28/10/2018
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ সম্পর্কে জানা দরকার। কখন কী হয়ে যায়, বলা যায় না। আস্তিক, নাস্তিক, ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধ, স্প্যামিং, ইনফো-হান্টিং কী করিলে কী হয়, তার বেসিক আইডিয়াটা সবার থাকা দরকার।
আইনের কয়েকটি ধারা মাথায় গেথে নিন। ভালো না মন্দ, তা নিয়ে জ্ঞানীরা আলোচনা করুক। আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের এটুকু জানলেই জীবন-যাপন সহজ হবে।
সহজভাবে লিখিঃ
#স্প্যামিং- ১৯। (১) যদি কোনো ব্যক্তি-ইচ্ছাকৃতভাবে প্রেরক বা গ্রাহকের অনুমতি ব্যতীত,কোনো পণ্য বা সেবা বিপণনের উদ্দেশ্যে,স্পাম উৎপাদন বা বাজারজাত করেন বা করিবার চেষ্টা করেন বা অযাচিত ইলেক্ট্রনিক মেইল প্রেরণ করেন,তবে তা একটি অপরাধ।
-সারাদিন স্প্যাম মেসেজ আর মেইলের সবার ইনবক্স ভরে যায়। মোবাইল অপারেটররা শর্ত প্রযোজ্য দিলেও আপনি যদি তাঁদের সার্ভিস সেন্টারে কল করে স্প্যামিং করতে নিষেধ করেন এবং তারপরেও তাঁরা এসব পাঠায়, তবে তা অপরাধ।
#মুক্তিযুদ্ধঃ ২১। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা,জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা উহাতে মদদ প্রদান করেন,তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
-এখানে ‘গণহত্যা’-র বিষয়টিও স্পেসিফিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করলে ভালো হতো। তাহলে ইউরোপের জেনোসাইড ডিনায়াল অ্যাক্টের মতো আমাদের দেশেও প্রিলিমিনারিভাবে জেনোসাইড ডিনায়াল অ্যাক্টের কার্যক্রম শুরু করা যেত। এক্ষেত্রে যুদ্ধদলিল প্রকল্পের একটা বড় ধরণের প্লাস পয়েন্ট আছে। আমরা সরকারি দলিলপত্র ব্যবহার করে কাজ করছি। ফলে আমাদের জন্য সকল বিষয় সহজ হয়ে গিয়েছে।
আইনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে এভাবেঃ
২(১) (প) “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা” অর্থ যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্ধুদ্ধ করিয়াছিল জাতীয়তাবাদ,সমাজতন্ত্র,গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ;
-এখানে কিছু কথা বলে রাখা ভালো। এগুলো কিন্তু বর্তমান সংবিধান মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। মুক্তিযুদ্ধপূর্ব লিখিত থিসিস ৩টিঃ ৬ দফা, ৭ মার্চের ভাষণ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। সেগুলো খেয়াল করলে দেখবেন, সেখানে ‘বঞ্চনা’-র চালচিত্র বারবার করে উঠে এসেছে, কখনো অর্থনৈতিক, কখনো শাসনতান্ত্রিক। কাজেই বঞ্চনার বিষয়টিও এখানে অন্তর্ভুক্ত করলে ভালো হতো।
#মানহানীঃ ২৫। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে,-
(ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে,এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন,যাহা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও,কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত,অপমান,অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন করিবার অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ,প্রকাশ বা প্রচার করেন,
(খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণু করিবার,বা বিভ্রান্তি ছড়াইবার,বা তদুদ্দেশ্যে,অপপ্রচার বা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও,কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ,বা প্রচার করেন বা করিতে সহায়তা করেন,
-অর্থাৎ ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এতাল-বেতাল কথাবার্তা বললেই অপরাধ।
#ধর্মঃ ২৮। (১) যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান,যাহা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করে,তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
#সাম্প্রদায়িকতাঃ ৩১। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান,যাহা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা,ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়,তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
#আইনের_অধিক্ষেত্রঃ ৪। (১) যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের বাহিরে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন যাহা বাংলাদেশে সংঘটন করিলে এই আইনের অধীন দণ্ডযোগ্য হইত,তাহা হইলে এই আইনের বিধানাবলি এইরূপে প্রযোজ্য হইবে যেন উক্ত অপরাধটি তিনি বাংলাদেশেই সংঘটন করিয়াছেন।
-অর্থাৎ দেশের ভেতরে তো বটেই, বাইরে থেকে এসব করলেও অপরাধ।
#অনুমতি_ব্যতীত_পরিচিতি_তথ্য_সংগ্রহ_ব্যবহারঃ ২৬। (১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে অপর কোনো ব্যক্তির পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ,বিক্রয়,দখল,সরবরাহ বা ব্যবহার করেন,তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘পরিচিতি তথ্য’ অর্থ কোনো বাহ্যিক, জৈবিক বা শারীরিক তথ্য বা অন্য কোনো তথ্য যাহা এককভাবে বা যৌথভাবে একজন ব্যক্তি বা সিস্টেমকে শনাক্ত করে, যাহার নাম, ছবি, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, মাতার নাম, পিতার নাম, স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর, ফিংগার প্রিন্ট, পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ই-টিআইএন নম্বর, ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল স্বাক্ষর, ব্যবহারকারীর নাম, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নম্বর, ভয়েজ প্রিন্ট, রেটিনা ইমেজ, আইরেস ইমেজ, ডিএনএ প্রোফাইল, নিরাপত্তামূলক প্রশ্ন বা অন্য কোনো পরিচিতি যাহা প্রযুক্তির উৎকর্ষতার জন্য সহজলভ্য।
-অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া আরেকজনের যে কোনো তথ্য কালেক্ট করলেই অপরাধ। অনেক অ্যাপ কিন্তু আমাদের অজান্তে ইনফো নিয়ে নেয়। এক্সেস দেবেন না। যত কম পারবেন অ্যাপ ব্যবহার করবেন। বিক্যাশ অ্যাপ আসার পর থেকে গণহারে বিক্যাশ জালিয়াতি শুরু হয়েছে।
#পরোয়ানা_ব্যতিরেকে_তল্লাশি_জব্দ_ও_গ্রেফতারঃ ৪৩। (১) যদি কোনো পুলিশ অফিসারের (সাব-ইন্সপেক্টর বা তদূর্ধ) এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে,কোনো স্থানে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে বা হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে বা সাক্ষ্য প্রমাণাদি হারানো, নষ্ট হওয়া, মুছিয়া ফেলা, পরিবর্তন বা অন্য কোনো উপায়ে দুষ্প্রাপ্য হইবার বা করিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি,অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া,নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেনঃ
(ক) উক্ত স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশি এবং প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হইলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(খ) উক্ত স্থানে তল্লাশিকালে প্রাপ্ত অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার্য কম্পিউটার,কম্পিউটার সিস্টেম,কম্পিউটার নেটওয়ার্ক,তথ্য-উপাত্ত বা অন্যান্য সরঞ্জামাদি এবং অপরাধ প্রমাণে সহায়ক কোনো দলিল জব্দকরণ;
(গ) উক্ত স্থানে উপস্থিত যে কোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি;
(ঘ) উক্ত স্থানে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ করিয়াছেন বা করিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইলে উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার।
-প্রতিটি অপরাধের শাস্তি লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং বছরের পর বছর জেল!
বাঁচতে হলে জানতে হবে...
মূল লেখা: Md Najmul Hassan