25/05/2026
ক্যাপাসিটরেরর বিস্তারিত ধারনা
ক্যাপাসিটর (Capacitor) হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট যা সাময়িকভাবে বৈদ্যুতিক চার্জ বা শক্তি জমা রাখতে পারে। একে বাংলায় অনেকে “ধারক”ও বলে।
প্রায় সব ইলেকট্রনিক সার্কিটে ক্যাপাসিটর থাকে— যেমন:- মোবাইল চার্জার, টিভি, ফ্যান রেগুলেটর, পাওয়ার সাপ্লাই, অ্যাম্পলিফায়ার, মোটর স্টার্টার, আরডুইনো সার্কিট ইত্যাদিতে।
ক্যাপাসিটরের গঠনঃ-
একটি ক্যাপাসিটর সাধারণত ৩টি অংশ নিয়ে তৈরি হয়ঃ
দুইটি ধাতব প্লেট
মাঝখানে একটি ইনসুলেটর পদার্থ (Dielectric)
বাহিরে টার্মিনাল
এভাবে দেখতে হয়ঃ
Plain text
Plate (+) || Dielectric || Plate (-)
ক্যাপাসিটর কীভাবে কাজ করে?
যখন ক্যাপাসিটরে ভোল্টেজ দেওয়া হয়—
এক প্লেটে ইলেকট্রন জমা হয়
অন্য প্লেট থেকে ইলেকট্রন কমে যায়
মাঝখানের ডাই-ইলেকট্রিক কারেন্ট যেতে বাধা দেয়
ফলে শক্তি “ইলেকট্রিক ফিল্ড” আকারে জমা থাকে
অর্থাৎ ক্যাপাসিটর সরাসরি DC কারেন্ট পার হতে দেয় না, কিন্তু চার্জ জমা রাখে।
সহজ উদাহরণ
ধরো একটি পানির ট্যাংকঃ-
পানি = বৈদ্যুতিক চার্জ
ট্যাংক = ক্যাপাসিটর
যেমন ট্যাংকে পানি জমা রাখা যায়, তেমনি ক্যাপাসিটরে চার্জ জমা রাখা যায়।
ক্যাপাসিটরের এককঃ-
Capacitance-এর একক হলো
�
একে Farad (F) বলা হয়।
বাস্তবে বেশি ব্যবহৃত হয়ঃ
Microfarad (µF)
Nanofarad (nF)
Picofarad (pF)
সম্পর্কঃ
�
ক্যাপাসিটরের মূল ফর্মুলা
ক্যাপাসিটরে জমা চার্জ:
�
এখানে—
Q = চার্জ
C = Capacitance
V = Voltage
অর্থাৎ Capacitance যত বেশি, চার্জ জমা রাখার ক্ষমতা তত বেশি।
ক্যাপাসিটর কত প্রকার?
মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১) Polarized Capacitor
এগুলোর + এবং – টার্মিনাল থাকে।
ভুলভাবে লাগালে নষ্ট বা বিস্ফোরণ হতে পারে।
উদাহরণঃ-
Electrolytic Capacitor
Tantalum Capacitor
ব্যবহারঃ
পাওয়ার সাপ্লাই ফিল্টার
অডিও সার্কিট
DC smoothing
২) Non-Polarized Capacitor
এগুলোর নির্দিষ্ট + – নেই।
যেভাবেই লাগাও কাজ করবে।
উদাহরণ:
Ceramic Capacitor
Film Capacitor
Mica Capacitor
ব্যবহার:
Oscillator
RF circuit
AC circuit
জনপ্রিয় ক্যাপাসিটরের ধরন
Electrolytic Capacitor
বেশি µF হয়
Polarized
পাওয়ার সাপ্লাইয়ে বেশি ব্যবহৃত
Ceramic Capacitor
ছোট সাইজ
High frequency তে ভালো
Non-polarized
Film Capacitor
AC circuit এ ভালো
Noise কম
দীর্ঘস্থায়ী
ক্যাপাসিটরের কাজ কি?
ক্যাপাসিটরের অসংখ্য কাজ আছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু হলোঃ
১) Filter করা
AC ripple কমিয়ে DC smooth করে।
যেমন:
SMPS
মোবাইল চার্জার
অ্যাম্পলিফায়ার
২) Coupling / DC Block
DC আটকায়, AC যেতে দেয়।
অডিও সার্কিটে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
৩) Timing Circuit
চার্জ ও ডিসচার্জ সময় ব্যবহার করে delay তৈরি করে।
যেমন:
555 timer
Blink circuit
৪) Motor Start
ফ্যান বা মোটরের স্টার্টিং torque বাড়ায়।
যেমন:
Ceiling fan
Water pump
৫) Noise Filter
সার্কিটের unwanted noise কমায়।
৬) Energy Storage
অল্প সময়ের জন্য শক্তি জমা রাখে।
যেমন:
Camera flash
UPS
DC ও AC তে ক্যাপাসিটরের আচরণ
DC তে
প্রথমে চার্জ হয়, পরে কারেন্ট বন্ধ হয়ে যায়।
AC তে
বারবার চার্জ-ডিসচার্জ হয়, তাই AC যেতে পারে।
কেন AC যেতে পারে?
কারণ AC সবসময় polarity পরিবর্তন করে।
ফলে ক্যাপাসিটর বারবার চার্জ ও ডিসচার্জ হয়।
এটাকে Capacitive Reactance বলে।
ফর্মুলাঃ
�
এখানে—
� = Capacitive Reactance
� = Frequency
� = Capacitance
ফ্রিকোয়েন্সি বাড়লে বাধা কমে।
ক্যাপাসিটরের গুরুত্বপূর্ণ রেটিং
১) Capacitance
যেমন:
100µF
470µF
২) Voltage Rating
যেমন:
16V
50V
400V
⚠️ রেটিংয়ের বেশি ভোল্টেজ দিলে ক্যাপাসিটর বিস্ফোরিত হতে পারে।
ভালো ও নষ্ট ক্যাপাসিটর চেনার উপায়
নষ্ট হলে সাধারণ লক্ষণ
ফুলে যাওয়া
লিক হওয়া
ESR বেড়ে যাওয়া
capacitance কমে যাওয়া
মাল্টিমিটার দিয়ে পরীক্ষা
Analog মিটারে
ওহম মোডে দিলে কাঁটা উঠবে আবার নামবে
Digital মিটারে
Capacitance mode থাকলে µF মাপা যায়
সিরিজ ও প্যারালালে ক্যাপাসিটর
Parallel এ
মান বেড়ে যায়।
�
Series এ
মান কমে যায়।
�
বাস্তব জীবনের উদাহরণ
ডিভাইস
ক্যাপাসিটরের কাজ
মোবাইল চার্জার
DC smooth করা
ফ্যান
মোটর চালু করা
অ্যাম্পলিফায়ার
Noise filter
Camera flash
শক্তি জমা রাখা
রেডিও
Frequency tuning.