Info Scanner

Info Scanner Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Info Scanner, 69-71, New Elephant Road, Dhaka.

জামাত-শিবির চালিত পেইজ থেকে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে । এক পুলিশের প্রোফাইল আগেই রেডি রেখে  ঘটনা ঘটানোর সাথে সাথেই ছাত্রদল ব...
06/02/2026

জামাত-শিবির চালিত পেইজ থেকে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে । এক পুলিশের প্রোফাইল আগেই রেডি রেখে ঘটনা ঘটানোর সাথে সাথেই ছাত্রদল বলে প্রচার করার জন্য গায়ে পাড়া দিয়ে আজ পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে । আজকের ঘটনা পরিকল্পিত বলে জানা গেছে । অথচ পুলিশের ঐ সৈনিকের প্রোফাইল লক থাকায় সে কোন পন্থি তা জানা যায়নি ।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মদদে বিভিন্ন রুটে প্রায় ২ ...
01/10/2025

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মদদে বিভিন্ন রুটে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা সমপরিমাণ জাল নোট প্রবেশ করানো হচ্ছে, এসকল টাকার কাগজ আর বাংলাদেশের নোটে ব‍্যবহৃত কাগজ একই হওয়ার কারণে খালি চোখে এমনকি ব‍্যাংকের যাচাই মেশিনেও এসব নোট জাল হিসেবে চিহ্নিত করা দুরূহ। নিরাপত্তা সুতা সহ হলোগ্রাম প্রিন্ট সবই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশেষ ব্যবস্থায় দেশটির নিজস্ব মুদ্রা ছাপানোর ফ‍্যাসিলিটিতে এসকল নোট প্রিন্ট করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত মাধ্যমে জানা গেছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাত একপ্রকারের ধ্বংস করতে এবং বিভিন্ন নাশকতামূলক কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্যে এসব নকল নোট অত্যন্ত কম মূল্যে দেশের জালনোট কারবারিদের কাছে বিশেষ ব্যবস্থায় পৌঁছে দিচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডস, বিভিন্ন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা এ বিষয়ে অবগত, এবং নিজ সামর্থের সর্বোচ্চ দিয়েই তাঁরা এই অপতৎপরতা প্রতিরোধের চেষ্টা করে চলেছেন, পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের মধ‍্যেও এ বিষয়ে কার্যকরী সচেতনতা তৈরি গুরুত্বপূর্ণ।
-Sami

19/09/2025

আজকে দুপুরে খাওয়ার পর সূর্য সেন হলের দোকান থেকে লেবুর শরবত খাচ্ছিলাম। পাশে হলেরই একজন সিনিয়র ভাই শরবত নিয়ে দোকানদারের সাথে কথা কাটাকাটি করছিল। হয়তো শরবতটা ভালো হয়নি বা বেশি সময় লাগছিল দিতে। একপর্যায়ে তিনি অতিরিক্ত রেগে গিয়ে কাচের গ্লাস নিচে ছুঁড়ে মারেন। আমি পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় সেই গ্লাসের একটি ভাঙা বড় অংশ ছিটকে এসে আমার চোখের সামান্য উপরে লাগে।

সাথে সাথেই প্রচুর রক্ত বের হতে থাকে। আশেপাশে দাঁড়িয়ে হলের ভাইয়েরা দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। চোখে তখন ঝাপসা দেখছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম মনে হয় চোখেই লেগেছে। কিন্তু পরে দেখলাম অল্পের জন্য চোখে লাগেনি, সামান্য উপরে লেগেছে। সেখানে কয়েকটা সেলাই লেগেছে। তবে একটুর জন্য একটি চোখ ফিরে পেলাম। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

হাসপাতালে সাথে সাথে যাঁরা নিয়ে গেছেন, ডাকসুর প্রতিনিধিসহ যাঁরা দেখতে এসেছেন , তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। কিন্তু যিনি দোকানদারের উপর রাগ করে গ্লাস ছুঁড়ে মারার কারণে আজকের এই অবস্থার সৃষ্টি হলো, হয়তো চোখও নষ্ট হয়ে যেতে পারত, তাঁর প্রতি আমার কোনো রাগ নেই। সবক্ষেত্রে রাগ নিয়ন্ত্রণ করাটা যে কত গুরুত্বপূর্ণ, আজকে তা অনুধাবন করলাম। আমার রাগ করার কারণে অন্য কারও হয়তো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। সবাই দোয়া করবেন।
-তাহমিদ সাকিব

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সম্প্রতি এক লক্ষ ই-রিকশা চালুর একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন ...
28/08/2025

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সম্প্রতি এক লক্ষ ই-রিকশা চালুর একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রকল্পে দুটি বড় ত্রুটি রয়েছে—প্রথমত, ঢাকায় ইতোমধ্যেই প্রচুর সংখ্যক রিকশা চলমান রয়েছে, যা শহরের যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে; তার উপর এই এক লক্ষ নতুন ই-রিকশা যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে বাধ্য।

দ্বিতীয়ত, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটিই ছিল সম্পূর্ণভাবে বিধিবহির্ভূত ও অস্বচ্ছ। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের প্রকল্পের জন্য একটি উন্মুক্ত টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করা প্রয়োজন, যেখানে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রস্তাব জমা দেবে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তিনটি প্রতিষ্ঠান— মনির অটো, আকিজ মটরস এবং নিউ গ্রামীণ মটরস—এর কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন গ্রহণ করে এবং তাদের মডেল উপস্থাপনের সুযোগ দেয়।

পরবর্তীতে প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় অজুহাত দেখিয়ে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় ডিজাইন জমা দেয়ার পরামর্শ দিয়ে ‘ডাইস্টার হাইটেক পাওয়ার’ নামক একটি চতুর্থ প্রতিষ্ঠানকে কোনো নিয়মিত প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বাচিত করা হয়, যা একটি সুস্পষ্ট অনিয়ম এবং পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, ডাইস্টার হাইটেক পাওয়ার সভা অনুষ্ঠিত হবার আগ পর্যন্ত কোথাও ছিল না।

এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে ঢাকায় বিদ্যমান রিকশাগুলোর ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন বা অবকাঠামোর কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই; সেখানে আরও এক লক্ষ ব্যাটারি চালিত রিকশা যুক্ত হলে বিদ্যুৎচাপ, চার্জিং সংকট এবং নগর ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংকট তৈরি হবে। উপরন্তু, জানা যাচ্ছে যে এই ই-রিকশাগুলোর জন্য একটি পৃথক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া চালু করা হবে, যা দুর্নীতির আরেকটি নতুন পথ তৈরি করবে এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যেই পুরো প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।

এই উদ্যোগটি জনস্বার্থের পরিবর্তে একটি সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা ও প্রশাসকের ব্যক্তিগত লাভের আরেকটি পথ উন্মুক্ত করবে, যা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও জনস্বার্থে বাতিল হওয়া প্রয়োজন।
-সামি

এভাবেই চলছে স্বদেশ
27/08/2025

এভাবেই চলছে স্বদেশ

11/08/2025

ফৌজদারি কার্যবিধির যুগান্তকারী সংস্কার (বিস্তারিত)

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এই সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় যুগান্তকারী কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি
বর্তমানে গ্রাম আদালতের জরিমানা করার ক্ষমতা তিন লাখ টাকা, অথচ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার এখতিয়ার মাত্র দশ হাজার টাকা। এবারের সংশোধনীতে ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা করার এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার ক্ষমতা দশ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে (ধারা ৩২)।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির রক্ষাকবচ
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় ঐতিহাসিক ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের পর্যবেক্ষণসমূহকে ফৌজদারি কার্যবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন ৪৬এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করার সময় গ্রেপ্তারকারীর নেমপ্লেট থাকতে হবে, নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। যেক্ষেত্রে আসামিকে তার বাড়ির বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পর অবিলম্বে (যা কোনোভাবেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না) আসামির পরিবার বা নিকটজনকে জানাতে হবে। গ্রেপ্তারের সময় আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে বা আসামি অসুস্থ হলে অবশ্যই তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আঘাত বা অসুস্থতা সম্পর্কে চিকিৎসকের প্রত্যয়ন গ্রহণ করতে হবে। আসামি যদি আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী হন, সেক্ষেত্রে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে।

মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় এবারের সংশোধনীতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিধান হলো ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ এর প্রবর্তন (ধারা ৪৬এ)। আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই বিধান এবং এ-সম্পর্কিত একটি ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে। যেকোনো গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেই পুলিশকে এখন থেকে ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ প্রস্তুত করতে হবে। এই ফর্মে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির আইনি সুরক্ষাসমূহের একটি চেকলিস্ট রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে উপস্থাপনের সময় এই ফর্মটিও দাখিল করতে হবে। রক্ষাকবচ সম্পর্কিত বিধানসমূহ কতটা প্রতিপালিত হয়েছে, এই ফর্ম দেখে ম্যাজিস্ট্রেট সেটি তদারকি করতে পারবেন। উল্লেখ্য, আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে দেশের কিছু জেলায় বর্তমানে এই ফর্ম সফলভাবে চালু আছে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সন্নিবেশ করার ফলে এখন থেকে সারা দেশে এই বিধান বাস্তবায়িত হবে।

গ্রেপ্তারের তথ্য সরবরাহে বিশেষ বিধান
গ্রেপ্তারকৃতের তথ্য পেতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে ভয়ানক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গ্রেপ্তারকৃতকে কেন বা কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কোথায় রাখা হয়েছে, তার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে—এ-সম্পর্কিত তথ্যপ্রাপ্তি খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। নতুন বিধান যুক্ত করে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। আবার ৪৬বি এবং ৪৬সি ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি গ্রেপ্তারের তথ্য গ্রেপ্তারকারীর অফিসের রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি যে থানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই থানার সাধারণ ডায়েরিতেও এন্ট্রি করতে হবে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পক্ষে কেউ থানায় যোগাযোগ করলে তাকে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতি থানা, জেলা ও মহানগর পুলিশ অফিসে প্রতিদিন গ্রেপ্তারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

গ্রেপ্তারকৃতের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে অনেক সময় টাকা-পয়সা, অলঙ্কার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি মূল্যবান সামগ্রী থাকে। এসব দ্রব্য যদি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, সেক্ষেত্রে মামলার জব্দতালিকায় সেগুলো উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অনেক সময় এসব মূল্যবান বস্তুর সঙ্গে অপরাধের সংযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে এসব সামগ্রী নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এখন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে এমন মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেলে তার জন্য পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং সম্ভব হলে সেই তালিকায় একজন সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে। ওই তালিকার একটি কপি গ্রেপ্তারকৃতের নিকটজনকে দিতে হবে। (ধারা ৫১)।

৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারে অধিকতর সতর্কতা
অনেকের ধারণা, ৫৪ ধারার গ্রেপ্তার মানে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই খামখেয়ালী গ্রেপ্তার। মনে করা হয়, মামলাসূত্রে যেসব গ্রেপ্তার, সেগুলো ৫৪ ধারার অধীন নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, পুলিশ যেসব ক্ষেত্রে আদালতের পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারে, ৫৪ ধারায় তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে। থানায় দায়েরকৃত এজাহার কিংবা আদালত দায়েরকৃত নালিশি মামলা- তদন্ত যদি পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত হয়, আর পুলিশ যদি আমলযোগ্য (কগনিজেবল) অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়, সেক্ষেত্রে আসামিকে ওই মামলাসূত্রে পুলিশের গ্রেপ্তার করার যে ক্ষমতা, সেটিও ৫৪ ধারার বিষয়বস্তু।

এবারের সংশোধনীতে আমলযোগ্য অপরাধ সম্পর্কিত পুলিশের গ্রেপ্তারের এই ক্ষমতা আরও সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে দেখাতে হবে, পুলিশের সামনে ওই ব্যক্তি অপরাধটি ঘটিয়েছেন। অন্যদিকে, আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত কোনো এজাহার বা নালিশি মামলা পুলিশের কাছে তদন্তাধীন থাকলে এবং পুলিশ ওই মামলা সংক্রান্তে কাউকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে পুলিশকে দেখাতে হবে, অপরাধটি ওই ব্যক্তি করেছেন মর্মে পুলিশের সন্দেহ করার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। যেখানে আমলযোগ্য অপরাধটির সাজা সাত বছর বা তার কম, সেক্ষেত্রে পুলিশকে আরও দেখাতে হবে যে, আসামি অধিকতর অপরাধ জড়ানো থেকে প্রতিহত করতে, তার পালিয়ে যাওয়ার ঠেকাতে বা সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করা থেকে তাকে বিরত রাখতে এই গ্রেপ্তার জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আসামিকে গ্রেপ্তার করা কিংবা না করা উভয় ক্ষেত্রেই পুলিশকে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে নিবারণমূলক আটক করার প্রয়োজনে ৫৪ ধারার বিধান প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানের প্রতিপালনে আদালতের দায়িত্ব
গ্রেপ্তার সম্পর্কিত যেসব বিধান আইনে আছে, সেগুলো সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা, তা দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতকে। ৬৭এ ধারায় বলা হয়েছে, যে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের সামনে গ্রেপ্তারকৃত আসামি হাজির করা হবে, তার দায়িত্ব হবে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানাবলি প্রতিপালন হয়েছে কিনা দেখা। কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আদালত অবহেলাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে পারবে।

পুলিশ রিমান্ড ও শ্যোন অ্যারেস্ট
একজন আসামিকে কতদিন পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডে রাখা যায়, সে ব্যাপারে ফৌজদারি কার্যবিধির বিদ্যমান বিধান অস্পষ্ট। এবার ১৬৭ ধারায় সংশোধন করে বলা হয়েছে, এক মামলায় কোনোভাবেই ১৫ দিনের বেশি পুলিশ রিমান্ড নয়। একই সঙ্গে রিমান্ডে প্রেরণের আগে-পরেও আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। রিমান্ডে নির্যাতন করলে এবং আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
আবার ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ সম্পর্কিত ১৬৭এ ধারায় যুক্ত করা হয়েছে, এক মামলার আসামিকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে চাইলে পুলিশকে আদালতে আসামি ও পুলিশ ডায়েরি উপস্থাপন করতে হবে এবং আসামিকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।

তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ
ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রথমবারের মতো তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭৩বি ধারায় বলা হয়েছে, এখন থেকে যেকোনো মামলার তদন্ত সাধারণভাবে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব না হলে বিস্তারিত কারণ এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করে তদন্তকারী প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। তার প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের সময়সীমা বর্ধিত করতে পারবেন। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্ত সম্পন্ন না হলে তদন্তকারী পুনরায় তার কারণ ব্যাখা করে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতিবেদন পেশ করবেন। তদন্তকারীর গাফলতি প্রতীয়মান হলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন মনে করলে তদন্তকারী পরিবর্তন বা তদন্তকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারবে।

সংক্ষিপ্ত বিচারে বিশেষ বিধান
সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে চুরি, আত্মসাৎ প্রভৃতি মামলার বিষয়বস্তুর মূল্যমান অনূর্ধ্ব দশ হাজার টাকা হলে তার বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে এই মূল্যমান বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বিচার সংক্রান্ত বিশেষ বিধান ২৬৪এ যুক্ত করে বলা হয়েছে, সম্ভব হলে একই বৈঠকে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে এবং যেকোনো স্থানে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা যাবে।

অনুপস্থিত আসামির বিচারে ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা বাধ্যতামূলক নয়
অনুপস্থিত আসামির বিচারে ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা কেবল দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টিকারী এক প্রক্রিয়ার নাম। ৩৩৯বি ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার জন্য ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা জারির কোনো আবশ্যকতা আর থাকবে না। ফলে পলাতক আসামির মামলা দ্রুততর সময়ের মধ্যে বিচারের জন্য প্রস্তুত হবে।

একইসঙ্গে পলাতক আসামিকে আদালেত উপস্থিত হওয়ার আদেশ দুটি পত্রিকার পরিবর্তে একটি বাংলা পত্রিকায় এবং পাশাপাশি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে।

আপসযোগ্য মামলা
বেআইনি সমাবেশ সম্পর্কিত দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারা এতদিন আপসঅযোগ্য ছিল। এবার এই অপরাধকে আপসযোগ্য করা হয়েছে। এতদিন অনেক মামলা আপসে নিষ্পত্তি করার পথে এই ধারাটির আপসঅযোগ্যতা বাধা ছিল।

আপসের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সংশোধনী হলো— এখন থেকে আদালত নিজে আপস কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে পারবে এবং পাশাপাশি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আপসের জন্য মামলা প্রেরণ করতে পারবে। শুধু তাই নয়, আপসের ভিত্তিতে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হলে সেই চুক্তি নথিভুক্ত করে এর শর্ত বাস্তবায়নে আদালত প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। অনেক মামলায় দেখা যায়, আপস হলেও আপসের চুক্তি লিপিবদ্ধ করা হয় না এবং আসামি চুক্তি মোতাবেক কিস্তিতে কিছু টাকা পরিশোধের পর টাকা প্রদান বন্ধ করে দেন। এরকম ক্ষেত্রে এতদিন আপস-প্রক্রিয়া স্থগিত করে সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার রায় দিতে হতো। এখন থেকে আপস-চুক্তি থাকলে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়েও চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারবে।

জামিনে শর্তযুক্ত করা
বর্তমানে প্রবেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত আসামির ওপর নানা শর্ত আরোপ করার সুযোগ রয়েছে। এভাবেই সারা দেশে হাজার হাজার আসামি সংশোধন হচ্ছে। তবে প্রবেশনের সীমাবদ্ধতা হলো এটি কেবল মামলার শেষে প্রয়োগযোগ্য। মামলা চলাকালে আসামির সদাচরণ সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে আদালত অঙ্গনে দ্বিধা ছিল। অনেক মনে করেন, শর্ত আরোপ করে জামিন প্রদানের সুযোগ নেই। তবে এ-সম্পর্কিত বিভিন্ন রেফারেন্স পাঠ করলে দেখা যায়, কেবল এমন কঠোর শর্ত দেওয়া যাবে না, যা জামিন না দেওয়ারই নামান্তর। যেমন আসামির সামর্থ্যবহির্ভুত বিরাট অঙ্কের টাকা জমাদান সাপেক্ষে জামিন দেয়া হলে সেই শর্ত সঠিক হবে না। এরকম শর্তের বাইরে আসামির সদাচরণ নিশ্চিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত শর্ত আরোপ করার সুযোগ উচ্চ আদালতের বহু সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে। এবারের সংশোধনীতে ৪৯৮ ধারায় বলা হয়েছে, জামিন প্রদানের সময় আদালত যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য যেকোনো শর্ত আরোপ করতে পারবে। ফলে মামলা চলাকালে আসামিদের ডোপটেস্ট বা সমাজকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণের শর্ত আরোপ করতে পারবে আদালত। যা সংশোধনমূলক বিচার প্রক্রিয়ার জন্য দারুণ সহায়ক হবে।

ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে আসামির অব্যাহতি
ফৌজদারি মামলায় ভোগান্তির জন্য আসামি চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই এই হয়রানি শুরু হয় মূলত তারিখে তারিখে আদালতে হাজিরা দেওয়ার মাধ্যমে। জামিনপ্রাপ্ত আসামিরও নিস্তার নেই এই ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে। হাজিরা দিতে একটু ব্যত্যয় ঘটলেই আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। এবারের সংশোধনীতে তদন্ত চলাকালে আসামির হাজিরা শিথিল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪০এ ধারায় বলা হয়েছে, আদালত চাইলে তদন্ত রিপোর্ট শুনানি পর্যন্ত জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। এ-সময় আসামি তার আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন। পূর্বে কোনো কোনো আদালত ২০৫ ধারার অধীনে এ ধরনের প্রতিকার প্রদান করতেন, যদিও আইনত ওই ধারা কেবল মামলা আমলে গ্রহণের পর প্রযোজ্য, তার আগে প্রযোজ্য নয়। নতুন আইনে স্পষ্ট বিধান যুক্ত হওয়ায় সারা দেশের লাখ লাখ জামিনপ্রাপ্ত আসামি ব্যক্তিগত হাজিরার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে কোনো আসামি উপস্থিত না থাকলেও এখন থেকে আসামির আইনজীবী আদালতের অনুমতিক্রমে সাক্ষীদের জেরা করতে পারবেন। এতদিন পর্যন্ত এই সুযোগ নিতে হলে অন্তত একজন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকতে হতো।

সাক্ষীর খরচ ও সুরক্ষা
আদালতে আগত সাক্ষীদের অনেকেই দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। সাক্ষ্যদানের পর তারা যাতায়াত ও খোরাকি ভাতা প্রত্যাশা করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৪ ধারায় সাক্ষীর খরচ প্রদানের জন্য বিধান থাকলেও সেটি কার্যকর করার জন্য পৃথক বিধি প্রণয়ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। বিষয়টি সহজ করার উদ্দেশ্যে এবার ‘বিধি’-এর পরিবর্তে ‘সরকারি আদেশ’ দ্বারা প্রয়োজনীয় বিধান করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে সাক্ষী সুরক্ষায় বিভিন্ন বিশেষ আইনে বিধান থাকলেও ফৌজদারি কার্যবিধিতে কোনো বিধান ছিল না। এবারের সংশোধনীতে সাক্ষী ও ভিকটিমদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো আদেশ প্রদানের ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। ফলে সব ধরনের ফৌজদারি মামলায় সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথ সুগম হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় জামিনঅযোগ্য
দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারা এতদিন পর্যন্ত জামিনযোগ্য ছিল। ফলে হাত-পা ভেঙে যাওয়া, চোখ-কানের মতো মূল্যবান অঙ্গহানির ক্ষেত্রেও আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেত। আসামির জামিনকে কঠিন করার জন্য মামলায় ভয়ঙ্কর অস্ত্রের মিথ্যা বর্ণনা যুক্ত করা হতো, যাতে মামলাটি দণ্ডবিধির জামিনঅযোগ্য ৩২৬ ধারার আওতায় দেখানো যায়। এতে করে মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে জামিন কঠিন হলেও চূড়ান্ত সাক্ষ্যপ্রমাণে ভয়ঙ্কর অস্ত্রের প্রমাণ না মিললে আসামি সুবিধা পেত। সবদিক বিবেচনায় এবারের সংশোধনীতে দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারাকে জামিনঅযোগ্য করা হয়েছে। ফলে গুরুতর জখমের ক্ষেত্রে অস্ত্রের প্রয়োগ ছিল কি না, জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর সেটি ধর্তব্য হবে না।

মিথ্যা মামলার সাজা বৃদ্ধি
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কোনো মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে মামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বে ঐচ্ছিক ছিল (২৫০ ধারা)। বর্তমানে এটিকে ম্যাজিস্ট্রেটের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলার সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিবিধ
ডিজিটাল মাধ্যমে সমন জারি এবং অনলাইনে বেল বন্ড দাখিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বেত্রাঘাতের মতো অবমাননাকর সাজা সম্পর্কিত সকল বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। পূর্বে আপিলঅযোগ্য অর্থদণ্ডের পরিমাণ ছিল পঞ্চাশ টাকা, এটিকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে।

-- ©লেখকের নাম: জনাব মারুফ আল্লাম,
সিনিয়র সহকারী সচিব,
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আমাদের ছেলে সূর্য সময়ের একটা ভিডিও দেখলাম। সেখানে সূর্য ওর স্কুল ভবনের কার্নিশে দাঁড়িয়ে আছে। এই ভিডিওটা অনেকে হয়তো দেখেছ...
25/07/2025

আমাদের ছেলে সূর্য সময়ের একটা ভিডিও দেখলাম। সেখানে সূর্য ওর স্কুল ভবনের কার্নিশে দাঁড়িয়ে আছে।

এই ভিডিওটা অনেকে হয়তো দেখেছেন। সূর্য কীভাবে বেঁচে গেলো সে কথা বলি। সূর্য রবিবারে ক্লাসে না যাওয়ায় হোমওয়ার্ক ছাড়াই পরের দিন ২১ জুলাই সোমবার ক্লাসে গিয়েছে। সেজন্য ডিটেনশন ক্লাসে ওর ক্লাস টিচার যেতে বলে। ডিটেনশন ক্লাস বলতে যারা হোমওয়ার্ক করে না বা ক্লাসে পড়া দিতে পারে না তাদেরকে ছুটির পরে এক্সট্রা টাইম স্কুলে রেখে পড়া আদায় করে বাসায় পাঠানো হয়।

সূর্যের ক্লাস টিচার বাপ্পি স্যার সূর্যসহ পাঁচজনকে বলে, তোমরা ওই কর্নারের ক্লাস রুমে যাও। আমি একটু পরে আসছি। সূর্যসহ পাঁচজন একেবারে ভবনের শেষ রুমের আগের রুমে যাচ্ছে। ঠিক সেই সময়ে বিকট আওয়াজ শুনে সূর্য পেছন দিকে তাকিয়ে দেখে ওরই ক্লাসরুমের সামনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। একজন ক্লাস রুম থেকে বের হতে গিয়ে মূহুর্তের মধ্যে পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো। ওরা ঘাবড়ে গিয়ে দ্রুত কর্নারের ক্লাস রুমে ঢুকে গেলো।

ওদের ডিটেনশন রুম পর্যন্ত আগুন পৌঁছোতে পারেনি। রুমের ভেতর আগুনের তাপ এসে তাপমাত্রা ৭০° সেন্টিগ্রেডের মতো ছিল (সূর্যের কথা অনুযায়ী)। সূর্যের মনে হচ্ছিল শরীর তাপে পুড়ে যাচ্ছে। ওরা পাঁচজন জানালার কাছে গিয়ে শ্বাস নেবার চেষ্টা করছিল। কারণ তখন রুমের ভেতর কালো ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে পারছিলো না। শ্বাস নিতে গেলে মনে হচ্ছিল ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হবার পর সূর্য ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই কয়েকজন ছাত্র ভীড়ের ভেতর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করছে ডান দিকে যাবার জন্য। সূর্য ডান দিকে তাকাতেই দেখে ওখানে গ্রিল কেটে একটা বের হবার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ও দেখে এগিয়ে গিয়ে বলে, আপনারা দাঁড়ান। আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে আসছি। সূর্য তাড়াতাড়ি ওর বন্ধুদের ডেকে বাইরে নিয়ে আসলো। এরপর কার্নিশের ওপরে দাঁড়িয়ে থেকে আগে বন্ধুদের নামার সুযোগ করে দিলো।

আমাদের ছেলেকে আমরা যে শিক্ষা দিয়ে বড় করেছি তার যথাযথ ব্যবহার ও করে দেখালো জাতিকে। ছেলেকে নিয়ে আমাদের আর কোনো চিন্তা নেই। আমি কখনো ওকে বলিনি, বাবা, তোমাকে এ প্লাস পেতে হবে। কখনো বলিনি তোমাকে ফার্স্ট হতে হবে। আমি সব সময় চেয়েছিলাম আমার ছেলে সূর্য যেন একজন মানবিক মানুষ হয়।
-শারমিন সাথী (সূর্যের মা)

অনলাইন জুয়াড়িদেরকে খোদা বানিয়ে ফেলা বন্ধ করুন!আজকের এই দিনে এমন জিনিসে এটেনশন দিতে হবে তা ভাবাও কষ্টকর। Anonymous Main P...
21/07/2025

অনলাইন জুয়াড়িদেরকে খোদা বানিয়ে ফেলা বন্ধ করুন!

আজকের এই দিনে এমন জিনিসে এটেনশন দিতে হবে তা ভাবাও কষ্টকর। Anonymous Main Page নিয়ে যে হাইপ তোলা হয়েছে তারপর একটু সময় দিলাম পেইজটার পেছনে। যা পেলাম তা হচ্ছ---

প্রথমত, এটি anonymous হ্যাকার গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু নয়। anonymous এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যে ফেসবুক পেইজ দেয়া আছে সেটি এই পেইজ নয়।

দ্বিতীয়ত, Anonymous Main Page নামক পেইজটি ঘেঁটে জানা গেছে এটি একটি অনলাইন জুয়ার পেইজ। মূলত অনলাইন জুয়া প্রমোট করা (টিকেট বিক্রির), নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তারা অনলাইন গেমিং বা জুয়া সংক্রান্ত পোস্ট দিয়ে থাকে।

তৃতীয়ত, তাদের যে পোস্ট ভাইরাল হয়েছে 'স্কুল ভবন ধ্বসে' পড়া সংক্রান্ত সেটিতে লেখা হয়েছিল: "A school building will collapse leaving lots of kids l!veless. We see a terrible disaster fast coming, This will be as a result of poor maintenance on the building. We shall do everything in our power to avert this terrible catastrophe we’ve seen coming."

এখানে কোনোভাবেই বাংলাদেশের নাম উল্লেখ নেই। আর বাংলাদেশে আজ যে ঘটনা ঘটেছে তাতে স্কুল ভবন ধসে পড়েনি। ভবনের ওপর বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। যারা মারা গেছেন কেউ 'ভবনের ব্যবস্থাপনা' সংক্রান্ত কারণে মারা যাননি। মারা গেছেন বিমান বিস্ফোরিত হয়ে লাগা আগুনে।

ফলে এটা কোনভাবেই বলার সুযোগ নেই যে, ওই পেইজে বাংলাদেশের এই ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। কিছু আওয়ামী লীগার তাদের ফেসবুক পেইজগুলোতে এই উপসংহার টানার চেষ্টা করেছেন যা আসলে মূল পোস্টের সাথে মিলে না।

চতুর্থত, এই পেইজটি যে একটি স্ক্যামার জুয়াড়ি গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত তা স্পষ্ট হচ্ছে তাদের ওই পোস্টটি বাংলাদেশে ভাইরাল হওয়া পর থেকে। ভাইরাল হওয়ার প্রথম দিকেও পেইজটির ট্রান্সপারেন্সি সেকশন চেক করে দেখা গেছে এটি ৩টি দেশ থেকে চালানো হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপ, আরেকটি নাইজেরিয়া। এবং তৃতীয়ত দেশের নাম এডিমন প্রকাশ করেনি।

পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর তাদের পেইজের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় এডমিনদের অবস্থানকারী দেশের তথ্য তারা হাইড করে দিয়েছে। আফ্রিকায় নাইজেরিয়া অনলাইন জুয়াড়িদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। জুয়ার প্রমোশনমূলক ওদের একটা পুরনো ভিডিওতে একজন আফ্রিকানকে দেখা গেছে। অর্থাত, এটির সাথে নাইজেরিয়ান জুয়াড়িদের কানেকশন থাকার খুবই সম্ভাবনা রয়েছে।

তাদের পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পরে যখন বুঝতে পেরেছে তারা বাংলাদেশিদের এটেনশন পাচ্ছে (বিকাল থেকে তাদের ফলোয়ার ২ লাখের কাছাকাছি থেকে ৩ লাখের ওপরে উঠেছে) তখন একের পর পর বাংলাদেশ বিষয়ক পোস্ট দেয়া শুরু করেছে। এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভয়ঙ্কর কিছু বাংলাদেশের মার্কেটগুলোতে ঘটবে বলেও ভবিষ্যদ্বানী করেছে। একইসাথে তাদের আরও নানান জুয়ার পেইজ প্রমোট করা শুরু করেছে বাংলাদেশি নতুন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে। আহ্বান জানাচ্ছে দ্রুত ফলোয়ার হওয়ার জন্য।

এই পেইজটি ফলো করে জানি না কতজন অনলাইন জুয়ায় ঝুঁকে ফতুর হয়। এমনিতেই বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া নানানভাবে বাড়ছে।
-QU Shishir

18/07/2025

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে পুলিশের সামনে চা'পা'তি দেখিয়ে ব্যাগ 'ছি'ন'তাই '!

গুজব রোধে,ছড়িয়ে দিন।
16/07/2025

গুজব রোধে,ছড়িয়ে দিন।

16/07/2025

গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলা...
এদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে....

Address

69-71, New Elephant Road
Dhaka
1205

Telephone

+8801831840505

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Info Scanner posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Info Scanner:

Share

Our Story

Established in 2013 in Dhaka, We serve Branded product to people who like fashionable product.