01/09/2026
রোকেয়া প্রাচী বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘জয় পরাজয়’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর টেলিভিশন যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে মোরশেদুল ইসলামের ‘দুখাই’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক।
‘দুখাই’ তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য হয়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে মাটির ময়না, স্বপ্নডানায়, হারিজনসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে।
২০০৯ সালে চ্যানেল আইয়ের জন্য একটি ডকুফিকশন নির্মাণের মধ্য দিয়ে পরিচালনায় যাত্রা শুরু করেন। এরপর ২০১৫ সালে তাঁর পরিচালিত টেলিভিশন সিরিজ ‘শেলাই পরিবার’ নিয়েও কাজ করেন তিনি।
১৯৯৯ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহাদ পারভেজ ছিনতাইকারীদের হামলায় নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন তাঁদের একমাত্র মেয়ে লামিছা রিমঝিমের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। আহাদের বয়সও তখন খুব বেশি ছিল না।
এরপর ২০০৪ সালের মে মাসে রোকেয়া প্রাচী সাংবাদিক, লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষক আসিফ নজরুলকে বিয়ে করেন। বিয়ের ঠিক আগের দিন দ্য ডেইলি স্টার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রাচী নিজেই বিয়ের খবরটি জানান এবং তাঁদের জন্য সবার দোয়া চান।
এই সংসারে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে।
রোকেয়া প্রাচীর পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অভিনয় তাঁর পেশা হলেও তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং রাজনৈতিক পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা শ্রমিক লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও তিনি জানান।
অভিনয়, নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক ও সবচেয়ে আলোচিত একটি নিউজ হলো এখন সাগর রুনি হ* মামলার তদন্তে রোকেয়া প্রাচী-র নাম উঠে আসা।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হ**র শিকার হন। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এই হ**কাণ্ডের রহস্যের পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়ও বহুবার পিছিয়েছে।
সাম্প্রতিক তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে আসার পর রোকেয়া প্রাচীর সঙ্গে সাগর–রুনি হ**কাণ্ডের সম্ভাব্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্রে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, হ**কাণ্ডের আগে ও পরে রোকেয়া প্রাচী এবং তৎকালীন মেজর জিয়াউল আহসানের মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
এমনকি দুটি ডিস্ক হস্তান্তরের বিষয়ও তদন্তে এসেছে। এসব ডিস্কের সঙ্গে সাগর–রুনির তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্রের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।