28/07/2023
আমি যেভাবে গ্রাফিক ডিজাইন শিখেছি।
আমার চাচা, আমাদের এলাকার সবচেয়ে ভালো গ্রাফিক ডিজাইনার, ছোটবেলা থেকেই গ্রাফিকের প্রতি আগ্রহ থাকলেও সরাসরি চাচার থেকে কখনো শেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। আমি লেখাপড়া করেছি কওমি মাদ্রাসায়, যেখানে কম্পিউটার চালানো তো দূরের কথা, মোবাইল চালানো ছিলো বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ। সারাদিন মাদরাসার গেইট বন্ধ থাকতো, শুধু বিকেলে বাহিরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যেত। সেই সময়টাতেই একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে শেখা শুরু করি।
তেমন ভালো কোন ট্রেনিং সেন্টারও আশে-পাশে ছিলো না। গ্রাফিক ডিজাইন বলতে তখন শিখেছি, দুই একটা টুলের কাজ। প্যানেল, ফাংশন ও ডিজাইন প্রিন্সিপাল তো অনেক দূরের কথা। যতটুকু শিখেছিলাম- ততটুকু দিয়েই সেই ট্রেনিং সেন্টারের জন্য একটি ব্যানার ডিজাইন করে দিয়েছিলাম, তাতেই তারা অনেক খুশি হয়েছিলো এবং আমার জন্য দোয়া করেছিলো।
বুঝানোর জন্য বলে রাখি, যেই ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে আমি সর্বপ্রথম গ্রাফিক ডিজাইন শেখা শুরু করি, তাদের নিজেদের ব্যানারটাও তারা অন্য কাউকে দিয়ে ডিজাইন করিয়েছিলেন। যখন আমি নিজেই তাদের জন্য একটা ব্যানার ডিজাইন করি ফেলি, তখন তারা বেশ খুশি হয়।
তবে এতোটুকু শিখে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছিলাম না। এইজন্য আমি কিছু পরিচিত ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে পরামর্শ করি যে, আমি গ্রাফিক ডিজাইন কিছুটা পারি, আরো উন্নত ডিজাইন শিখতে চাই, কীভাবে শিখবো ? কার কাছে শিখবো ?
তারা আমাকে- পরামর্শ দেয়- এমন কারো কাছে শিখো, যে প্রফেশনালি ক্লাইন্টদের কাজ করে। এমন অনেক ট্রেনিং সেন্টার আছে, যারা নিজেরা কোথাও কোন রকম শিখেই শেখাতে আরম্ভ করেছে, তাদের কাছে ভালো কিছু আশা করা বোকামী হবে।
তখনও গ্রাফিক ডিজাইনের উপর বেশ ভালো ভালো ইউটিউব চ্যানেল ছিলো, কিন্তু আমি জানতামই না যে, চ্যালেনগুলোতে এতো ভালো টিউটোরিয়াল আছে। অবশ্য জানলেও হয়তো তেমন কোন ফায়দা হতো না- কারণ শুধু ইউটিউবের ভিডিও দেখে ৯৫% নতুন স্টুডেন্টরাই শিখতে পারে না।
আবার যারা প্রফেশনাল, তারা খুব ব্যস্ত। সময় দিতে পারে না, বা অন্য কাউকে শেখাতে চায়না। এজন্য আমি বেশ কিছুদিন একটি কোম্পানিতে জব করেছি- শুধু শেখার জন্য । বলতে গেলে, সেখান থেকেই আমার ডিজাইন শেখা শুরু, কিছু দিন শেখার পর, সেখানে গ্রাফিক ডিজাইনের ট্রেনিং চালু হয়, তখন আমাকে ক্লাস করাতে বলা হয়েছিলো, সেখান থেকেই শিক্ষকতাও শুরু।
যেদিন যে টপিকগুলো পড়ানোর দায়িত্ব ছিলো, সেগুলোর উপর নিজের যা পারতাম সেগুলো নোট করতাম এবং ক্লাসটিকে আরো সুন্দর করার জন্য ভিডিও দেখতাম ও আর্টিকেল পড়তাম।
কিছুদিন পর ডিজাইনবাড়ি নামে একটি গ্রাফিক ডিজাইন হাউজ চালু করি এবং লোকালভাবে ডিজাইন ও প্রিন্টিং এর সার্ভিস দিতে শুরু করি। এতে সাইজিং, কালার ও হিসাব-নিকাশের মতো জটিল বিষয়গুলো শেখার সুযোগ হয়। সার্ভিস দিতে গিয়ে সবচেয়ে বড় যে অর্জন, সেটি হলো- কনফিডেন্ট।
এর কিছুদিন পর কম্পিউটার স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। ছোট্ট একটি টিম গঠন করা করে, কারো কোন সিলেবাস ফলো না করেই, আমরা নিজস্ব সিলেবাস তৈরীর কাজ শুরু করি। এই ব্যাপারেটি আমাদের এগিয়ে যেতে দারুণভাবে হেল্প করে। আমরা প্রতিনিয়েই সিলেবাস আপডেট করতে থাকি, এতে আমাদের কোর্স কোয়ালিটি উন্নত থেকে উন্নততর হতে থাকে।
ট্রেনিং এর পাশাপাশি কিছু এক্সপেরিমেন্টও করেছিলাম আমরা, এক্সপেরিমেন্ট গুলোই মূলত অনেক বেশি ফায়দা দিয়েছেন। সেগুলোর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, আমাদের কার্যকরী হোমওয়ার্ক ও প্র্যাক্টিস শিটগুলো।
কিছুদিন পর আমরা, নিজেদেরকে যাচাই করার ইচ্ছে করি এবং অন্যরা কিভাবে শেখাচ্ছে ? তাদের সিলেবাসে কেমন ? ইত্যাদি বিষয় জানার ও বোঝার চেষ্টা করি ?
মজার ব্যাপার হলো- তখন এই বিষয়টি আমাদের আনন্দিত করেছে যে, আমাদের সিলেবাসটি অন্যান্য কোর্সগুলোর তুলনায় গুণগত মানে খুবই উন্নত। ব্যক্তিগতভাবে আমরা অনলাইনে অ্যাকটিভ ছিলাম না , যার কারণে আমাদের ফেইস পরিচিতি একেবারেই নেই, হয়তো দূর দুরান্ত থেকে আমাকে চেনেন, এমন লোকের সংখ্যাও খুব কম পাওয়া যাবে । তবে এ পর্যন্ত যারা আমাদের কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন, তাই তাদের প্রায় শতভাগ স্টুডেন্ট চমৎকার ডিজাইন শিখেছেন।
এরপর আমরা গ্রাফিক ডিজাইন শেখার জন্য বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান অনলাইন কোর্স আনার সিদ্ধান্ত নিই এবং গ্রাফিক ডিজাইন মাস্টার কোর্স এর যাত্রা শুরু হয়। শুরু দিকে ক্লাসের কিছু ভিডিও ইউটিউবে দেওয়া হয়েছিলো, তখনই মাস্টার কোর্সের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে । এখন গ্রাফিক ডিজাইন মাস্টার কোর্স তৃতীয় ব্যাচ চলছে।
আগামী ৩১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে-
গ্রাফিক ডিজাইন মাস্টার কোর্স : ব্যাচ-৪
আমরা ভালো শিক্ষকের অভাব বোধ করেছি, তাই আমাদের শিখতে সময় লেগেছে অনেক বেশি। যেই মানের গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে আমাদের ৫-১০ বছর লেগেছে, এখন তো মাস্টার কোর্স এর স্টুডেন্টরা সেগুলো ৬ মাস / ১ বছরে শেখে ।
ধন্যবাদ
এনামুল হাসান মারুফ