15/11/2023
ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের শুরুতে বেশীরভাগই মানুষই বুঝতে পারে না – কোন কাজ শিখবেন, কোন কাজের চাহিদা বেশী, কোনটি থেকে বেশী ইনকাম হবে এবং ঠিক কোন কাজটি আপনার জন্য উপযুক্ত ।
নতুন অবস্থায় আপনার জন্য সবচাইতে সহজ কাজ হবে ডিজিটাল মার্কেটিং বা ভিন্ন নামে এস.ই.ও ।
কারণ এই কাজটি সবচাইতে বেশী পাওয়া যায়, সবচাইতে সহজ এবং কম সময়ের মধ্যে ইনকাম শুরু করা যায় । এই কাজটি করে প্রতি মাস ৩০- ৫০ হাজার টাকা প্রতি মাসে সহজেই ইনকাম করা যায় । এই কাজের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং প্রতি মাসে একটা নিশ্চিত ইনকাম সোর্স তৈরী হলে তখন আপনি অন্যান্য আরো এডভান্সড লেভেলের কাজ শিখতে পারবেন । শিখার সময় সারা জীবনই আছে ।
কাজটি আসলে কি ?
এটি হল কোন কোম্পানীর পক্ষে তাদের প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য অনলাইনে প্রচার করা । অর্থাৎ ভালভাবে গ্রাফিক্স, এনিমেশন, প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন সহকারে কোন কোম্পনীর পণ্য অনলাইনে উপস্থাপন করা এবং লাখ লাখ টার্গেটেড কাষ্টমারের কাছে প্রচার করা । উদ্দেশ্য কোম্পানীকে অনলাইনে বিক্রি করার ব্যাপারে সহায়তা করা । বর্তমানে ব্যবসা মানেই অনলাইনে প্রচার করতেই হবে । বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটারের সাহায্য ছাড়া কোন কোম্পানীর জন্য ব্যবসা বাণিজ্য করা অনেক কঠিন হবে । আমাদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে সবকিছুইতেই অনলাইন নির্ভরতা বাড়ছে । সুতরাং এই কাজের ভবিষ্যত কি তা নিজেই অনুমান করুন ।
এই ডিজিটাল মার্কেটিং কাজটি ভালভাবে শিখে আপনি যতভাবে ইনকাম করতে পারবেন :
১. মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং করে । যেমন আপওয়ার্ক, ফাইভার ও অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে প্রতিদিন এই বিষয়ে অসংখ্য পাওয়া যায় ।
২. ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ছাড়া সরাসরি বিদেশী বড় বড় কোম্পানীর সাথে সরাসরি কাজ করতে পারবেন । এই ভাবে আপনি একটি বা দুইটি কোম্পনীতে ফিক্সড হয়ে গেলে একটা কোম্পানী থেকেই আপনি লাখ টাকার বেশী সেলারী ড্র করতে পারবেন । ( তাদের দেশের স্যালার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায় এটা খুবই কম বেতন) । আপনি যদি সিরিয়াসলি ফ্রিল্যান্সিং করেন তবে নিচের কোন কাজ করার প্রয়োজন হবে না আর সময় ও পাবেন না ।
৩. যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে না চান তবে বাংলাদেশী যে কোন ছোট -বড় কোম্পানীতে ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে কাজ করতে পারবেন । কারণ বর্তমানে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানকেই ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব চ্যানেল এবং ওয়েবসাইট মেনটেইন করতেই হয় । এই ডিজিটাল পেইজগুলোর মাধ্যমেই তার লক্ষ কোটি টাকার প্রোডাক্ট সেল করে । তাই এগুলো পরিচালনার জন্য কোম্পানীগুলো ভাল বেতনে দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার নিয়োগ করে । বর্তমানে প্রতিটি দোকান থেকে শুরু করে ছোট বড় মাঝারী লাখ লাখ প্রতিষ্ঠানে এই ডিজিটাল মার্কেটিং কাজের জব অপরচুনিটি তৈরী হয়েছে ।
৪. আপনি চাইলে কোথাও চাকরী না করেও কমিশন বেসিসে অন্যান্য কোম্পানীর জন্য কাজ করতে পারবেন । যেমন আপনি কোন লিফট কোম্পানীর জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং করুন- সকল প্রচারণায় আপনার ফোন নাম্বার বা ইমেইল দিন । আপনার প্রচারণার ফলে কোম্পানীর যে পরিমাণ সেল হবে তার ১০ % বা ২০ % কোম্পানী আপনাকে দিবে । এই ব্যাপারে আগেই চুক্তি করুন । এইরকম কাজ করার জন্য হাজার হাজার প্রোডাক্ট পাবেন এবং যে কোন কোম্পানীকে অফার করলেই তারা একপায়ে রাজী হবে । আমি উদাহরণ হিসেবে লিফট দিলাম আপনি এর জায়গায় টিভি, ফ্রিজ, এসি, ফ্ল্যাট, জায়গা-জমি ইত্যাদি যে কোন প্রোডাক্ট বসাতে পারেন ।
৫. ব্যবসা করুন । যে প্রোডাক্ট সম্পর্কে আপনার আইডিয়া আছে সেটা কম দামে পাইকারী কিনে অনলাইনে খুচরা বিক্রি করুন ।
৬. ড্রপ শিপিং: মনে করুন কোন লোক মৌ চাষ করে । এখন সে ২০০ টাক কেজি দরে পাইকারী মধু বিক্রি করে । ঠিক সেই মধুই আপনি অনলাইনে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন । তার জন্য আপনি প্রচার করবেন, কন্টেন্ট তৈরী করবেন । অর্ডার আসলে কাষ্টমারের ফোন নাম্বারটি তাকে দিন । মৌ চাষীই কষ্টমারকে কুরিয়ার করবে এবং আপনি কোন মধু স্টক না রেখে, কোন উৎপাদন বা সংরক্ষণ না করে, পণ্য পরিবহনের কোন ঝামেলায় না জড়িয়ে, কোন রিস্ক না নিয়ে, কোন খরচ না করে শুধুমাত্র ঘরে বসে কাজ করেই – আপনি নিজেও লাভবান হতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে লাভবান করে দিতে পারবেন । এই সিস্টেমের নাম হল ড্রপ শিপিং ।
৭. এই জগতে ঢুকলে আপনার সাথে হাজারো ব্যবসায়ীর সাথে পরিচয় হবে যার ফলে নিত্য নতুন চাকরী, নতুন আইডিয়া, বিজনেস প্রপোজাল চলে আসবে । শুধু দরকার লেগে থাকা । এই অনলাইন জগৎ একটি মজার জগৎ । আসলে আমাদের বাস্তব জগৎটা খুবই ছোট আর অনলাইন জগৎ অসীম । ধন্যবাদ ।
এটি জামাল স্যারের লেখা । জামাল স্যারের ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত সকল লেখা, ভিডিও এবং টিউটোরিয়াল পেতে ফেসবুক, গুগল এবং ইউটিউবে সার্চ করুন । যেগুলো দেখে আপনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং শিখে খুব দ্রুত ইনকাম শুরু করতে পারবেন ।