17/01/2024
প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস আর ঐতিহ্যে যে নামটি তার আভিজাত্য আর নিজস্ব মহিমা নিয়ে জ্বলজ্বল করছে, তা হলো মসলিন, ঢাকাই মসলিন।
একসময়ে শুধু বাংলা বা মুঘল রাজদরবারই নয়, বরং সমগ্র পৃথিবীজুড়েই অতি সূক্ষ্ম, মিহি, মোলায়েম আর উজ্জ্বল এই বস্ত্র ছিলো চাহিদার শীর্ষে।
এস. সি. বার্নেল ও হেনরি ইউল নামের দুজন ইংরেজ কতৃক প্রকাশিত অভিধান 'হবসন জবসন'-এ উল্লেখ করা হয়েছে মসলিন শব্দটি এসেছে 'মসুল' থেকে।
ইরাকের এক বিখ্যাত ব্যবসাকেন্দ্র হল মসুল। এই মসুলেও অতি সূক্ষ্ম কাপড় প্রস্তুত হত।’মসুল' এবং 'সূক্ষ কাপড়' -এ দুয়ের যোগসূত্র মিলিয়ে ইংরেজরা অতিসূক্ষ্ম কাপড়ের নাম দেয় 'মসলিন'। অবশ্য বাংলার ইতিহাসে ‘মসলিন বলতে বোঝানো হয় তৎকালীন ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উৎপাদিত অতি সূক্ষ্ম এক ধরনের কাপড়কে।
প্রথম খ্রিস্টাব্দের প্রথম শতকেই রোম সাম্রাজ্যের স্বর্নযুগে অভিজাত রোমান নারীরা ঢাকার মসলিন পরে দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শন করতে ভালোবাসতেন। একই শতকে রচিত ‘পেরিপ্লাস অব দ্য এরিথ্রিয়ান সি’ শীর্ষক গ্রন্থে মসলিন সম্পর্কে বিশেষ ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। " এতে মোটা ধরনের মসলিনকে মলোচিনা, প্রশস্ত ও মসৃণ মসলিনকে মোনাচি এবং সর্বোৎকৃষ্ট মসলিনকে গেনজেটিক বা গঙ্গাজলী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।" নবম শতকে রচিত আরব ভৌগোলিক সোলাইমানের 'সিলসিলাত উত তাওয়ারীখে 'রুমি' নামক একটি রাজ্যের বিবরণ পাওয়া যায়। সেখানে এমন সুক্ষ্ম ও মিহি সুতি বস্ত্র পাওয়া যেত যে, ৪০ হাত লম্বা ও ২ হাত চাওড়া। এক টুকরো কাপড় আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে পার করা যেতো। তৎকালীন এই বস্ত্র তিনি সেখানে ব্যতীত আর কোথাও দেখেন নি।
আর এই রুমি রাজ্যকে বাংলাদেশের সাথে অভিন্ন ধরা হয়। চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলায় আগত মরক্কো দেশীয় পর্যটক ইবনে বতুতা তাঁর ‘কিতাবুর রেহালায়' সোনারগাঁওয়ে তৈরি সুতি বস্ত্রের বিশেষ প্রশংসা করেন।
পঞ্চদশ শতকে বাংলাদেশে আসা চীনা লেখকরা ও এখানকার সুতি বস্ত্রের ভুয়সী প্রশংসা করেন। মোগল সম্রাট আকবরের সভাসদ আবুল ফজল' পর্যন্ত সোনারগাঁওয়ে প্রস্তুতকৃত এই সুক্ষ্ম সুতি বস্ত্রের প্রশংসা করতে ভুলেন নি। এভাবে সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণার পর থেকেই ইউরোপিয় ব্যবসায়ীরা বাংলায় আসা শুরু করেন।
এসকল বণিক কোম্পানি গুলোর তৎকালীন দলিল-দস্তাবেজ এবং সমকালীন ইউরোপীয় লেখকদের বিবরণ থেকে মসলিন সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। অবশেষে, ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে ইংরেজরা ক্ষমতাকে তাদের হস্তগত করে ফেলার পর আস্তে আস্তে মসলিন বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে এবং একটা সময় মসলিন হারিয়ে যায়।
একবার ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন তৎকালীন বঙ্গদেশ ভ্রমণে। ফেরার সময় রানীর জন্য নিয়ে গেলেন এক আজব উপহার। একটি মাত্র দেশলাইয়ের বাক্স নিয়ে তিনি রানীর সামনে উপস্হিত হলেন! সভাসদ সবাই অবাক। রানীর হাতে এই উপহার তুলে দিতেই রানী ভীষণ অপমান বোধ করলেন। কিন্তু দেশলাইয়ের বক্স খুলতেই রানীর সমস্ত রাগ, অপমান কর্পূরের মতো নিমেষেই উড়ে গেলো। এ যে মসলিন! এত স্বচ্ছ, মিহি আর নজরকাড়া কাপড় তিনি কখনোই দেখেননি। মসলিন পেয়ে রানীর মন ভরে গেলো, আর রাষ্ট্রদূতের পকেট ভরলো বকশিশে। মসলিনের ঐতিহ্য, সমৃদ্ধি আর জনপ্রিয়তা নিয়ে এমন আরো বহু ঘটনা রয়েছে। আসেন এবারে একটু জেনে নেয়া যাক মসলিন তৈরির কাহিনী।
ঢাকার পাশে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়াতে ফুটি কার্পাস নামে একধরনের বিশেষ তুলা গাছ উৎপন্ন হতো। সেই গাছের তুলা থেকে পাওয়া যেত একধরনের বিশেষ সুতা। সেই সুতাকে আবার মিহি আর মসলিন তৈরির উপযুক্ত করে তোলার জন্য বোয়াল মাছের দাঁত আর বাঁশের ধনু দিয়ে পরিষ্কার করার পর চরকায় কাটা হতো। কারিগরেরা ধাপে ধাপে মসলিন বোনার প্রক্রিয়া মনে রাখার জন্য বিভিন্ন শ্লোক বা ছন্দ মনে রাখতেন। এইসব তাঁতীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভালোবাসায় তৈরি হতো একেকটি মসলিন। একেকটি স্বপ্ন, একেকটি আনন্দঘন মুহূর্ত।
তো দেখা যাচ্ছে, মসলিন বিশেষ এক ধরনের তুলার আঁশ থেকে তৈরি সূতা, যা দিয়ে তাঁতের সাহায্যে বুনন করা এক প্রকারের খুব সূক্ষ্ম কাপড়, এইটাই ঢাকাই মসলিন নামে পরিচিত। ফুটি কার্পাস তুলা থেকে তৈরি অতি চিকন সুতা দিয়ে মসলিন তৈরি করা হত। চড়কা দিয়ে কাটা, হাতে বোনা মসলিনের জন্য সর্বনিম্ন ৩০০ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হত যার ফলে মসলিন হত কাচের মত স্বচ্ছ। এই মসলিন রাজকীয় পোশাক নির্মাণে ব্যবহার করা হত। মসলিন প্রায় ২৮ রকম হত যার মধ্যে জামদানি অন্যতম এবং এখনও ব্যাপক আকারে প্রচলিত।
মসলিন মূলত ঢাকা এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে তৈরি হতো। মসলিন তৈরির জন্য শীতলক্ষ্যার পাড়ের আবহাওয়া ছিলো সবচেয়ে উপযুক্ত। মসলিনে সুতা এতই সূক্ষ্ম ছিলো যে সকাল কিংবা সন্ধ্যাবেলার শীতল আর স্নিগ্ধ পরিবেশ ছাড়া এই সুতা কাটাই যেতো না। অনেকে মনে করেন, ১৮ থেকে ৩০ বছরের মেয়েরাই এই সুতা কাটতে পারতো।
প্রাচীনকালে এই মহামূল্যবান কাপড় ভারতীয় উপমহাদেশে মলমল নামে পরিচিত ছিলো।চীনের পরিব্রাজক মা হুয়ান তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে ১৭ ধরনের ঢাকাই মসলিনের কথা লিখে গেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো খাসসা (ঘন বুননের মসলিন), আল্লাবালী (অতি সূক্ষ্ম মসলিন), শরবতী (শরবতের মতো স্বচ্ছ), নয়ন সুখ (মোটা মসলিন), দোরিয়া (ডোরাকাটা মসলিন), তেরিন ডাম (সাধারণ মসলিন), সিরবন্দ (পাগড়ি বাঁধার কাজে ব্যবহৃত হতো), বদন খাস (মিহি মসলিন) ইত্যাদি। মূলত সূক্ষ্মতা আর বুননের ভিত্তিতেই এসব নামকরণ।
এছাড়াও ছিলো ঝুনা, শবনম আর জামদানি মসলিন। ঝুনা মসলিন এতটাই সূক্ষ্ম ছিলো যে এটি পরলে মনেই হতো না যে কাপড় পরা হয়েছে।
দেশীয় ধনীদের অন্তঃপুরের নারীরা ঝুনা মসলিন ব্যবহার করতেন। তাছাড়াও আমির, ওমরাহ ও স্থানীয় গণ্যমান্য লোকেরা গরমের দিনে ঝুনা মসলিন দিয়ে তৈরি জামা পরতেন। শবনম মসলিনও নিপুণতায় ঝুনা মসলিন থেকে কোনো অংশে কম ছিলো না।
শবনম তৈরি করে সকালবেলায় ঘাসে শুকাতে দিলে শিশিরের থেকে আলাদা করে চেনা খুব কষ্টকর ছিলো। দৈর্ঘ্যে বিশ গজ আর প্রস্থে এক গজ এক টুকরো শবনমের ওজন ছিলো বড়জোড় বিশ কি বাইশ তোলা! অন্যদিকে তাঁতে যেসব মসলিনের নকশা করা হতো, তার নাম ছিলো জামদানি। দক্ষ কারিগরের হাতের নিপুণ শৈল্পিকতায় তৈরি এসব জামদানি- মসলিন, এগুলির চাহিদা আর দাম দুই-ই ছিলো খুব চড়া। ধারণা করা হয়, এই জামদানি-মসলিন থেকেই পরবর্তীকালে জন্ম নিয়েছে ঢাকাই জামদানি।
তবে সবচেয়ে সেরা মসলিন ছিলো ‘মলবুল খাস’। মলবুল খাসের আভিজাত্য আর নিপুণতা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো অন্যসব মসলিনকে। মুঘল সম্রাট ও তাঁর পরিবার থেকে শুরু করে সরকার-ই-আলা, বাংলার নবাব সুবেদারদের মতো উচ্চপর্যায়ের মানুষদেরই কেবল এই ‘মলবুল খাস’ ব্যবহার করার অধিকার ছিলো।
প্রাচীন বাংলার চীনা পর্যটক হিউয়ান সাং বলেন “মসলিন, যেন ভোরের এক ধোয়াচ্ছন্ন আলো”। আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক এই মসলিন এতটাই সূক্ষ্ম ছিলো যে কথিত আছে একটি আংটির ভেতর দিয়েই গলানো যেত গজের পর গজ কাপড়। সূক্ষ্মতা সম্পর্কে অনেকে বলে থাকেন, ৫০ মিটার মসলিন কাপড় নাকি একটা দেশলাইয়ের বাক্সে অনায়াসেই এঁটে যেতো!
মসলিনের স্বচ্ছতা সম্পর্কে বহু ঘটনা লোকমুখে প্রচলিত আছে। একবার মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মেয়ে সম্রাজ্ঞী জেবুন্নেসা মসলিন পড়েছিলেন বলে তার বাবা তাকে ভীষণ বকুনি দিলেন। অত স্বচ্ছ কাপড় সম্রাটের কাছে অশালীন লাগছিলো। জেবুন্নেছা তখন পিতাকে বললেন, “জাঁহাপনা আমি সাত স্তরের মসলিন জামা পরেছি।”
নানা কারণে আঠারো শতকের শেষের দিকে বাংলায় মসলিন বোনা বন্ধ হয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে, জেমস টেইলরের রচনা অবলম্বনে ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম তাঁর ‘ঢাকাই মসলিন' গ্রন্থে উদ্বৃতি পেশ করেন। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন যে, সমসাময়িক লেখকদের (যেমন, জেমস টেলর, বোল্ট, জন টেলর প্রমূখ) বিবরণের অভাবে প্রকৃতপক্ষে মোগল আমলে মসলিন কত সুক্ষ্ম ও মিহি ছিল তার কোন সঠিক ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।
ইংরেজ ইতিহাসবিদদের লেখাতে এ বিষয়ে কিছু মতামত পাওয়া গেলেও সেগুলো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ, তাদের কেউই মোগল আমলের স্বর্ণযুগ দেখেনি। এছাড়াও তাদের মাঝে পরষ্পর বিরোধী অসংখ্য মতানৈক্যের ছড়াছড়ি লক্ষ্যণীয়। তারা এমন সময় বাংলায় আসেন যখন বাংলায় মসলিন শিল্প বিলুপ্তির পথে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। একটি বিষয় চিন্তা করলে বুঝা যায় যে, উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তৈরি আধা টুকরা একখানি মসলিন (১০গজ × ০১গজ) ১৮৫১ সালে বিলেতের প্রদর্শনীতে প্রদর্শন করা হয়েছিল, এর ওজন ছিলো আট তোলা।
পাশাপাশি, ঢাকা জাতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত মসলিন খানির দৈর্ঘ্যও ১০ গজ এবং চওড়া ১ গজ, এর ওজন মাত্র ৭ তোলা। তাহলে ঢাকার মসলিন মোগল শিল্পের স্বর্ণযুগের চেয়ে যে আরো সুক্ষ্মভাবে তৈরি করা যেতো সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।
‘অ্যা স্কেচ অফ দ্য টপোগ্রাফি এন্ড স্ট্যাটিস্টিকস অফ ঢাকা’ বইয়ে মসলিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে জেমস টেলর লেখেন, “ঢাকাই মসলিন মানুষের কাজ নয়। এটা পরীদের কাজ।” মসলিন তৈরির পেছনে জড়িয়ে আছে অনেক না বলা গল্প। এই এত দামের মসলিন যারা তৈরি করতো, তাদের জীবন যে খুব একটা সুখের ছিলো তা কিন্তু নয়। খুবই মানবেতর অবস্থায় তাদের দিন কাটতো। লাভের বেশির ভাগই লুফে নিতেন ফড়িয়া ও মুনাফালোভী বণিকরা।
ভারতে ব্রিটিশশাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে ঊনবিংশ শতাব্দীতে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা কাপড়ের উপরে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়, যেখানে ব্রিটেনে প্রস্তুত করা আমদানিকৃত কাপড়ের উপরে মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ কর ছিল। এর ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের তাঁতশিল্পে ধস নামে।
কথিত আছে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা মসলিন উৎপাদন বন্ধ করার জন্য মসলিন বয়নকারী তাঁতিদের হাতের বুড়ো আঙুল কেটে দেয়। তবে অধুনা অন্য আরেকটি দাবি বেশ যৌক্তিকভাবে সামনে উঠে এসেছে।তা হল, তাঁতিদের আঙ্গুল ব্রিটিশরা নয়, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের আঙ্গুল কেটে ফেলেছিল, যাতে এই তাঁতের কাজ আর না করতে হয়।
মূলত অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা, বাজার ধ্বস, কাঁচামালের অপ্রাপ্যতা, জলবায়ু পরিবর্তন আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে সম্পূর্ণভাবেই বিলুপ্ত হয়ে যায় মসলিন। এখন শুধু জাদুঘরেই এর দেখা মেলে।
আশার কথা, বর্তমানে দেশের মানুষ সহ প্রশাসন মসলিনের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক মান উপলব্ধি করতে পেরেছে। তাই চলছে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা, রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের পরিচালক ও বায়োটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল এ নিয়ে কাজ করছেন। চলছে ফুটি কার্পাস গাছের অনুসন্ধান। সেই দেয়াশলাইয়ের বাক্সে আঁটবে এমন মসৃণ মসলিন তারা তৈরি করতে পারবেন, এমনটা না যদি নাও হয়, তবু তাদের আশা আদি মসলিনের কাছাকাছি মসলিন তৈরি করা নিশ্চয়ই সম্ভব হবে।
এছাড়াও সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে কাজ চলছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় জাদুঘরে আড়ং, দৃক গ্যালারি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মাসব্যাপী মসলিন উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে মসলিনের হারানো ঐতিহ্য, ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় মসলিনের কাছাকাছি তৈরি কাপড়ের ফ্যাশন শো।
আভিজাত্য আর অনন্যতার প্রতীক হিসেবে বিশ্ববাজারে এখনও মসলিনের চাহিদা রয়েছে বলে মনে করেন আয়োজকেরা। কেননা ভারতের খাদি মসলিন বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ব্যাবসা করে, সেক্ষেত্রে আমাদের আসল ঢাকাই মসলিনের চাহিদা যে আরো ও বেশি হবে সেটা বলা যায় নিঃসন্দেহে।
মসলিন আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের অহংকার। আমাদের জাতিসত্তার একটি অংশ। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা আর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে নিশ্চয়ই মসলিন একদিন তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে । সেদিন হয়তো মসলিন দিয়েই বাংলাদেশকে আবার নতুন করে চিনবে বিশ্ব।
বাংলাদেশের তাঁত বোর্ড (বাতাঁবো) ঢাকাই মসলিনকে জি-আই- পন্য হিসাবে নিবন্ধন করার জন্য ডিপিডিটির কাছে আবেদন করলে সেটি ২০২০ সালে স্বীকৃতি পায়।
তথ্যসূত্র
মসলিনের দেশে— প্রকাশক দৃক পিকচার লাইব্রেরি লিমিটেড।
ঢাকাই মসলিন—লেখক আবদুল রহিম