MyHealth

MyHealth One-stop cloud-based prescription management service
which covers Telemedicine via Audio/Video, Appointment Management, EHR with AI Technology.

শান্তি শুধু যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়; শান্তি হলো ভালোবাসা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবতার উপস্থিতি। শান্তি শুরু হয...
21/09/2026

শান্তি শুধু যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়; শান্তি হলো ভালোবাসা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবতার উপস্থিতি। শান্তি শুরু হয় আমাদের নিজেদের আচরণ, কথা ও চিন্তা থেকে। তাই বিভেদ, হিংসা ও বিদ্বেষকে দূরে সরিয়ে আসুন আমরা ঐক্য, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের পথে এগিয়ে যাই।

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং ভালোবাসায় বাঁচতে পারে—এই হোক আমাদের প্রত্যয়। ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগ, ক্ষমাশীলতা ও একে অপরের প্রতি সম্মানই পারে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তুলতে।
আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের শুভেচ্ছা। 🕊️

#আন্তর্জাতিকশান্তিদিবস #শান্তি #মানবতা #ঐক্য #সহমর্মিতা #শান্তিপূর্ণপৃথিবী

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবসপ্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস (World Patient Safety Day)। রোগীর নি...
17/09/2026

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস
প্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস (World Patient Safety Day)। রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু চিকিৎসক বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে রোগী, পরিবার, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারক—সবার সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। (World Health Organization)
২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য—“Safe care for life!” বা “জীবনভর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা”। এ বছর বিশেষভাবে অসংক্রামক রোগে (NCDs) আক্রান্ত মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। তাই রোগ নির্ণয় থেকে চিকিৎসা, ওষুধ ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। (World Health Organization)
একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভুল ও প্রতিরোধযোগ্য ক্ষতি কমাতে, রোগীর অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আসুন, রোগীর কথা শুনি, সঠিক তথ্য নিশ্চিত করি এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবাকে সবার অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করি।
WHO, NCD, PHC, WHA (World Health Organization)

ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, iHealthScreen-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, স্বাস্থ্যসেবায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কাজ করে যা...
15/09/2026

ড. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, iHealthScreen-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, স্বাস্থ্যসেবায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে লাখো মানুষকে অন্ধত্ব, প্রতিবন্ধিতা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও অবদানের বিষয়টি কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এই সংবাদটি আমাদের প্রিয় ফলোয়ার ও বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করছি।

আগাম রোগ শনাক্তে বাঁচবে লাখো প্রাণ

বেশি পানি পান করা কি সব সময় উপকারী?পানি মানুষের জীবনের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। শরীরের প্রায় ৫০–৬০ শতাংশই পানি দিয়ে গ...
15/09/2026

বেশি পানি পান করা কি সব সময় উপকারী?

পানি মানুষের জীবনের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। শরীরের প্রায় ৫০–৬০ শতাংশই পানি দিয়ে গঠিত এবং এটি রক্ত সঞ্চালন, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম, পুষ্টি পরিবহন, বর্জ্য অপসারণ এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই “প্রতিদিন যত বেশি পানি, তত বেশি উপকার” — এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বেশি পানি পান করা সব সময় উপকারী নয়। শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পানি গ্রহণ করলে কিছু ক্ষেত্রে তা ক্ষতিকরও হতে পারে। তাই কতটা পানি প্রয়োজন, কখন বেশি পানি দরকার এবং কখন সতর্ক থাকতে হবে—এসব বিষয় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের শরীরে পানির ভারসাম্য একটি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের কিডনি অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়, আবার শরীরে পানি কমে গেলে তা সংরক্ষণ করার চেষ্টা করে। তৃষ্ণা অনুভব করাও শরীরের একটি স্বাভাবিক সংকেত, যা জানিয়ে দেয় যে শরীরের পানি পুনরায় পূরণ করা দরকার। তাই সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে তৃষ্ণা একটি নির্ভরযোগ্য নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। তবে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু বা কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত মানুষের তৃষ্ণার অনুভূতি কম হতে পারে, ফলে তাদের ক্ষেত্রে সচেতনভাবে পানি গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

অনেকেই মনে করেন প্রতিদিন সবার জন্য নির্দিষ্টভাবে ৮ গ্লাস পানি পান করা বাধ্যতামূলক। বাস্তবে পানির চাহিদা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। একজন মানুষের বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাস, গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদান—এসব বিষয় পানির প্রয়োজন নির্ধারণ করে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে বেশি পানি বের হয়ে যায়, ফলে তখন তুলনামূলক বেশি পানি দরকার হয়। আবার যিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা বাইরে দীর্ঘ সময় কাজ করেন, তার চাহিদাও বেশি হতে পারে। অন্যদিকে অফিসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বসে কাজ করা একজন মানুষের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করার অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে, কিডনির মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে এবং শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং পানিশূন্যতার কিছু লক্ষণও কমতে পারে। এছাড়া ফল, সবজি, দুধ এবং অন্যান্য তরল খাবার থেকেও শরীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি পায়। অর্থাৎ শুধু পানির গ্লাসই নয়, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যও শরীরের জলীয় চাহিদা পূরণে অবদান রাখে।

তবে প্রশ্ন হলো—প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি পানি পান করলে কী হয়? অতিরিক্ত পানি গ্রহণের ফলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে, যাকে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বলা হয়। সোডিয়াম শরীরের তরলের ভারসাম্য এবং স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন খুব অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পান করা হয়, তখন কিডনি সেই পানি দ্রুত বের করতে পারে না। ফলে রক্ত পাতলা হয়ে সোডিয়ামের ঘনত্ব কমে যায় এবং কোষে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি Brain-এর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

হাইপোন্যাট্রেমিয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি। অবস্থা গুরুতর হলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিলতাও দেখা দিতে পারে। যদিও এটি খুব সাধারণ নয়, তবে ম্যারাথন দৌড়বিদ, দীর্ঘ সময়ের ক্রীড়াবিদ অথবা স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পানকারীদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। তাই ব্যায়ামের সময় শুধু পানি নয়, দীর্ঘস্থায়ী ঘামের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যও বিবেচনা করা জরুরি।

অনেকেই ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে খাবারের আগে অতিরিক্ত পানি পান করেন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের আগে মাঝারি পরিমাণ পানি পান করলে ক্ষুধা কিছুটা কমতে পারে এবং ক্যালরি গ্রহণ হ্রাসে সহায়ক হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সারাদিন অস্বাভাবিক পরিমাণ পানি পান করলে দ্রুত ওজন কমে যাবে। বরং অতিরিক্ত পানি শরীরের জন্য অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এবং বারবার প্রস্রাবের কারণে দৈনন্দিন কাজেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

কিডনির স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হলেও অতিরিক্ত পানি কিডনিকে “আরও পরিষ্কার” করে—এমন ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং যাদের কিডনি রোগ, Heart Failure বা লিভারের কিছু জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ তরল গ্রহণ করতে হয়। এসব রোগে অতিরিক্ত পানি শরীরে তরল জমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা ফোলা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসা নির্দেশনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে কীভাবে বুঝবেন আপনি পর্যাপ্ত পানি পান করছেন? একটি সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রঙ পর্যবেক্ষণ করা। সাধারণত হালকা ফ্যাকাশে হলুদ রঙ পর্যাপ্ত হাইড্রেশনের ইঙ্গিত দেয়, আর গাঢ় হলুদ রঙ শরীরে পানির ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। তবে কিছু ভিটামিন বা ওষুধ প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন করতে পারে, তাই এটিকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ধরা উচিত নয়। তৃষ্ণা, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং নিজের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে পানি গ্রহণ করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতি।

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে পানির চাহিদা সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি হতে পারে, কারণ শরীরকে অতিরিক্ত তরল উৎপাদন ও শিশুর চাহিদা পূরণ করতে হয়। একইভাবে জ্বর, ডায়রিয়া বা বমির সময় শরীর দ্রুত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট হারায়, ফলে তখন তরল গ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে। তবে গুরুতর পানিশূন্যতা বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ থাকলে শুধুমাত্র পানি নয়, প্রয়োজনে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন বা চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, পানি অবশ্যই সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু “যত বেশি তত ভালো” — এই ধারণা সঠিক নয়। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী অভ্যাস। অতিরিক্ত পানি যেমন ক্ষতিকর হতে পারে, তেমনি পানিশূন্যতাও নানা শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই নিজের বয়স, জীবনযাপন, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানি গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সুস্থ জীবনের মূলমন্ত্র হলো ভারসাম্য—আর পানির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।

References: WHO, EFSA, IOM, CDC, NHS, KDIGO

প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস—শরীরের সুস্থতা, সক্রিয় জীবনযাপন এবং মানুষের স্বাভাবিক চলনক্ষমতা...
10/09/2026

প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস—শরীরের সুস্থতা, সক্রিয় জীবনযাপন এবং মানুষের স্বাভাবিক চলনক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে সম্মান জানানোর একটি বিশেষ দিন। ফিজিওথেরাপি শুধু ব্যথা কমানোর চিকিৎসা নয়; এটি আঘাত, অস্ত্রোপচার, স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, বাতজনিত সমস্যা, হৃদ্‌রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার পর পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ও নিরাপদ শারীরিক কার্যক্রম পেশিশক্তি, ভারসাম্য, নমনীয়তা, শ্বাসপ্রশ্বাস ও দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ২০২৬ সালের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের মূল ভাবনা হলো হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কার্যক্রমের ভূমিকা। একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর অবস্থা, লক্ষ্য ও জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন, যা সুস্থতার পাশাপাশি আত্মনির্ভরতা ও জীবনমান উন্নত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পুনর্বাসন মানুষকে শিক্ষা, কর্মজীবন, বিনোদন ও পারিবারিক জীবনে আরও স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণে সহায়তা করে। তাই ব্যথা বা চলাফেরার সীমাবদ্ধতাকে অবহেলা নয়—সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন, সক্রিয় থাকুন এবং সুস্থ জীবন গড়ুন। ফিজিওথেরাপি হোক সবার জন্য সহজলভ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার অংশ। শুভ বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস! রেফারেন্স: WP, WHO

ডায়াবেটিসের কারণে শরীরে কী কী জটিলতা হতে পারে? ডায়াবেটিসকে অনেকেই শুধু “রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার রোগ” হিসেবে দেখেন। ...
31/08/2026

ডায়াবেটিসের কারণে শরীরে কী কী জটিলতা হতে পারে?

ডায়াবেটিসকে অনেকেই শুধু “রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার রোগ” হিসেবে দেখেন। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকলে শরীরের রক্তনালী ও স্নায়ুর ওপর ধীরে ধীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে হৃদযন্ত্র, কিডনি, চোখ, স্নায়ু, পা, মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে জটিলতা তৈরি হতে পারে। (CDC)

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অনেক জটিলতা প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই এগোতে পারে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

❤️ ১. হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে

দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তশর্করা রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে। ডায়াবেটিসের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল থাকলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। NIDDK-এর তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি ডায়াবেটিস না থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। (NIDDK)

ফলে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর এবং পায়ের রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। (CDC)

👁️ ২. চোখের সমস্যা ও দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে

ডায়াবেটিস চোখের পেছনের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হতে পারে এবং গুরুতর অবস্থায় দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে।

এছাড়াও ডায়াবেটিসে ছানি ও গ্লুকোমার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। (CDC)

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চোখের ক্ষতি শুরু হলেও অনেক সময় শুরুতে দৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন বোঝা যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করা জরুরি। (NIDDK)

🫘 ৩. কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

কিডনির প্রধান কাজ হলো রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা। দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তশর্করা কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালী ও ফিল্টারিং ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিক কিডনি ডিজিজ বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) হতে পারে। (CDC)

কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। (CDC)

🧠 ৪. স্নায়ুর ক্ষতি বা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি

দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তশর্করা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি বলা হয়।

বিশেষ করে পা ও হাতে দেখা দিতে পারে—

ঝিনঝিন করা

অবশভাব

জ্বালাপোড়া

ব্যথা

অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা

দুর্বলতা

পায়ের অনুভূতি কমে গেলে ছোট কাটা বা ফোসকাও রোগী বুঝতে নাও পারেন। পরে সেখানে সংক্রমণ বা ক্ষত তৈরি হয়ে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। (CDC)

🦶 ৫. পায়ে ক্ষত ও সংক্রমণের ঝুঁকি

ডায়াবেটিসে স্নায়ুর ক্ষতি এবং পায়ে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া—দুটিই পায়ের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ছোট ক্ষতও ধীরে শুকাতে পারে এবং সংক্রমিত হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে পা বা পায়ের কোনো অংশ কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। (NIDDK)

তাই প্রতিদিন পায়ের ত্বক, নখ এবং কোনো ক্ষত বা ফোসকা আছে কি না তা দেখে নেওয়া ভালো অভ্যাস।

🧠 ৬. মস্তিষ্কের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে

ডায়াবেটিস রক্তনালীর ক্ষতি করে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। CDC আরও উল্লেখ করে যে ডায়াবেটিস মস্তিষ্কের রক্তনালীকে প্রভাবিত করে স্মৃতিশক্তির সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। (CDC)

🦷 ৭. দাঁত ও মাড়ির সমস্যা হতে পারে

ডায়াবেটিসের কারণে মুখের স্বাস্থ্যও প্রভাবিত হতে পারে। মাড়ির রোগ, দাঁতের ক্ষয়, মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং মুখের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। (NIDDK)

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

🍽️ ৮. হজমের সমস্যাও হতে পারে

ডায়াবেটিসের কারণে পেট ও অন্ত্রের কিছু স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। (CDC)

🧴 ৯. ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা

ডায়াবেটিসে ত্বকের সংক্রমণ ও কিছু ত্বকের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও রক্তসঞ্চালনে সমস্যা থাকলে ত্বকের ক্ষত বা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। (CDC)

⚕️ ১০. যৌন ও মূত্রনালীর সমস্যা

ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ু ও রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হলে যৌন ও মূত্রনালীর বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ইরেকটাইল ডিসফাংশন এবং নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথের শুষ্কতার মতো সমস্যা হতে পারে। মূত্রাশয়ের কার্যকারিতাতেও সমস্যা হতে পারে। (NIDDK)



কীভাবে ডায়াবেটিসের জটিলতার ঝুঁকি কমানো যায়?

ডায়াবেটিসের জটিলতা পুরোপুরি এড়ানো সবসময় সম্ভব নয়, তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক জটিলতা প্রতিরোধ বা দেরিতে শুরু করা সম্ভব। CDC বলছে, রক্তে শর্করাকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখা এসব জটিলতা প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করতে সাহায্য করতে পারে। (CDC)

তাই—

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করুন

নিয়মিত HbA1c পরীক্ষা করুন

রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন

নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন

ধূমপান এড়িয়ে চলুন

পায়ের যত্ন নিন

নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করুন

কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করুন

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন

উপসংহার

ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রার সমস্যা নয়—দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি ও পায়ের জটিলতা এর মধ্যে অন্যতম। (NIDDK)

তবে আশার কথা হলো, নিয়মিত চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে অনেক জটিলতা প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা সম্ভব। তাই ডায়াবেটিসকে অবহেলা না করে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

Disclaimer: এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য দেওয়ার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসা, ওষুধ বা পরীক্ষার সিদ্ধান্তের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র

CDC — Diabetes Complications

CDC — How Diabetes Can Affect Your Body

NIDDK — Preventing Diabetes Problems

NIDDK — Diabetes, Heart Disease & Stroke

CDC — Chronic Kidney Disease and Diabetes

CDC — Diabetes and Nerve Damage

ডায়াবেটিস থাকলে বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা কেন জরুরি?ডায়াবেটিসকে আমরা সাধারণত রক্তে শর্করার সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্...
25/08/2026

ডায়াবেটিস থাকলে বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা কেন জরুরি?
ডায়াবেটিসকে আমরা সাধারণত রক্তে শর্করার সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত বা ওঠানামা করা রক্তে শর্করা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি চোখের রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই সমস্যাকে বলা হয় Diabetic Retinopathy (ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি)।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চোখের এই ক্ষতি শুরু হলেও অনেক সময় রোগী কোনো সমস্যা টের পান না। দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক মনে হতে পারে, অথচ রেটিনার ভেতরে ক্ষতি ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা শুধু দৃষ্টিশক্তি যাচাই নয়, বরং ভবিষ্যতের দৃষ্টিহানি প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। �
Diabetes Journals +1
ডায়াবেটিস কীভাবে চোখের ক্ষতি করে?
রক্তে দীর্ঘদিন গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকলে চোখের রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলো দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে রক্ত বা তরল বেরিয়ে আসা, নতুন অস্বাভাবিক রক্তনালি তৈরি হওয়া এবং রেটিনার বিভিন্ন অংশে ক্ষতি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কখনো রেটিনার মাঝের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ macula, আক্রান্ত হতে পারে। তখন Diabetic Macular Edema (DME) তৈরি হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।
সমস্যা হলো, এই পরিবর্তনগুলোর অনেকগুলোই শুরুতে বাইরে থেকে বোঝা যায় না। এমনকি দৃষ্টিহানি হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়েও কিছু রোগীর কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। �
Diabetes Journals +1
১. চোখে সমস্যা হওয়ার আগেই রোগ শনাক্ত করা যায়
অনেকেই মনে করেন, “চোখে তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তাহলে পরীক্ষা করব কেন?”
এটাই আসলে সবচেয়ে বড় ভুল।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় ঝাপসা দেখা, ব্যথা বা অন্য কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। কিন্তু চোখের রেটিনার ছবি বা বিস্তারিত পরীক্ষা করলে ক্ষতির প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
American Diabetes Association-এর ২০২৬ সালের Standards of Care অনুযায়ী, ডায়াবেটিসজনিত চোখের রোগের screening গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দৃষ্টিশক্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রেটিনোপ্যাথি উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। �
Diabetes Journals
২. সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ধরা পড়ার পর রোগের মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করার সুযোগ থাকে।
অর্থাৎ, চোখ পরীক্ষা করার মূল উদ্দেশ্য শুধু “রোগ আছে কি না” দেখা নয়। বরং রোগটি কতটা এগিয়েছে এবং কখন চিকিৎসা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন, সেটি সময়মতো বুঝতে পারা।
ADA বলছে, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো intervention অনেক ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি কমাতে পারে। �
Diabetes Journals
৩. শুধু রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকলেই চোখ পরীক্ষা বাদ দেওয়া যাবে না
অনেকে বলেন, “আমার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে, তাই চোখ পরীক্ষা করার দরকার নেই।”
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রক্তচাপ ও অন্যান্য ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। তবে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত চোখের screening-এর গুরুত্ব থেকেই যায়। �
Diabetes Journals +1
কারণ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ভালো থাকলেও ব্যক্তিভেদে চোখের ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে।
৪. চোখের পরীক্ষা শুধু দৃষ্টিশক্তি মাপা নয়
ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে সাধারণ “চশমার পাওয়ার” পরীক্ষা এবং diabetic eye screening এক বিষয় নয়।
প্রয়োজনে চোখের মণি প্রসারিত করে রেটিনা ও এর রক্তনালিগুলো পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া পরিস্থিতি অনুযায়ী retinal photography, OCT বা অন্যান্য পরীক্ষা চিকিৎসক পরামর্শ দিতে পারেন।
Retinal photography এবং কিছু ক্ষেত্রে AI-assisted screening diabetic retinopathy শনাক্ত করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলে বা প্রয়োজন অনুযায়ী comprehensive eye examination এবং ophthalmologist-এর মূল্যায়ন জরুরি। �
Diabetes Journals
৫. বছরে একবার পরীক্ষা কার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষ করে যাদের Type 2 diabetes, তাদের ক্ষেত্রে diagnosis-এর সময়ই comprehensive eye examination করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর সাধারণত নিয়মিত follow-up দরকার হয়।
বর্তমান ADA guideline অনুযায়ী, এক বা একাধিক পরীক্ষায় retinopathy না পাওয়া গেলে এবং blood glucose নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ বছর পরপর screening বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু retinopathy থাকলে সাধারণত অন্তত বছরে একবার পরীক্ষা প্রয়োজন, আর রোগটি এগোলে আরও ঘন ঘন পরীক্ষা লাগতে পারে। �
Diabetes Journals
তাই “বছরে অন্তত একবার” একটি নিরাপদ ও সহজ অভ্যাস হিসেবে মনে রাখা ভালো, তবে আপনার ক্ষেত্রে পরীক্ষার ব্যবধান আপনার চিকিৎসক বা eye-care professional নির্ধারণ করবেন।
কখন দ্রুত চোখের ডাক্তার দেখাবেন?
নিয়মিত screening-এর পাশাপাশি নিচের কোনো পরিবর্তন হলে অপেক্ষা না করে দ্রুত eye specialist-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত:
হঠাৎ ঝাপসা দেখা
চোখের সামনে কালো দাগ বা ভাসমান কিছু দেখা
আলোর ঝলকানি দেখা
দৃষ্টির কোনো অংশ অন্ধকার বা ফাঁকা মনে হওয়া
হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
পড়তে বা সূক্ষ্ম কাজ করতে হঠাৎ সমস্যা হওয়া
এসব উপসর্গ থাকলে শুধু পরবর্তী annual check-up-এর জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। �
CDC
শেষ কথা
ডায়াবেটিস থাকলে চোখের সমস্যা হওয়ার জন্য চোখে ব্যথা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়।
কারণ চোখের ভেতরের ক্ষতি অনেক সময় নীরবে শুরু হয়। নিয়মিত eye screening-এর মাধ্যমে সেই পরিবর্তনগুলো আগেই শনাক্ত করা সম্ভব, আর সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া গেলে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করার সুযোগ অনেক বেশি থাকে। �
Diabetes Journals +1
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং চোখের নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
মনে রাখবেন:
“চোখে সমস্যা হওয়ার পর পরীক্ষা নয়, সমস্যা হওয়ার আগেই পরীক্ষা।”
তথ্যসূত্র
American Diabetes Association (ADA), Standards of Care in Diabetes—2026, Section 12: Retinopathy, Neuropathy, and Foot Care. �
Diabetes Journals
Centers for Disease Control and Prevention (CDC), Vision Loss and Diabetes. �
CDC
CDC, Why Eye Exams Are Important. �
CDC
WHO EMRO, Guidelines for the Prevention, Management and Care of Diabetes Mellitus. �
emro.who.int

খাবারের পর রক্তে Sugar বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? খাবার খাওয়ার পর রক্তে Sugar বা Glucose কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কারণ খাব...
20/08/2026

খাবারের পর রক্তে Sugar বেড়ে যাওয়ার কারণ কী?

খাবার খাওয়ার পর রক্তে Sugar বা Glucose কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কারণ খাবারের কার্বোহাইড্রেট হজম হয়ে Glucose-এ পরিণত হয় এবং তা রক্তে প্রবেশ করে। এরপর শরীরের Insulin সেই Glucose-কে কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে, যাতে তা শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

তবে Diabetes বা Insulin Resistance থাকলে এই প্রক্রিয়া ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। ফলে খাবারের পর রক্তে Sugar স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা দীর্ঘ সময় ধরে elevated থাকতে পারে।

খাবারের পর Sugar কেন বেড়ে যায়?

১. বেশি পরিমাণে Carbohydrate খাওয়া

ভাত, রুটি, পাউরুটি, আলু, মিষ্টি, কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন খাবারে Carbohydrate থাকে। খাবারে Carbohydrate-এর পরিমাণ যত বেশি এবং তা যত দ্রুত হজম হয়, খাবারের পর রক্তে Glucose বৃদ্ধিও তত বেশি হতে পারে।

বিশেষ করে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে সাদা ভাত, মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবার খেলে Post-meal Blood Sugar দ্রুত বাড়তে পারে।

২. খাবারের ধরন ও প্রস্তুত প্রণালি

শুধু Carbohydrate-এর পরিমাণ নয়, Carbohydrate-এর ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। খাবার কতটা প্রক্রিয়াজাত, কীভাবে রান্না করা হয়েছে এবং খাবারের সঙ্গে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কী পরিমাণে আছে—এসব বিষয়ও খাবারের পর Glucose response-কে প্রভাবিত করতে পারে।

৩. Insulin Resistance

Insulin-এর কাজ হলো রক্তের Glucose-কে শরীরের কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করা। কিন্তু Insulin Resistance থাকলে শরীরের কোষ Insulin-এর প্রতি যথেষ্ট সাড়া দেয় না। ফলে খাবারের পর রক্তে Glucose বেশি সময় ধরে থাকতে পারে।

Physical inactivity এবং অতিরিক্ত ওজনসহ কিছু বিষয় Insulin Resistance-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

৪. শরীরে Insulin পর্যাপ্ত না থাকা

Diabetes-এর ক্ষেত্রে শরীর পর্যাপ্ত Insulin তৈরি করতে না পারলে, অথবা তৈরি হওয়া Insulin যথেষ্ট কার্যকর না হলে খাবারের পর Glucose নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে যারা খাবারের সময় Insulin ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের Carbohydrate-এর পরিমাণ এবং Insulin-এর প্রয়োজনীয়তার মধ্যে সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ।

৫. খাবারের পর শারীরিক পরিশ্রম না করা

শারীরিক কার্যকলাপ শরীরকে Glucose ব্যবহার করতে সাহায্য করে এবং Insulin sensitivity উন্নত করতে পারে। বিপরীতে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা একেবারেই শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকা খাবারের পর Blood Sugar বেশি থাকার একটি কারণ হতে পারে।

ADA 2026 দীর্ঘ সময় বসে থাকার মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে যে এটি Blood Glucose-এর জন্য উপকারী হতে পারে।

৬. Stress, অসুস্থতা ও কিছু ওষুধ

শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক Stress এবং কিছু ওষুধ—বিশেষ করে Steroid জাতীয় ওষুধ—রক্তে Glucose বাড়াতে পারে। Stress বা অসুস্থতার সময় শরীরে কিছু Hormone বৃদ্ধি পায়, যা Blood Sugar বাড়াতে পারে।

৭. High-fat বা High-protein খাবার

শুধু Carbohydrate নয়, খাবারে থাকা Fat ও Protein-ও Post-meal Glucose-এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে High-fat বা High-protein খাবারের ক্ষেত্রে Glucose বৃদ্ধির সময় কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। ADA 2026 এ বিষয়টি উল্লেখ করেছে।

তাহলে কী করা যেতে পারে?

খাবারের পর Blood Sugar নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যক্তিভেদে পরিকল্পনা প্রয়োজন। সাধারণভাবে—

খাবারের পরিমাণ ও Carbohydrate-এর পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত পানীয় সীমিত করুন।

পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।

নিয়মিত Blood Glucose monitoring করুন, যদি চিকিৎসক তা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

Diabetes-এর ওষুধ বা Insulin নিজের ইচ্ছায় পরিবর্তন করবেন না।

বারবার খাবারের পর Sugar বেশি থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

মনে রাখবেন

খাবারের পর Blood Sugar কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু নিয়মিতভাবে খাবারের পর Glucose অনেক বেশি বেড়ে গেলে তা Diabetes বা Glycemic control-এর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। শুধু একটি Blood Sugar reading দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও যথাযথ পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার Blood Sugar নিয়ন্ত্রণে খাবার, শারীরিক কার্যকলাপ, ওষুধ এবং নিয়মিত monitoring—সবগুলো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

References

American Diabetes Association (ADA). Standards of Care in Diabetes—2026: Facilitating Positive Health Behaviors and Well-being to Improve Health Outcomes.

American Diabetes Association (ADA). Standards of Care in Diabetes—2026: Diagnosis and Classification of Diabetes.

American Diabetes Association. Good to Know: Factors Affecting Blood Glucose.

American Diabetes Association. Dietary Carbohydrate (Amount and Type) in the Prevention and Management of Diabetes.

ডায়াবেটিসে পায়ের যত্ন: সুস্থ পা, শক্তিশালী জীবন ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় ন...
13/08/2026

ডায়াবেটিসে পায়ের যত্ন: সুস্থ পা, শক্তিশালী জীবন

ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না—সময়মতো নিয়ন্ত্রণ ও যত্ন না নিলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ডায়াবেটিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক সময় অবহেলিত জটিলতা হলো পায়ের সমস্যা। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং পায়ের দিকে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে। এর ফলে ছোট একটি কাটা, ফোসকা বা ঘর্ষণ থেকেও ধীরে ধীরে গুরুতর ক্ষত বা আলসার তৈরি হতে পারে।

কেন ডায়াবেটিসে পায়ের সমস্যা বেশি হয়?

ডায়াবেটিসে দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে, যাকে Diabetic Neuropathy বলা হয়। পায়ের স্নায়ু আক্রান্ত হলে ব্যথা, গরম-ঠান্ডা বা চাপের অনুভূতি কমে যেতে পারে। ফলে জুতা ঘষে পায়ে ক্ষত হলেও ব্যক্তি তা বুঝতে নাও পারেন।

অন্যদিকে, ডায়াবেটিসের কারণে পায়ের রক্তনালিতেও সমস্যা হতে পারে। রক্ত চলাচল কমে গেলে পায়ের কোনো ক্ষত ভালো হতে বেশি সময় লাগে। একই সঙ্গে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই পায়ের কোনো সমস্যা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে সমস্যা হওয়ার আগেই নিয়মিত পরীক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কোন কোন পরীক্ষা পায়ের সমস্যা আগে শনাক্ত করতে সাহায্য করে?

ডায়াবেটিসে নিয়মিত পায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এমন অনেক সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব, যেগুলো পরে গুরুতর জটিলতায় পরিণত হতে পারে।

১. Foot Examination
সাধারণ পা পরীক্ষা করার মাধ্যমে পায়ের ত্বকের অবস্থা, কাটা-ছেঁড়া, ফোসকা, সংক্রমণ, আলসার, ফোলা, নখের সমস্যা এবং পায়ের আকৃতির পরিবর্তন দেখা যায়। পায়ের কোথাও অস্বাভাবিকতা আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

২. Biothesiometry
এই পরীক্ষার মাধ্যমে পায়ের কম্পন বা অনুভূতি শনাক্ত করার ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতির প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে সাহায্য পাওয়া যায়। পায়ের অনুভূতি কমে গেলে ছোটখাটো আঘাতও অনেক সময় রোগী বুঝতে পারেন না।

৩. Doppler Test
পায়ের রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহ কেমন হচ্ছে তা মূল্যায়নে Doppler Test ব্যবহার করা হয়। পায়ে রক্ত চলাচল কম থাকলে ক্ষত শুকাতে দেরি হতে পারে। তাই রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. Foot Pressure Analysis
হাঁটার সময় পায়ের কোন অংশে বেশি চাপ পড়ছে তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যায়। পায়ের নির্দিষ্ট অংশে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ থাকলে সেখানে ক্ষত বা আলসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। চাপের জায়গাগুলো শনাক্ত করে উপযুক্ত জুতা বা অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

শুধু পরীক্ষা করলেই হবে না

পায়ের পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দৈনন্দিন যত্নও সমান প্রয়োজনীয়। ডায়াবেটিসে প্রতিদিন নিজের পা ভালোভাবে দেখা উচিত। কোথাও কাটা, ফোসকা, লালচে ভাব, ফোলা, ত্বকের পরিবর্তন বা ক্ষত হয়েছে কি না তা লক্ষ্য করুন। বিশেষ করে পায়ে অনুভূতি কম থাকলে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। খুব গরম পানিতে পা ভেজানো বা গরম পানির তাপমাত্রা সরাসরি পা দিয়ে পরীক্ষা করা এড়িয়ে চলুন, কারণ স্নায়ুর অনুভূতি কমে গেলে অতিরিক্ত গরম বুঝতে সমস্যা হতে পারে।

সঠিক মাপের আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব টাইট, শক্ত বা এমন জুতা যা পায়ে ঘর্ষণ তৈরি করে, তা এড়িয়ে চলা ভালো। নতুন জুতা ব্যবহার করার সময় পায়ে কোথাও চাপ বা ঘর্ষণ তৈরি হচ্ছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

পায়ে কোনো ক্ষত, আলসার, অস্বাভাবিক ফোলা, লালচে ভাব, ত্বকের রঙের পরিবর্তন, সংক্রমণের লক্ষণ বা নতুন কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে পায়ে অনুভূতি কম থাকলে ছোট ক্ষতকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিসে পায়ের যত্নের মূল লক্ষ্য হলো সমস্যা হওয়ার পর চিকিৎসা করা নয়, বরং সমস্যা হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা।

শেষ কথা

সুস্থ পা আমাদের দৈনন্দিন চলাফেরা, কাজ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের যত্নকে চিকিৎসা ও জীবনযাপনের একটি নিয়মিত অংশ হিসেবে দেখা উচিত। নিয়মিত Foot Examination, Biothesiometry, Doppler Test এবং Foot Pressure Analysis-এর মতো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা পায়ের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এবং অনেক সমস্যাকে প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

Early diagnosis, timely care and the right footwear can help protect your feet and prevent serious complications.

আজ পায়ের দিকে একটু খেয়াল করুন—কারণ সুস্থ পা মানেই আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী জীবন।





Reference: Dr. V. Mohan, Diabetes Specialist. LinkedIn

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়: নিজেকে ও পরিবারকে কীভাবে নিরাপদ রাখবেন? বর্ষাকাল এলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়...
23/07/2026

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়: নিজেকে ও পরিবারকে কীভাবে নিরাপদ রাখবেন?

বর্ষাকাল এলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি গুরুতর আকার ধারণ করে। তবে সচেতনতা, সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু থেকে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

ডেঙ্গু কী?

ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস (Aedes aegypti) মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি কামড়ায় এবং পরিষ্কার, স্থির পানিতে ডিম পাড়ে।

ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ

ডেঙ্গুর লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ৪–১০ দিনের মধ্যে দেখা দেয়।

হঠাৎ ১০১–১০৪°F পর্যন্ত জ্বর

তীব্র মাথাব্যথা

চোখের পেছনে ব্যথা

শরীর ও জয়েন্টে তীব্র ব্যথা

বমি বমি ভাব বা বমি

ত্বকে লালচে র‍্যাশ

অতিরিক্ত দুর্বলতা

বিপজ্জনক লক্ষণ (Warning Signs)

নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে—

তীব্র পেটব্যথা

বারবার বমি

শ্বাসকষ্ট

নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত

রক্তবমি বা কালো পায়খানা

অতিরিক্ত ঝিমুনি বা অস্থিরতা

হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া



ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়

১. জমে থাকা পানি পরিষ্কার করুন

এডিস মশা পরিষ্কার স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই—

ফুলের টবের নিচের পানি পরিবর্তন করুন।

ড্রাম, বালতি ও পানির ট্যাংক ঢেকে রাখুন।

এসির ট্রে ও ফ্রিজের ট্রে নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

নারকেলের খোসা, টায়ার, বোতল বা প্লাস্টিকের পাত্রে পানি জমতে দেবেন না।

সপ্তাহে অন্তত একদিন সব পানির পাত্র খালি করে পরিষ্কার করুন।



২. মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করুন

পূর্ণহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরুন।

শিশুদের ফুলহাতা পোশাক পরান।

মশারি ব্যবহার করুন (দিনেও প্রয়োজন হতে পারে)।

দরজা-জানালায় মশারি বা নেট ব্যবহার করুন।

প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধক (Mosquito Repellent) ব্যবহার করুন।



৩. বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন

ছাদে পানি জমতে দেবেন না।

বাগান নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

ডাস্টবিন ঢেকে রাখুন।

বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখুন।



৪. অফিস ও কর্মস্থলেও সতর্ক থাকুন

ডেঙ্গু শুধু বাসায় নয়, অফিসেও হতে পারে।

অফিসের ফুলের টব পরিষ্কার রাখুন।

ছাদে পানি জমতে দেবেন না।

জানালায় নেট ব্যবহার করুন।

কর্মীদের সচেতন করুন।



৫. জ্বর হলে অবহেলা করবেন না

জ্বর হলে—

দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পর্যাপ্ত পানি, ওআরএস, ডাবের পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।

জ্বর কমানোর জন্য সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়।

আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা অ্যাসপিরিন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।



৬. প্লেটলেট নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না

অনেকেই মনে করেন প্লেটলেট কমলেই বিপদ।

আসলে চিকিৎসকেরা রোগীর সামগ্রিক অবস্থা, রক্তচাপ, রক্তক্ষরণ, তরল ভারসাম্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেন। শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।



ডেঙ্গু সম্পর্কে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

❌ পেঁপে পাতার রস খেলেই ডেঙ্গু ভালো হয়ে যায়

এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়।

❌ শুধু নোংরা পানিতে মশা জন্মায়

ভুল। এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার স্থির পানিতেই ডিম পাড়ে।

❌ শুধু শিশুদের ডেঙ্গু হয়

ভুল। যে কোনো বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন।



কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যান—

শ্বাসকষ্ট

তীব্র পেটব্যথা

বারবার বমি

রক্তপাত

অতিরিক্ত দুর্বলতা

অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

প্রস্রাব কমে যাওয়া



উপসংহার

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার বংশবিস্তার রোধ করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। সপ্তাহে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যান।



তথ্যসূত্র (References)

World Health Organization (WHO). Dengue and Severe Dengue. https://www.who.int/news-room/fact-sheets/detail/dengue-and-severe-dengue

Centers for Disease Control and Prevention (CDC). About Dengue. https://www.cdc.gov/dengue/

Directorate General of Health Services (DGHS), Bangladesh. Dengue Prevention Guidelines. https://dghs.gov.bd/

UNICEF Bangladesh. Protect Yourself from Dengue. https://www.unicef.org/bangladesh

World Health Organization. Comprehensive Guidelines for Prevention and Control of Dengue and Dengue Haemorrhagic Fever.

Address

House 151 Road No 22, Mohakhali DOSH
Dhaka
1213

Opening Hours

Monday 10:00 - 19:00
Tuesday 10:00 - 19:00
Wednesday 10:00 - 19:00
Thursday 10:00 - 19:00
Saturday 10:00 - 19:00
Sunday 10:00 - 19:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MyHealth posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to MyHealth:

Shortcuts

Share