কোন ন্যাশনাল বর্ডার নাই, কোন ভিসা-পাসপোর্ট লাগে না। খুব সহজেই আপনি দেশে বসে বিদেশী কোম্পানীতে এপ্লাই করতে পারেন, অনলাইনে ইন্টারভিউ দিতে পারেন, অনলাইনে কাজ করতে পারেন এবং সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে সেলারী নিতে পারেন।
উন্নত বিশ্বের সকল চাকরীই এখন অনলাইন হয়ে যাচেছ এটা আমাদের মত বেকার পূর্ণ দেশের জন্য একটা ব্লেসিং । ভবিষ্যতে চাকরী বলতেই আমরা বুঝবে অনলাইনে জব ।
আরেকটি মজার বিষয় হল অনলাইন জবে সেলারী দেয়া হয় ডলারে । যে চাকরীর জন্য বাংলাদেশে আপনি ২০ হাজার টাকা বেতন পাবেন ঠিক সেই চাকরীই আপনি বিদেশী কোন কোম্পানীতে অনলাইনে করলে পাবেন ২ হাজর ডলার । এই দুই হাজার ডলার তাদের জন্য খুবই কম কিন্তু আমাদের জন্য অনেক বেশী । বাংলা টাকায় কনভার্ট করলে যেটা হয় প্রায় ২ লাখ টাকা । তার মানে আপনি দেশে কাজ করে যা ইনকাম করেন সেই কাজ অনলাইনে বিদেশী কোন কোম্পনির জন্য করলে তার দশগুণ টাকা ইনকাম করা যাবে ।
আর অনলাইন জব অনেক সিকিউর । কারণ একটি চাকরী গেলে আপনি দিনে দিনে আরো ১০ টি চাকরী যোগার করতে পারবেন । সারা পৃথিবীর জব মার্কেট আপনার জন্য ওপেন ।
কিন্তু যতই চাকরী থাকুক আপনার খুশী হওয়ার কোন কারণ নাই । এই চাকরীগুলো করতে হলে আপনাকে খুব ভালভাবে কাজগুলো শিখতে হবে এবং কাজগুলো বার বার করার মাধ্যমে স্কীল অর্জন করতে হবে । তাহলেই সারা পৃথিবী আপনার ।
পৃথিবী বদলে যাচ্ছে, সেই সাথে বদলে যাচ্ছে জব এর ধরণ । এই পরিবর্তনের সাথে যারা খাপ খাওয়াতে পারবে তারাই টিকে থাকবে । যারা নতুন টেকনোলজি এডোপ্ট করতে পারবে না তারা হারিয়ে যাবে।