Aloron Hang Over Internet আলোড়ন হ্যাং ওভার ইন্টারনেট

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • Aloron Hang Over Internet আলোড়ন হ্যাং ওভার ইন্টারনেট

Aloron Hang Over Internet আলোড়ন হ্যাং ওভার ইন্টারনেট 🇵🇸لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ 🇧🇩
ﷺ ﷺ ﷺ ﷺ ﷺ ﷺ ﷺ ﷺ ﷺ ﷺ

 #নবাব_সিরাজউদ্দৌলাবাংলার শেষ স্বাধীন নবাব✅ সম্পাদনানবাব শাহ কুলী খান মির্জা মুহাম্মাদ সিরাজউদ্দৌলা (ফার্সি: میر سید جعف...
03/08/2026

#নবাব_সিরাজউদ্দৌলা

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব

✅ সম্পাদনা

নবাব শাহ কুলী খান মির্জা মুহাম্মাদ সিরাজউদ্দৌলা

(ফার্সি: میر سید جعفر علی خان میرزا محمد سراج الدول; ১৭৩৩ – ০২ জুলাই ১৭৫৭)

ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব। তিনি ১৭৫৬ থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর রাজত্বের সমাপ্তির পর বাংলা এবং পরবর্তীতে প্রায় সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের উপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সূচনা হয়।

নবাব সিরাজউদ্দৌলা
مرزا محمد سراج الدوله

মনসুর উল-মুল্ক সিরাজ উদ্দৌলা হয়বৎ জঙ্গ

সিরাজউদ্দৌলা বাংলা, বিহার ও ওড়িশার নবাব

#রাজত্বঃ ৯ এপ্রিল ১৭৫৬ – ২৩ জুন ১৭৫৭

#পূর্বসূরিঃ আলীবর্দী খান

#উত্তরসূরিঃ মীর জাফর

#জন্মঃ মির্জা মুহম্মদ সিরাজউদ্দৌলা ১৭৩৩ মুর্শিদাবাদ, সুবাহ বাংলা

#মৃত্যুঃ ০২ জুলাই ১৭৫৭ (বয়স ২৩–২৪)
মুর্শিদাবাদ, বাংলা

#সমাধিঃ খোশবাগ, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ

#দাম্পত্য_সঙ্গী
০১. জেবুন্নেসা বেগম
০২. উমদাদুন্নেসা বেগম
০৩. আলেয়া বেগম
০৪. লুৎফুন্নেসা বেগম

পূর্ণ নাম
নবাব মনসুর উল-মুল্ক সিরাজ উদ্দৌলা শাহ কুলী খান মির্জা মুহম্মদ হয়বৎ জঙ্গ বাহাদুর

#রাজবংশঃ আফশার রাজবংশ

পিতাঃ জৈনুদ্দীন আহমদ খান
মাতাঃ আমিনা বেগম
ধর্মঃ শিয়া ইসলাম

স্বাক্ষর
সিরাজউদ্দৌলা স্বাক্ষর
সামরিক কর্মজীবন
আনুগত্য
সুবাহ বাংলা
#পদমর্যাদাঃ নবাবজাদা, নবাব বাহাদুর, বাদশাহ

#যুদ্ধ/সংগ্রামঃ

০১. বর্গির হাঙ্গামা
০২. পলাশীর যুদ্ধ

সিরাজউদ্দৌলা তার নানা নবাব আলীবর্দী খানের কাছ থেকে ২৩ বছর বয়সে ১৭৫৬ সালে বাংলার নবাবের ক্ষমতা অর্জন করেন। তার সেনাপতি মীরজাফর, রায়দুর্লভ এর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হন। রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসনভার গ্রহণ করে।

#জন্ম_ও_বংশপরিচয়

সিরাজউদ্দৌলার জন্ম ১৭৩৩ সালে। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ছিলেন বাংলার নবাব আলীবর্দী খান-এর নাতি। আলীবর্দী খানের কোন পুত্র সন্তান ছিল না। তার ছিল তিন কন্যা। তিন কন্যাকেই তিনি নিজের বড়ভাই "হাজি আহমদ"-এর তিন পুত্র, নোয়াজিশ মোহাম্মদের সাথে বড় মেয়ে ঘসেটি বেগমের, সাইয়েদ আহম্মদের সাথে মেজ মেয়ে শাহ বেগম এবং জয়েনউদ্দিন আহম্মদের সাথে ছোট মেয়ে আমেনা বেগম-এর বিয়ে দেন। আমেনা বেগমের দুই পুত্র ও এক কন্যা ছিল। পুত্ররা হলেন মির্জা মোহাম্মদ (সিরাজ-উদ-দৌলা) এবং মির্জা মেহেদী। আলীবর্দী খাঁ যখন পাটনার শাসনভার লাভ করেন, তখন তার তৃতীয়া কন্যা আমেনা বেগমের গর্ভে মির্জা মোহাম্মদ (সিরাজ-উদ-দৌলা)-এর জন্ম হয়। এ কারণে তিনি সিরাজের জন্মকে সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করে আনন্দের আতিশয্যে নবজাতককে নাতি হিসেবে গ্রহণ করেন। সিরাজ তার নানার কাছে ছিল খুবই আদরের, যেহেতু তার কোনো পুত্র সন্তান ছিলনা। তিনি মাতামহের স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হতে থাকেন। সিরাজ-উদ-দৌলার জন্মতারিখ বা সাল নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো সিরাজ-উদ-দৌলা ১৭৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মীরজাফর তার কোন আত্মীয়ের মাঝে পড়েন না। কাজী ইসা তার চাচা হন।

#বিবাহ

০১. জেব-উন-নিসা

সিরাজের প্রথম স্ত্রী ছিলেন জেব-উন-নিসা। আনুমানিক ১৭৪৪ সালের দিকে সিরাজ উদ দৌলার সাথে বিবাহ হয় জেব-উন-নিসার। একপ্রকার রাজনৈতিক বিবাহ ছিল এটি। তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান ছিল না। পলাশীর যুদ্ধের পর সিরাজকে হত্যা করা হলে জেব-উন-নিসা আরেকটি বিবাহ করেন।

০২ উমদাদ-উন-নিসা

মির্জা ইরাজ খাঁ এর মেয়ে ছিলেন উমদাদ। ইরাজ খাঁ ছিলেন এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি। সিরাজের মা এবং নানার মতে এই বিবাহ করতে রাজি হন সিরাজ। এটিও ছিল একটি রাজনৈতিক বিবাহ। সিরাজকে ভবিষ্যতে মসনদে আরও পাকাপোক্ত করতে উমদাদ এর সাথে সিরাজের বিবাহ দেওয়া হয়। ১৭৪৬ সালের দিকে তাদের বিয়ে হয়। উমদাদ সবসময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন বলে সিরাজের জীবনে তার গুরুত্ব খুবই কম ছিলো। তাদের কোনো সন্তান নেই। পলাশীর পর উমদাদও আরেকটি বিবাহ করেন।

#রাজ্যাভিষেক

১৭৪৬ সালে আলিবর্দী খান মারাঠাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেলে কিশোর সিরাজ তার সাথী হন। আলিবর্দি সিরাজ-উদ-দৌলাকে বালক বয়সেই পাটনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন। তার বয়স অল্প ছিল বলে রাজা জানকীরামকে রাজপ্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু বিষয়টি সিরাজদ্দৌলাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাই তিনি একদিন গোপনে কয়েকজন বিশ্বস্ত অনুচরকে নিয়ে ভ্রমণের নাম করে স্ত্রী লুৎফুন্নেসাকে সঙ্গে নিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে বের হয়ে পড়েন। তিনি সোজা পাটনা গিয়ে উপস্থিত হন এবং জানকীরামকে তার শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু নবাবের বিনা অনুমতিতে জানকীরাম তার শাসনভার ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। দুর্গের দ্বার বন্ধ করে বৃদ্ধ নবাবের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দূত পাঠান। অন্যদিকে জানকীরামের আচরণে ভীষণ ক্ষুদ্ধ হয়ে সিরাজদ্দৌলা দুর্গ আক্রমণ করেন। উভয়পক্ষে লড়াই শুরু হয়ে গেলে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে আলিবর্দি খাঁ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। সেদিনই আলিবর্দি খাঁ দুর্গের অভ্যন্তরস্থ দরবারে স্নেহভাজন দৌহিত্রকে পাশে বসিয়ে ঘোষণা দেন,

আমার পরে সিরাজ-উদ-দৌলাই বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করবে।

ইতিহাসে এই ঘটনাকে সিরাজ-উদ-দৌলার যৌবরাজ্যাভিষেক বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই সময়ে সিরাজ-উদ-দৌলার বয়স ছিল মাত্র সতেরো বছর। তবে তাকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনয়ন করার ঘটনা তার আত্মীয়বর্গের অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। অনেকেই তার বিরোধিতা শুরু করেন। এদের মধ্যে ছিলেন আলিবর্দি খাঁর বড় মেয়ে ঘসেটি বেগম এবং তার স্বামী নোয়াজেশ মোহাম্মদ। এছাড়া আলিবর্দী খানের জীবদ্দশায় সিরাজ-উদ-দৌলা ঢাকার নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

#সিংহাসনে_আরোহণ

নবাব সিরাজের মুর্তি, পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্র, নদীয়া
মুর্শিদকুলী খানের জামাতা সুজাউদ্দিন মুহাম্মদ খান ১৭২৭ থেকে ১৭৩৯ পর্যন্ত সুবাহ বাংলার নবাব হিসেবে মুর্শিদাবাদ থেকে বাংলা শাসন করছিলেন। তার সময়ে তার পুত্র সরফরাজ খান ১৭৩৪ থেকে ১৭৪০ পর্যন্ত ঢাকার নায়েব নাজিম এবং ১৭৩৯ থেকে ১৭৪০ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের নবাবের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় (১৭৩৯-১৭৪০) ঢাকার নায়েব নাজিম হন আবুল ফাত্তাহ খান। প্রসঙ্গত, ১৭১৭ সালে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরের সময় থেকেই নবাবগণ মুর্শিদাবাদে অবস্থান করতেন আর বাংলাদেশের জন্য তখন থেকেই একজন নায়েব নাজিম নিযুক্ত করা হতো। ১৭৪০ থেকে ১৭৪৪ পর্যন্ত আলীবর্দী খানের ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা নওয়াজিশ মুহাম্মদ খান নায়েব নাজিম নিযুক্ত হন। তবে তিনি মুর্শিদাবাদে অবস্থান করে তার সহকারী হোসেন কুলী খান এবং হোসাইন কুলীর সহকারী হোসেন উদ্দিন খানকে (১৭৪৪-১৭৫৪) ঢাকায় দায়িত্ব পালন করান। এ সময় থেকেই আলীবর্দীর ভ্রাতুষ্পুত্র শওকত্জংগ নওয়াজিস মুহাম্মদের বিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধের জের হিসেবে ঢাকায় হোসেন উদ্দিন খান এবং মুর্শিদাবাদে তদীয় চাচা নিহত হন। ঢাকায় হোসেন উদ্দিন খানকে হত্যায় জড়িত ছিলেন আগা সাদেক এবং আগা বাখের। আগা বাখের ছিলেন বাখরগঞ্জের জমিদার এবং তার পুত্র আগা সাদেক। হোসেন উদ্দিন খানের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আগা সাদেক মুর্শিদাবাদে হোসেন কুলী খান কর্তৃক বন্দী হন। সেখান থেকে ঢাকায় পালিয়ে এসে তিনি হোসেন কুলী খানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। অত্যন্ত সৎ এবং ধার্মিক হোসেন কুলী খানকে রাতের আঁধারে তার প্রাসাদে প্রবেশ করে হত্যা করা হয়। সকাল বেলা ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে শহরের অধিবাসীগণ একত্রিত হয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে এবং আগা বাখের ও তদীয় পুত্রকে আক্রমণ করে। তারা নায়েব নাজিমের পদে নিয়োগের বিষয় বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করলে লোকেরা নায়েব নাজিম পদে নিয়োগের সনদ প্রদর্শনের দাবি করে সেই দাবি অমান্য করে করে তারা তরবারি ধারণ করে। এ অবস্থায় জনতার আক্রমণে আগা বাখের প্রাণ হারায় এবং আগা সাদেক মারাত্মকভাবে আহত হওয়া সত্ত্বেও পলায়ন করতে সক্ষম হয়।নোয়াজেশের পরমবন্ধু ছিলেন হোসেন কুলি খাঁ ও রাজবল্লভ। হোসেন কুলি খাঁ ছিলেন নোয়াজেশের ধনভান্ডারের দায়িত্বে। তার হত্যাকাণ্ডে রাজবল্লভ কিছুটা ভীত হয়ে পড়েন। তখন তিনি অন্য ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা করেন। নোয়াজেশ নিঃসন্তান ছিলেন বলে তিনি সিরাজের ছোটভাই মির্জা মেহেদীকে পোষ্যপুত্র গ্রহণ করেছিলেন। মির্জা মেহেদী নোয়াজেশের জীবদ্দশাতেই মারা যান। কিন্তু তার অল্পবয়স্ক পুত্র সন্তান ছিল। রাজবল্লভ তাকেই সিংহাসনে বসিয়ে ঘসেটি বেগমের নামে স্বয়ং বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাবি করার স্বপ্ন দেখছিলেন। এইরকম দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেই আলিবর্দি খাঁ ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

চারদিকে শুরু হয় প্রচন্ড অরাজকতা এবং ষড়যন্ত্র। ইংরেজরা নবাবের অনুমতি না নিয়েই কলকাতায় দুর্গ সংস্কার করা শুরু করে। রাজবল্লভ ঘসেটি বেগমকে সহায়তা করার জন্য পুত্র কৃষ্ণবল্লভকে ঢাকার রাজকোষের সম্পূর্ণ অর্থসহ কলকাতায় ইংরেজদের আশ্রয়ে পাঠান। এ রকম পরিস্থিতিতেই ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল শাহ কুলি খান মির্জা মোহাম্মদ হায়বৎ জং বাহাদুর (সিরাজ-উদ-দৌলা) বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার সিংহাসনে আরোহণ করেন।

নবাব হিসেবে প্রাথমিক কার্যাবলি

হীরাঝিল প্রাসাদ ও মতিঝিল প্রাসাদ

মতিঝিল প্রাসাদ অধিকার ও কাশিমবাজার দুর্গ অবরোধ

সিরাজ-উদ-দৌলা যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন, তখন থেকেই কলকাতায় ইংরেজদের প্রতাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তিনি তাদেরকে দমন করার জন্য কাশিমবাজারের কুঠিয়াল ওয়াটসনকে কলকাতার দুর্গপ্রাচীর ভেঙে ফেলতে ও ভবিষ্যতে নবাবের পূর্বানুমতি ছাড়া এ ধরনের কাজ না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদেশ অমান্য করে তারা কাজ বহাল রাখলেন। সিরাজ-উদ-দৌলা তখন বুঝতে পারলেন গৃহবিবাদের সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা উদ্ধত স্বভাবের পরিচয় দিচ্ছে। সুতরাং প্রথমেই ঘসেটি বেগমের চক্রান্ত চূর্ণ করার জন্য তিনি সচেষ্ট হন। তিনি পশিম বংগের মতিঝিল প্রাসাদ অধিকার করে ঘসেটি বেগমকে মুর্শিদাবাদ নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। মতিঝিল অধিকার করে নবাব কাশিমবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ২৭ মে তার সেনাবাহিনী কাশিমবাজার দুর্গ অবরোধ করেন। তিনি কাশিমবাজার দুর্গের কুঠিয়াল ওয়াটসনকে দরবারে হাজির হয়ে তার নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করার জন্য অঙ্গীকারপত্র লিখতে বলেন। ওয়াটসন এই অঙ্গীকারপত্র লিখতে বাধ্য হন।

#কলকাতা_আক্রমণ

একই বছর ১৮ জুন সিরাজ-উদ-দৌলা কলকাতা আক্রমণ করেন। তুমুল যুদ্ধ হওয়ার পর ২০ জুন কলকাতা দুর্গ সিরাজের দখলে আসে। তিনি দুর্গ প্রবেশ করে এবং দরবারে উপবেশন করে উমিচাঁদ ও কৃষ্ণবল্লভকে সেখানে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দেন। এরপর সেনাপতি মানিকচাঁদের হাতে দুর্গের শাসনভার ছেড়ে দিয়ে সিরাজ-উদ-দৌলা রাজধানীতে ফিরে আসেন। ১২ জুলাই তিনি রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন। নবাব সিরাজুদ্দৌলা ঢাকায় তার শক্তি বৃদ্ধির জন্য ফিরোজ উদ দ্বীন সরদার ও আগা বাকেরখান কে মুর্শিদাবাদ বন্দি করেন । পরে তাদের মুক্তি দিয়ে ঢাকায় হোসেন আবেদীন ও তার দলকে আক্রমণের নির্দেশ দেন । ফিরোজ উদ দ্বীন সরদার ও আগা বাকেরখান ১৭৫৩ সালে এক গভীর রাতে হোসেন আবেদীন কে আক্রমণ করে এবং তাকে হত্যা করেন । নওয়াজিশ আলী খান তাদের ধরার জন্য একদল সৈন্য ঢাকায় প্রেরন করেন ।

নবাবগঞ্জের যুদ্ধ

দিল্লীর বাদশা পূর্ণিয়ার নবাব শওকত জঙ্গকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাবি সনদ পাঠালেন। শওকত নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রার আয়োজন করেন। ইংরেজরা এই সংবাদ পেয়ে গোপনে শওকত জঙ্গের সাথে মিত্রতার করার চেষ্টা করতে থাকে। অপরদিকে মাদ্রাজের ইংরেজ দরবার কর্নেল রবার্ট ক্লাইভকে প্রধান সেনাপতি করে কলকাতা পুনরুদ্ধারের জন্য পাঠায়। সিরাজ-উদ-দৌলাও শওকত জঙ্গকে প্রতিরোধ করার জন্য রওনা হন। পথিমধ্যে নবাবগঞ্জ নামক স্থানে উভয়পক্ষ মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হয়। যুদ্ধে শওকত নিহত হন। সিরাজ-উদ-দৌলা মোহনলালের হাতে পূর্ণিয়ার শাসনভার অর্পণ করে রাজধানীতে ফিরে আসেন।

ক্লাইভ ও ওয়াটসন পলতায় পৌঁছেই কলকাতা অভিমুখে রওনা হন। প্রায় বিনাযুদ্ধে তারা কলকাতা দুর্গ জয় করে নেন। এর আগে ক্লাইভ ও ওয়াটসন কলকাতায় এসে সিরাজ-উদ-দৌলার কাছে সন্ধির প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন এবং সিরাজ-উদ-দৌলা তাতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু ইংরেজরা শর্ত ভঙ্গ করে কলকাতা আক্রমণ করে।[৫] সিরাজ-উদ-দৌলা তার মন্ত্রীদের কুচক্রের বিষয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং এ কারণে ইংরেজদের সাথে একটি সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চেষ্টা চালাতে থাকেন। তাই ইংরেজদের সকল দাবিতে রাজি হয়ে তিনি ১৭৫৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইংরেজদের সাথে একটি সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করেন। ইতিহাসে এই সন্ধি 'আলিনগরের সন্ধি' নামে পরিচিত। কিন্তু ইংরেজরা তাদের মতিগতির কোন পরিবর্তন করল না। মূলতঃ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ফরাসিদের সঙ্গে। কিন্তু সিরাজদ্দৌলা ফরাসিদের বেশি প্রাধান্য দিচ্ছিলেন। আলিনগরের (কলকাতা) সন্ধির প্রতিশ্রুতি পালনে নবাবকে যথেষ্ট ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল।

কুচক্রী সেনাপতিদের বিচার এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া

সব ধরনের গোলমাল মোটামুটি শান্ত হওয়ার পর সিরাজ-উদ-দৌলা সেনাপতিদের অপকর্মের বিচার শুরু করেন। মানিকচন্দ্রকে কারাবন্দি করা হয়। এটা দেখে রাজবল্লভ, জগৎশেঠ ও মীরজাফর সবাই ভীত হয়ে গেলেন। স্বার্থ রক্ষার জন্য জগৎশেঠের মন্ত্রণাভবনে মিলিত হয়ে তারা ইংরেজদের সাহায্যে নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করে মীরজাফরকে সিংহাসনে বসাবার চক্রান্ত শুরু করলেন।ইয়ার লতিফ গোপনে ওয়াটসনের সঙ্গে মিলিত হয়ে কুমন্ত্রণা দিলেন যে, সিরাজদ্দৌলা খুব শীঘ্রই ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন। আর এই কারণেই তিনি পলাশীতে শিবির স্থাপন করেছেন। ক্লাইভ এরপর তার সেনাবাহিনীর অর্ধেক লুকিয়ে রেখে বাকিদের নিয়ে কলকাতায় পৌঁছালেন। আর নবাবকে পত্র লিখলেনঃ

আমরা সেনাদল উঠিয়ে আনলাম আর আপনি পলাশীতে ছাউনি গেড়ে বসেছেন?

সিরাজদ্দৌলা সরল বিশ্বাসেই মীরজাফরকে পলাশী থেকে ছাউনি উঠিয়ে মুর্শিদাবাদ চলে যাবার আদেশ দিলেন। মীরজাফর রাজধানীতে পৌঁছামাত্রই স্ক্রাফটন তার সঙ্গে মিলিত হয়ে গোপন সন্ধির খসড়া লিখে নিলেন। ১৭ মে কলকাতার ইংরেজ দরবারে এই গোপন সন্ধিপত্রের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। মীরজাফরের স্বাক্ষরের জন্য এই গোপন সন্ধিপত্র ১০ জুন তার কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু এই গুপ্ত বৈঠক গোপন থাকলো না। ক্লাইভ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলেন। এদিকে গোপন সন্ধিপত্রের সংবাদ জানতে পেরে সিরাজদ্দৌলা মীরজাফরকে বন্দি করার ব্যবস্থা নিলেন। ওয়াটসন রাজধানী থেকে পালিয়ে গেলেন।

#পলাশীর_যুদ্ধ_পরিচালনা

পলাশীর যুদ্ধ

১৭৫৭ সালের ১২ জুন কলকাতার ইংরেজ সৈন্যরা চন্দননগরের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়। সেখানে দুর্গ রক্ষার জন্য অল্প কিছু সৈন্য রেখে তারা ১৩ জুন অবশিষ্ট সৈন্য নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করে। কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের পথে হুগলি, কাটোয়ার দুর্গ, অগ্রদ্বীপ ও পলাশীতে নবাবের সৈন্য থাকা সত্ত্বেও তারা কেউ ইংরেজদের পথ রোধ করল না। নবাব বুঝতে পারলেন, সেনাপতিরাও এই ষড়যন্ত্রে শামিল।

বিদ্রোহের আভাস পেয়ে সিরাজ মীরজাফরকে বন্দি করার চিন্তা বাদ দিলেন। তিনি মীরজাফরকে ক্ষমা করে তাকে শপথ নিতে বললেন। মীরজাফর পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে অঙ্গীকার করলেন যে, তিনি শরীরের একবিন্দু রক্ত থাকতেও বাংলার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন হতে দেবেন না। গৃহবিবাদের মীমাংসা করে তিনি রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ খান, মীরজাফর, মিরমদন, মোহনলাল ও ফরাসি সেনাপতি সাফ্রেঁকে সৈন্য চালানোর দায়িত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে যুদ্ধযাত্রা শুরু করলেন।

২৩ জুন সকাল থেকেই পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজরা মুখোমুখি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। ইংরেজরা 'লক্ষবাগ' নামক আমবাগানে সৈন্য সমাবেশ করল। বেলা আটটার সময় হঠাৎ করেই মীর মদন ইংরেজ বাহিনীকে আক্রমণ করেন। তার প্রবল আক্রমণে টিকতে না পেরে ক্লাইভ তার সেনাবাহিনী নিয়ে আমবাগানে আশ্রয় নেন। ক্লাইভ কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন। মিরমদন ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিলেন। কিন্তু মীরজাফর, ইয়ার লতিফ, রায় দুর্লভ যেখানে সৈন্য সমাবেশ করেছিলেন সেখানেই নিস্পৃহভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তাদের সামান্য সহায়তা পেলেও হয়ত মিরমদন ইংরেজদের পরাজয় বরণ করতে বাধ্য করতে পারতেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে সিরাজদ্দৌলার গোলাবারুদ ভিজে যায়। তবুও সাহসী মিরমদন ইংরেজদের সাথে লড়াই চালিয়ে যেতে লাগলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গোলার আঘাতে মিরমদন মৃত্যুবরণ করেন।

মীরমদনের পতনের পরেও অন্যতম সেনাপতি মোহনলাল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি যুদ্ধবিরতির বিরুদ্ধে গিয়ে ইংরেজবাহিনী কে আক্রমণের পক্ষপাতী ছিলেন।

কিন্তু মীরজাফর আবারও বিশ্বাসঘাতকতা করে তার সৈন্যবাহিনীকে শিবিরে ফেরার নির্দেশ দেন।এই সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা নবাবকে আক্রমণ করে। যুদ্ধ বিকেল পাঁচটায় শেষ হয় এবং নবাবের ছাউনি ইংরেজদের অধিকারে আসে। ইংরেজদের পক্ষে সাতজন ইউরোপিয়ান এবং ১৬ জন দেশীয় সৈন্য নিহত হয়। তখন কোন উপায় না দেখে সিরাজদ্দৌলা রাজধানী রক্ষা করার জন্য দুই হাজার সৈন্য নিয়ে মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু রাজধানী রক্ষা করার জন্যও কেউ তাকে সাহায্য করেনি। সিরাজদ্দৌলা তার সহধর্মিণী লুৎফুন্নেসা ও ভৃত্য গোলাম হোসেনকে নিয়ে রাজধানী থেকে বের হয়ে স্থলপথে ভগবান গোলায় পৌঁছে যান এবং সেখান থেকে নৌকাযোগে পদ্মা ও মহানন্দার মধ্য দিয়ে উত্তর দিক অভিমুখে যাত্রা করেন। তার আশা ছিল পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছাতে পারলে ফরাসি সৈনিক মসিয়ে নাস-এর সহায়তায় পাটনা পর্যন্ত গিয়ে রামনারায়ণের কাছ থেকে সৈন্য সংগ্রহ করে ফরাসি বাহিনীর সহায়তায় বাংলাকে রক্ষা করবেন।

#বন্দিত্ব_এবং_মৃত্যু

মীরজাফর রাজধানীতে পৌঁছে নবাবকে খুঁজে না পেয়ে চারদিকে লোক পাঠালেন। ১৭৫৭ সালের ৩ জুলাই সিরাজদ্দৌলা মহানন্দা নদীর স্রোত অতিক্রম করে এলেও তাতে জোয়ার ভাটার ফলে হঠাৎ করে জল কমে যাওয়ায় নাজিমপুরের মোহনায় এসে তার নৌকা চড়ায় আটকে যায়। তিনি নৌকা থেকে নেমে খাবার সংগ্রহের জন্য একটি মসজিদের নিকটবর্তী বাজারে আসেন। সেখানে কিছু লোক তাকে চিনে ফেলে অর্থের লোভে মীর জাফরের সৈন্যবাহিনীকে খবর দেয়।এ সম্পর্কে ভিন্ন আরেকটি মত আছে যে এক ফকির এখানে নবাব কে দেখে চিনে ফেলে। উক্ত ফকির ইতঃপূর্বে নবাব কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে তার এক কান হারিয়েছিল। সেই ফকির নবাবের খবর জানিয়ে দেয়।তারা এসে সিরাজদ্দৌলাকে বন্দি করে রাজধানী মুর্শিদাবাদে পাঠিয়ে দেয়। বন্দী হবার সময় নবাবের সাথে ছিলেন তার স্ত্রী লুতফা বেগম এবং চার বছর বয়সী কন্যা উম্মে জহুরা। এর পরের দিন ৪ জুলাই (মতান্তরে ৩রা জুলাই) মীরজাফরের আদেশে তার পুত্র মিরনের তত্ত্বাবধানে মুহম্মদিবেগ নামের এক ঘাতক সিরাজদ্দৌলাকে হত্যা করে। কথিত আছে, সিরাজের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ হাতির পিঠে চড়িয়ে সারা শহর ঘোরানো হয়। মুর্শিদাবাদের খোশবাগে নবাব আলিবর্দী খানের কবরের কাছে তাকে কবর দেয়া হয়

#পরিবারের_পরিণতি

সিরাজদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নেসা এবং তার শিশুকন্যাকে মীর জাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে ঢাকায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল। সিরাজের পতনের পূর্ব পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারীরা ঘষেটি বেগমকে ব্যবহার করলেও সিরাজের পতনের পর আর তাকে কোনো সুযোগই দেয়া হয়নি।[৯] এ সময় তারা তাদের মা শরফুন্নেসা, সিরাজের মা আমেনা, খালা ঘষেটি বেগম, সিরাজের স্ত্রী লুৎফুন্নেসা ও তার শিশুকন্যা সবাইকে ঢাকার জিঞ্জিরা প্রাসাদে বন্দি করে রাখা হয়। ঢাকার বর্তমান কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা প্রাসাদে তারা বেশ কিছুদিন বন্দি জীবন যাপন করার পর মীরনের নির্দেশে ঘষেটি বেগম ও আমেনা বেগমকে নৌকায় করে নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়। ক্লাইভের হস্তক্ষেপের ফলে শরফুন্নেসা, সিরাজের স্ত্রী লুৎফুন্নেসা এবং তার শিশুকন্যা রক্ষা পান এবং পরবর্তীতে তাদেরকে মুর্শিদাবাদে আনা হয়। ইংরেজ কোম্পানি সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সামান্য বৃত্তির ওপর নির্ভর করে তাদেরকে জীবন ধারণ করতে হয়। সিরাজের মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৪ বছর পর লুৎফুন্নেসা ১৭৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

সিরাজকে হত্যার পর মীর জাফর ও মীরন, আমেনা এবং পরিবারের অন্যান্য মহিলাদের কয়েকটি নিকৃষ্ট নৌকায় চড়িয়ে অত্যন্ত অপমানজনকভাবে ও অবহেলার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগরে পাঠিয়ে দেন। সিয়ারুল মুতাখখেরিনের লেখক গোলাম হোসাইন তাবাতাবাই লিখেছেন যে, সিরাজ পরিবারকে জাহাঙ্গীরনগর পাঠানোর কিছুদিন পর মীরন জাহাঙ্গীরনগরের শাসনকর্তা ও অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি যশরথ খানকে লিখিত নির্দেশ দেয়, যাতে তিনি দু’জন হতভাগ্য বয়স্কা মহিলাকে (ঘষেটি বেগম ও আমিনা) হত্যা করেন। এই সদাশয় শাসনকর্তা এই মহিলাদের ও তাদের স্বামীদের নিকট তার উন্নতি ও অন্নের জন্য ঋণী ছিলেন। তিনি মীরনের এই ঘৃণ্য নির্দেশ পালন করতে অসম্মতি জানান। পরে ঢাকার জিঞ্জিরা প্রাসাদে সিরাজের মা আমেনা এবং খালা ঘষেটি বেগম দীর্ঘদিন বন্দী থাকার পর তাদের পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।

#চরিত্র

তার শাসনের প্রথম কয়েকমাস তিনি তার শৌর্য ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ম্যালেশন মিরজাফরের ও ক্লাইভের সঙ্গে তুলনায় সিরাজের মহত্ত্বের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।

সিরাজ মিরজাফরের চেয়ে অনেক বেশি ভাগ্যবান। তিনি মিরজাফরের চেয়ে অবশ্যই কম নিন্দনীয়। সিরাজের যাই দোষ-গুণ থাকুক না-কেন তিনি প্রভুর প্রতি বিশ্বাসহন্তা নন। তিনি দেশকে বিক্রি করে দেননি। অধিকন্তু ৯ ফেব্রুয়ারি ও ২৩ জুনের মাঝখানকার ঘটনাগুলোর বিচারে কোন নিরপেক্ষ ইংরেজ অস্বীকার করতে পারবেন না যে সম্মানের মানদণ্ডে ক্লাইভের অপেক্ষা সিরাজের নাম অনেক উঁচুতে। সেই বিষাদান্তক নাটকের মুখ্য অভিনেতাদের মধ্যে একমাত্র তিনিই কাউকে প্রতারণা করার চেষ্টা করেননি।

#আদর্শ

সিরাজউদ্দৌলার রাজত্বের সমাপ্তি বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের অবসান ঘটায় এবং ভারতে ব্রিটিশ ক্ষমতার সূচনা করে। তার শাসনের শেষের বাংলা সংস্করণে, মীরজাফর এবং রবার্ট ক্লাইভ ছিল ভিলেন এবং সিরাজ ছিল শিকার। যদিও তাকে খুব কমই আকর্ষণীয় ব্যক্তি হিসেবে দেখানো হয়, তবুও তাকে পাপী হিসেবে না দেখে তার বিরুদ্ধে পাপ করা হয়েছে বলে গণ্য করা হয়। ভারতীয় স্বাধীনতার আন্দোলন যখন শক্তিশালী হয়, সিরাজ, টিপু সুলতান এবং শেষ মোগল সম্রাট, দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ ভারতীয় স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধের নায়ক যারা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রতিরোধকারী ব্যক্তি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ মর্যাদা লাভ করেন।

সিরাজের আদর্শ তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক যুদ্ধের বিষয় হয়ে উঠেছে যারা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের জন্য কিছু নৈতিক প্রতিরক্ষা দিতে চায় একটি সভ্যতা মিশন হিসেবে এবং যারা উপনিবেশ আমলকে এক হিসাবে দেখে, যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলদের শোষণ করে, এবং ইউরোপের অনেক বিতর্ককে প্রত্যাখ্যান করে সংস্কৃতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতকে প্রস্তাব করা বা ইউরোপীয়রা নিজেদেরকে নৈতিকভাবে উন্নততর উপায়ে পরিচালনা করেছিল।

 #আসসালামু_আলাইকুম 🇧🇩💃🌹🍬💘🍫💐🏃‍♂️🌍 #তুফান_ISP_সংযোগ   : Triangle Service Limited : Mohammad Nazrul Islam (Parvez) : DIT Ro...
03/08/2026

#আসসালামু_আলাইকুম
🇧🇩💃🌹🍬💘🍫💐🏃‍♂️🌍
#তুফান_ISP_সংযোগ


: Triangle Service Limited
: Mohammad Nazrul Islam (Parvez)
: DIT Road West Rampura.

রামপুরা,দাস পাড়া,বন্ধু নিবাস, উলন,বুইদ্ধা বাড়ী, প্রকৌশলি গলি,পলাশবাগ,থাই প্লাস্টিক, শিমুলবাগ, ওয়াপদা রোড, উলনরোড, ওমর আলী লেন, মীরবাগ, নগর সহ সর্বত্র দিচ্ছে বাধাহীন ও নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা। আপনার সময়কে আরো আনন্দময় আর নতুন মাত্রা দিতে Triangle Fiber Optic ইন্টারনেট আপনার হাতের কাছেই। আমরা দিচ্ছি ঝামেলাবিহিন দুরন্ত গতির #ইন্টারনেট সেবা। নতুন কানেকশান নিতে এখনই ভিজিট করুন-

:
☎️ 55128800

:
📱01609872332, 01747248832

:
💻[email protected]
💻[email protected]

: 394 Makki Jame Mosque DIT Road West Rampura, Dhaka 1219, Bangladesh.

اَللّٰھُمَّ صَلِّ عَلٰی مُحَمَّدٍ وَّعَلٰی اٰلِ مُحَمَّدٍ کَمَا صَلَّیْتَ عَلٰی اِبْرَاہِیْمَ وَعَلٰی اٰلِ اِبْرَاہِیْمَ...
03/08/2026

اَللّٰھُمَّ صَلِّ عَلٰی مُحَمَّدٍ وَّعَلٰی اٰلِ مُحَمَّدٍ کَمَا صَلَّیْتَ عَلٰی اِبْرَاہِیْمَ وَعَلٰی اٰلِ اِبْرَاہِیْمَ اِنَّکَ حَمِیْدٌ مَّجِیْدٌاَللّٰھُمَّ بَارِکْ عَلٰی مُحَمَّدٍ وَّعَلٰی اٰلِ مُحَمَّدٍ کَمَا بَارَکْتَ عَلٰی اِبْرَاہِیْمَ وَعَلٰی اٰلِ اِبْرَاہِیْمَ اِنَّکَ حَمِیْدٌ مَّجِیْدٌ

#বাংলা_উচ্চারণঃ

দুরুদ শরীফ

"আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।

আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।"

#অর্থঃ

"হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর বংশধরের ওপর বরকত নাযিল করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।"

দুরুদ শরীফের ফজিলত:রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত বর্ষণ করেন।

ہُوَ الَّذِیۡ یُصَوِّرُکُمۡ فِی الۡاَرۡحَامِ کَیۡفَ یَشَآءُ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٦০৬. হুওয়...
01/08/2026

ہُوَ الَّذِیۡ یُصَوِّرُکُمۡ فِی الۡاَرۡحَامِ کَیۡفَ یَشَآءُ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٦

০৬. হুওয়াল্লাযী ইউসাওবিরুকুম ফিল আরহা-মি কাইফা ইয়াশাউ লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

০৬. তিনিই সেই সত্তা, যিনি মায়ের পেটে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি দান করেন। তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি পরম পরাক্রান্ত এবং সমুচ্চ প্রজ্ঞারও অধিকারী।

তাফসীরঃ

২. মানুষ যদি তার সৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক স্তরসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করে ও চিন্তা করে যে, সে মাতৃগর্ভে কিভাবে প্রতিপালিত হয় এবং কিভাবে অপরাপর অগণ্য মানুষ থেকে তার আকৃতিকে এমন পৃথকভাবে তৈরি করা হয় যে, অন্য কারও সাথে সে শতভাগ মিলে যায় না, তবে এসব যে এক আল্লাহর কুদরত মিলে যায় না, তবে এসব যে এক আল্লাহর কুদরত ও হিকমতের অধীনেই হচ্ছে, এটা মানতে তার এক মুহূর্ত দেরী হবে না। এ আয়াতে এই বাস্তবতাকে তুলে ধরার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, তাঁর একত্ব ও হিকমতের প্রতি ইশারা করা উদ্দেশ্য। সেই সঙ্গে এর দ্বারা আরও একটি দিক স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায়, একবার নাজরান থেকে খ্রিস্টানদের একটি প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছিল এবং তারা তাঁর সঙ্গে নিজেদের আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে কথা বলেছিল। সূরা আলে-ইমরানের কয়েকটি আয়াত সেই প্রেক্ষাপটেই নাযিল হয়েছে। প্রতিনিধিদলটির দাবী ছিল ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর পুত্র। এর সপক্ষে তাদের দলীল ছিল যে, তিনি পিতা ছাড়া জন্ম লাভ করেছিলেন। এ আয়াত তাদের সে দলীল খণ্ডন করছে। ইশারা করা হচ্ছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তিরই সৃজন ও আকৃতি দানের কাজ আল্লাহ তাআলাই করেন। যদিও তিনি এই নিয়ম চালু করে দিয়েছেন যে, প্রত্যেক শিশু পিতার মাধ্যমে জন্ম লাভ করে, কিন্তু তিনি এ নিয়মের অধীন ও মুখাপেক্ষী নন। সুতরাং যখন চান এবং যাকে চান, পিতা ছাড়া সৃষ্টি করেন ও করতে পারেন। কাজেই পিতা ছাড়া কারও জন্মগ্রহণ দ্বারা তার ঈশ্বর বা ঈশ্বর-পুত্র হওয়া প্রমাণ হয় না।

(সূরাঃ ০৩, আ-লু ইমরান (آل عمران) ইমরানের পরিবার (মাদানী) আয়াতঃ ০৬, মোট আয়াতঃ ২০০)

وَالَّذِیۡنَ جَآءُوۡ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَلِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡ...
01/08/2026

وَالَّذِیۡنَ جَآءُوۡ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَلِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَلَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّکَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ١۰

১০. ওয়াল্লাযীনা জাঊ মিম বা‘দিহিম ইয়াকূ লূনা রাব্বানাগফিরলানা-ওয়া লিইখওয়া-নিনাল্লাযীনা ছাবকূনা-বিল ঈমা-নি ওয়ালা-তাজ‘আল ফী কুলূবিনা-গিল্লাল লিল্লাযীনা আ-মানূ রাব্বানাইন্নাকা রাঊফুর রাহীম।

১০. এবং (ফায়-এর সম্পদ) তাদেরও প্রাপ্য, যারা তাদের (অর্থাৎ মুহাজির ও আনসারদের) পরে এসেছে।তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা কর আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকেও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ রেখ না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

১০. এর দ্বারা এক তো যারা সাহাবায়ে কেরামের পরে জন্মগ্রহণ করেছেন বা তাদের পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদেরকে বোঝানো হয়েছে। তাদেরকেও ‘ফায়’ থেকে অংশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত এর অর্থ এটাও যে, ‘ফায়’-এর যে পরিমাণ বায়তুল মালে সংরক্ষিত থাকবে, তা পরবর্তী কালের মুসলিমদের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে। হযরত উমর ফারূক (রাযি.) এ আয়াতের ভিত্তিতেই ইরাকের জমি-জিরাত মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন না করে তার উপর খারাজ (কর) ধার্য করেছিলেন, যাতে তা বায়তুল মালে জমা হয়ে সমস্ত মুসলিমের কাজে আসে। এ মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য ‘মাআরিফুল কুরআন’ এবং বান্দার রচিত ‘মিলকিয়াতে যমীন কী শরয়ী হায়ছিয়াত’ পুস্তিকাখানি পড়া যেতে পারে।

(সূরাঃ ৫৯, আল হাশ্‌র (الـحـشـر) সমাবেশ
(মাদানী) আয়াতঃ ১০, মোট আয়াতঃ ২৪)

Address

394 Makki Jame Mosque, DIT Road, West Rampura
Dhaka
1219

Opening Hours

Monday 09:30 - 22:00
Tuesday 09:30 - 22:00
Wednesday 09:30 - 22:00
Thursday 09:30 - 22:00
Saturday 09:30 - 22:00
Sunday 09:30 - 22:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Aloron Hang Over Internet আলোড়ন হ্যাং ওভার ইন্টারনেট posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share