21/07/2021
কোরবানী,
শিশু, কিশোর নর-নারী, বৃদ্ধ যুবক সারি সারি,
বেধেছে দল, অবিকল, যেন নন্দের পাড়ি।
আসার পথে পশুর রক্তে রঙ্গিত মাঠ-গাঁয়ে
ও গো মন, এ স্মৃতির পাতা ইসমাইলেরই পায়ে,
যান কোরবান, যান কোরবান,,
খোলামনে গাইছি গুনজনি গান,
আজি মিনা পর্বতের রঙ্গিত পাথরের সম্মান,
এ যেন বিধাতার সেরা সপিদান,
পূর্ব পূষ্প কলির যেন বিশাল বলিয়ান।।
এ যেন জাতির পিতা ইব্রাহীমের পুত্রের বিসর্জন,
পবিত্র মিনা পর্বতের আহাজারীর গর্জন।
নীল গগনের মেঘলা মালা,
আজি হয়ে গেছিল হারা হারা,
ওরে এ ধরায় আছে কোন জন,
সেই সর্বহারা বিসর্জিত মন,
ছিল সে সমে সর্বকালের জনক রবি।
হয়ত সে এই ত্যাগের
কালের মহাপূরুষ, ইব্রাহিম নবী,,
তারি ঘটেছিল ইতিহাস, জীবনে হাজার ক্রু
আহরনে তা কাপিবে সদাশয় দু'নয়ন ভ্রু,
বিধাতার হিম্মতে জীবন কুড়ায়,
নিয়ে গেল ইসমাইলরে পর্বত চুড়ায়,
ইসমাইল বলে বাবা আহাজারী কিসের ?
আপনার ইচ্ছে পূর্ণ করো
এই অনুরোধ মোর নিজের।।
বাবা বলে বাচাঁ জীবনে আমার,
প্রিয় বস্তু তুমি,
তোমার চেয়ে ও প্রিয় যিনি মোর,
এই গো ধরাপতি স্বামী।।
বাবা বলে বাচাঁ, তুমি মোর সবই,
তুমি মোর সেরা,
তুমি মোর জীবণ বাগিচার ফুল ছায়াঘেরা,
তুমিই ছিড়লে মিনা পর্বতের ঘেরা
আজি তোমার যান,
দিব কোরবান,
নির্দেশিল মোরে সেই অধিপতি, মহা মহীয়ান।।
ইসমাইল বলে বাবা,
আমি আপনারই সন্তান,
তাই কর দান, মোরে,
তাকবীর বলি জোরে জোরে,
বাড়াতে পারি যেন বিধাতার কাছে
আপন দেহের দাম,
সৃজন কর এই মিনায়, ইতিহাস নিশান।।
বাবা যখনি ছেলেরে নিয়ে,
বুকে জড়িয়ে কহে,
ওরে বাচাঁ মোর হারা বেদনা,
জীবনের সারা বহে।
আদরে মায়ার ছায়া জড়ানো,
মিনায় অলিগলি,
নির্ঝুম নিরবে নিস্তব্দ বচনে,
কাদঁছে সবি ইসমাইল বলি বলি।।
বাবার মননের গহীন থলিতে,
বেদনার ঝাপটা এসে
সবি সুখরে অঝরে নিচ্ছে ভেসে,
মিনা পর্বতের প্রান্তে গিয়ে,
গগন পানে চেয়ে রয়,
বিধাতার কাছে, ছওয়াল হাঁকে
এ বিরল যেন অমর হয়,
থাকে যেন পদে পদে কলেমার নিশান জয়।।
বিধাতা কহে জিন মালায়েক,
ওহে মোর সৃষ্টি রাজি,
মিনা পর্বতের যান বিনিময়,
দেখ দেখ সবি আজি,
মালায়েক কহে বিধাতারে!!
এ কোন করুন দৃশ্য!!
এই মানব তোর কোন জনমের পূষ্য,
উদঘটিলে কোন কোকিলার নিরব রহস্য।।
রবির আলোর ক্ষিণ রেখা,
গগন কৃষ্ণ বরণ,
নিবৃতে শুনা যার অচিন মম কাঁদন,
হায় এ ধরায়, এ কোন বাঁধন,
বাবার নয়নের বয়নে চয়নে
নিরব আহাজারী
কিন্ত, মোই তো গোলাম তারি,
তার হুকুমে সব করতে পারি।।
বাচাঁ বলে বাবা আর চিন্তা নয়,
শোয়াও মোরে তুমি,
রবের নামেতে যবেহ করে দাও
এই ভুবনরে চুমি,
বাবা বলে বাচাঁ ঠিক বলেছই,
শোয়ও মাটির পানে,
মিনা পর্বত রঙ্গিত করে দিই প্রিয় বস্তুর যানে।।
হস্তের চাকু ধারি, চালালে তাড়াতাড়ি,,,
সারা দুনিয়ার ক্রন্দের আহাজারী
আকাশ বাতাস হয়ে গেল ভারী,
শুয়ে রয় ইসমাইল নিরবে,
তাকবীরে চাকু চালার বাবা সরবে,
সারা দুনিয়ার জীব জানুয়ারের সেই সমে,
কোটি কোটি আবেদন,
হে খোদা, আহা !
শুধু ইসমাইলের প্রাণ ভিক্ষার নিবেদন।।
থরথরীয়ে কাপিল তখনি
খোদার আর্শ কুরসি!!
গায়েবী ধ্বনিতে আওয়াজ আসিলো,
ত্যাগেই হয়েছি খুশি।।
খোদা স্মরে আহা!!
ইব্রাহীমের ঈসমাইল তুমি
যাও চলে যাও ঘরে,,
এই ত্যাগের বিধান পাবে
নিদান আখিরাত তরে।।
স্ব-রচিত,,,
চলমান,,,,