Haque Creation

Haque Creation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Haque Creation, Cha bagan, 29 no ward, Gazipur city, Dhaka.

👻 আকা মান্তো — ৪র্থ পর্ব 🩸আয়নার ভেতরের মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল।আর আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নাবিলা—হঠাৎ আমার হাত ছেড়...
07/10/2026

👻 আকা মান্তো — ৪র্থ পর্ব 🩸
আয়নার ভেতরের মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল।
আর আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নাবিলা—
হঠাৎ আমার হাত ছেড়ে দিল।
আমি কয়েক সেকেন্ড কিছুই বুঝতে পারলাম না।
"নাবিলা?"
সে কোনো উত্তর দিল না।
আমি তার দিকে তাকালাম।
তার চোখ স্থির।
একদম স্থির।
যেন সে আমার দিকে তাকিয়ে নেই।
তাকিয়ে আছে আমার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো কিছুর দিকে। 😨
আমি ধীরে ধীরে বললাম,
"নাবিলা... কী হয়েছে?"
সে এবার আমার দিকে তাকাল।
তার চোখে ভয় নেই।
বরং অদ্ভুত একটা শান্ত ভাব।
সে খুব আস্তে বলল,
"তুমি আমাকে বিশ্বাস করো?"
আমি বললাম,
"অবশ্যই।"
সে একটু হাসল।
"তাহলে আমার হাত ধরো।"
আমি হাত বাড়াতে যাচ্ছিলাম।
ঠিক তখন আয়নার ভেতরের নাবিলা ফিসফিস করে বলল,
"ওর হাত ধরো না।"
আমার হাত মাঝপথে থেমে গেল।
আমি আয়নার দিকে তাকালাম।
আয়নার মেয়েটা আর হাসছে না।
তার চোখে পানি।
সে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"ও আমি নই।"
আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
আমি পাশে থাকা নাবিলার দিকে তাকালাম।
সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি বললাম,
"তুমি কি... সত্যি নাবিলা?"
সে মাথা নাড়ল।
"হ্যাঁ।"
আয়নার ভেতরের মেয়েটা চিৎকার করে উঠল,
"মিথ্যা!"
😱
হঠাৎ ঘরের সব আলো নিভে গেল।
তিশা চিৎকার করে উঠল,
"ভাইয়া!"
আমি অন্ধকারের মধ্যে হাতড়ে নাবিলাকে খুঁজতে লাগলাম।
"নাবিলা!"
কেউ আমার হাত ধরল।
আমি শক্ত করে সেই হাত ধরে ফেললাম।
"আমি আছি।"
নাবিলার গলা।
কিন্তু ঠিক একই সময়ে—
আয়নার ভেতর থেকেও আরেকটা কণ্ঠ শোনা গেল।
"আমি এখানেও আছি।"
আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। 🥶
দুটো নাবিলা।
একজন আমার পাশে।
আরেকজন আয়নার ভেতরে।
তিশা কাঁপতে কাঁপতে বলল,
"ভাইয়া... আলো জ্বালান।"
আমি মোবাইল বের করলাম।
স্ক্রিনে আলো জ্বালতেই দেখলাম—
আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নাবিলার মুখ স্বাভাবিক।
কিন্তু আয়নার ভেতরের নাবিলার মুখ বদলে গেছে।
তার মুখের একপাশ কালো।
চোখ দুটো অস্বাভাবিক বড়।
আর ঠোঁটের কোণে সেই একই হাসি। 👁️
সে আমাকে দেখে বলল,
"তুমি ভুল মানুষকে ধরে আছো।"
আমি মোবাইলের আলো আয়নার ওপর ফেললাম।
হঠাৎ আয়নার ভেতরের মেয়েটা হাত বাড়িয়ে দিল।
কাচের ভেতর থেকে তার হাত বেরিয়ে আসতে শুরু করল।
আমি পেছনে সরে গেলাম।
তিশা চিৎকার করে বলল,
"দৌড়ান!"
আমরা দরজার দিকে ছুটলাম।
কিন্তু দরজা বন্ধ।
আমি হাতল ঘুরালাম।
খুলল না।
পেছন থেকে কাচে—
টক্... টক্... টক্...
শব্দ।
আয়নার ভেতরের নাবিলা ধীরে ধীরে কাচের ওপর হাত রাখল।
তারপর বলল,
"একটা প্রশ্নের উত্তর দাও।"
আমি চুপ।
"শুধু একটা।"
তিশা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"ভাইয়া, উত্তর দেবেন না।"
মেয়েটা হাসল।
"তোমার স্ত্রী কে?"
আমি কিছু বললাম না।
সে আবার প্রশ্ন করল,
"তোমার স্ত্রী কে?"
আমি এবারও চুপ।
হঠাৎ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নাবিলা আমার হাত টেনে বলল,
"আমার দিকে তাকিও না।"
আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম।
"কেন?"
সে বলল,
"কারণ ও চায় তুমি আমার মুখ দেখো।"
আমি বুঝতে পারলাম না।
"কী বলছো?"
নাবিলা ফিসফিস করে বলল,
"ও আমার মুখ নকল করেছে।"
আয়নার ভেতরের মেয়েটা তখন হেসে উঠল।
"অবশেষে বললে।"
আমি নাবিলার দিকে তাকালাম।
"তুমি কীভাবে জানো?"
সে উত্তর দিল না।
"নাবিলা?"
সে শুধু বলল,
"আমার একটা কথা মনে পড়েছে।"
"কী?"
"জাপানে যাওয়ার আগের একটা ঘটনা।"
আমি চুপ করে শুনতে লাগলাম।
"তখন আমি আর ইউকি একই স্কুলে পড়তাম।"
"হুম।"
"একদিন স্কুলের বাথরুমের আয়নায় আমি একটা মেয়েকে দেখেছিলাম।"
"মায়ুমি?"
নাবিলা মাথা নাড়ল।
"না।"
"তাহলে?"
"মেয়েটা আমার মতো দেখতে ছিল।"
আমার বুক কেঁপে উঠল।
"কী?"
"হ্যাঁ।"
নাবিলা বলল,
"তখন আমার বয়স ছিল ষোল। আয়নার মেয়েটাকেও ষোল বছরের মতোই লাগছিল।"
"তারপর?"
"আমি ভেবেছিলাম ও আমার প্রতিচ্ছবি।"
"কিন্তু?"
"ও আমার মতো নড়ছিল না।"
"তাহলে?"
"আমি হাত তুললে ও হাত তুলত না।"
"তারপর কী হয়েছিল?"
"আমি ভয় পেয়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে যাই।"
"ইউকি?"
"ও বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।"
"তুমি ইউকিকে বলেছিলে?"
"হ্যাঁ।"
"ও কী বলেছিল?"
নাবিলা চোখ বন্ধ করল।
"ইউকি বলেছিল—কোনো আয়নায় নিজের মুখের দিকে বেশি সময় তাকাতে নেই।"
"কেন?"
"কারণ কিছু আয়না তোমার প্রতিচ্ছবি দেখায় না।"
😨
ঘর নিস্তব্ধ।
নাবিলা বলতে থাকল,
"এই আয়না অনেক পুরোনো।"
আমি আয়নার দিকে তাকালাম।
"এটা আগে কোথায় ছিল?"
নাবিলা উত্তর দিল,
"আমি জানি না।"
ঠিক তখন আয়নার ভেতরের মেয়েটা বলল,
"আমি জানি।"
আমরা তিনজনই তার দিকে তাকালাম।
সে বলল,
"এই আয়না স্কুলে ছিল না।"
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
"তাহলে?"
"এটা ছিল মায়ুমির বাড়িতে।"
নাবিলা কেঁপে উঠল।
"তুমি মায়ুমি নও।"
মেয়েটা হাসল।
"আমি কখনো বলিনি আমি মায়ুমি।"
"তাহলে তুমি কে?"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
"আমি সেই মেয়ে, যে মায়ুমির জায়গায় দাঁড়িয়েছিল।"
তিশা ফিসফিস করে বলল,
"মানে?"
মেয়েটা আয়নার ভেতর থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
"মায়ুমি প্রথমে আমাকে দেখেছিল।"
"কোথায়?"
"আয়নায়।"
"তারপর?"
"সে ভেবেছিল আমি তার বন্ধু।"
"কিন্তু?"
"আমি তার বন্ধু ছিলাম না।"
হঠাৎ ঘরের দরজাটা নিজে থেকেই খুলে গেল।
বাইরে অন্ধকার করিডোর।
আমি তিশাকে বললাম,
"চলো।"
আমরা বেরিয়ে এলাম।
কিন্তু নাবিলা দাঁড়িয়ে রইল।
"নাবিলা!"
সে আমার দিকে তাকাল।
তারপর বলল,
"আমার একটা জিনিস এখানে আছে।"
"কী?"
"মায়ুমির লাল কাপড়।"
আমি থমকে গেলাম।
"ওটা তো নেই।"
"আছে।"
"কোথায়?"
সে তৃতীয় তলার করিডোরের শেষের দিকে তাকাল।
"ওই ঘরে।"
আমরা তিনজন আবার সেই অন্ধকার ঘরের দিকে গেলাম।
ঘরের ভেতর কাঠের চেয়ারটা এখনও পড়ে আছে।
কিন্তু লাল কাপড় নেই।
তিশা বলল,
"এখানে তো কিছু নেই।"
নাবিলা দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলল,
"ওটা সরানো হয়েছে।"
"কে সরিয়েছে?"
সে আমার দিকে তাকাল।
"আমি।"
আমি হতভম্ব।
"তুমি?"
"হ্যাঁ।"
"কবে?"
"পাঁচ বছর আগে।"
আমার মাথা ঘুরে গেল।
"কিন্তু তুমি তো তখন জাপানে!"
নাবিলা চুপ করে রইল।
আমি আবার বললাম,
"নাবিলা, তুমি কী লুকাচ্ছো?"
সে চোখ নামিয়ে বলল,
"আমি নিজেও জানি না।"
ঠিক তখন তিশা দেয়ালের একটা অংশে হাত রাখল।
টক্।
ভেতর থেকে ফাঁপা শব্দ হলো।
সে বলল,
"ভাইয়া, এখানে কিছু আছে।"
আমি কাছে গেলাম।
দেয়ালের প্লাস্টার ভাঙা।
একটা ছোটো ফাঁক।
আমি হাত ঢুকিয়ে একটা ধাতব বাক্স বের করলাম।
বাক্সটা মরিচা ধরা।
উপরে লেখা—
M.S.
তিশা বলল,
"মায়ুমি সাটো?"
আমি বাক্সটা খুললাম।
ভেতরে পুরোনো ছবি।
একটা লাল কাপড়ের টুকরো।
আর একটা ছোটো ক্যাসেট।
ক্যাসেট প্লেয়ারের মতো কিছুই ছিল না।
কিন্তু বাক্সের নিচে একটা পুরোনো ছোটো রেকর্ডার পাওয়া গেল।
আমি সেটার ব্যাটারি লাগিয়ে দেখলাম।
অবিশ্বাস্যভাবে সেটা চালু হলো।
কিছুক্ষণ শুধু শোঁ শোঁ শব্দ।
তারপর একটা মেয়ের কণ্ঠ।
খুব ছোটো।
"আজ ১৭ জুন।"
তিশা আমার হাত ধরে ফেলল।
মেয়েটা বলছে,
"আমার নাম মায়ুমি।"
তারপর কিছুক্ষণ নীরবতা।
"আজ আবার ওকে দেখেছি।"
একটা শিশুর মতো কাঁপা গলা।
"আয়নায়।"
তারপর একটা শব্দ।
কেউ যেন দরজায় টোকা দিচ্ছে।
টক্।
টক্।
টক্।
মায়ুমি বলছে,
"ও আমাকে প্রশ্ন করেছে।"
তারপর—
"লাল না নীল?"
রেকর্ডিংয়ে হঠাৎ মায়ুমির কান্নার শব্দ।
"আমি উত্তর দিইনি।"
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর সে বলল,
"কিন্তু ও বলেছে, একদিন আমাকে উত্তর দিতেই হবে।"
রেকর্ডিং হঠাৎ বন্ধ।
আমি প্লে বোতাম চাপলাম।
আবার শব্দ।
এবার মায়ুমির গলা আরও নিচু।
"আমি একটা কথা জেনেছি।"
"আকা মান্তো একা নয়।"
"ওর সঙ্গে আরও একজন আছে।"
তিশা ফিসফিস করে বলল,
"আরও একজন?"
রেকর্ডিং চলতে থাকে।
"ওর নাম..."
তারপর প্রচণ্ড শব্দ।
ক্যাসেট থেমে গেল।
আমি বারবার চেষ্টা করলাম।
চলল না।
নাবিলা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
"ওই নামটাই আমাদের দরকার।"
"কিন্তু শুনতে পেলাম না।"
তিশা বলল,
"ভাইয়া, ক্যাসেটটা আবার চালু করুন।"
"চালু হচ্ছে না।"
"তাহলে?"
আমি বাক্সের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দেখি একটা ছোট্ট কাগজ।
কাগজে লেখা—
"যে নামটা শুনতে পাওনি, সেটা দেয়ালে লেখা আছে।"
আমরা তিনজন দেয়ালের দিকে তাকালাম।
সেখানে শত শত নাম।
কিন্তু আগের চেয়ে একটা নাম নতুন করে দেখা যাচ্ছে।
কালো কালিতে লেখা।
YUKI.
নাবিলা পিছিয়ে গেল।
"না..."
আমি বললাম,
"কী হয়েছে?"
"ইউকি এখানে কেন?"
"হয়তো ওর নামও..."
"না!"
নাবিলা চিৎকার করে উঠল।
"ইউকি কখনো বাংলাদেশে আসেনি।"
আমি বললাম,
"তাহলে ওর নাম এখানে কীভাবে?"
কেউ উত্তর দিল না।
হঠাৎ তিশার ফোন বেজে উঠল।
রাত তখন প্রায় সাড়ে তিনটা।
অচেনা নম্বর।
তিশা ফোন ধরল না।
ফোন আবার বাজল।
সে কাঁপতে কাঁপতে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
"ভাইয়া..."
"কী?"
"এটা আমার মায়ের নম্বর।"
"ধরো।"
"মা তো ঘুমাচ্ছে।"
ফোন আবার বাজল।
তিশা কাঁপা হাতে রিসিভ করল।
"হ্যালো?"
ওপাশে কোনো কথা নেই।
তারপর একটা মেয়ের গলা।
"তিশা..."
তিশার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
"কে?"
"তুমি কি লাল পছন্দ করো?"
তিশা ফোনটা হাত থেকে ফেলে দিল।
ফোনের স্পিকার থেকে তখনও শব্দ আসছে।
"তিশা..."
"তিশা..."
"তিশা..."
আমি ফোনটা তুলে বন্ধ করতে গেলাম।
স্ক্রিনে একটা ছবি ভেসে উঠল।
আমাদের তৃতীয় তলার বাথরুম।
আর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আছে তিশা।
কিন্তু ছবিটা তোলা হয়েছে পাঁচ বছর আগে।
তিশা তখন বয়সে অনেক ছোট।
আমি ছবিটা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
"তিশা..."
সে আমার দিকে তাকাল।
"আমি এখানে কখনো আসিনি।"
"তাহলে ছবিতে তুমি?"
সে কাঁদতে শুরু করল।
"আমি জানি না।"
নাবিলা এবার খুব আস্তে বলল,
"আমরা ভুল জায়গায় খুঁজছি।"
আমি বললাম,
"মানে?"
"আকা মান্তো আমাদের বাড়িতে আসেনি।"
"তাহলে?"
"আমরাই ওর জায়গায় চলে এসেছি।"
আমি তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
"কীভাবে?"
নাবিলা দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলল,
"এই বাড়িটা আসলে বাড়ি নয়।"
তিশা বলল,
"তাহলে?"
নাবিলা বলল,
"এটা সেই স্কুলের একটা অংশ।"
আমি বললাম,
"অসম্ভব।"
"না।"
সে বলল,
"বাড়িওয়ালা আমাদের মিথ্যা বলেছে।"
"কী মিথ্যা?"
"স্কুল ভাঙা হয়নি।"
আমার বুক কেঁপে উঠল।
"তাহলে?"
"স্কুলটা শুধু বদলে দেওয়া হয়েছে।"
"মানে?"
"দেয়ালগুলো একই। সিঁড়িগুলো একই। বাথরুমগুলো একই।"
"কিন্তু স্কুল তো ছিল পাঁচ বছর আগে।"
নাবিলা আমার দিকে তাকাল।
"পাঁচ বছর আগে স্কুল বন্ধ হয়েছে।"
"হ্যাঁ।"
"তারপর এখানে যে বাড়ি তৈরি হয়েছে..."
সে থেমে গেল।
"ওটা স্কুলের ওপরেই তৈরি।"
আমার মাথায় যেন সবকিছু ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে লাগল।
আমাদের ঘরের অবস্থান।
তৃতীয় তলার পুরোনো করিডোর।
বাথরুম।
ভেন্টিলেটর।
আয়না।
সবকিছু যেন একই জায়গার অংশ।
আমি বললাম,
"তাহলে মায়ুমি?"
নাবিলা বলল,
"সে কোথাও যায়নি।"
"মানে?"
"সে এই বাড়ির মধ্যেই আছে।"
ঠিক তখন নিচতলা থেকে একটা শিশুর কান্নার শব্দ ভেসে এলো।
আমরা তিনজনই থেমে গেলাম।
"কে কাঁদছে?"
তিশা বলল,
"কেউ নেই তো।"
আবার কান্না।
"আপু..."
"আমাকে বের করে দাও..."
নাবিলা আমার দিকে তাকাল।
"মায়ুমি।"
আমি বললাম,
"চলো।"
আমরা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলাম।
দ্বিতীয় তলা।
কেউ নেই।
প্রথম তলা।
কেউ নেই।
তারপর নিচতলার পুরোনো স্টোররুমের সামনে এসে কান্নার শব্দটা স্পষ্ট হলো।
"আপু..."
"আপু..."
নাবিলা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গেল।
"এখানে।"
আমি দরজা খুলতে গেলাম।
নাবিলা আমার হাত আটকাল।
"এক মিনিট।"
"কী?"
"মায়ুমি কখনো আমাকে 'আপু' বলে ডাকেনি।"
আমি থেমে গেলাম।
"তাহলে কে?"
ভেতর থেকে এবার একটা পুরুষ কণ্ঠ।
"দরজা খোলো।"
আমরা তিনজন পিছিয়ে গেলাম।
কণ্ঠটা আবার বলল,
"আমি তোমাদের সাহায্য করতে এসেছি।"
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
"কে?"
উত্তর এল,
"ইউকি।"
নাবিলা হঠাৎ কাঁদতে শুরু করল।
"না।"
আমি বললাম,
"কেন?"
"ইউকি বাংলাদেশে নেই।"
"তাহলে?"
নাবিলা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
"ইউকি পাঁচ বছর আগে মারা গেছে।"
আমি স্থির হয়ে গেলাম।
"কী?"
তিশা আমার দিকে তাকিয়ে রইল।
নাবিলা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"আমি তোমাকে বলিনি।"
"কেন?"
"কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম।"
"ইউকি মারা গেছে?"
"হ্যাঁ।"
"কীভাবে?"
নাবিলা বলল,
"জাপানে আমাদের শেষ রাতের পরের দিন।"
"তুমি আমাকে বলেছিলে তোমরা দুজন বেঁচে গিয়েছিলে।"
"আমি বেঁচে গিয়েছিলাম।"
"ইউকি?"
সে মাথা নিচু করল।
"ইউকি বাঁচেনি।"
আমার মাথা ঘুরে উঠল।
"তাহলে এতদিন ফোনে..."
নাবিলা বলল,
"ওর নম্বর থেকে আমি কোনোদিন ফোন পাইনি।"
আমি বাকরুদ্ধ।
"কিন্তু আজ তো ফোনে কথা হলো।"
নাবিলা আমার দিকে তাকাল।
"তুমি ইউকির সঙ্গে কথা বলোনি।"
স্টোররুমের ভেতর থেকে তখন হাসির শব্দ।
ধীরে ধীরে।
খুব নিচু।
তারপর—
"নাবিলা..."
নাবিলা কেঁপে উঠল।
"তুই আমাকে চিনতে পারিস না?"
আমি দরজার দিকে তাকালাম।
"ইউকি?"
ভেতর থেকে উত্তর—
"হ্যাঁ।"
তারপর দরজায় একটা হাতের ছাপ ফুটে উঠল।
লাল রঙের হাতের ছাপ।
তার পাশে নীল।
আর মাঝখানে সাদা।
নাবিলা আমার হাত ধরে বলল,
"ও আমাদের ভয় দেখাচ্ছে না।"
"তাহলে?"
"ও কাউকে খুঁজছে।"
"কাকে?"
নাবিলা বলল,
"যে প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল।"
আমার গলা শুকিয়ে গেল।
"কে উত্তর দিয়েছিল?"
নাবিলা আমার দিকে তাকাল।
তারপর বলল,
"আমি।"
"কী উত্তর?"
"লাল।"
আমি স্তব্ধ।
"কিন্তু তুমি তো বলেছিলে তুমি কোনো রং পছন্দ করো না।"
"আমি মিথ্যা বলেছিলাম।"
"কেন?"
"কারণ সেদিন আমি ভয় পেয়েছিলাম।"
"তুমি কী বলেছিলে?"
নাবিলা চোখ বন্ধ করল।
"আমি বলেছিলাম..."
সে ফিসফিস করে বলল,
"লাল।"
ঠিক তখন স্টোররুমের দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।
ভেতরে অন্ধকার।
আমরা আলো ফেললাম।
কেউ নেই।
শুধু মেঝেতে একটা পুরোনো স্কুলব্যাগ।
ব্যাগের ওপর নাম লেখা—
NABILA.
নাবিলা ব্যাগটা দেখে পিছিয়ে গেল।
"এটা আমার।"
আমি বললাম,
"তোমার স্কুলব্যাগ?"
সে মাথা নাড়ল।
"হ্যাঁ।"
"এটা এখানে কীভাবে?"
নাবিলা ব্যাগটা খুলল।
ভেতরে পুরোনো খাতা।
একটা কলম।
একটা লাল ফিতা।
আর একটা ছবি।
ছবিটা বের করতেই আমার বুক কেঁপে উঠল।
ছবিতে নাবিলা।
তার পাশে ইউকি।
আর তাদের মাঝখানে মায়ুমি।
তিনজনই হাসছে।
ছবির পেছনে লেখা—
"FIRST ANSWER ACCEPTED."
তার নিচে আরেকটা লাইন—
"SECOND ANSWER REQUIRED."
আমি বললাম,
"দ্বিতীয় উত্তর কী?"
কেউ উত্তর দিল না।
হঠাৎ ছবির ভেতর মায়ুমির মুখ বদলে গেল।
ছোট্ট মেয়েটা যেন আমাদের দিকে তাকাল।
তারপর ছবির কাগজের ভেতর থেকে একটা ফিসফিস শব্দ এল।
"সে আসছে।"
নাবিলা বলল,
"কে?"
মায়ুমি বলল,
"যে মানুষ ছিল।"
আমি বললাম,
"আকা মান্তো?"
মায়ুমি মাথা নাড়ল।
"না।"
"তাহলে কে?"
সে বলল,
"যে আকা মান্তোকে বানিয়েছিল।"
আমাদের চারপাশের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
আমি বললাম,
"কে তাকে বানিয়েছিল?"
মায়ুমি কোনো উত্তর দিল না।
ছবিটা হঠাৎ আগুনের মতো গরম হয়ে উঠল।
আমি হাত থেকে ফেলে দিলাম।
ছবির কাগজে আগুন ধরেনি।
কিন্তু ছবির মধ্যে একটা নতুন মানুষ দেখা গেল।
একজন পুরুষ।
কালো পোশাক।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
সে মায়ুমির পেছনে দাঁড়িয়ে।
তার হাতে একটা সাদা মুখোশ।
আর মুখোশে লেখা—
A. MANTO
তিশা ফিসফিস করে বলল,
"আকা মান্তো..."
নাবিলা বলল,
"না।"
"কেন?"
"ওটা নাম নয়।"
"তাহলে?"
নাবিলা বলল,
"ওটা একটা পরিচয়।"
"মানে?"
"যে কেউ ওই মুখোশ পরে..."
সে থেমে গেল।
"আকা মান্তো হতে পারে।"
আমি বললাম,
"তাহলে আসল আকা মান্তো কে?"
নাবিলা আমার দিকে তাকাল।
"আমি জানি না।"
ঠিক তখন পেছনে কারও পায়ের শব্দ হলো।
ধীরে।
একটা।
দুইটা।
তিনটা।
আমরা ঘুরে দাঁড়ালাম।
করিডোরের শেষ প্রান্তে একজন দাঁড়িয়ে।
লাল পোশাক।
মুখে সাদা মুখোশ।
হাতে দুইটা কাপড়।
একটা লাল।
একটা নীল।
সে ধীরে ধীরে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। 😨
তিশা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"ভাইয়া..."
আমি নাবিলাকে আমার পেছনে সরিয়ে দিলাম।
লোকটা থেমে গেল।
তারপর খুব শান্ত গলায় বলল,
"লাল না নীল?"
আমি উত্তর দিলাম না।
সে আবার বলল,
"লাল না নীল?"
নাবিলা আমার হাত ধরে ফিসফিস করে বলল,
"ওকে উত্তর দিও না।"
লোকটা এবার মাথা কাত করল।
"তুমি আবার একই ভুল করছো, নাবিলা।"
নাবিলা কেঁপে উঠল।
"তুমি আমাকে চেনো?"
লোকটা বলল,
"আমি তোমাকে পাঁচ বছর ধরে চিনি।"
"তুমি কে?"
সে মুখোশটা একটু তুলল।
আমি তার মুখ দেখতে পেলাম না।
শুধু কালো একটা ফাঁকা জায়গা।
তারপর সে বলল,
"তোমার প্রশ্নের উত্তর তুমি নিজেই জানো।"
নাবিলা হঠাৎ আমার সামনে এসে দাঁড়াল।
"ওকে আমার কাছে আসতে দিও না।"
আমি বললাম,
"নাবিলা, পেছনে যাও।"
সে আমার দিকে তাকাল।
তারপর বলল,
"তুমি আমাকে বিশ্বাস করো তো?"
আমি বললাম,
"হ্যাঁ।"
সে হাসল।
"তাহলে চোখ বন্ধ করো।"
আমি চোখ বন্ধ করলাম না।
কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে—
তিশা চিৎকার করে উঠল।
"ভাইয়া!"
আমি তার দিকে তাকালাম।
তিশা দেয়ালের দিকে আঙুল দেখাচ্ছে।
দেয়ালে আমাদের তিনজনের ছায়া।
কিন্তু সেখানে চারজন দাঁড়িয়ে।
আমি।
তিশা।
নাবিলা।
আর—
একজন ছোটো মেয়ে।
মায়ুমি।
আমি পেছনে তাকালাম।
কেউ নেই।
আবার দেয়ালের দিকে তাকালাম।
ছোট্ট মেয়েটা আমাদের ছায়ার মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
তারপর সে ধীরে ধীরে হাত তুলল।
আর দেয়ালে আঙুল দিয়ে লিখল—
"DON'T TRUST NABILA."
আমার বুকের ভেতর কেঁপে উঠল।
আমি পাশে থাকা নাবিলার দিকে তাকালাম।
সে তখন কাঁদছে।
"ও মিথ্যা বলছে।"
আমি বললাম,
"তুমি সত্যি নাবিলা?"
সে বলল,
"হ্যাঁ।"
"তাহলে প্রমাণ দাও।"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর বলল,
"তুমি আমাকে প্রথম কোথায় দেখেছিলে মনে আছে?"
আমি বললাম,
"কলেজের সামনে।"
সে হাসল।
"ভুল।"
আমি থেমে গেলাম।
"তাহলে?"
"তুমি আমাকে প্রথম দেখেছিলে জাপানে।"
আমি স্থির।
"কিন্তু আমরা তো জাপানে..."
সে আমার কথা কেটে বলল,
"তুমি আমাকে দেখেছিলে।"
"কিন্তু আমি তো তোমাকে চিনতাম না।"
"চিনতে না।"
"তাহলে?"
সে বলল,
"আমি তখন আয়নার ভেতরে ছিলাম।"
আমার শরীর অবশ হয়ে গেল।
তিশা পিছিয়ে গেল।
নাবিলা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
"আমি তোমাকে তখন থেকেই চিনতাম।"
আমি মাথা নাড়লাম।
"অসম্ভব।"
সে বলল,
"তুমি যখন আমাকে প্রথমবার বাংলাদেশে দেখেছিলে, তখন আমি তোমাকে আগে থেকেই চিনতাম।"
আমি কিছু বলতে পারলাম না।
হঠাৎ আমার মনে একটা দৃশ্য ফিরে এল।
বহু বছর আগে জাপানের একটা বিমানবন্দরে আমি সত্যিই একটা মেয়েকে দেখেছিলাম।
খুব অল্প সময়ের জন্য।
একটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
আমি তখন ভেবেছিলাম, সেটা শুধু কাকতালীয়।
কিন্তু—
মেয়েটার মুখ নাবিলার মতো ছিল।
আমি তখন তাকে চিনতাম না।
আমি কখনো কাউকে এই ঘটনা বলিনি।
নাবিলা বলল,
"তুমি এখন বুঝতে পারছো?"
আমি ফিসফিস করে বললাম,
"তুমি আমাকে তখন থেকেই অনুসরণ করছিলে?"
সে মাথা নাড়ল।
"না।"
"তাহলে?"
"আমি তোমাকে অনুসরণ করিনি।"
"কে করেছে?"
সে আয়নার দিকে তাকাল।
"ও।"
আমি আয়নার দিকে তাকালাম।
আয়নায় এখন কেউ নেই।
শুধু আমাদের প্রতিচ্ছবি।
কিন্তু কিছু একটা ভুল।
আমার প্রতিচ্ছবি আমার সঙ্গে একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
তিশারও।
কিন্তু নাবিলার প্রতিচ্ছবি—
হাসছে।
বাস্তবের নাবিলা কাঁদছে।
আয়নার নাবিলা হাসছে।
আমি ধীরে ধীরে বললাম,
"তুমি..."
নাবিলা আমার দিকে তাকাল।
"কী?"
আমি আয়নার দিকে আঙুল তুললাম।
"তোমার প্রতিচ্ছবি হাসছে কেন?"
নাবিলা ঘুরে আয়নার দিকে তাকাল।
তার মুখ সাদা হয়ে গেল।
আয়নার ভেতরের নাবিলা এবার ঠোঁট নাড়ল।
কিন্তু শব্দ বের হলো না।
আমি কাছে গেলাম।
কিছুক্ষণ পর খুব আস্তে শব্দ শোনা গেল।
"দৌড়াও।"
আমি চমকে উঠলাম।
"কী?"
আয়নার নাবিলা আবার বলল,
"দৌড়াও।"
তারপর আয়নার পেছনে কালো একটা ছায়া দেখা গেল।
সে ধীরে ধীরে আয়নার নাবিলার কাঁধে হাত রাখল।
আয়নার নাবিলা ভয় পেয়ে গেল।
"ও এসে গেছে।"
আমি বললাম,
"কে?"
সে বলল,
"যে আমাকে বানিয়েছে।"
আয়নার ভেতরের আলো নিভে গেল।
ঘর অন্ধকার।
তারপর—
একটা পুরুষ কণ্ঠ।
খুব নিচু।
খুব শান্ত।
"তোমার স্ত্রী কে?"
আমি কোনো উত্তর দিলাম না।
কণ্ঠটা আবার বলল,
"তোমার স্ত্রী কে?"
আমি নাবিলার হাত ধরলাম।
"চলো।"
আমরা দৌড়াতে শুরু করলাম।
তিশা আমাদের পেছনে।
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলাম।
দ্বিতীয় তলা।
প্রথম তলা।
তারপর দরজার কাছে এসে দেখি—
বাইরে সকাল।
সূর্যের আলো।
আমরা থেমে গেলাম।
কিছুক্ষণ কেউ কথা বললাম না।
তিশা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"আমরা কি সত্যিই বের হয়ে এসেছি?"
আমি দরজার বাইরে তাকালাম।
রাস্তা।
মানুষ।
রিকশা।
সব স্বাভাবিক।
আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।
নাবিলা আমার পাশে দাঁড়িয়ে।
আমি তার হাত ধরলাম।
হাতটা ঠান্ডা।
বরফের মতো ঠান্ডা। 🥶
আমি বললাম,
"তুমি ঠিক আছো?"
সে মাথা নাড়ল।
"হ্যাঁ।"
"চলো, এখান থেকে চলে যাব।"
সে বলল,
"হ্যাঁ।"
আমরা রাস্তার দিকে হাঁটতে লাগলাম।
কয়েক পা যাওয়ার পর তিশা হঠাৎ থেমে গেল।
"ভাইয়া..."
আমি ফিরে তাকালাম।
"কী?"
সে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে আছে।
"ওই জানালায় কে দাঁড়িয়ে?"
আমি জানালার দিকে তাকালাম।
তৃতীয় তলার জানালায় একজন দাঁড়িয়ে।
লাল পোশাক।
সাদা মুখোশ।
আমার বুক কেঁপে উঠল।
আমি নাবিলার দিকে তাকালাম।
সে জানালার দিকে তাকাল না।
বরং আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।
"চলো।"
আমি তার হাত ধরে হাঁটতে শুরু করলাম।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর আমার মাথায় একটা প্রশ্ন এল।
আমি থেমে গেলাম।
"নাবিলা।"
"হুম?"
"তুমি কি তিশাকে চেনো?"
সে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
"না।"
আমার বুকের ভেতর যেন কেউ ছুরি চালিয়ে দিল।
"কী?"
সে আবার বলল,
"আমি তিশাকে চিনি না।"
আমি তিশার দিকে তাকালাম।
তিশা আমার দিকে তাকিয়ে কাঁদছে।
"ভাইয়া..."
আমি আবার নাবিলার দিকে তাকালাম।
"তুমি তো তিশার সঙ্গে গতকাল রাতেও কথা বলেছো।"
সে মাথা নাড়ল।
"না।"
"তাহলে?"
নাবিলা আমার হাত ছেড়ে দিল।
"আমি গতকাল রাত থেকে তোমার সঙ্গে ছিলাম না।"
আমি কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
"কী বলছো?"
সে খুব শান্ত গলায় বলল,
"তুমি যার সঙ্গে এতক্ষণ ছিলে..."
সে একটু হাসল।
"সে আমি নই।"
আমার মাথার ভেতর সবকিছু ঘুরতে লাগল।
আমি পেছনে তাকালাম।
যে নাবিলাকে এতক্ষণ পাশে নিয়ে হাঁটছিলাম—
সে আর নেই।
আমার হাতের মধ্যে শুধু একটা লাল কাপড়।
আমি কাপড়টা ফেলে দিলাম।
তিশা চিৎকার করে বলল,
"ভাইয়া!"
আমি তার দিকে তাকালাম।
"কী?"
সে আমার পেছনে তাকিয়ে আছে।
তার চোখ বড় হয়ে গেছে।
"ওখানে..."
আমি ধীরে ধীরে পেছনে ঘুরলাম।
রাস্তার ওপারে নাবিলা দাঁড়িয়ে।
সত্যিকারের নাবিলা।
তার পাশে—
আরেকজন নাবিলা।
দুজনেই আমার দিকে তাকিয়ে।
দুজনের মুখ একই।
দুজনের চোখ একই।
একজন কাঁদছে।
আরেকজন হাসছে।
তারপর দুজন একসঙ্গে বলল—
"তোমার স্ত্রী কে?" 😱
আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না।
দুজনের মাঝখানে হঠাৎ ছোট্ট মায়ুমি এসে দাঁড়াল।
সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
"এবার তোমার পালা।"
আমি বললাম,
"কীসের পালা?"
মায়ুমি খুব আস্তে বলল,
"উত্তর দেওয়ার।"
"কোন উত্তর?"
সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
"তোমার স্ত্রী কে—এই প্রশ্নের না।"
আমি থেমে গেলাম।
মায়ুমি ফিসফিস করে বলল,
"আসল প্রশ্ন হলো..."
সে আমার পেছনে তাকাল।
"তুমি নিজে কে?"
আমি ঘুরে তাকালাম।
রাস্তার ওপাশে বাড়িটা নেই।
সেখানে একটা পুরোনো স্কুল দাঁড়িয়ে।
শাপলা হাইস্কুল।
দরজার সামনে লেখা—
WELCOME STUDENTS
আর তৃতীয় তলার জানালায় দাঁড়িয়ে আছে একজন পুরুষ।
সাদা মুখোশ।
লাল পোশাক।
তার হাতে একটা সাদা কাগজ।
সে কাগজটা ধীরে ধীরে জানালা থেকে নিচে ফেলল।
কাগজটা বাতাসে ভেসে এসে আমার পায়ের কাছে পড়ল।
আমি কাগজটা তুললাম।
তাতে মাত্র একটা লাইন লেখা—
"তুমি পাঁচ বছর আগে মারা গিয়েছিলে।"
আমি স্থির হয়ে গেলাম।
তিশা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
"ভাইয়া..."
আমি তার দিকে তাকালাম।
তার মুখ বদলে গেছে।
সে আর তিশা নয়।
সে মায়ুমি।
আমি পিছিয়ে গেলাম।
চারপাশের মানুষগুলোও থেমে গেছে।
সবাই আমার দিকে তাকিয়ে।
সবাইয়ের মুখ একই।
নাবিলার মুখ।
মায়ুমির মুখ।
ইউকির মুখ।
আর তারপর—
সবাই একসঙ্গে বলল,
"লাল না নীল?"
আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম।
কিন্তু চোখ বন্ধ করার আগের শেষ দৃশ্যটা এখনও আমার চোখে আটকে আছে।
রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা দুই নাবিলার একজন কাঁদছিল।
আর অন্যজন—
হাসছিল।
হাসতে হাসতে সে তার মুখের চামড়া খুলে ফেলল।
ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো—
একটা সাদা মুখোশ।
আর সেই মুখোশের ওপর লেখা—
A. MANTO 👻
চলবে...
#আকামান্তো #আকামান্তো৩ #ভৌতিকগল্প #ভয়েরগল্প #বাংলাভৌতিকগল্প #হররগল্প #ভূতেরগল্প #রহস্যগল্প #বাংলাগল্প #ভৌতিককাহিনী #হররস্টোরি #জাপানিহরর

আকা মান্তো — ৩য় পর্বতিশার মুখের দিকে তাকিয়ে আমি কয়েক সেকেন্ড কোনো কথা বলতে পারলাম না।মনে হচ্ছিল, মেয়েটা এইমাত্র আমার কান...
07/10/2026

আকা মান্তো — ৩য় পর্ব

তিশার মুখের দিকে তাকিয়ে আমি কয়েক সেকেন্ড কোনো কথা বলতে পারলাম না।

মনে হচ্ছিল, মেয়েটা এইমাত্র আমার কানে এমন একটা কথা বলেছে, যেটা শোনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

"আপনি বললেন... আগে এখানে হাইস্কুল ছিল?"

তিশা মাথা নাড়ল।

"হ্যাঁ ভাইয়া।"

"কতদিন আগে?"

"বেশি না। বছর পাঁচ-ছয় হবে।"

আমার হাতের তালু ঘেমে উঠল।

ঠিক পাঁচ-ছয় বছর!

নাবিলা জাপানে থাকার সময় আকা মান্তোর মুখোমুখি হয়েছিল প্রায় একই সময়।

আমি গলা পরিষ্কার করে বললাম,

"এই স্কুলটা বন্ধ হলো কেন?"

তিশা কফির মগটা টেবিলের ওপর রেখে বলল,

"ঠিক জানি না ভাইয়া। মা বলেছে স্কুলে নাকি অনেক সমস্যা হয়েছিল।"

"কী সমস্যা?"

তিশা একটু চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

"কয়েকজন ছাত্রছাত্রী নাকি অদ্ভুতভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।"

আমার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

"অদ্ভুতভাবে মানে?"

"জানি না। কেউ নাকি বাথরুমে যেতে চাইত না। কেউ বাথরুমে গিয়ে অনেকক্ষণ দরজা বন্ধ করে বসে থাকত। একজন ছেলে তো নাকি কয়েকদিন স্কুলেই আসেনি।"

"কেন?"

তিশা আমার চোখের দিকে তাকাল।

"বলত, বাথরুমে কেউ তাকে প্রশ্ন করে।"

আমার শরীরের প্রতিটা লোম দাঁড়িয়ে গেল।

"কী প্রশ্ন?"

তিশা উত্তর দেওয়ার আগেই বাথরুমের ভেতর থেকে একটা শব্দ হলো।

টুপ!

মনে হলো, কোনো ভারী জিনিস মেঝেতে পড়ে গেছে।

আমি আর তিশা দুজনেই একইসঙ্গে বাথরুমের দিকে তাকালাম।

নাবিলা তখন ভেতরে গোসল করছিল।

"নাবিলা?"

কোনো উত্তর নেই।

আমি দরজার কাছে গিয়ে বললাম,

"নাবিলা?"

ভেতর থেকে কয়েক সেকেন্ড পর তার গলা শোনা গেল।

"হুম?"

"কিছু পড়েছে?"

"না তো।"

"তাহলে শব্দ হলো কীসের?"

"জানি না।"

তার গলায় অস্বাভাবিক একটা কাঁপুনি ছিল।

আমি তিশার দিকে তাকালাম।

মেয়েটা তখন আর স্বাভাবিক নেই।

তার মুখও ফ্যাকাশে।

"তিশা?"

সে খুব আস্তে বলল,

"ভাইয়া..."

"কী?"

"আপনার স্ত্রী কি... এখন বাথরুমে একা?"

আমি বিরক্ত হয়ে বললাম,

"হ্যাঁ।"

তিশা আমার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বলল,

"তাহলে দরজাটা খুলবেন না।"

"কেন?"

"কারণ..."

সে বাকিটা বলল না।

"কারণ কী?"

"আগের স্কুলে একটা কথা প্রচলিত ছিল।"

"কী কথা?"

তিশা ঠোঁট কামড়ে বলল,

"বাথরুমের দরজার ওপাশ থেকে যদি কেউ আপনার নাম ধরে ডাকে, দরজা খুলবেন না।"

আমার বুকের ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে গেল।

ঠিক তখনই—

"শুনছো?"

নাবিলা ভেতর থেকে ডাকল।

আমি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গেলাম।

"হ্যাঁ?"

"একটু কাছে আসো।"

আমি দরজার হাতলে হাত দিতে যাচ্ছিলাম।

তিশা আমার হাত চেপে ধরল।

"ভাইয়া, খুলবেন না।"

আমি তার হাত সরিয়ে বললাম,

"ও আমার স্ত্রী।"

"কিন্তু..."

"নাবিলা!"

ভেতর থেকে কোনো উত্তর এলো না।

"নাবিলা?"

নীরবতা।

আমি আবার ডাকলাম।

"নাবিলা!"

হঠাৎ ভেতর থেকে খুব নিচু স্বরে একটা কথা ভেসে এলো।

"লাল..."

আমার বুকের ভেতর যেন কেউ বরফ ঢেলে দিল।

তারপর—

"না কি নীল?"

আমি পেছনে সরে এলাম।

তিশার হাত কাঁপছে।

আমি কোনো কথা বলতে পারলাম না।

ভেতর থেকে আবার নাবিলার গলা।

"তুমি কোনটা পছন্দ করো?"

আমার শরীর অবশ হয়ে গেল।

এই গলাটা নাবিলার গলা।

কিন্তু কথাগুলো নাবিলা বলছে না।

আমি নিশ্চিত।

কারণ আমার স্ত্রী কখনো এভাবে কথা বলে না।

আমি দরজার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

তারপর ভেতর থেকে একটা পুরুষ কণ্ঠ শোনা গেল।

খুব নিচু।

খুব শান্ত।

"তোমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করো।"

আমার মাথার ভেতর যেন বিস্ফোরণ হলো।

তিশা আমার হাত ছেড়ে দিয়ে পেছনে সরে গেল।

আমি দরজার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

ভেতরে দুজন মানুষ কথা বলছে।

একজন নাবিলা।

আর অন্যজন—

আকা মান্তো।

আমি জানি না সেই কয়েক সেকেন্ড কীভাবে কেটেছিল।

আমার সামনে শুধু একটা কাঠের দরজা।

দরজার ওপাশে আমার স্ত্রী।

আর তার সঙ্গে এমন একজন, যার অস্তিত্বকে পৃথিবীর কোনো যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

আমি দরজা খুলতে যাচ্ছিলাম।

ঠিক তখনই তিশা আমার হাত ধরে টেনে পেছনে নিল।

"না!"

আমি চিৎকার করে বললাম,

"ছাড়ো!"

"দরজা খুলবেন না!"

"আমার স্ত্রী ভেতরে!"

"ওটা আপনার স্ত্রী কিনা নিশ্চিত?"

আমি থেমে গেলাম।

তিশার কথাটা আমার বুকের মধ্যে ঢুকে গেল।

"মানে?"

তিশা কাঁপা গলায় বলল,

"আপনি একটু আগে কী শুনলেন?"

"নাবিলার গলা।"

"আর?"

"একজন পুরুষের গলা।"

"তাহলে দরজা খুলে কী করবেন?"

আমি উত্তর দিতে পারলাম না।

ঠিক তখনই বাথরুমের ভেতর থেকে একটা ধাতব জিনিস মেঝেতে টেনে নেওয়ার শব্দ হলো।

ঘরররর...

ঘরররর...

যেন কেউ ভারী একটা কিছু মেঝের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

নাবিলা হঠাৎ চিৎকার করে উঠল।

"না!"

আমি আর নিজেকে আটকাতে পারলাম না।

দরজায় প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিলাম।

"নাবিলা!"

কোনো উত্তর নেই।

আরেকবার ধাক্কা দিলাম।

"নাবিলা!"

দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।

আমি কাঁধ দিয়ে ধাক্কা দিতে যাচ্ছি—

হঠাৎ দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।

ভেতরে কেউ নেই।

নাবিলা নেই।

কেউ নেই।

শুধু মেঝেতে পানি।

শাওয়ার চলছে।

আয়নার ওপর কুয়াশা জমে আছে।

আর সেই কুয়াশার ওপর আঙুল দিয়ে লেখা—

"নীল।"

আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

তিশা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল।

"ভাইয়া..."

আমি ঘুরে তাকালাম।

"কী?"

সে কাঁপতে কাঁপতে বলল,

"আপনার স্ত্রী কোথায়?"

আমি চারদিকে তাকালাম।

নাবিলা সত্যিই নেই।

বাথরুমে একটা ছোটো ভেন্টিলেটর ছাড়া বের হওয়ার কোনো পথ নেই।

আমি ভেন্টিলেটরের দিকে তাকালাম।

সেটা এত ছোট যে একটা শিশুও সেখানে ঢুকতে পারবে না।

তাহলে নাবিলা গেল কোথায়?

প্রায় দশ মিনিট পর তাকে পাওয়া গেল।

ড্রইংরুমে।

সে সোফার ওপর বসে আছে।

চুল ভেজা।

গায়ে গোসলের কাপড়।

মুখ একদম স্বাভাবিক।

আমি তাকে দেখে দৌড়ে গেলাম।

"নাবিলা!"

সে অবাক হয়ে তাকাল।

"কী হয়েছে?"

"তুমি এখানে কীভাবে এলে?"

"কোথা থেকে?"

"বাথরুম থেকে!"

নাবিলা ভ্রু কুঁচকে বলল,

"আমি তো বাথরুমে যাইনি।"

আমার মাথা ঘুরে উঠল।

"কী বলছো?"

"আমি তো একটু আগেই এখানে এসেছি।"

"তুমি বাথরুমে গোসল করছিলে।"

"না।"

"তাহলে?"

সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

"আমি কাপড় নিতে গিয়েছিলাম। তারপর মনে হলো তুমি ডাকছো। তাই বেরিয়ে এলাম।"

"আমি তোমাকে ডাকিনি।"

নাবিলা এবার চুপ করে গেল।

তিশা দূর থেকে সব শুনছিল।

সে হঠাৎ বলল,

"আপু, আপনি কি কিছু শুনেছিলেন?"

নাবিলা তিশার দিকে তাকাল।

"কী?"

"কেউ কথা বলছিল?"

নাবিলার মুখের রং বদলে গেল।

"না।"

"আপনি নিশ্চিত?"

"হ্যাঁ।"

তিশা আর কিছু বলল না।

আমি নাবিলাকে নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম।

তারপর জিজ্ঞেস করলাম,

"তুমি সত্যি কিছু শুনোনি?"

নাবিলা আমার দিকে তাকিয়ে রইল।

কিছুক্ষণ পর বলল,

"তুমি আমাকে বিশ্বাস করবে?"

"হ্যাঁ।"

"তাহলে একটা কথা বলি।"

"বলো।"

"আমি যখন বাথরুমের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল ভেতর থেকে কেউ আমাকে ডাকছে।"

"কে?"

"জানি না।"

"কী বলছিল?"

নাবিলা আমার হাত ধরে বলল,

"তোমার নাম।"

আমার বুক কেঁপে উঠল।

"আমার নাম?"

"হ্যাঁ।"

"তারপর?"

"তারপর বলল..."

নাবিলা এবার আমার চোখের দিকে তাকাল।

"তুমি কি লাল চাদর পছন্দ করো?"

আমি কিছু বলতে পারলাম না।

সেদিন রাতে আমরা একসঙ্গে ঘুমালাম।

বাথরুমের দরজা খোলা রেখে।

ঘরের আলো জ্বালিয়ে।

নাবিলা আমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল।

ঘুম আসছিল না কারও।

রাত প্রায় দুইটার দিকে নাবিলা ফিসফিস করে বলল,

"শুনছো?"

"হুম?"

"আমরা কি এই বাড়ি থেকেও চলে যাব?"

আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম,

"হ্যাঁ।"

"কবে?"

"কাল।"

সে আমার বুকের কাছে মুখ লুকিয়ে ফেলল।

"একটা কথা বলি?"

"বলো।"

"আমার মনে হচ্ছে ওটা আমাদের সঙ্গে এসেছে।"

আমি থমকে গেলাম।

"কোথা থেকে?"

"জাপান থেকে।"

আমি বললাম,

"অসম্ভব।"

নাবিলা মাথা নাড়ল।

"না।"

"কীভাবে?"

"কারণ ওখানেও প্রথমবার ও আমাকে প্রশ্ন করেছিল।"

"তুমি তো বলেছিলে ইউকি আর তুমি বেঁচে গিয়েছিলে।"

"হ্যাঁ।"

"তাহলে?"

নাবিলা চোখ বন্ধ করে বলল,

"আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওকে রেখে আসিনি।"

আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

"মানে?"

নাবিলা ধীরে ধীরে বলল,

"সেদিন আমি যে উত্তরটা দিয়েছিলাম, সেটা ছিল না লাল। ছিল না নীল।"

"তাহলে?"

"আমি বলেছিলাম..."

সে আমার হাত আরও শক্ত করে ধরল।

"আমি কারও রং পছন্দ করি না।"

আমি তাকিয়ে রইলাম।

"তাতে কী হয়েছিল?"

"ও চুপ করে গিয়েছিল।"

"তারপর?"

"ইউকি বলেছিল, আমরা বেঁচে গেছি।"

"তারপর?"

নাবিলা ফিসফিস করে বলল,

"কিন্তু যাওয়ার আগে আমি আয়নায় একটা জিনিস দেখেছিলাম।"

"কী?"

"আমাদের দুজনের পেছনে একজন দাঁড়িয়ে ছিল।"

"আকা মান্তো?"

নাবিলা মাথা নাড়ল।

"না।"

"তাহলে?"

সে বলল,

"একটা ছোটো মেয়ে।"

পরদিন সকালে আমি ইউকিকে ফোন করলাম।

নাবিলার পুরোনো একটা ডায়েরিতে তার নম্বর ছিল।

ফোন ধরতে প্রায় এক মিনিট সময় লাগল।

"Hello?"

আমি বললাম,

"Yuki, I need to ask you something."

ওপাশে নীরবতা।

"Is Nabila with you?"

"না।"

"Then listen carefully."

আমি আগের রাতের ঘটনা বললাম।

সব শুনে ইউকি অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

"তুমি এখন কোথায়?"

"বাংলাদেশে।"

"নতুন বাড়িতে?"

"হ্যাঁ।"

"ওই বাড়ির আগে কী ছিল?"

"স্কুল।"

ওপাশ থেকে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাসের শব্দ পেলাম।

"আমি ভয় পাচ্ছিলাম এটাই হবে।"

আমি বললাম,

"কী হবে?"

"আকা মান্তো শুধু মানুষকে অনুসরণ করে না।"

"তাহলে?"

"যে জায়গায় তার সঙ্গে কারও দেখা হয়, সেই জায়গার মতো আরেকটা জায়গা সে খুঁজে নেয়।"

"মানে?"

"School bathroom."

আমি বললাম,

"কিন্তু এখানে তো জাপান না।"

ইউকি বলল,

"আকা মান্তোর জন্য দেশ কোনো ব্যাপার না।"

"তুমি কী বলতে চাইছো?"

"যেখানে স্কুল আছে, যেখানে পুরোনো স্কুলের বাথরুম আছে, যেখানে কোনো ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে—সেখানে তার আসার পথ তৈরি হতে পারে।"

আমি বললাম,

"তাহলে কী করতে হবে?"

ইউকি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

"নাবিলাকে একটা প্রশ্ন করো।"

"কী প্রশ্ন?"

"ওকে জিজ্ঞেস করো—প্রথমবার আকা মান্তো তাকে কোথায় দেখেছিল?"

"স্কুলের বাথরুমে।"

"না।"

"তাহলে?"

ইউকি খুব নিচু গলায় বলল,

"তারও আগে।"

ফোন কেটে গেল।

আমি নাবিলার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।

সে তখন রান্নাঘরে চা বানাচ্ছিল।

"নাবিলা।"

"হুম?"

"তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব।"

সে আমার দিকে তাকাল।

"প্রথমবার আকা মান্তোকে তুমি কোথায় দেখেছিলে?"

তার হাতে থাকা কাপটা মেঝেতে পড়ে গেল।

ঝনঝন শব্দ হলো।

নাবিলা কিছু বলল না।

আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম,

"কোথায়?"

তার চোখে পানি এসে গেল।

"আমি তোমাকে সব বলিনি।"

আমি চুপ করে রইলাম।

"আমি আর ইউকি যখন জাপানে ছিলাম, তখন প্রথমবার ওকে স্কুলের বাথরুমে দেখিনি।"

"তাহলে?"

নাবিলা বলল,

"আমরা প্রথমে একটা গল্প শুনেছিলাম।"

"কী গল্প?"

"একটা মেয়ে নাকি বাথরুমে গিয়ে আর বের হয়নি।"

"কোন স্কুলে?"

"আমাদের স্কুলে।"

"কত বছর আগে?"

"জানি না।"

"তারপর?"

"ইউকি বলেছিল এটা পুরোনো গল্প।"

"তারপর?"

"একদিন আমরা স্কুলের পুরোনো স্টোররুমে একটা বাক্স পেয়েছিলাম।"

"তার মধ্যে কী ছিল?"

"একটা লাল কাপড়।"

আমার গলা শুকিয়ে গেল।

"আর?"

"একটা পুরোনো ছবি।"

"কার ছবি?"

"একটা মেয়ের।"

"ওই মেয়েটাই?"

নাবিলা মাথা নাড়ল।

"হ্যাঁ।"

"তার নাম?"

"মায়ুমি।"

আমি বললাম,

"মায়ুমি কে?"

নাবিলা বলল,

"সেটাই আমরা জানি না।"

সেদিন দুপুরে আমি পুরোনো স্কুলের ব্যাপারে খোঁজ শুরু করলাম।

বাড়িওয়ালাকে ফোন করলাম।

তিনি প্রথমে কিছু বলতে চাইছিলেন না।

আমি বললাম,

"চাচা, এই বিল্ডিংটা আগে স্কুল ছিল, তাই না?"

ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর বললেন,

"কে বলেছে?"

"আপনার মেয়ে।"

"ওসব পুরোনো কথা।"

"আমি জানতে চাই।"

"জেনে কী করবেন?"

"আমার স্ত্রী ওই স্কুলের বাথরুমে ভয় পাচ্ছে।"

তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

"আপনি আজই বাসা ছেড়ে দেন।"

"কেন?"

"কারণ আগের ভাড়াটিয়াও একই কথা বলেছিল।"

আমার বুক ধক করে উঠল।

"কী কথা?"

"তার মেয়েও নাকি বাথরুমে কারও সঙ্গে কথা বলত।"

"তারপর?"

"মেয়েটা একদিন নিখোঁজ হয়ে যায়।"

আমি উঠে দাঁড়ালাম।

"কী বলছেন?"

"পুলিশ এসেছিল।"

"পাওয়া যায়নি?"

"না।"

"কোথায় গেল?"

"কেউ জানে না।"

"কিন্তু আপনারা এখানে থাকেন কীভাবে?"

লোকটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,

"আমরা থাকি না।"

আমি জানালার দিকে তাকালাম।

সামনের ফ্ল্যাটটা খালি।

পাশের ফ্ল্যাট খালি।

উপরের তলাটাও খালি।

আমি তখন বুঝলাম—

আমরা যে বাড়িটাকে বাসা ভেবেছিলাম, সেখানে আসলে আর কেউ থাকে না।

শুধু আমরা।

আর বাড়িওয়ালার পরিবার।

সন্ধ্যার পর তিশা আবার এলো।

তার হাতে একটা পুরোনো ফাইল।

"ভাইয়া, এটা আপনাকে দিতে বলেছে মা।"

আমি ফাইল খুললাম।

পুরোনো কিছু কাগজ।

স্কুলের নাম।

ছাত্রছাত্রীদের তালিকা।

পরীক্ষার ফলাফল।

আর কয়েকটা রিপোর্ট।

একটা রিপোর্টে চোখ আটকে গেল।

Student: Mayumi Sato

Age: 14

Status: Missing

তারিখটা পাঁচ বছর আগের।

আমি তিশাকে বললাম,

"এই মেয়েটা কে?"

তিশা বলল,

"জানি না।"

"তুমি নিশ্চিত?"

"হ্যাঁ।"

"তাহলে তোমার মা জানে?"

তিশা এবার চুপ।

আমি বললাম,

"তিশা।"

সে মাথা নিচু করল।

"মা বলেছে এসব নিয়ে কথা না বলতে।"

"কেন?"

"কারণ ওই মেয়েটাকে শেষবার যে জায়গায় দেখা গিয়েছিল..."

"কোথায়?"

তিশা বলল,

"স্কুলের বাথরুমে।"

আমার হাত থেকে কাগজটা পড়ে গেল।

সেদিন রাতে নাবিলা বাথরুমে যায়নি।

সে সারারাত আমার পাশে বসে ছিল।

রাত প্রায় তিনটার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল।

ঘর অন্ধকার।

বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

আমি মোবাইলের আলো জ্বালালাম।

নাবিলা আমার হাত ধরে বলল,

"ও এসেছে।"

"কে?"

"ও।"

"কোথায়?"

সে বাথরুমের দিকে তাকাল।

আমি তাকালাম।

বাথরুমের দরজা বন্ধ।

কিন্তু দরজার নিচ দিয়ে আলো বের হচ্ছে।

আমাদের বাথরুমে বিদ্যুৎ নেই।

তারপর ভেতর থেকে টুপটাপ পানির শব্দ।

টুপ।

টুপ।

টুপ।

আমি উঠে দাঁড়ালাম।

নাবিলা বলল,

"যেও না।"

"দেখতে হবে।"

"না।"

আমি দরজার কাছে গেলাম।

দরজার ওপাশ থেকে একটা শিশুকণ্ঠ ভেসে এলো।

"আপু..."

নাবিলা আমার পেছনে এসে দাঁড়াল।

"কে?"

শিশুকণ্ঠ বলল,

"আমাকে বের করে দাও।"

নাবিলা কেঁপে উঠল।

আমি বললাম,

"তুমি কে?"

ওপাশ থেকে উত্তর এল,

"মায়ুমি।"

নাবিলা আমার হাত চেপে ধরল।

"দরজা খুলো না।"

আমি বললাম,

"কেন?"

সে ফিসফিস করে বলল,

"ওর গলা আমি চিনি।"

"কোথা থেকে?"

নাবিলা ফিসফিস করে বলল,

"জাপান থেকে।"

আমি দরজা খুললাম না।

ভেতর থেকে মেয়েটা কাঁদতে লাগল।

"আপু..."

"আপু..."

"আমাকে বের করে দাও..."

নাবিলা কান্না করতে করতে বলল,

"মায়ুমি, তুমি কোথায়?"

ওপাশ থেকে উত্তর এল,

"আমি এখানে।"

"কোথায়?"

"আয়নার পেছনে।"

আমি দেয়ালের দিকে তাকালাম।

বাথরুমের আয়নাটা তখন হঠাৎ কেঁপে উঠল।

টক।

টক।

টক।

যেন কেউ আয়নার অন্য পাশ থেকে আঘাত করছে।

নাবিলা পিছিয়ে গেল।

আমি কাছে গিয়ে আয়নার দিকে তাকালাম।

কুয়াশায় ঢাকা আয়নার ওপর ধীরে ধীরে একটা লেখা ফুটে উঠল।

"ONE QUESTION."

তারপর—

"ONE ANSWER."

তার নিচে আরেকটা শব্দ।

"CHOOSE."

আমি বুঝলাম—

খেলা শুরু হয়ে গেছে।

পরদিন সকালে আমি বাড়িওয়ালার সঙ্গে দেখা করলাম।

তিনি এবার আর কিছু লুকালেন না।

বললেন,

"স্কুলের নাম ছিল শাপলা হাইস্কুল।"

"মায়ুমি?"

"একজন ছাত্রী।"

"তার কী হয়েছিল?"

"সে নিখোঁজ হয়েছিল।"

"কিন্তু তার সঙ্গে আকা মান্তোর সম্পর্ক?"

লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,

"আকা মান্তো নামে আমি কিছু জানি না।"

"তাহলে বাথরুমে কী হয়েছিল?"

তিনি মাথা নিচু করলেন।

"ওই স্কুলে একটা পুরোনো বাথরুম ছিল।"

"কোথায়?"

"তৃতীয় তলায়।"

আমি চমকে উঠলাম।

আমরা এখন যে ফ্ল্যাটে থাকি, সেটা দ্বিতীয় তলায়।

"তৃতীয় তলা তো বন্ধ?"

"হ্যাঁ।"

"কেন?"

"কারণ সেখানে কেউ থাকে না।"

"আমি দেখতে চাই।"

লোকটা বললেন,

"যাবেন না।"

"কেন?"

"ওখানে মায়ুমিকে শেষবার দেখা গিয়েছিল।"

আমি সেদিনই তৃতীয় তলায় উঠলাম।

সিঁড়ির ওপর মোটা ধুলোর স্তর।

দেয়ালে পুরোনো স্কুলের পোস্টার।

এক জায়গায় এখনও লেখা—

WELCOME STUDENTS

দরজাগুলো বন্ধ।

শেষে একটা লম্বা করিডোর।

করিডোরের একদম শেষে বাথরুম।

দরজায় মরিচা পড়েছে।

আমি হাত বাড়িয়ে দরজা ঠেললাম।

খুলল না।

পাশের দেয়ালে একটা পুরোনো নোটিশ বোর্ড।

সেখানে কিছু ছবি ঝুলছে।

স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানের ছবি।

ছাত্রছাত্রীদের ছবি।

শিক্ষকদের ছবি।

আমি একটার পর একটা দেখতে লাগলাম।

হঠাৎ একটা ছবিতে চোখ আটকে গেল।

নাবিলা।

আমি স্থির হয়ে গেলাম।

ছবিটা পাঁচ বছর আগের।

নাবিলা তখন জাপানে।

কিন্তু ছবিতে সে দাঁড়িয়ে আছে এই স্কুলের করিডোরে।

তার পাশে ইউকি।

আর তাদের পেছনে—

একটা ছোটো মেয়ে।

মায়ুমি।

আমার মাথা ঘুরতে লাগল।

আমি ছবিটা খুলে হাতে নিলাম।

পেছনে লেখা ছিল—

"They came here before."

আমি আর এক মুহূর্তও সেখানে থাকতে পারলাম না।

বাড়িতে ফিরে ছবিটা নাবিলাকে দেখালাম।

ছবিটা দেখেই সে চিৎকার করে উঠল।

"এটা কোথায় পেয়েছো?"

"তৃতীয় তলায়।"

"তুমি সেখানে গিয়েছিলে?"

"হ্যাঁ।"

"তুমি বুঝতে পারছো কী করেছো?"

"না।"

নাবিলা কাঁদতে কাঁদতে বলল,

"আমি এই ছবিটা পাঁচ বছর আগে জাপানে দেখেছি।"

"কী?"

"হ্যাঁ।"

"কোথায়?"

"মায়ুমির বাড়িতে।"

আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।

"তুমি মায়ুমির বাড়িতে গিয়েছিলে?"

"না।"

"তাহলে?"

"ওটা ছিল একটা স্কুলের পুরোনো অ্যালবাম।"

"আর ছবিটা?"

"ছবিতে আমি আর ইউকি ছিলাম।"

"কিন্তু কীভাবে?"

নাবিলা আমার দিকে তাকাল।

তার চোখে ভয়।

"আমি জানি না।"

সেই রাতেই ইউকি ভিডিও কল করল।

তার মুখ দেখে মনে হচ্ছিল সে কয়েক রাত ঘুমায়নি।

"Show me the picture."

আমি ছবিটা ক্যামেরার সামনে ধরলাম।

ইউকি দেখেই চুপ হয়ে গেল।

"Yuki?"

কোনো উত্তর নেই।

"Yuki!"

সে বলল,

"এটা সম্ভব না।"

"কেন?"

"Because Mayumi died."

আমার বুক কেঁপে উঠল।

"কীভাবে?"

"সে বাথরুমে মারা যায়নি।"

"তাহলে?"

"সে নিজেই..."

ইউকি থেমে গেল।

"সে কী?"

"সে একটা অভিশাপ থেকে বাঁচতে চেয়েছিল।"

"কোন অভিশাপ?"

ইউকি বলল,

"আকা মান্তো আসলে একজন মানুষ ছিল।"

আমি চুপ।

"অনেক বছর আগে সে একটি স্কুলে শিক্ষক ছিল।"

"তারপর?"

"সে মেয়েদের বাথরুমে গিয়ে তাদের ভয় দেখাত।"

"তারপর?"

"একদিন ছাত্রীরা তাকে ধরে ফেলে।"

"তারপর?"

"তাকে মেরে ফেলা হয়।"

"কে?"

"স্কুলের কয়েকজন ছাত্র।"

"তারপর?"

"তার শরীর পাওয়া যায়নি।"

আমি বললাম,

"তাহলে আকা মান্তো?"

ইউকি বলল,

"লোকটা মারা যাওয়ার পর থেকেই গল্পটা শুরু হয়।"

"কিন্তু মায়ুমি?"

ইউকি বলল,

"মায়ুমি ছিল সেই স্কুলের এক ছাত্রী। সে বিশ্বাস করত, আকা মান্তো তাকে অনুসরণ করছে।"

"সে কী করেছিল?"

"সে একটা জায়গা খুঁজে পেয়েছিল।"

"কোথায়?"

ইউকি বলল,

"একটা পুরোনো বাথরুমের নিচে।"

আমার গলা শুকিয়ে গেল।

"নিচে কী ছিল?"

"একটা ঘর।"

"কী ঘর?"

ইউকি বলল,

"যেখানে আকা মান্তোর জিনিসপত্র রাখা ছিল।"

পরদিন আমরা তৃতীয় তলায় গেলাম।

আমি, নাবিলা আর তিশা।

বাড়িওয়ালা আমাদের যেতে নিষেধ করেছিলেন।

কিন্তু তিশা বলেছিল,

"আমিও যাব।"

বাথরুমের দরজা এবার খোলা ছিল।

ভেতরে ঢুকে দেখি পুরোনো টাইলস।

এক পাশে ভাঙা আয়না।

আর মেঝেতে একটা লোহার ঢাকনা।

তিশা বলল,

"এটা আগে দেখিনি।"

আমি ঢাকনাটা তুললাম।

নিচে সিঁড়ি।

অন্ধকার সিঁড়ি।

নাবিলা আমার হাত ধরে বলল,

"যেও না।"

আমি বললাম,

"এবার সত্যিটা জানতে হবে।"

আমরা নিচে নামলাম।

দশ ধাপ।

বিশ ধাপ।

ত্রিশ ধাপ।

তারপর একটা ছোটো ঘর।

ঘরের মাঝখানে একটা কাঠের চেয়ার।

চেয়ারের ওপর লাল কাপড়।

আর দেয়ালে সারি সারি নাম।

সব মেয়েদের নাম।

শেষ নাম—

NABILA

তার নিচে—

TAISHA

আর একদম শেষে—

আমার নাম।

আমি পিছিয়ে এলাম।

"এটা কী?"

নাবিলা কাঁদতে শুরু করল।

তিশা বলল,

"ভাইয়া..."

আমি তাকালাম।

দেয়ালের অন্য পাশে একটা আয়না।

আয়নায় আমরা তিনজন।

কিন্তু আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে একজন।

লাল পোশাক।

মুখ ঢাকা।

হাতে একটা সাদা কাগজ।

সে ধীরে ধীরে মাথা তুলল।

তারপর আয়নার ভেতর থেকে কাগজটা আমাদের দিকে এগিয়ে দিল।

কাগজে লেখা—

"WHO WILL ANSWER?"

তিশা চিৎকার করে উঠল।

আমি নাবিলাকে নিয়ে দৌড়ে বের হতে গেলাম।

কিন্তু দরজাটা বন্ধ।

আমরা তিনজন আটকা।

ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা কণ্ঠ শোনা গেল।

"লাল চাদর না কি নীল চাদর?"

নাবিলা আমার দিকে তাকাল।

আমি তার হাত ধরে বললাম,

"কেউ উত্তর দেবে না।"

আবার প্রশ্ন এল।

"লাল চাদর না কি নীল চাদর?"

আমি চুপ।

তৃতীয়বার—

"লাল চাদর না কি নীল চাদর?"

নাবিলা হঠাৎ আমার হাত ছেড়ে দিল।

"নাবিলা!"

সে আয়নার দিকে এগিয়ে গেল।

আমি তাকে টেনে ধরলাম।

"কোথায় যাচ্ছো?"

সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

"ও আমাকে ডাকছে।"

"কে?"

"মায়ুমি।"

"কোথায়?"

নাবিলা আয়নার দিকে আঙুল তুলল।

"ওখানে।"

আমি আয়নায় তাকালাম।

মায়ুমি দাঁড়িয়ে আছে।

ছোট্ট মেয়ে।

চোখে পানি।

সে মুখ খুলে বলল,

"ওকে থামাতে হলে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।"

আমি বললাম,

"কী উত্তর?"

মায়ুমি বলল,

"তৃতীয়টা।"

"তৃতীয়টা কী?"

"লাল না নীল নয়।"

"তাহলে?"

সে বলল,

"সাদা।"

হঠাৎ ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।

একটা প্রচণ্ড চিৎকার।

তারপর—

সব আলো ফিরে এলো।

দরজা খোলা।

লাল কাপড় নেই।

আয়না ভাঙা।

আর নাবিলা নেই।

আমি পাগলের মতো তাকে খুঁজতে লাগলাম।

"নাবিলা!"

কোনো উত্তর নেই।

তিশা কাঁদতে কাঁদতে বলল,

"ভাইয়া, আপু কোথায়?"

আমি সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলাম।

প্রথম তলা।

দ্বিতীয় তলা।

কোথাও নেই।

হঠাৎ দ্বিতীয় তলার বাথরুম থেকে পানির শব্দ।

আমি দৌড়ে গেলাম।

দরজা খুললাম।

নাবিলা মেঝেতে পড়ে আছে।

চোখ বন্ধ।

আমি তাকে কোলে তুলে নিলাম।

"নাবিলা!"

কোনো সাড়া নেই।

তার ঠোঁট নীল হয়ে গেছে।

আমি ভয় পেয়ে গেলাম।

কিছুক্ষণ পর সে চোখ খুলল।

আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

"তুমি উত্তর দিয়েছো?"

আমি বললাম,

"না।"

সে ফিসফিস করে বলল,

"ভালো করেছো।"

"কেন?"

"কারণ..."

সে আমার হাতের দিকে তাকাল।

আমিও তাকালাম।

আমার ডান হাতে লাল রঙের দাগ।

রক্তের মতো।

তার পাশে নীল দাগ।

আর মাঝখানে—

সাদা।

আমি হাত মুছতে গেলাম।

দাগ উঠল না।

নাবিলা বলল,

"ও এখন আমাদের তিনজনের কাউকেই ছাড়বে না।"

"কেন?"

সে চোখ বন্ধ করে বলল,

"কারণ আমরা উত্তর খুঁজতে গিয়েছিলাম।"

"তাহলে?"

"ও এখন প্রশ্ন বদলেছে।"

"কী প্রশ্ন?"

নাবিলা চোখ খুলল।

তারপর এমন একটা কথা বলল, যেটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা বরফ হয়ে গেল।

"এখন ও জিজ্ঞেস করবে না—লাল না নীল।"

"তাহলে?"

নাবিলা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

"এখন ও জিজ্ঞেস করবে..."

সে থেমে গেল।

আমি বললাম,

"কী?"

নাবিলা খুব আস্তে বলল,

"তোমার স্ত্রী কে?"

আমি বুঝতে পারলাম না।

"মানে?"

নাবিলা আমার হাত ধরে বলল,

"ও এখন আমাদের মধ্যে আসল নাবিলাকে খুঁজছে।"

ঠিক তখনই আমাদের পেছনের আয়না থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো।

খুব শান্ত।

খুব ধীর।

"তোমার স্ত্রী কে?"

আমি ঘুরে তাকালাম।

আয়নায় আমরা দুজন দাঁড়িয়ে আছি।

কিন্তু—

আমাদের মাঝখানে আরেকজন দাঁড়িয়ে।

নাবিলার মতো দেখতে।

একই মুখ।

একই চোখ।

একই চুল।

শুধু তার ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত একটা হাসি।

সে আয়নার ভেতর থেকে আমাকে দেখছে।

আর তার হাতে একটা লাল কাপড়।

আমি নাবিলার হাত আরও শক্ত করে ধরলাম।

আয়নার মেয়েটা ধীরে ধীরে বলল,

"লাল চাদর না কি নীল চাদর?"

আমি কোনো উত্তর দিলাম না।

সে আবার বলল,

"লাল?"

তারপর নীল কাপড়টা তুলে ধরল।

"নীল?"

তারপর সাদা কাপড়টা।

"নাকি..."

সে হাসল।

"সাদা?"

নাবিলা আমার কানে ফিসফিস করে বলল,

"যদি ওকে উত্তর দাও..."

"কী হবে?"

"তাহলে ও ঠিক করে ফেলবে..."

"কী?"

নাবিলা কাঁপতে কাঁপতে বলল,

"আমাদের মধ্যে কে মানুষ।"

আয়নার মেয়েটা এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল—

"তাহলে বলো..."

"তোমার পাশে যে দাঁড়িয়ে আছে..."

"সে কি সত্যিই তোমার স্ত্রী?"

তারপর আয়নার ভেতরের নাবিলা হেসে উঠল।

আর আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নাবিলা—

হঠাৎ আমার হাত ছেড়ে দিল।

চলবে...

হ্যাশট্যাগ

#আকামান্তো #আকামান্তো২ #ভৌতিকগল্প #ভয়েরগল্প #বাংলাভৌতিকগল্প #হররগল্প #ভূতেরগল্প #রহস্যগল্প #বাংলাগল্প #ভৌতিককাহিনী #হররস্টোরি #জাপানিহরর া

Address

Cha Bagan, 29 No Ward, Gazipur City
Dhaka
1700

Opening Hours

Monday 10:00 - 22:00
Tuesday 10:00 - 22:00
Wednesday 10:00 - 22:00
Thursday 10:00 - 22:00
Saturday 10:00 - 22:00
Sunday 10:00 - 22:00

Telephone

+8801709212912

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Haque Creation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Haque Creation:

Shortcuts

Share

Nearby computer & electronics services