Shakhawat Saalehin

Shakhawat Saalehin Traveler • Visualizer • Creator I understand that every project is unique and requires a personalized approach.

As a professional graphic designer with 8 years of on-field experience, I bring a wealth of expertise and passion to every project I work on. With a focus on logo design, stationery design, book cover design, and social media banner ad design, I have honed my skills to become a specialist in these areas, producing work that is both visually stunning and strategically effective. This is why I take the time to understand my client's needs and goals, ensuring that each design I create accurately reflects their brand message. I am committed to delivering projects on time and within budget, and I always strive to exceed my client's expectations. Whether working on a complex design project or a simple logo design, I approach each task with dedication and a commitment to producing the best possible results. My passion for design is evident in everything I do. I am constantly seeking out new design trends and techniques, and I never stop learning. This allows me to bring fresh perspectives and innovative ideas to my projects, and it keeps me at the forefront of the design industry. I have a strong eye for detail, and I take pride in ensuring that every project I work on meets the highest standards of quality. I am a team player who works well under pressure and can handle multiple projects simultaneously. I am able to communicate my ideas effectively and I am always willing to listen to the perspectives and ideas of others. I believe that collaboration is key to producing the best possible results, and I am always eager to work with others to achieve common goals. In conclusion, as a dedicated professional graphic designer with 8 years of experience, I bring a wealth of expertise, passion, and dedication to every project I work on. Whether working on a complex design project or a simple logo design, I am committed to producing work that is both visually stunning and strategically effective, and I always strive to exceed my client's expectations.

মানুষ জন্মগতভাবে কঠোর হৃদয় নিয়ে পৃথিবীতে আসে না।হৃদয় কঠিন হয় একটু একটু করে। ভুল সিদ্ধান্ত, লোভ, অহংকার আর গুনাহের স্তর জ...
28/09/2026

মানুষ জন্মগতভাবে কঠোর হৃদয় নিয়ে পৃথিবীতে আসে না।

হৃদয় কঠিন হয় একটু একটু করে। ভুল সিদ্ধান্ত, লোভ, অহংকার আর গুনাহের স্তর জমতে থাকে। জমতে জমতে একটা সময় নরম হৃদয়টা পাথরের চেয়েও কঠিন হয়ে যায়।

এই যে ধীরে ধীরে আত্মার মৃত্যু হওয়া, যাকে বলে 'কাসাওয়াতুল ক্বালব'। সেখান থেকে ফেরার কি কোনো উপায় আছে? অসুস্থ হয়ে পড়া হৃদয়ের আরোগ্যের দুয়ার কি কখনো খোলে? এই অস্বস্তিকর অথচ জরুরি আত্মজিজ্ঞাসার নামই 'ক্বাফ'।

বই : ক্বাফ
লেখক : আবদুল্লাহ ওয়াসিম
অনুবাদ : সৈয়্যদা নাজিয়া
প্রচ্ছদ : সাখাওয়াত সালেহীন

প্রচ্ছদের ক্যানভাসে আমি মূলত চুরমার হয়ে যাওয়া এক আত্মার গল্পই বলতে চেয়েছি। উপন্যাসের চরিত্র সাভেরার ক্রমশ অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার যে গল্প, তা-ই ফুটে উঠেছে এখানে।

সামনের প্রচ্ছদে চোখ রাখলেই দেখবেন ফাটল ধরা এক রুক্ষ দেয়ালের নিচে পড়ে আছে আয়নার কিছু ভাঙা টুকরো। মানুষ আয়নায় নিজেকে দেখে। কিন্তু সেই আয়না যখন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, তখন সেখানে নিজের প্রতিবিম্বটাও টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে। এই ভাঙা আয়নাগুলো মূলত কাসাওয়াতুল ক্বালব বা পাপ আর অহংকারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়া হৃদয়ের প্রতীক। অবহেলা আর মোহে কীভাবে একটি সতেজ আত্মা এভাবে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়, ডিজাইনের পরতে পরতে সেই হাহাকারটুকু রাখার চেষ্টা করেছি।

পুরো প্রচ্ছদে কালচে নীল, মরচে ধরা আর মাটির কালচে রঙের যে বিষণ্ণ আভা ব্যবহার করেছি, তা এই পতনের নীরব সাক্ষ্য দিচ্ছে। আর পেছনের প্রচ্ছদে থাকা উর্দু কবিতার চরণগুলো যেন সেই হাহাকারেরই চূড়ান্ত প্রতিধ্বনি—

"আমি তো ভালোবেসেছি,
তুমিও বাসলে পারতে
অল্পস্বল্প আমি সয়ে গেছি,
তুমিও সইলে পারতে..."

এই বিষণ্ণ ও গভীর প্রচ্ছদটির চারপাশের পরিবেশ কেমন লেগেছে? আয়নার ভাঙা টুকরোয় নিজের ক্ষত দেখার এই রূপকটি আপনার অনুভূতিতে কতটা নাড়া দিল? কমেন্টে আপনার অনুভূতি জানাতে পারেন!

নিজের ভেতরে একটা যু/দ্ধ চলে প্রতিনিয়ত। নীরব, কিন্তু ভীষণ রক্তা^ক্ত। নফসের সাথে বিবেকের যু*দ্ধ।স্রষ্টা বলেছিলেন নফসকে বশ ...
22/09/2026

নিজের ভেতরে একটা যু/দ্ধ চলে প্রতিনিয়ত। নীরব, কিন্তু ভীষণ রক্তা^ক্ত। নফসের সাথে বিবেকের যু*দ্ধ।

স্রষ্টা বলেছিলেন নফসকে বশ করতে। অথচ আমরা কী করলাম? নিজের বিবেকটাকেই বিসর্জন দিয়ে বসলাম!

নিজের কাছে ফেরার এই কঠিন পথটার নামই আত্মানুসন্ধান। অহংকার, আসক্তি আর একাকিত্বের দেয়াল ভেঙে নিজের সত্যের মুখোমুখি হওয়া। 'খুদ সে খোদা তাক'—নিজের ক্ষুদ্র সত্তা থেকে স্রষ্টার অসীমতা পর্যন্ত পৌঁছানোর এক অন্তহীন আধ্যাত্মিক যাত্রা।

বই : খুদ সে খোদা তাক
লেখক : মুহাম্মদ নাসির ইফতেখার
অনুবাদ : সৈয়্যদা নাজিয়া
প্রচ্ছদ : সাখাওয়াত সালেহীন

প্রচ্ছদের তুলিতে আমি মূলত এই আত্মিক মুক্তির দৃশ্যটাই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।

সামনের প্রচ্ছদের দিকে তাকালে শুরুতেই চোখে পড়বে একটি তাসবিহ। কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন, এর ওপরের অংশটা আর কোনো সুতোয় বাঁধা নেই। শিকল ছিঁড়ে দানাগুলো মুক্ত হয়ে ছুটে যাচ্ছে ঐশ্বরিক আলোর দিকে। এটি মূলত নফসের বাঁধন ভেঙে আত্মার স্বাধীনতার রূপক। নিজেকে পরিশুদ্ধ করে ইলাহি নূরের দিকে ধাবিত হওয়ার এক নীরব দৃশ্যকথা।

পুরো ক্যানভাসজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গাঢ় লাল আর কমলার উষ্ণ আভা মানুষের ভেতরের সেই আধ্যাত্মিক দহন আর জাগরণের তীব্রতাকে প্রকাশ করে।

পেছনের প্রচ্ছদে রাখা হয়েছে আরও একটি গভীর ভাবালুতা। ঘোর অন্ধকারের বুকে সেখানে একাকী জ্বলছে একটি মোমবাতি। পাশে লেখা হজরত আল্লামা ইকবালের সেই অমর পঙক্তি—

"নিজের আত্মমর্যাদাকে এমন উচ্চতায় উন্নীত করো,
যাতে ভাগ্য নির্ধারণের পূর্বে আল্লাহ নিজেই তোমাকে জিজ্ঞেস করেন,
‘বল, তোমার ইচ্ছা কী?’"

এই মোমবাতিটি মূলত সেই জাগ্রত 'খুদি' বা আত্মসত্তার প্রতীক, যা চারপাশের সমস্ত অন্ধকার চিরে সত্যের আলো ছড়ায়।

বইটির ভাবগাম্ভীর্য আর ভেতরের ভাঙাগড়ার সাথে মেলাতে শিরোনামের টাইপোগ্রাফিতেও রেখেছি এক ধরনের অন্তর্নিহিত অস্থিরতা ও মুক্তির ছন্দ।

প্রচ্ছদের এই আধ্যাত্মিক রূপকগুলো—বিশেষ করে তাসবিহের দানা ছিঁড়ে আলোর দিকে ছুটে যাওয়ার ভাবনাটি আপনার মন ছুঁতে পেরেছে কি? কমেন্টে আপনার অনুভূতির কথা জানাতে পারেন!

জ্ঞান অর্জন করলেই কি মানুষ সফল হয়? হয়তো না।অগাধ পাণ্ডিত্য থাকতে পারে। থাকতে পারে ইবাদতের নানা নিয়ম-কানুন জানা। কিন্তু...
19/09/2026

জ্ঞান অর্জন করলেই কি মানুষ সফল হয়? হয়তো না।

অগাধ পাণ্ডিত্য থাকতে পারে। থাকতে পারে ইবাদতের নানা নিয়ম-কানুন জানা। কিন্তু নিজের ভেতরে যদি তার কোনো প্রতিফলন না ঘটে? যদি আত্মা পরিশুদ্ধ না হয়? ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেছেন, আসল সফলতা তো আত্মশুদ্ধিতে। নিছক জ্ঞান অর্জনে নয়।

নিজেকে চেনার এবং নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এই নীরব সাধনার নামই তাসাউউফ।

বই : তাসাউউফের মূলকথা
লেখক : শায়খ আব্দুল কাদের ঈসা (রহ.)
অনুবাদ : শায়খ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আযহারী
সম্পাদনা : শায়খ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আযহারী
প্রচ্ছদ : সাখাওয়াত সালেহীন

প্রচ্ছদের কাজ করার সময় এই আত্মশুদ্ধির দৃশ্যপটটিই বারবার আমার মাথায় আসছিল। কীভাবে একটি ছবির মাধ্যমে মানুষের ভেতরের এই নীরব সাধনাকে ফুটিয়ে তোলা যায়?

তাই ডিজাইনের মূল ক্যানভাসে একটি আলো-আঁধারির পরিবেশ বেছে নিয়েছি। যেখানে একজন সাধক নীরবে বসে আছেন। তার সামনে প্রাচীন একটি খোলা খিলান। সেই খিলান দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে এক উষ্ণ, ঐশ্বরিক আলো। এই আলো মূলত পরিশুদ্ধির আলো। যা মানুষের ভেতরের যাবতীয় অন্ধকার আর অহংকার দূর করে দেয়।

পুরো প্রচ্ছদে গাঢ় সবুজের স্নিগ্ধতা আর মায়াবী আলোর মিশ্রণে একটি আধ্যাত্মিক প্রশান্তি আনার চেষ্টা করেছি। আর শিরোনামের টাইপোগ্রাফিতে রেখেছি এক ধরনের ধ্রুপদী ক্যালিগ্রাফিক ছোঁয়া, যা বইটির গাম্ভীর্যের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে যায়।

প্রচ্ছদের এই আলো-আঁধারি আর নীরব পরিবেশ আপনার কেমন লাগছে? মন্তব্যের ঘরে জানাতে পারেন!

শুকরিয়া ভাই Tanveer Miraj 🌹

শব্দের নিজস্ব একটা দেয়াল আছে। আমরা সাধারণত বাইরের রূপটাই দেখি। কিন্তু সেই দেয়াল পেরোলে কী থাকে? থাকে এক অনন্ত আলোর জগৎ...
10/09/2026

শব্দের নিজস্ব একটা দেয়াল আছে। আমরা সাধারণত বাইরের রূপটাই দেখি। কিন্তু সেই দেয়াল পেরোলে কী থাকে? থাকে এক অনন্ত আলোর জগৎ। পবিত্র কুরআনের আয়াতের গভীরেও ঠিক এমন এক অদৃশ্য নূর বা আলো লুকিয়ে আছে। যা শুধু চোখ দিয়ে পড়া যায় না, হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হয়।

বই : সিররুল কুরআন
লেখক : খাজা ওসমান ফারুকী
প্রচ্ছদ : সাখাওয়াত সালেহীন

সিররুল কুরআন। আত্মিক ভ্রমণের পথের সন্ধান। বইটি মূলত সুফি তাফসির। যেখানে কুরআনের বাহ্যিক অর্থের সীমানা পেরিয়ে ভেতরের আধ্যাত্মিক রহস্য, বহুমাত্রিক জ্ঞান এবং বাতিনি স্তরের খোঁজ করা হয়েছে।

প্রচ্ছদের কাজ করার সময় এই বাতিনি বা রহস্যময় অনুভূতির কথাই বারবার মাথায় ঘুরছিল। ডিজাইনের মূল ফোকাস হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম এরাবিক ক্যালিগ্রাফির আদলে তৈরি বাংলা টাইপোগ্রাফি—‘সিররুল কুরআন’। আর সেই মূল লেখার পেছনে আবছা হয়ে ছড়িয়ে আছে বেশ কিছু চিহ্ন। আরবি ডায়াক্রিটিক্স। যেন ভেতরের গোপন বার্তার এক গভীর আবেশ। আর চারপাশের ইসলামিক জ্যামিতিক বর্ডারটি পুরো ডিজাইনে এনে দিয়েছে একটি ধ্রুপদী পাণ্ডুলিপির রূপ।

রঙ নিয়ে কাজ করার সময় শুরুতে দুটি আলাদা শেডে ডিজাইনের আইডিয়া দিয়েছিলাম। একটি রাজকীয় নীল, অন্যটি ডিপ মারুন। ভেবেছিলাম যেকোনো একটি ফাইনাল হবে। কিন্তু লেখক মহোদয়ের দুটি কালারই খুব পছন্দ হয়ে গেল। তাই দুটি রঙের প্রচ্ছদেই বইটি প্রকাশিত হয়েছে।

আপনার চোখে কোন কালারটি বেশি ভালো লাগছে? রাজকীয় নীল নাকি ডিপ মারুন? কমেন্টে জানান!!

দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যখন এক চিলতে অবসর এসে ধরা দেয়, তখন আমাদের মন কোথায় হারায়? কেউ হয়তো কল্পনার জগতে, কেউবা ফেলে আসা ...
06/09/2026

দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যখন এক চিলতে অবসর এসে ধরা দেয়, তখন আমাদের মন কোথায় হারায়? কেউ হয়তো কল্পনার জগতে, কেউবা ফেলে আসা স্মৃতির আঙিনায়। কিন্তু আমার এই অবসরের মুহূর্তগুলো এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে ওঠে, যখন নাত-এ-মুস্তফা (ﷺ) পড়ি। শব্দের গাঁথুনিতে লুকিয়ে থাকা সেই প্রেম আর ভক্তি আমার হৃদয়ে এনে দেয় এক স্বর্গীয় সুকুন বা আনন্দ।

আর এই প্রশান্তির এক জীবন্ত রূপ হয়ে সম্প্রতি আমার হাতে এসেছে ছোট্ট, মায়াবী একটি বই— ‘জামালে মুস্তফা ﷺ’। এটি মূলত বাংলা ও উর্দু ভাষার হামদ, নাত এবং মানকাবাতের এক অপূর্ব সংকলন। তবে এই বইটির সাথে আমার সম্পর্ক কেবল একজন পাঠকের নয়; এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে এক পুরোনো স্মৃতি। এর পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক আগের এক দীর্ঘ, কিছুটা জটিল, তবে ভীষণ আবেগের এক গল্প। সেই গল্পের মধুর পরিণতি হিসেবে, আমার নিজের হাতে করা প্রচ্ছদটি যখন এই বইয়ের মলাট হয়ে ফিরে এলো, আর স্বয়ং প্রকাশক ভালোবেসে বইটি উপহার দিলেন—অনুভূতিটা যেন কোনো এক উপন্যাসের সুন্দরতম অধ্যায়ের মতো। শুকরিয়া।

বইটি হাতে নিলেই এক অন্যরকম মায়া কাজ করে। কিউট ও মিনি সাইজের এই বইটির প্রচ্ছদে চোখ রাখলেই মন জুড়িয়ে যায় মদিনার সেই পুন্য-পবিত্র সবুজ গম্বুজের স্নিগ্ধতায়। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী ইসলামী সূক্ষ্ম নকশা, স্নিগ্ধ রঙের বুনন এবং নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি যেন বইটির ভেতরের পবিত্রতাকেই বাইরের আয়নায় প্রতিফলিত করছে। কম্পিউটারের ক্যানভাসে আঁকা সেই ডিজাইনটি যখন বাস্তবে এই চমৎকার রূপ পেল, তখন মনে হলো প্রতিটি নকশা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

যাঁরা প্রিয় নবীজীর ﷺ শানে নিবেদিত পঙ্‌ক্তিমালা পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ‘জামালে মুস্তফা ﷺ’ হতে পারে আত্মার খোরাক। অবসরের কোনো এক নীরব মুহূর্তে, এই বইয়ের পাতা উল্টালে আপনিও হয়তো সেই সুকুন খুঁজে পাবেন, যা প্রতিটি নাত-প্রেমীর হৃদয়কে পরম শান্তিতে ছুঁয়ে যায়।

01/09/2026

ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের আলোয় যে পিক্সেলগুলোকে পরম যতনে সাজিয়েছিলাম, আজ তা এক টুকরো বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে আমারই দুই হাতের মুঠোয়। একজন ডিজাইনারের কাছে নিজের সৃষ্টিকে এভাবে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি এক অদ্ভুত মায়ার মতো!

সম্প্রতি হাতে এসে পৌঁছাল আমার প্রচ্ছদে সাজানো "মা'রিফাতের মর্মকথা"। শ্রদ্ধেয় অনুবাদক স্যার যখন পরম যত্নে বইটি দিলেন, তখন মনে হলো নিজের কোনো প্রিয় সৃষ্টির পূর্ণতা দেখলাম। আপনাদের এই ভালোবাসা আর স্বীকৃতিই আমার আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পাথেয়।

বইটির মোড়ক খুলতেই এর আভিজাত্য যেন ছুঁয়ে গেল মন। প্রিমিয়াম জ্যাকেট, আলোর ছটায় ঝিলিক দিয়ে ওঠা ফয়েল প্রিন্টের টাইপোগ্রাফি, স্নিগ্ধ ম্যাট ফিনিশিং আর চমৎকার বাঁধাই—সব মিলিয়ে প্রকাশনার এক অনবদ্য কাজ। বইটার প্রোডাকশন কোয়ালিটি এতোটাই দারুণ যে, সেই মুগ্ধতা থেকেই ক্যামেরায় টুকটাক কিছু শট নিয়ে এই ছোট্ট ভিডিওটার জন্ম।

সৃষ্টির এই আনন্দধারা হয়তো এভাবেই চলতে থাকবে। তবে "মা'রিফাতের মর্মকথা" কেবল তাকের শোভা বর্ধনের জন্য নয়, ডুবে যাওয়ার মতো একটি বই। সংগ্রহে রাখুন, পড়ুন। আর বইটি হাতে পেলে এর প্রোডাকশন ও প্রচ্ছদের ছোঁয়া আপনাদের কেমন লাগলো, তা শোনার অপেক্ষায় রইল

ভোরের আলো ফুটতেই চারপাশে এখন অন্য রকম এক স্নিগ্ধতা। আকাশে রবিউল আউয়ালের একফালি চাঁদ যেন নীরব এক আগমনী বার্তা নিয়ে হাজি...
23/08/2026

ভোরের আলো ফুটতেই চারপাশে এখন অন্য রকম এক স্নিগ্ধতা। আকাশে রবিউল আউয়ালের একফালি চাঁদ যেন নীরব এক আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। এই মাসটি এলেই আশেকের হৃদয়ে কেমন যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি আর অব্যক্ত ইশক দানা বাঁধে। বার বার মনে পড়ে যায় সেই জগত-জাহানের নূর-নবাবের কথা, যাঁর পরশে পৃথিবীর সমস্ত শুষ্কতা সজীব হয়ে উঠেছিল। তাঁর প্রতি এই যে অন্তরের গভীর টান, নিঃশর্ত প্রেম আর নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার আকুলতা, এখান থেকেই তো জন্ম নেয় আত্মশুদ্ধির এক নিভৃত পথ। যারা স্রষ্টা ও সৃষ্টির এই নিবিড় প্রেমের পথে হেঁটেছেন, নিজেদের সমর্পণ করেছেন পরম সত্তার ধ্যানে, তাঁরাই সুফি। আর তাঁদের এই যে পথচলা, অন্তরের সমস্ত মলিনতা ধুয়েমুছে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার যে নিরন্তর সাধনা, তা-ই হলো তাসাউফ।

কল্পনা করা যাক এক পুরনো খানকাহ। সন্ধ্যা নেমে এসেছে, প্রদীপের আলো দেয়ালে কাঁপছে। এক কোণে বসে আছেন কয়েকজন মানুষ, বৃত্তাকার হয়ে, মাঝখানে সাজানো কয়েকখানা পুরনো কেতাব। কারও পরনে সাদামাটা জোব্বা, কারও মাথায় পাগড়ি জড়ানো। বাইরের জগতের হিসেব-নিকেশ থেকে অনেকটাই দূরে বসে থাকা এই মানুষগুলো সুফি, তাসাউফপন্থী। তাঁদের আলোচনার বিষয় ধন-সম্পদ নয়, পদমর্যাদা নয়, বরং নিজের নফসের রোগ, অন্তরের মরিচা, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা। এই বৈঠকই তাঁদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সময়, কারণ এখানেই একজন মানুষ নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করায়।

তাসাউফ কী আর কেনই বা এর প্রয়োজন? এই প্রশ্নের উত্তরে আজকের আলোচনায় বইটির একটি চমৎকার লাইন ধার করে বলতে হয়, "তাসাউফের প্রয়োজন মানে একটি নতুন পরিচয় নেওয়ার প্রয়োজন নয়; বরং নিজের অদৃশ্য রোগগুলোর চিকিৎসার প্রয়োজন।" আমাদের অন্তরে লুকিয়ে থাকা অহংকার, রিয়া, বা লোকদেখানো প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হয়ে, ইমাম জুনাইদ বাগদাদি (রহ.)-এর ভাষায় কোরআন ও সুন্নাহর মূলনীতিতে নিজেকে সঁপে দেওয়াই হলো তাসাউফ।

এই আত্মশুদ্ধি আর সুফিবাদের অন্দরমহলের গল্প নিয়েই ইবনে আদম রচনা করেছেন নতুন বই, ‘তাসাউফের বৈঠক’। কুরআন-সুন্নাহ এবং সুফি মনীষীদের শিক্ষা ও স্বীকৃত পাঁচটি মৌলিক গ্রন্থের আলোকে লেখা এই বইটিতে তাসাউফ, সুফি, নফসের পরিশুদ্ধি, তাওয়াক্কুল, মুর্শিদ, খানকাহ ও সিলসিলার তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে। তাসাউফ নিয়ে সমাজে যেসব ভুল ধারণা, অতিরঞ্জন আর অপব্যাখ্যা প্রচলিত আছে, গল্পময় এক সুদীর্ঘ বৈঠক ও প্রশ্নোত্তরের আবহে সেগুলোর চমৎকার নিরসন করা হয়েছে এখানে।

বই: তাসাউফের বৈঠক
লেখক: ইবনে আদম
প্রচ্ছদ: সাখাওয়াত সালেহীন

একজন ডিজাইনার হিসেবে প্রতিটি বইয়ের প্রচ্ছদ আমার কাছে একেকটি নতুন ক্যানভাস, নতুন এক মনস্তাত্ত্বিক ভ্রমণ। 'তাসাউফের বৈঠক' বইটির ডিজাইন নিয়েও রয়েছে আমার এক দীর্ঘ ভ্রমণ ও পেছনের গল্প। কাজটির শুরু থেকেই মুহাম্মদ সৈয়দুল হক ভাই তাঁর সুচিন্তিত তথ্য ও ধারণা দিয়ে আমাকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেছেন। বইটি যেহেতু সুফিগ্রাফি-র, তাই তাদের মূল টিমের সাথেও তাঁর বেশ কয়েক দফা আলাপ চলে, কীভাবে এই আধ্যাত্মিক আবহটাকে মলাটে ফুটিয়ে তোলা যায়।

চূড়ান্ত এই ডিজাইনটি কিন্তু একবারে আসেনি; এসেছে তিনটি ধাপে। প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে প্রথম ধাপে আমরা ভেবেছিলাম একটি স্টিল-লাইফ কম্পোজিশন দাঁড় করাবো, টেবিলের ওপর রাখা পাঁচটি বই, পাশে দোয়াত আর কলম। কিন্তু ভিজ্যুয়ালি সেটি দাঁড় করানোর পর দেখলাম, বইয়ের নামে যে 'বৈঠক' বা সভার একটি প্রাণবন্ত আবহ রয়েছে, তা যেন ঠিক ফুটে উঠছে না। এরপর দ্বিতীয় ধাপে নতুন আরেকটি ভাবনার ওপর ভিত্তি করে ডিজাইন করা হলো। কিন্তু সেখানে বাঁধলো অন্য বিপত্তি, অন্য একটি বইয়ের ভেতরের ডিজাইনের সাথে এই ধারণার কিছুটা সাযুজ্য চলে আসে, যা স্বকীয়তা নষ্ট করতে পারে।

যথারীতি শেষ ধাপে এসে আমরা এই চূড়ান্ত ডিজাইনটিতে পৌঁছাই। প্রচ্ছদের দিকে তাকালেই দেখবেন, মাটির কাছাকাছি, শান্ত ও স্নিগ্ধ এক আবহে একদল জ্ঞানপিপাসু মানুষ গোল হয়ে বসে আছেন। তাদের মাঝে আছে মূল্যবান পাঁচটি বই। এ যেন বইয়ের ভেতরের সেই আধ্যাত্মিক বৈঠকেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সুফিগ্রাফির নিজস্ব ব্র্যান্ডিং অনুযায়ী বেছে নেওয়া হয়েছে মাটির রঙ, সবুজের প্রশান্ত ছায়া আর হালকা বাদামি-বেইজের সমন্বয়, যা এক ধরনের প্রাচীনতা আর নিরাভরণ সারল্যের আবহ তৈরি করে, ঠিক যেমন সরলতা তাসাউফের মূল কথা। কেবল সামনের অংশই নয়, বরং পুরো বইটির কভার এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন তা তাসাউফের নিজস্ব নিশের (Niche) সাথে পুরোপুরি মিশে যায়।

বইয়ের বিষয়বস্তুর সাথে ডিজাইনের এই যে একাত্মতা, এখানেই এই প্রচ্ছদটির সার্থকতা। একটি বই যখন আত্মশুদ্ধির কথা বলে, স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক গভীর করার কথা বলে, তার প্রচ্ছদকেও হতে হয় শান্ত, গভীর এবং কোলাহলমুক্ত। চরিত্রের আভিজাত্য আর রঙের স্নিগ্ধতা মিলিয়ে এই ডিজাইনটিই যে বইটির জন্য সেরা নির্বাচন, তা প্রচ্ছদটির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই অনুভব করা যায়।

সবশেষে আপনাদের কাছেই ফিরে আসি। "তাসাউফের বৈঠক"-এর এই প্রচ্ছদ ও সামগ্রিক ডিজাইন আপনাদের কেমন লাগল? কোন জায়গাটা সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেল, আর কোথাও কি মনে হয় আরও কিছু যোগ করা যেত? পাঠক এবং দর্শক হিসেবে আপনাদের গঠনমূলক মতামত মন্তব্যের ঘরে দেখার অপেক্ষায় রইলাম। আপনাদের ভালোবাসাই আমার আগামী কাজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

যে পবিত্র নামের একটি উচ্চারণে তপ্ত মরুভূমির বুক চিরে বয়ে যায় শান্তির সুবাতাস, যে নামের মায়ায় কায়েনাতের প্রতিটি ধূলিকণা খ...
16/08/2026

যে পবিত্র নামের একটি উচ্চারণে তপ্ত মরুভূমির বুক চিরে বয়ে যায় শান্তির সুবাতাস, যে নামের মায়ায় কায়েনাতের প্রতিটি ধূলিকণা খুঁজে পায় প্রাণের স্পন্দন—তিনি আমাদের প্রিয় নবী, রাহমাতুল্লিল আলামীন হজরত মুহাম্মাদ দ.। যাঁর শুভাগমনে জাহেলিয়াতের নিকষ কালো অন্ধকার চূর্ণ হয়ে বিশ্বমণ্ডল প্লাবিত হয়েছিল হেদায়াতের নূরে, শুষ্ক ধরায় নেমে এসেছিল রহমতের বারিধারা। ফিরে এসেছে সেই মাহে রবিউল আউয়াল, যে মাসে ধূলার ধরায় প্রথম প্রদীপ্ত হয়েছিল তাঁর মুবারকময় নূরানি মুখমণ্ডল।

​প্রতিটা হৃদয় আজ আবার ছুটে যেতে চায় সেই ভালোবাসার দিকে। সেই দরুদের দিকে। সেই স্মরণের দিকে। গত দুই বছর ধরে (১৪৪৬ ও ১৪৪৭ হিজরিতে) চেষ্টা করেছি এই ভালোবাসাকে হরফে বাঁধতে। বাংলা টাইপোগ্রাফির মাধ্যমে তাঁর প্রেমকে তুলে ধরার সেই ছোট্ট প্রয়াস আপনারা যেভাবে ভালোবেসেছেন, তা আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

​আলহামদুলিল্লাহ, এরই ধারাবাহিকতায় এবার ১৪৪৮ হিজরির পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে নতুন টাইপোগ্রাফি ডিজাইন প্রস্তুত!

​বরাবরের মতোই এই ভালোবাসার কাজটিকে আপনাদের সবার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। প্রোফাইল পিকচার, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা কাস্টম ডিজাইন ইত্যাদি যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য নিচে ফাইলগুলো দিয়ে দেওয়া হলো:

• ​হাই-রেজুলেশন JPEG: প্রোফাইল পিকচার বা সাধারণ পোস্টের জন্য।
• ​Transparent PNG: কাস্টম ডিজাইনের কাজের জন্য।
• ​Vector File: যেকোনো ব্যানার বা প্রিন্ট মিডিয়া ডিজাইনের জন্য।

​এই ছোট্ট কাজটা কোনো বিনিময়ের জন্য নয়। এটা শুধু একটাই আকুতি, যেন অন্তরে মুহাব্বত পোষণকারীর প্রতিটি মেহফিলে, প্রোফাইলে, প্রতিটা পোস্টে ফুটে ওঠে তাঁর প্রতি ভালোবাসা।

​আসুন, এই রবিউল আউয়ালে আমরা সবাই মিলে ছড়িয়ে দিই দরুদের আলো।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম
​লাব্বাইক ইয়া রাসূলাল্লাহ দ.। 💚

অনেক দিন পর আবারও একটি নতুন প্রচ্ছদ ডিজাইন নিয়ে হাজির হলাম। 🌿গত কিছু সময় বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততার কারণে নতুন কোনো প্রচ্...
20/07/2026

অনেক দিন পর আবারও একটি নতুন প্রচ্ছদ ডিজাইন নিয়ে হাজির হলাম। 🌿

গত কিছু সময় বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততার কারণে নতুন কোনো প্রচ্ছদ ডিজাইন শেয়ার করা হয়নি। তাই ভাবলাম, বিরতির পর এমন একটি কাজ দিয়েই ফিরে আসি, যার ভাব, দর্শন এবং ভিজ্যুয়াল ভাষা—তিনটিই আমার নিজের ডিজাইন-চিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়। প্রতিটি নতুন বইয়ের প্রচ্ছদ আমার কাছে শুধু ডিজাইনই নয়; বরং বইটির আত্মাকে দৃশ্যমান করার একটি প্রচেষ্টা। সেই ধারাবাহিকতায় আজ শেয়ার করছি হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রহ.)-এর অনন্য রচনা ‘মা'রিফাতের মর্মকথা’-এর বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ।

বই: মা'রিফাতের মর্মকথা
লেখক: হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
অনুবাদ: শাঈখ ড. মুহাম্মদ নুরুন্নবী আজহারী
প্রচ্ছদ: সাখাওয়াত সালেহীন

বইটি মূলত তাসাউফের জ্ঞানতত্ত্ব ও মা'রিফাহ বা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে রচিত। এখানে দেখানো হয়েছে যে, কেবল ইন্দ্রিয়, যুক্তি কিংবা তাত্ত্বিক অধ্যয়ন মানুষের জ্ঞানের শেষ সীমা নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, যিকির, মুজাহাদা এবং অন্তরের পরিশুদ্ধির মাধ্যমে মানুষ এমন এক জ্ঞানের স্তরে পৌঁছাতে পারে, যা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও আল্লাহর নৈকট্যের মাধ্যমে অর্জিত হয়। ইলম, আইনুল ইয়াকীন ও হাক্কুল ইয়াকীনের যে ধাপগুলো সুফি দর্শনে বর্ণিত হয়েছে, বইটি সেগুলোকেই অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে পাঠককে আত্মিক উপলব্ধির পথে আহ্বান জানায়।

প্রচ্ছদ ডিজাইন করার সময় আমার মূল লক্ষ্য ছিল বইটির আধ্যাত্মিক আবহকে দৃশ্যমান রূপ দেওয়া। তাই পুরো ডিজাইনে এমন একটি ভিজ্যুয়াল ভাষা ব্যবহার করেছি, যা পাঠক বইটি হাতে নেওয়ার আগেই তাকে এক ধরনের নীরব, ধ্যানমগ্ন অনুভূতির দিকে নিয়ে যায়। প্রচ্ছদের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে একটি ইসলামী খিলান, যা কেবল স্থাপত্যের অলংকার নয়; বরং এটি প্রতীক হয়ে উঠেছে অন্তর্জগতের সেই দরজার, যার ওপারে রয়েছে আলোর পথ, আত্মশুদ্ধি এবং মা'রিফাহর জগৎ। খিলানের ভেতর দিয়ে দূরে আলোকিত পথ ও স্থাপত্যের আভাস এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যেন তা আত্মার দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক হয়ে ওঠে। পুরো কম্পোজিশনে গাঢ় সবুজ রঙকে প্রধান হিসেবে রাখা হয়েছে, কারণ সবুজ ইসলামী ঐতিহ্য, প্রশান্তি, জীবন ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সেই সবুজের ভেতরে সোনালি আলোর ব্যবহার বইটির মূল বক্তব্য—অন্ধকার থেকে নূরের দিকে অগ্রসর হওয়ার ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। টাইপোগ্রাফির ক্ষেত্রেও প্রচলিত কোনো আধুনিক ফন্ট ব্যবহার না করে এমন একটি শৈলী বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে শাস্ত্রীয় সৌন্দর্য, ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিক মর্যাদা একসঙ্গে ফুটে ওঠে। শিরোনামটি পুরো প্রচ্ছদের সঙ্গে মিল রেখে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যেন সেটি শুধুমাত্র একটি নাম নয়, বরং পুরো কম্পোজিশনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়। ব্যাকগ্রাউন্ডে সূক্ষ্ম অলংকার, টেক্সচার এবং ইসলামী জ্যামিতিক অনুপ্রেরণায় তৈরি ভিজ্যুয়াল স্তরগুলো ডিজাইনকে সমৃদ্ধ করেছে, তবে সচেতনভাবেই এগুলোকে সংযত রাখা হয়েছে যাতে মূল ফোকাস কখনোই নষ্ট না হয়।

এবার আসি এই কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে—আমি শুধু ফ্রন্ট কভারেই সীমাবদ্ধ থাকিনি; বরং ব্যাক কভার, স্পাইন এবং সম্পূর্ণ র‍্যাপ-অ্যারাউন্ড কম্পোজিশনকেও একই গুরুত্ব দিয়ে ডিজাইন করেছি। আমার মনে হয়, একটি বইয়ের প্রচ্ছদ কেবল সামনের অংশই নয়; বরং পুরো বইটিই একটি সম্পূর্ণ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা হিসেবে অংশ নেয়। তাই ব্যাক কভারের টেক্সট প্লেসমেন্ট, অলংকার, নেগেটিভ স্পেস, সিরিজ আইডেন্টিটি এবং সামগ্রিক ভারসাম্য এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে বইটি যেকোনো দিক থেকেই একটি পূর্ণাঙ্গ নান্দনিক অনুভূতি দেয়।

উল্লেখ্য, এটি তাযকিয়াহ সিরিজ-এর প্রথম বই—তাযকিয়াহ সিরিজ ০১। তাই এই সিরিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যা ভবিষ্যতের প্রতিটি বইয়ের মধ্যেও ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা যাবে। একই রঙের দর্শন, অলংকারের ভাষা, টাইপোগ্রাফির বৈশিষ্ট্য এবং সিরিজভিত্তিক কম্পোজিশন এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি বই আলাদা পরিচয় বহন করলেও পুরো সিরিজকে একসঙ্গে দেখলে একটি সুসংহত ভিজ্যুয়াল পরিবার হিসেবে চেনা যায়। আমার কাছে এটিই একজন ডিজাইনার হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—যখন একটি প্রচ্ছদ শুধু সুন্দর দেখায় না, বরং বইয়ের ভাষাকে দৃশ্যমান করে তোলে এবং পাঠকের মনে প্রথম দেখাতেই বইটির অন্তর্নিহিত ভাব, প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিকতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

আশা করি এই কাজটি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনাদের দৃষ্টিতে প্রচ্ছদের কোন দিকটি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে—রঙের ব্যবহার, টাইপোগ্রাফি, কম্পোজিশন, নাকি সম্পূর্ণ ধারণাটি? আপনাদের মূল্যবান মতামত, সমালোচনা এবং পরামর্শ অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আপনাদের প্রতিটি মন্তব্য আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। ধন্যবাদ। 🌿

💙 জীলান সূর্যের হাতছানি 🧡 চেরাগে চিশতি 💚 কালিয়ারের কুতুবলেখক: মোহাম্মদ মামুনুর রশীদপ্রচ্ছদ: সাখাওয়াত সালেহীনবাংলা ইসলাম...
22/04/2026

💙 জীলান সূর্যের হাতছানি
🧡 চেরাগে চিশতি
💚 কালিয়ারের কুতুব

লেখক: মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ
প্রচ্ছদ: সাখাওয়াত সালেহীন

বাংলা ইসলামী আধ্যাত্মিক সাহিত্যের অঙ্গনে মোহাম্মদ মামুনুর রশীদের কলম যেন এক নিভৃত দীপশিখা—যার আলো মৃদু, কিন্তু গভীর। অলীয়ায়ে কেরামের পবিত্র জীবন, তাঁদের অসীম ত্যাগ, নিঃস্বার্থ প্রেম এবং আধ্যাত্মিক প্রভাবের কথা এই তিনটি গ্রন্থে উঠে এসেছে এক অপূর্ব শ্রদ্ধা ও সাহিত্যিক সৌন্দর্যে।

দুঃখের বিষয়, এত মূল্যবান এই বইগুলো আজ বাজারে প্রায় অলভ্য। তবু পাঠকের হৃদয়ে এদের প্রতি আকর্ষণ এতটুকু ম্লান হয়নি—বরং দুর্লভতাই যেন এদের প্রতি ভালোবাসাকে আরো গাঢ় করে তুলেছে।

সেই ভালোবাসা থেকেই জন্ম নিয়েছে এই ছোট্ট প্রয়াস—তিনটি বইয়ের রিডিজাইন প্রচ্ছদ কনসেপ্ট।

✦ জীলান সূর্যের হাতছানি 💙
নীল গম্বুজের ছায়ায় ঢাকা, কুয়াশাচ্ছন্ন দিগন্তে অস্তগামী সূর্যের সোনালি আলো—এই দৃশ্যকল্পকে ধারণ করে তৈরি হয়েছে একটি স্বপ্নময়, নরম ভিজ্যুয়াল। ডিজাইনটি একটি আধ্যাত্মিক আহ্বানের অনুভূতি জাগায়—শান্ত, প্রশান্ত, অন্তর্মুখী। যেন কেউ দূর থেকে ডাকছে, আর পথিক নিঃশব্দে এগিয়ে চলেছে সেই ডাকের দিকে।

✦ চেরাগে চিশতি 🧡
মাঝখানে একটি জ্বলন্ত চেরাগ। সেখান থেকে নূরের মতো ধোঁয়া উঠে আস্তে আস্তে আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে। মিনিমাল অথচ শক্তিশালী এই কনসেপ্টে প্রতীকীভাবে ধরা পড়েছে জ্ঞান, তাসাওউফ ও আধ্যাত্মিক আলোর সেই চিরন্তন বার্তা—যে আলো একবার জ্বললে আর নেভে না।

✦ কালিয়ারের কুতুব 💚
সবুজ প্রকৃতির কোলে একটি সুফি দরগাহ। মাথার উপর প্রশান্ত আকাশ, চারপাশে নির্জন সৌন্দর্য। স্থির অথচ জীবন্ত এই দৃশ্যে সরলতা, পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিকতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে—যেন মাটি ও আকাশের মধ্যবর্তী এক নিঃশব্দ সংলাপ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ডিজাইনগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে করা—মূল বইয়ের অফিসিয়াল প্রচ্ছদ নয়, বরং একটি সম্মানজনক রিডিজাইন কনসেপ্ট।

বর্তমানে Abdullah Al MaMun ভাইয়ের উদ্যোগে ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য বইগুলো পুনরায় মুদ্রণের পরিকল্পনা (অব্যবসায়িক) চলছে। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখেই এই ভিজ্যুয়াল এক্সপ্লোরেশনের যাত্রা শুরু হতে পারে।

✨ ভবিষ্যতে এমন আরও বহু মূল্যবান, কিন্তু হারিয়ে যেতে বসা বইয়ের প্রচ্ছদ নতুনভাবে রিডিজাইন করার ইচ্ছা রয়েছে। আর যদি কোনো প্রকাশনী এই বইগুলো পুনরায় আলোর মুখ দেখাতে আগ্রহী হন—তাহলে পেশাদারভাবে কাজ করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত আছি।

আপনাদের কেমন লেগেছে এই ডিজাইন তিনটি?
আপনাদের ফিডব্যাক, মতামত—সবকিছুই আমার জন্য অনেক মূল্যবান।

Address

Bashundhara R/A, No 7 Mayor Road, No 4 Lain, Halishahar
Chittagong
4228

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shakhawat Saalehin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Shakhawat Saalehin:

Shortcuts

Share