26/11/2025
আমরা সম্প্রতি মাননীয় টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি উপদেষ্টার ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পেরেছি যে খুব শীঘ্রই NEIR সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি উচ্চ পর্যায়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে NEIR এবং এর বাস্তবায়নে সমস্যাসমূহ, পাশাপাশি উচ্চ আমদানি শুল্ক বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করা হবে।
আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছি BTRC একটি সভা ডাকছে যাতে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (MIOB) এবং তাদের মনোনীত কিছু মোবাইল ফোন ডিলারকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) বা সরকারের কোনো দায়িত্বশীল পক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি, ফলে এই সভা সম্পর্কে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত হতে পারিনি।
NEIR বাস্তবায়নে আমরা অন্যতম প্রধান এবং সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার। আমাদের বাদ দিয়ে যদি কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়, তবে সেই সভা থেকে কোনো বাস্তবসম্মত বা কার্যকর ফলাফল আসা সম্ভব না।
অতএব, আমরা BTRC কে আহ্বান জানাই, শুধু কোনো নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট বা অ্যাসোসিয়েশনকে নিয়ে লোকদেখানো সভা আয়োজন থেকে বিরত থাকার জন্য। NEIR–সংক্রান্ত ন্যায্য দাবি, সংশ্লিষ্ট সমস্যা কিংবা বাস্তব সমস্যা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের মতামত ও উপস্থিতি অপরিহার্য। আমরা আশংকা করছি, এই লোক দেখানো আলোচনা সভার মাধ্যমে সামান্য শুল্ক কমিয়ে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে, জনগণকে এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে শুল্কের চেয়েও সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বিটিআরসি কর্তৃক আমদানি নীতিমালা, যেখানে কিনা শুল্ক হার ০% হোক আর ৫৭% হোক আপনি বৈধভাবে কোন ফোনই শুল্ক দিয়ে আমদানি করতে পারবেন না। এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটাই শুভঙ্করের ফাঁকির মত আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। এ কারণেই এই সিন্ডিকেট গ্রুপটি তড়িঘড়ি করেই নির্বাচনের আগে এটি বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শুল্ক কমানো অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে সেটি একমাত্র সমাধান নয়। শুল্ক এমন পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে যা বাস্তবসম্মত ও সহনীয়। এছাড়াও, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও আমাদানী করা ফোনের মধ্যে শুল্ক ব্যাবধান যেন কোনভাবেই ১০%–১৫%-এর বেশি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিটিআরসি কর্তৃক কোন প্রকার শর্ত ছাড়াই শুল্ক পরিশোধ সাপেক্ষে যেকোনো ধরনের এবং যেকোনো পরিমাণের মোবাইল ফোন আমদানি করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এছাড়াও, আমাদের সবার দোকানে ৬–৯ মাসের স্টক রয়েছে। ১৬ ডিসেম্বরের পরে এসব স্টকের কী হবে? এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সমাধান জরুরি। স্মার্টফোন আমাদানিতে BTRC থেকে NOC পেতে যে জটিলতা আছে তা অবশ্যই NEIR বাস্তবায়ন এর আগে সমাধান করতে হবে।
আমরা এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা না পেলে আমাদের ধৈর্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে কারণ এটি প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। আশা করি, যথাযথ কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
আমরা বারবার বলছি, আমরা NEIR বাস্তবায়ন চাই, তবে তা কোনো বৈষম্যের ভিত্তিতে নয়। একই সঙ্গে, NEIR–সংক্রান্ত আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবনা রয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি বাস্তব সমস্যা আছে, যেগুলো মাঠপর্যায়ে আমাদের মতো ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীদের সরাসরি প্রভাবিত করবে। এসব বিষয়েও আলোচনার সুযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা আবারো আমাদের দাবি গুলি মনে করিয়ে দিতে চাইঃ
১। আমদানিকারকদের ও স্থানীয় স্মার্টফোন সংযোজনকারীদের সঙ্গে বাধ্যতামূলক চুক্তি করার যে নিয়মটি সেটি বাতিল করা এবং স্থানীয় সংযোজনকারীরা (BTRC)র নিকট এই মর্মে (NOC) প্রদান করবে যে, যেকোনো মডেলের ফোন আমদানি করাতে তাদের কোন আপত্তি নেই।
২। মোবাইল ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি শুল্ক ১৫% করা হোক।
৩। স্থানীয় স্মার্টফোন প্রস্তুতকারকদের খুচরা ব্যাবসা সীমিতকরণ।
৪। বিক্রয় রশিদের মাধ্যমে একটি NID-এর বিপরীতে ১০টি হ্যান্ডসেটে নিবন্ধনের সুবিধা।
৫। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে NEIR বাস্তবায়ন করা।
৬। NEIR বাস্তবায়নের সময়সীমা অন্তত ১ বছর বাড়ানো এবং বিক্রির রশিদকে নিবন্ধনের বৈধ নথি হিসেবে গণ্য করা।
আমাদের অনুরোধ ও জোর দাবি NEIR এবং স্মার্টফোন ব্যবসা, সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ সভা যেন আমাদের মতো বৃহৎ ও প্রকৃত স্টেকহোল্ডারদের বাদ দিয়ে কোনভাবেই অনুষ্ঠিত না হয়।
সকলকে আমাদের এই ন্যায্য দাবির সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।