17/07/2026
সিনেমা তৈরিতেও এআই বিপ্লব: প্রায় ৩০০ কনটেন্টে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করেছে Netflix
তারিখ: ১৭ জুলাই ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু লেখা, ছবি কিংবা সাধারণ ভিডিও তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের অন্যতম বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম Netflix জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মের প্রায় ৩০০টি সিনেমা ও সিরিজ তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে পোস্ট-প্রোডাকশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং জটিল দৃশ্য তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।
কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে এআই?
Netflix-এর সহ-প্রধান নির্বাহী টেড সারানডোস জানিয়েছেন, এআই ব্যবহার করে বড় জনসমাগম, ঐতিহাসিক যুদ্ধ, কল্পিত জগৎ এবং ব্যয়বহুল ভিজ্যুয়াল দৃশ্য দ্রুত তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। সাধারণ প্রযুক্তিতে যেসব দৃশ্য তৈরি করতে অনেক সময় ও অর্থ প্রয়োজন হতো, এআইয়ের সাহায্যে সেগুলো তুলনামূলকভাবে দ্রুত এবং কম খরচে তৈরি করা যাচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে Netflix-এর The American Experiment ডকুমেন্টারি সিরিজে প্রায় ১৭ মিনিটের এআই-সহায়িত ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এসব দৃশ্য অর্ধেক সময়ে এবং প্রায় অর্ধেক খরচে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
নির্মাতাদের জায়গা কি এআই নিয়ে নেবে?
এআইয়ের ব্যবহার বাড়ায় অভিনেতা, অ্যানিমেটর, ভিডিও সম্পাদক এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট শিল্পীদের কাজ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে Netflix বলছে, এআইকে মানুষের সৃজনশীলতার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং নির্মাতাদের কাজ সহজ করার একটি প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাস্তবে একটি ভালো গল্প, চরিত্রের আবেগ এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে মানুষের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সময়সাপেক্ষ কিছু প্রযুক্তিগত কাজ এআইকে দিয়ে করানো হলে নির্মাতারা গল্প ও পরিচালনার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
Netflix কেন এআইয়ে বিনিয়োগ করছে?
বর্তমানে Netflix-কে শুধু Disney-এর মতো স্ট্রিমিং সেবার সঙ্গেই নয়, YouTube ও TikTok-এর মতো ভিডিও প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি সিনেমা ও সিরিজের পাশাপাশি গেম, লাইভ অনুষ্ঠান, ভিডিও পডকাস্ট এবং ছোট ভিডিওর দিকে মনোযোগ বাড়াচ্ছে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে Netflix প্রায় ১২.৫৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের বিজ্ঞাপন থেকে আয় চলতি বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
দর্শকদের জন্য এর অর্থ কী?
এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে কম বাজেটের নির্মাতারাও উন্নত ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও বড় পরিসরের দৃশ্য তৈরি করতে পারবেন। এর ফলে নতুন ধরনের সিনেমা, অ্যানিমেশন ও সিরিজ তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।
তবে এআই দিয়ে তৈরি দৃশ্য, কণ্ঠ বা চরিত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং অনুমতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কোন অংশ মানুষের তৈরি এবং কোন অংশ এআই দিয়ে তৈরি—দর্শকদের তা জানানোর জন্য ভবিষ্যতে নতুন নীতিমালা প্রয়োজন হতে পারে।
শেষ কথা
Netflix-এর প্রায় ৩০০টি কনটেন্টে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার প্রমাণ করছে, বিনোদনশিল্পে বড় পরিবর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। সামনে প্রশ্নটি শুধু “এআই দিয়ে সিনেমা তৈরি করা যাবে কি না”—এটি নয়; বরং মানুষের সৃজনশীলতা ও এআইকে একসঙ্গে ব্যবহার করে কীভাবে আরও ভালো ও দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরি করা যায়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।