06/11/2022
মেথি একটি একটি ভেষজ মৌসুমী গাছ। মেথি সবাই চেনেন। মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য-তিনটিই বলা চলে। মেথির স্বাদ তিতা ধরনের। এর পাতা শাক হিসাবে খাওয়া হয়। মেথি শাক গ্রাম বাংলার মানুষের প্রিয় খাদ্য। ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিত্সায় মেথির বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। যুগ যুগ ধরেই মেথির বীজ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মশলা হিসাবেও এটি প্রচুর ব্যবহার হয়। এটি পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। মেথি থেকে ষ্টেরয়েডের উপাদান তৈরি হয়।
এতে রয়েছে রক্তের চিনির মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি ও তারুণ্য ধরে রাখার বিস্ময়কর এক ক্ষমতা। যাঁরা নিয়মিত মেথি খান, তাঁদের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণটা অত্যন্ত ধীর গতির হয়। অর্থাত্ বার্ধক্যকে দূরে ঠেলে দিয়ে তারুণ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে মেথি।
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চিবিয়ে মেথি খেলে অথবা এক গ্লাস পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি খেলে শরীরের রোগ-জীবাণু মরে যায় বলে জানা যায়, বিশেষত কৃমি মরে, রক্তের চিনির মাত্রা কমে। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা কমে যায়।
ঐতিহ্যগতভাবেই মেথি বীজ ব্যবহৃত হয়ে আসছে ভালো স্বাস্থ্য ও শক্তিশালী চুলের জন্য। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে যে মেথির উপকারিতা আরো অনেক বেশি আছে। এই গরমে ত্বকে যে ঘা, ফোড়া, গরমজনিত ত্বকের অসুখ হয়, এই অসুখগুলো দূর করে মেথি। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, যে ডায়াবেটিক রোগীরা নিয়মিত মেথি খান, তাঁদের ডায়াবেটিসজনিত অসুখগুলো কম হয় এবং স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম। মেথি বীজের নানাবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়েই জানবো আজকের ফিচারে।
মেথি দেখতে কেমন
মেথি দেখতে মেথির মত। তবে মেথিকে দেখতে অনেকটা মুগ ডালের মত ছোট সাইজের। দেখে এই পার্থক্য মনে হবে যে মেথিকে বোধহয় কেউ ইচ্ছামত পিটাইছে। মানে মেথির শরীর অমসৃণ।
মেথির উপকারিতা
মেথি দেখতে এতটা সুন্দর না হলে মেথির উপকারিতা'র লিস্ট অনেক বড়। মেথির গুণাগুণ দেখলে একে অন্যতম সুপারফুড বলা চলে। আসুন স্বাস্থ্যবিষয়ক মেথির উপকারি দিকগুলো জেনে ফেলি।
১. ওজন কমাতে সহায়ক
মেথি প্রাকৃতিক ফাইবার থেকে জন্ম নেয়। এতে রয়েছে ওজন কমানোর বৈশিষ্ট্য। প্রাকৃতিক আঁশে ভরপুর মেথি খাওয়ার পর তা পেটে গিয়ে ফুলে যায়। আর এই আঁশ ওটের মত হজমে সময় নেয় আর তাই ক্ষুদা কম অনুভূত হয়। এ প্রক্রিয়ায় ওজন কমাতে সহায়তা করে মেথি। খুব বেশি নয়, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সামান্য মেথি চিবিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন। কয়েক দিন পরেই এর উপকার পাচ্ছেন বলে মনে হবে। স্থুলতা কমাতে প্রতিদিন সকালে মেথি ভেজানো পানি পান করা যেতে পারে। দু'টি গ্লাসে পানি নিয়ে এক টেবিল চামচ করে মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খেয়ে ফেলুন। মেথি ভেজানো পানি পেটের গ্যাসের সমস্যাও দূর করে।
২.কোলেস্টেরল কমাতে
মেথিতে রয়েছে স্টেরিওডাল সেপোনিনস নামক একটি উপাদান। এই উপাদানটি মানুষের শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর তাই মেথি ভেজানো পানি পান করলে হঠাত্ হার্টের আর্টারি আটকে গিয়ে হঠাত্ করে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।
৩. হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে
কার্ডিওভাস্কুলার স্বাস্থ্যের উপর তাত্পর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে মেথি বীজ। মেথিতে গ্লেকটোম্যানান নামক একটি উপাদানের খোঁজ পাওয়া গেছে । এই উপাদানটি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। একই সাথে এই উপদানে উপস্থিত পটাশিয়াম, রক্তে লবনের পরিমাণ কমায়। ফলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য হৃদ রোগ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা একেবারে শূন্যের কোটায় এসে দাঁড়ায়। কোন কারনে হার্ট এটাক হলে অ্যাটাকের সময় যে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয় তার বিরুদ্ধে কাজ করে মেথি বীজ।
৪. ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ
রক্তে ধীরে ধীরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের ক্যান্সার কোষ জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। আর এখানেই মেথি বীজের উপকারি ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মেথি রক্তে ভেসে বেড়ানো টক্সিক উপাদানগুলোকে শরীর থেকে বার করে দেয়। ফলে ক্যান্সার কোষ জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাই কমে যায়। বিশেষ করে স্তন ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য মেথি কার্যকর। মেনোপজ হলে নারীর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আসে। হরমোনের এই পরিবর্তনের কালে মেথি ভালো একটি পথ্য।
৫. সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিক রোধে
কম বয়সেই ব্লাড সুগার যদি ঊর্ধমুখি থাকে তাহলে নিয়মিত মেথি ভেজানো পানি খাওয়া উচিত। এমনটা করলে শরীরে গ্লেকটোমেনানের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যা শর্করার শোষণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। র অ্যামাইনো এসিড অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন ক্ষরণে সহায়তা করে। এতে দেহে গ্লোকোজের পরিমাণ হ্রাস পায়। যে কারণেও ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। রক্তে চিনির মাত্রা কমানোর অসাধারণ এক শক্তি থাকায় ডায়াবেটিস রোগের জন্য খুব ভালো মেথি। এর ফলে ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে থাকে।
টাইপওয়ান ডায়াবেটিক যাদের, তাদের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৫০ গ্রাম করে মেথি দিনে দুবার খাওয়ার কথা বলেন আয়ুর্বেদিকরা। টাইপ টু ডায়াবেটিক যাদের তাদের জন্য ২.৫ গ্রাম করে মেথির গুঁড়ো দিনে দু'বার টানা তিন মাস খেলে উপকার পাবার কথা জানা যায়।
৬. হজমের সহায়ক
বাঙ্গালী ভোজন রসিক জাতি হিসেবে পরিচিত তাই পেটের পীড়া আমাদের স্বাভাবিক একটা সমস্যা। অন্ত্রের নড়াচড়া বৃদ্ধি করে মেথি। যাঁদের পেট জ্বালা বা হজমে সমস্যা আছে, তাঁরা নিয়মিত মেথি খেতে পারেন। হজমে সমস্যা এবং বুক জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা সমাধানে সহায়ক মেথি। বুকে বা পেটের ওপরের দিকে এসিডের প্রদাহ থেকে মুক্তি দেয় মেথি। সেই সঙ্গে বদহজমের সমস্যায় ওষুধের মতো কাজ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এ সবই দেহের বিষাক্ত উপাদানগুলোকে বের করে দেয়। এমন কি পেপটিক আলসার সারিয়ে তোলার যোগ্যতা রাখে। উপকার পেতে নিয়মিত সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো পানি খেলে কনস্টিপেশনের সমস্যাও অনেকাংশে দূর হয়।
৭. খুশকির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় খুশকি হওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। শীত-মৌসুমে